মা-বাবা হারিয়ে অকূল পাথারে তিন শিশু

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা হারানো তিন শিশু যেন অকূল পাথারে পড়েছে। পরিবারে এখন আর কেউ নেই তাদের। আত্মীয়স্বজনেরাও গরিব। এ অবস্থায় ওই তিন শিশুর ভরণপোষণের কী হবে, তা নিয়ে ভেবে আকুল হচ্ছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

ওই তিন শিশু হলো শামছিয়া বেগম (৫), ফেরদৌসী বেগম (৩) ও আমিনুর রহমান (২)। তাদের বাবার নাম মখজ্জল আলী (৫১), মা হাসিনা বেগম (৪০)। বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বাউভোগলী গ্রামে। ১ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় মখজ্জল ও হাসিনা প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার শিকার হয় তাঁদের তিন সন্তানও। তবে তারা বেঁচে গেছে।

মা-বাবাকে হারিয়ে ওই তিন শিশু এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের কান্না যেন আর থামছে না। অবুঝ এই শিশুদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও নেই স্বজন-প্রতিবেশীদের। এই শিশুরা এখন কীভাবে কোথায় থাকবে, তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে—এ নিয়ে এখন তাদের স্বজন-প্রতিবেশীরা চিন্তিত। শিশু তিনটির কান্নায় চোখ ভিজে উঠছে তাঁদেরও। ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।

প্রতিবেশীরা জানান, মখজ্জল ও হাসিনা খুব দরিদ্র। দিনমজুরের কাজ করতেন। আত্মীয়স্বজন যাঁরা আছেন, তাঁরাও দরিদ্র। মখজ্জল ও হাসিনা মারা যাওয়ায় তাঁদের তিন সন্তানের ভরণপোষণ ও দেখাশোনা করার মতো অবস্থা কারও নেই।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ১ অক্টোবর বিকেলে লেগুনায় করে স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে আত্মীয় বাড়ি যাচ্ছিলেন মখজ্জল আলী। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের আলাপুর এলাকায় লেগুনাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে অন্যদের সঙ্গে মখজ্জল আলী ও হাসিনা বেগম আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাঁদের সন্তানদেরও। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও মখজ্জল ও হাসিনাকে বাঁচানো যায়নি। দুর্ঘটনার পরদিনই মখজ্জল আলী মারা যান। আর গত বুধবার মারা যান হাসিনা বেগম। এরপর থেকে তিন শিশুর কান্না যেন থামছে না। এ অবস্থায় গত শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির ও গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বাড়িতে গিয়ে শিশুদের খোঁজ নিয়েছেন। এ সময় মখজ্জল আলীর স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আখলাকুর রহমান বলেন, তিনি গ্রামের মানুষকে নিয়ে শুরু থেকেই মখজ্জল আলী ও হাসিনা বেগমের চিকিৎসায় সহায়তা করেছেন। এখন শিশুদের নিয়ে যত চিন্তা তাঁদের। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে। আগামী শনিবার এ নিয়ে গ্রামের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আবার বসবেন তিনি। প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, যদি গ্রামবাসী ও আত্মীয়রা শিশু তিনটিকে সরকারি শিশু পরিবারে নিরাপদ আশ্রয়ে দিতে চান, তাহলে সে ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে তাদের পড়াশোনার ব্যবস্থাও করা হবে। চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ঘটনাটি বড় নির্মম, কষ্টের। একটি দুর্ঘটনা তিনটি অবুঝ শিশুর সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। এই বাচ্চাদের সামনে গেলে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। আমি এলাকাবাসীকে নিয়ে শিশুদের জন্য সাধ্য অনুযায়ী যা করা যায় করব। অন্যরা চাইলেও তাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *