২১৮ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামবে টাইগাররা

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৫২২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩০৪ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ ২১৮ রানে এগিয়ে থেকে চতুর্থ দিন ব্যাটিংয়ে নামবে। টানা তিন ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট পান তাইজুল (সিলেট টেস্টে ৬, ৫ উইকেট)। মেহেদি মিরাজ নেন তিনটি উইকেট।

এর আগে রান পাহাড়ে চাপা পড়ে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে এক উইকেট হারিয়ে তোলে ২৫ রান। তাইজুল ফিরিয়ে দেন ওপেনার হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে। বিদায়ের আগে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ৪৪ বলে করেন ১৪ রান। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে তাইজুল ফিরিয়ে দেন ডোনাল্ড তিরিপানোকে। মিরাজের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি করেন ৮ রান। দলীয় ৪০ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। দলীয় ৯৬ রানের মাথায় জিম্বাবুয়ে তৃতীয় উইকেট হারায়। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি করা ব্রায়ান চারি ১২৮ বলে ৬টি চার আর দুটি ছক্কায় ৫৩ রানের ইনিংস সাজান। মিরাজের ঘূর্ণিতে মুমিনুলের তালুবন্দি হন তিনি, রিভিউ নিয়ে চারিকে সাজঘরের পথ দেখায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে আবার আঘাত হানেন তাইজুল। বোল্ড করেন শন উইলিয়ামসকে (১১)। ১২৯ রানের মাথায় সফরকারীরা চতুর্থ উইকেট হারায়। স্কোরবোর্ডে ২ রান যোগ হতেই তাইজুল বোল্ড করেন সিকান্দার রাজাকে। এরপর ১৩৯ রানের জুটি গড়েন পিটার মুর এবং ব্রেন্ডন টেইলর। পার্ট টাইম বোলার আরিফুল হককে আক্রমণে আনেন মাহমুদুল্লাহ। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে পিটার মুরকে এলবির ফাঁদে ফেলেন আরিফুল। ১১৪ বলে ১২টি চার আর একটি ছক্কায় ৮৩ রান করে বিদায় নেন মুর। দলীয় ২৭০ রানের মাথায় জিম্বাবুয়ে ষষ্ঠ উইকেট হারায়। ২৯০ রানের মাথায় মিরাজ ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি করা ব্রেন্ডন টেইলরকে। মিরাজের বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন তাইজুল। বিদায়ের আগে ১০টি চারের সাহায্যে ১৯৪ বলে ১১০ রানের ইনিংস সাজান টেইলর। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই একই ওভারে মিরাজ ফিরিয়ে দেন নতুন ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন মাভুতাকে। নিজের পঞ্চম উইকেট নিতে শেষ সময়ে তাইজুল ফিরিয়ে দেন ১০ রান করা রেগিস চাকাভাকে। তেন্দাই চাতারা চোটের কারণে ব্যাট হাতে নামতে না পারলে ৯ উইকেটে ৩০৪ রান তুলে জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হয়।

দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ৫২২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। দলীয় ২৬ রানের মাথায় টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপাকে পড়লেও মুশফিকুর রহিম এবং মুমিনুল হকের দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরি আর মেহেদি হাসান মিরাজের হার না মানা হাফ-সেঞ্চুরিতে ছূটে চলে টাইগারদের ইনিংস। কোনো রান না করেই বিদায় নিতে হয় ইমরুলকে। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৫ বলে ৯ রান করেন লিটন দাস। তিরিপানোর বলে খোঁচা দিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন অভিষিক্ত মোহাম্মদ মিঠুন। বিদায়ের আগে কোনো রান করতে পারেননি তিনি। দলীয় ২৬ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ব্যক্তিগত ৯ রানে ক্যাচ তুলে দিয়েও জীবন পান মুমিনুল হক। পরে ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন মুমিনুল। আর মুশফিক ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান। তেন্দাই চাতারার বলে ব্রায়ান চারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৪৭ বলে ১৯টি বাউন্ডারিতে ১৬১ রান করা মুমিনুল। ইনিংসের ৮৬তম ওভারে আউট হন তিনি। তার আগে মুশফিকের সঙ্গে ২৬৬ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল। নাইটওয়াচম্যান তাইজুল ইসলাম বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি (৪)। ৫ উইকেট হারিয়ে ৩০৩ রান করে প্রথম দিন শেষ করে টাইগাররা।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। ৫ উইকেট ৩৬৫ রান তুলে দ্বিতীয় সেশন শুরু করেন মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই বিদায় নেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (৩৬)। এরপর দ্রুত বিদায় নেন আরিফুল হক (৪)। আরিফুলের উইকেট নেওয়ার মধ্য দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন কাইল জারভিস। এরপর জুটি গড়েন মুশফিক-মিরাজ। তৃতীয় সেশনের শুরুতেই দেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। এটা তার দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। এর আগে মুশফিক বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। তারপর তামিম এবং সাকিব ডাবল সেঞ্চুরি করেন।

৪০৭ বলে ১৬টি চার আর একটি ছক্কায় ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। দেশের হয়ে টেস্টে ব্যক্তিগত ইনিংস সর্বোচ্চ ২১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম। ৪২১ বলে ১৮টি চার আর একটি ছক্কায় মুশফিক তার ইনিংসটি সাজান। ১০২ বলে ৫টি চার আর একটি ছক্কায় ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এই দুজন ১৪৪ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন থাকেন।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে জিম্বাবুয়ে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করছে গাজী টিভি। এছাড়া, ম্যাচটি র‌্যাবিটহোলবিডি তে ক্লিক করেও সরাসরি উপভোগ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ একাদশ: মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, খালেদ আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, আরিফুল হক এবং তাইজুল ইসলাম।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: হ্যামিলটন মাসাকাদজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান চারি, ব্রেন্ডন টেইলর, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, পিটার মুর, রেগিস চাকাভা, ব্রেন্ডন মাভুতা, ডোনাল্ড তিরিপানো, কাইল জারভিস এবং তেন্দাই চাতারা।

Facebook Comments

You May Also Like

%d bloggers like this: