রুহুল আমিনের কারণে এককভাবে নির্বাচনে ইসলামী ফ্রন্ট

অনলাইন ডেস্ক : এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি)। মহাজোটের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তারা। দলটির নেতাদের দাবি কেবল চট্টগ্রামেই তাদের অন্তত ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ভোটার রয়েছে। যেসব আসনে তাদের আধিপত্য রয়েছে সেসব আসনে তাদের ভোটই এমপি নির্বাচনে ফ্যাক্টর হবে।

কারণ চট্টগ্রামে কেবল এই দলের নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন চারজন। যারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীকে বিগত নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন।ইসলামী ফ্রন্টের অভিযোগ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব (সদ্য বহিষ্কৃত)ও সম্মিলিত জাতীয় জোটের মুখপাত্র রুহুল আমিন হাওলাদারের স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যর্থতার কারণেই সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরিকরা শেষ মুহূর্তে বিপাকে পড়ে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে তারা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টির জন্য ঐক্যবদ্ধ ও জোটগতভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে থাকলেও তা আর হচ্ছে না।

কারণ এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা প্রদান এমনকি বাছাইও শেষ হয়ে গেছে। গত শনিবার রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করে আসন বণ্টন নিয়ে কথা বলেন ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এমএ মতিন। কিন্তু কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় দলটি এককভাবে নির্বাচনের পথেই এগুচ্ছে বলে দলের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব মাওলানা এমএ মতিন সোমবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, দুই বছরের কাছাকাছি হয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট গঠন হয়েছে।

এই জোটের প্রধান শরিক ইসলামী ফ্রন্ট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চট্টগ্রামে তাদের নিয়ে বড় সমাবেশও করেছেন। নির্বাচন সামনে রেখে এই জোট গঠন হলেও আসন বণ্টন নিয়ে শেষ মুহূর্তে এসেও কোনো ধরনের সুরাহা হয়নি।

রুহুল আমিন হাওলাদার সম্মিলিত জাতীয় জোটের মুখপাত্র। তিনি মহাজোটের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে কী কথা বলছেন, শরিক দলগুলোকে কয়টি আসন দেয়া হবে; নাকি আদৌ দেয়া হবে না- এসব বিষয়ে বারবার জানতে চেয়েও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার তিনি (এমএ মতিন) রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু তাকে আশ্বস্ত করতে পারেননি রুহুল আমিন হাওলাদার।

সম্মিলিত জাতীয় জোট ও এর শরিকরা শেষ মুহূর্তে এসে যে বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে তার দায় রুহুল আমিন হাওলাদার এড়াতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, এখনও তারা অপেক্ষায় আছেন।

পাশাপাশি যেহেতু হাতে সময় কম, তাই এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা সারা দেশে ২৭টি আসনে প্রার্থী দেবেন। মহাজোটের কারণে আসন সীমিত করেছিলেন তারা। এ কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সূত্র জানায়, গত বছরের ৭ মে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট গঠিত হয়। এই জোটে ৫৮টি দল থাকলেও নিবন্ধিত দল হচ্ছে কেবল জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ফ্রন্ট।

সুন্নি ও তরিকতপন্থীদের সমন্বয়ে গঠিত দল ইসলামী ফ্রন্টের সারা দেশে রয়েছে বিশাল কর্মিবাহিনী। ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এই দল। মোমবাতি প্রতীকে দলটি নির্বাচন করে।

বিগত উপজেলা নির্বাচনে চট্টগ্রামের চারটি উপজেলায় এই দলের চারজন প্রার্থী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চট্টগ্রামে বিগত উপজেলা নির্বাচনে যে চারটি উপজেলায় ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এখনও বহাল আছেন তারা হলেন- বোয়ালখালী উপজেলায় আকতার হোসেন।

তিনি ৭২ হাজার ভোটে জয়ী হন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীকে তিনি পরাজিত করেন। বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাচনে ১০ হাজার ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ওবায়দুল হক হক্কানি।চন্দনাইশ উপজেলায় কাজী মাওলানা সোলাইমান ফারুকী ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। পটিয়া উপজেলায় সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রভাবশালী প্রার্থীকে পরাজিত করেন। ফটিকছড়িতে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আল হাসানি ইসলামী ফ্রন্ট থেকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। সব মিলে ইসলামী ফ্রন্ট এককভাবে নির্বাচন করলে তা আওয়ামী লীগের জন্যই ক্ষতি হবে বলে ফ্রন্টের অনেকেই মনে করছেন।

Facebook Comments

You May Also Like

%d bloggers like this: