গল্পঃ এডজ্বিন

লেখাঃ জুরা চৌধুরি

.

 

কবর খুঁড়িয়ে মৃত নারীকে ধর্ষণ করে নারীর বেস্ট কেটে ও শরীরের চামড়া তুলে নিয়ে গিয়েছে এক ধর্ষনকারী। 

কিন্তু এলাকার মানুষের উক্তি এটা কোনো মানুষের কাজ নয়, কোন এক অশরীর আত্মার কাজ হবে।

পত্রিকার প্রথম শিরোনামেই এমন নিউজ প্রথমেই চোখে পড়লো “জুরার”।

 

শিরোনামটি দেখেই ‘জুরার’ শরীর কেঁপে উঠলো!

আগ্রহ বাড়লো পুরোপুরি ঘটনাটি জানার জন্য।

 

ঘটনাটি ঘটেছিলো শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে আকিলাপুর গ্রামে।

 

ঘটনার তদন্তের জন্য এলাকার মানুষের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিলো, কেউ কিছু বলতে রাজি হচ্ছে না।

 

এমন ঘটনা প্রায়ই ঐ এলাকায় ঘটতেছে।

 

পূর্বে যেই এই ঘটনার সম্পর্কে কিছু বলতে চেয়েছে,

তার একটা না একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছেই।

পুরো এলাকা ভয়ে একাকার।

 

জুরার কৌতূহল টা বেড়ে গেলো।

কেনো এই ঘটনাটি সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে নারাজ।

একজন অপরাধীর ভয়ে কেউ কিছু বলবে না এটা তো মেনে নেওয়া যায় না।

নিশ্চয়ই এর পিছনে কোনো রহস্য রয়েছে।

 

জুরা সিদ্ধান্ত নিলো,শহরের বাহিরে সেই আকিলাপুরা গ্রামে যাবে। এর রহস্য জানার চেষ্টা করবে। জুরা বিভিন্ন আত্মা ও রহস্য জনক ঘটনার উৎঘটন করে থাকে। যেখানে কোনো রহস্য জনক ঘটনা ঘটে সেখানে জুরা গিয়ে হাজির এর রহস্য জানার জন্য। ছোট থেকেই জুরার এর প্রতি একটি নেশা হয়ে দাড়িয়েছে বর্তমানে।

 

পরদিন বাসায় জুরা তার আম্মুকে বললো, বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যাবে, আসতে কিছুদিন সময় লাগবে।

 

জুরা আকিলাপুর এসে একটি হোটেল উঠলো।

ততটা উন্নত নয় হোটেল টি। চেনা জানা নেই কিছুই।কারো সাথেই পত্রিকায় দেখা সেই ধর্ষণের সম্পর্কে আলোচনা করতে পারছে না। যদি কেউ কিছু প্রশ্ন করে তাহলে জুরা কি উত্তর দিবে।

 

রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।

 

সকালে উঠেই শুনতে পেলো আরেকটি নতুন নারীর লাশ কবর থেকে উঠিয়ে নির্যাতন করে, নারীর বেস্ট গুলো বুক থেকে দুই খন্ড করে ধর্ষক নিয়ে গিয়েছে। 

 

অসচেতন অবস্থায় পরে রয়েছে মৃত মেয়েটির দেহ।

মেয়েটির বাবা লাশের কাছে কান্না করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। আদরের মেয়েটি গতকাল হঠাৎ মারা যায়, সাজিয়ে গুছিয়ে মেয়েটিকে মাটি দিয়েছিলো মেয়েটির আত্মীয়স্বজনরা। আজ মেয়েটির লাশের এই অবস্থা! মৃত্যুর শোক কাটাতে না কাটাতেই মৃত লাশের সাথে এমন জঘন্য অত্যাচার! কোন বাবাই বা ঠিক থাকার কথা!

 

এলাকার মানুষের মনে দিন দিন আতঙ্ক বেড়েই চলছে।

 

জুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে,

লাশটির মর্মান্তিক অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেলো।

পুরো শরীরে অসংখ্য নোখের আচর, গলাতে ভয়ানক ভাবে বিশাল আকৃতির কামরের দাঁত বসানো দাগ। যা কোনো মানুষের কামর হতে পারে না, নিশ্চয়ই কোনো জন্তুর কাজ হতে পারে।

 

পূর্বের ন্যায় এই ঘটনাটিও পুনরায় গ্রামে হৈচৈ শুরু হয়ে গিয়েছে। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে পরেছে আকিলাপুরে ঘটে যাওয়া একের পর এক ভয়াবহতা, যা এক আতঙ্কিত ঘটনা।

 

কেউ জানে না এই কাজটি কে করে বা কারা এর সাথে জড়িত। কেউ জানলেও কিছু বলতে নারাজ। পুরো গ্রামই হৈচৈ ও ভয়ে আতঙ্কিত। কখন কার পরিবারের সাথে ঘটে যায় এই ঘটনা। কেউ পতিবাদও করতে রাজি নয়।

 

গ্রামের মানুষকে বলতে শুনা গিয়েছে একবার এক ‘পুরোহিত’ এই ঘটনার রহস্য উৎঘটন করতে রাতে এক মৃত নারীর কবরের পাহারা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলো, সকালে তাকে আর জীবিত ফিরে পাওয়া যায় নি। পুরোহিতের লাশটি তিন টুকরোর মধ্যে এক টুকরো কবরস্থানে পাওয়া গিয়েছিলো, বাকি দুই টুকরো আজও খুজে পাওয়া যায় নি। সেই ভয়ে কেউ এর রহস্য উৎঘটন করার জন্য পা বাড়ায় নি।

 

ইদানীং আকিলাপুর গ্রামে ২০ থেকে ৩০ বছরের মেয়েরাই মারা যাচ্ছে বেশি, যে নারীরাই মারা যাচ্ছে, তাদের মৃত লাশের সাথেই এমন করা হচ্ছে। লোকজনের কাছে শুনা যাচ্ছে এই ঘটনার সাথে সাথে পুরো এলাকার সকল নারীরা বর্তমানে এক অভিশাপে আগমন করছে, সব ধ্বংস হবে সব।

 

দুই জন পুলিশ এসে মৃত লাঞ্ছিত মহিলার লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। যাওয়ার সময় পুলিশদের মধ্য থেকে একজন বলতে লাগলো,

একই ঘটনা আর কত দেখবো, পৃথিবীতে এত নিষ্ঠুর প্রাণী রয়েছে একজন মৃত নারীও নির্যাতন থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। এরা কেউ এই জন্তুটার খোঁজ দিতে পারছে না। আর কত জানি এমন পরিস্থিতি দেখতে হয়,

কে বা জানে!

 

জুরা হোটেলে এসে ভাবতে লাগলো, এটা কোনো ধর্ষণ কারীর তো কাজ হতে পারে না। একজন ধর্ষক যত বড়ই ধর্ষকই হোক না কেনো মৃত ব্যক্তির প্রতি তার কামণা কখনই জাগবে না। কেননা তার তৃপ্তি তো জীবিতদের উপর।

 

কোনো নেশা খোরের পক্ষেও এটা সম্ভব নয়, সে নেশার তাড়নায় যতই মিশে থাকুক না কেনো- মাঝ রাতে কবর খুড়িয়ে কাউকে ধর্ষণ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে নিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।

 

তাহলে কে হতে পারে! মৃত নিষ্পাপ নারীদেরকে ধর্ষেণের পর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো কেটে নিয়ে যেতে পারে।

 

আচ্ছা মৃত মহিলাটির শরীরে তো অসংখ্য নোখের দাগ ছিলো, গলায় বিশাল আকৃতির মুখের কামরের দাগ ছিলো। যাওয়ার সময় পুলিশ গুলো বলে গেলে কোনো জন্তুর কথা, তাহলে কি এই কাজটি মানুষ নয় কোনো জন্তু বা আত্মা করেছে! কিন্তু এলাকার কেউ তো ভয়ে কিছু বলছে না। বললে তো কোনো না কোনো সূত্র বের করা যেতো। কিন্তু পুরোহিতের মৃত্যুর ঘটনাটি বিশাল কোনো রহস্যের ঘ্রাণ বুঝা যাচ্ছে।

 

হোটেলের ম্যানেজারকে জুরা গিয়ে জিজ্ঞেস করলো – আচ্ছা আপনাদের এইখানে এই যে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে এর সাথে কারা জড়িত রয়েছে বা কারা এই সব করে আপনি কি কোনো তথ্য দিতে পারবেন?

 

-ম্যানেজার কিছুই বলতে রাজি নয়।

 

ম্যানেজার কথাটাকে না শুনার ভান করে বললো স্যার

আপনি দ্বিতীয় বার এটা কারো কাছে জানার চেষ্টা করিয়েন না, আপনার পূর্বেও দুইজন ছেলে এসেছিলো এর রহস্য জানার জন্য, দু’জনের একজন পাগল হয়ে গিয়েছিলো, আরেকজন কে খুঁজে পাওয়া যায় নি।

দয়া করে আপনিও তাদের পথে পা বাড়াবেন না।

 

স্যার আমরা কি আপনাকে আমরা আমাদের হোটেল থেকে আর কোনো স্পেশিয়াল ভাবে সেবা দিতে পারি?

 

জুরা ম্যানেজারের কথা শুনে আরো চিন্তিত হয়ে পড়লো, কিছুটা ভয় সঞ্চার হতে থাকলো। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি ভয় পেয়ে হেরে যাওয়ার মানুষ তো জুরা নয়। জুরা এর রহস্য না জানা পর্যন্ত এইখান থেকে কোথায়ও এক পা যাবে না।

 

জুরা রাতে গ্রামের অলিতে-গলিতে হাঁটা শুরু করলো।

হাঁটতে হাঁটতে জুরা রাতের আঁধারে সে কবরস্থানের কাছে গিয়ে পৌছুলো।

….চলবে…

.

গল্পঃ এডজ্বিন

লেখাঃ জুরা চৌধুরী

.

 

গল্পঃ এডজ্বিন

….#২য়_পর্ব….

 

‘জুরা রাতে গ্রামের অলিতে-গলিতে হাঁটা শুরু করলো।

হাঁটতে হাঁটতে জুরা রাতের আঁধারে সে কবরস্থানের কাছে গিয়ে পৌছুলো। যে মেয়েটির লাশের সাথে গতকাল এমন নির্যাতন করা হয়েছিলো, সেই কবেরের পাশে গিয়ে কবরের চারপাশ ঘুরে দেখতে লাগলো, আর ভাবতে লাগলো কি হতে পারে এটা! কেনো এমন করছে এই গ্রামের মানুষের সাথে? তার উদ্দেশ্য কি? আর কেনোই বা নিরহ লাশের প্রতি অত্যাচার করছে!

 

খুবই কাছাকাছি কোথাও থেকে একটা গন্ধ ভেসে আসছে। মানুষ পঁচা গন্ধ হবে। জুরা ভাবলো গোরস্তানের কোনো একটি কবর হয়তো যে কোনো ভাবে ফুটো হয়ে গিয়েছে, যার জন্য গন্ধটি সেখান থেকে আসছে। 

 

কিছুক্ষণ পর জুরার পিছন থেকে হঠাৎ দমকা বাতাস বইতে লাগলো। বাতাসটি স্বাভাবিক মনে হলো না, এই টুকু বাতাসে জুরার পুরো শরীর প্রচন্ড ঠান্ডা হয়ে গেলো। মনে হচ্ছে পুরো শরীর বরফে ঢেকে যাবে।

 

চার পাশ থেকে প্রচুর ঝিঁ ঝিঁ পোকার আওয়াজ আসতে লাগলো। একদল বাদুর চার পাশ ঘুরাঘুরি করছে, মনে হচ্ছে কেউ তাদের তাড়াচ্ছে। বাদুর গুলো গুণগুণ করছে, গুণগুণ আওয়াজ থেকে কিছু একটা ভয়ের আভাস ভেসে আসছে। জুরার মনে মনে ভয় সৃষ্টি হতে লাগলো। 

 

জুরা আর দেড়ি না করে বাসায় চলে আসলো।

 

রাতে জুরার প্রচন্ড জ্বর আসে। ঘুমে স্বপ্ন দেখে দূর থেকে এক কালো ছায়া দাঁড়িয়ে বলছে- এর রহস্য জানতে যেওনা মানব, তাহলে তোমার তার হাতেই মৃত্যু হবে” 

যদি বেঁচে থাকতে চাও এখান থেকে চলে যাও।

 

প্রচন্ড জ্বরের ভিতর এমন স্বপ্ন দেখে জুরা অনেক ভয় পেয়ে যায়। আবার মনে মনে ভাবছে ভয় পেলে তো তাকে চলবে না, সে যদি এখান থেকে চলে যায়, তাহলে এর রহস্যের কথা কোনো দিনই তার জানা হবে না। এসেছে যেহেতু এর রহস্য না জানা পর্যন্ত আপাতত বাসায় যাবে না।

 

সকালে শুনতে পাওয়া যায় ঐ গ্রামের এক ২৩ বছরের মেয়েকে তার বাবা ভয়ে অন্য গ্রামে এক আত্মীয়ের বাসাতে পাঠাতে চেয়েছিলো। যাত্রা পথে মেয়েটি গাড়ী এক্সিডেন্টে মারা যায়!

 

জুরা খবর টি শুনে, মনে মনে একটি কথা চিন্তা করলো, 

এবং একটি সূত্র বের করতে পারলো। এই গ্রামে কোনো নারী অন্য গ্রামে যেতে পারবে না প্রাণ ভয়ে। যদি যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে তাকে কোনো না কোনো ভাবে হত্যা করবেই সে অদৃশ্য শক্তিটি। এই যেন এক অজানা অদৃশ্য মায়াজালে পুরো গ্রাম বন্দী। 

 

জুরার মনে একটি প্রশ্ন সঞ্চার হলো, আজ যে মেয়েটি মারা গিয়েছে গাড়ী এক্সিডেন্টে,

তাকে ঐ অদৃশ্য শক্তিটি অত্যাচার করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা, মেয়েটি খুবই গুরুতর ভাবে এক্সিডেন্ট হয়ে মারা গিয়েছে, যা কোনো ধর্ষক হোক বা কোনো জন্তু হোক, এই অবস্থায় নির্যাতন করবে না নিশ্চয়ই। 

জুরা মনে মনে স্থির করলো আজ রাতে মেয়েটির কবর পাহারা দিবে, যদি এই মেয়েটির সাথে পূর্বের ন্যায় কিছু করা হয় কি না তা দেখার জন্য ।

 

জুরা তাই করলো।

 

রাত প্রায় এগারোটা বেজে গিয়েছে। জুরা গোরস্তানের গেইট থেকে মেয়েটির কবরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ১২ টা বাজার কিছুক্ষণ পরই গোরস্তানের দিকে তাকাতে পারছে না জুরা, চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না কয়েক মিনিটের জন্য। হঠাৎ এক বিদ্যুৎ রশ্মি আলোতে যা দেখতে পেলো, এমন এক দৃশ্য দেখার জন্য জুরা কখনই প্রস্তুত ছিলো না। 

 

গোরস্তানের মধ্য থেকে একটি চিৎকারে মেয়েটির কবরের মাটি গুলো ফাঁক হয়ে যায়, সাদা কাপড় পড়া মেয়েটির পুরো দেহ মুহুর্ত্বের মধ্যে উলঙ্গ হয়ে যায়। কাউকে জোড় করে নির্যাতন করলে যেমন তার ভঙ্গিমা লক্ষ করা যায়, মেয়েটির সাথে তাই করা হচ্ছে অদৃশ্যমান ভাবে। মনে হচ্ছে মেয়েটির চিৎকারে পুরো গোরস্তানের মাটি গুলো ফাঁক হয়ে যাবে। কিন্তু গোরস্তানের বাহিরের কেউ তার চিৎকার শুনছে না!

 

কিছুক্ষণের  মধ্যেই মেয়েটি নিজেই নিজের শরীরের চামড়া গুলো টেনে হিঁছড়ে আলাদা করা শুরু করলো! আর চিৎকার দিচ্ছে। একদিকে ভয় অন্য দিকে এমন দৃশ্য দেখে জুরার পুরো শরীর থরথরি করে কাঁপছে।

মুহুর্ত্বের মধ্যেই মেয়েটির চিৎকার থেমে গেলো!

 

মেয়েটি অদৃশ্য হয়ে গেলো!

 

জুরা এদিকওদিক তাকিয়ে মেয়েটিকে খুঁজে ফেলো না গোরস্থানের কোথায়ও।

 

জুরা নিজের পিছনে কিছু একটা রয়েছে অনুভব করলো। পিছন ঘুরতেই দেখে কবরস্থানের সেই মেয়েটি তার পিছনে! জুরার দিকে ঘ্যার ত্যাড়া করে রয়েছে এবং চোখ দু’টো দুই হাতে নিয়ে জুরার দিকে এগিয়ে দিচ্ছে। এমন দৃশ্য দেখে জুরা আর নিজেকে স্থির রাখতে পারলো না, সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললো।

 

জ্ঞান ফিরে নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পায়। সকালে কেউ একজন জুরাকে গোরস্তানের গেইটের কাছে পরে থাকতে দেখে হাসপাতালে রেখে যায়।

 

জ্ঞান ফিরে জুরা শুনতে পায় মেয়েটির লাশ খুঁজে পাওয়া যায় নি গোরস্তানে। পরিবার থেকে শুরু করে পুরো গ্রাম আতঙ্কিত লাশ খুঁজে না পেয়ে। 

 

জুরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, পাশের গ্রামে একজন বড় ‘পুরোহিত’ রয়েছে। জুরা পুরোহিতের কাছে যায়। পুরোহিতের কাছে গিয়ে আকিলাপুরের ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা ও গত রাতে গোরস্তানে তার দেখা ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো খুলে বললো।

 

পুরোহিত জুরার সব কথা শুনার পর বললো।

তুমি আশার আগেই আমি সব কিছুই জানি।

জুরাঃ কিভাবে জানেন পুরোহিত মশাই, কেউ কি এসে আপনাকে বলেছে?

 

পুরোহিতঃ না, আমি নিজে থেকেই জানি।

 

জুরা কিছুটা অবাক হলো পুরোহিত মশাইয়ের কথা শুনে।

কি বলছে পুরোহিত মশাই! সব কিছুই জানেন তার আশার আগে!

 

জুরাঃ পুরোহিত মশাই আপনি সব কিছু জেনেও কেনো কিছু করছেন না?

 

পুরোহিতঃ তোমার প্রশ্নের জবাব আমি আজ দিতে পারবো না, আগামী পরশু দিবো। তুমি আগামী পরশু সকালে আমার কাছে আসিও।

এই সময়তে রাতে ঘর থেকে বের হবে না,

তাহলে মহা বিপদ হতে পারে।

 

জুরা পুরোহিতের কাছ থেকে চলে আসলো, আর ভাবছে, সে একজন পুরোহিত তার কাজ তো মানুষের কল্যাণ সাধন করা নিজের জীবনকে বাজি রেখে হলেও, কিন্তু সব কিছু জেনে বুঝেও সে কেনো চুপ! তার সাথে কি ঐ অদৃশ্য শক্তিটার কোনো সম্পর্ক রয়েছে? নাকি সে নিজেই তা করাচ্ছে? কি সব ভুলভাল চিন্তা মাথায় আসছে, এমন হবে না নিশ্চয়ই।

 

সেই রাতেই আরেকটি বিরল ঘটনা ঘটে জুরার সাথে। রাতে এক প্রচন্ড ঝোড়ো শব্দে জুরার ঘুম ভেঙে যায়।

ঘড়িতে ঠিক কয়টা বেজেছে জুরা বলতে পারছে না, ঘড়ির ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডের সব গুলো কাটা এক সাথে ঘুরছে, মনে হচ্ছে ঘড়ি টা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। 

 

কিছুক্ষণ পর জুরা লক্ষ্য করলো দরজার নিচ দিয়ে ফুটো জায়গা দিয়ে মৃত পঁচা মানুষের গন্ধ আসছে। আর জানালার পর্দার মধ্যে কিছু একটার ছায়া ভাসছে। কিছু গায়েবি শব্দ ভেসে আসছে, চলে যাও চলে যাও এর রহস্য জানার চেষ্টা করিও না। তাহলে তোমাকেও প্রাণ দিতে হবে। চলে যাও চলে যাও।

 

জুরা ভয়ে একাকার। তবুও হাল ছাড়ছে না।

 

কয়েক মিনিটের মধ্যে আওয়াজ টি বন্ধ হয়ে যায়। 

মৃত পঁশা মানুষের গন্ধ টি চলে যায় এবং ঘড়ির কাটা গুলোও ঠিক হয়ে যায়। জুরা ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে রাত ২.৩০ মিনিট বেজেছে।

 

পরদিন রাতও একই শব্দ, গন্ধ ভেসে আসে। যাওয়ার সময় ঘড়ির কাটাতে আজ রাত ১.২০ মিনিট দেখে। 

 

সকালে জুরা পুরোহিতের দুই দিন পর দেখা করার কথা অনুযায়ী তার কাছে যায়। দুই রাতে তার সাথে ঘটে যাওয়া বিষয় গুলো খুলে বলে।

 

পুরোহিত জুরার কথা গুলো শুনে হাসছে খিলখিল করে। যা জুরার কাছে সন্দেহ প্রবণতা টা ভেড়ে যাচ্ছে।

পুরোহিত বললো- তোমার সাথে যা যা ঘটেছে তা আমি এখান থেকে বসেই দেখেছি। আর তোমার সাথে যা যা করা হয়েছে, তোমার পূর্বেও দুইজন এর রহস্য জানতে এসেছিলো, তাদের সাথেও তেমনটাই করা হয়েছিলো।

 

এর রহস্যের কথা পূর্বেই জানতেন আমার ওস্তাদ বিখ্যাত ‘রোমান ক্যাথোলিক বংশের’ সপ্তম বংশধর  “পরমহংস” পুরোহিত। সে বাঁধা দিতে গিয়েছিলো এই অদৃশ্য জন্তুটিকে। কিন্তু কোনো এক ভুলের কারণে জন্তুটির কাছে পরমহংসকে পরাজিত হতে হয়। পরমহংসের দেহটি কে তিন টুকরো করা হয়। দেহের বুক থেকে মাজার অংশ পাওয়া গেলেও মাজা থেকে পা এবং মাথার অংশ খুঁজে পাওয়া যায় নি। কেউ যদি পরমহংসের দেহের বাকি দুইটি অংশ খুঁজে পায় এবং দেহের মাঝামাঝি অংশ যেখানে সমাধি করা হয়েছে সেখানে পুনরায় সমাধি করতে পারে, তাহলে হয়তো রোমান ক্যাথোলিক বংশের অষ্টম পুরোহিত ‘রাসমনি’ সে শক্তি ফিরে পাবে এবং সেই জন্তুটির সাথে লড়াই করার পথ দেখাতে পারবে। রাসমনি পুরোহিত ও আমার ওস্তাদ ছিলেন।

 

পুরোহিত জুরার উদ্দেশ্য করে আরেকটি কথা বললো- তোমাকে একটি “গগনচারী” দেই, যা এর পূর্বে যারা এসেছিলো তাদেরকেও দিয়েছিলাম। তুমি এই গগনচারীর আসল রহস্য খুঁজে বের করতে পারলে রোমন ক্যাথোলিক বংশের সপ্তম পুরোহিত পরমহংসের দেহের বাকি দুই অংশ খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত কিছুটা হলেও  এর রহস্যের সমাধানের অংশ খুঁজে পাবে।

তবে মনে রাখবে মৃত্যু তোমার পিছু পিছু। 

 

জুরাঃ আমাকে কি শুধু বলবেন এটা কি এমন অদৃশ্য শক্তি, আর কেনোই বা এমন করছে, সে কি চায়?

 

পুরোহিত কিছুই বলতে নারাজ। শুধু বলেছে গগনচারীতেই এর রহস্যের সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে।

 

“ত্রিশে হয় যদি নির্বংশ

‘জরি’ কেনো মরলো নির্দোষে!

এগারো নারীর রক্ত চুষে

তবেই কমবে এই রহস্য।

 

রক্তের শোধ রক্তে নিবে

দোষ করেছে তিন পুরুষ।

বিষ রেখে শিশু ধরে

তবেই হবে গ্রাম শূন্য। 

 

যে খুঁজবে আসল রহস্য

তার মৃত্যু অনিবার্য!”

 

জুরা পুরোহিতের কাছ থেকে চলে আসলো। পুরোহিতের দেওয়া গগনচারী উত্তর খুঁজছে, কোথায়ও কোনো শূত্র খুঁজে পাচ্ছে কি না।

….চলবে… 

.

লেখাঃ জুরা চৌধুরি

.

 

গল্পঃ এডজ্বিন

…..#৩য়_পর্ব…. 

 

জুরা পুরোহিতের কাছ থেকে চলে আসলো। পুরোহিতের দেওয়া ধাঁধার উত্তর খুঁজছে, কোথায়ও কোনো সূত্র খুঁজে পাচ্ছে কি না।

 

জুরা এর রহস্য খুঁজার জন্য পুরোহিতের গগনচারীর কথা গুলো বার বার ভাবছে, কোনো উত্তরই খুঁজে পাচ্ছে না। ভাবছে পরমহংসের দেহের বাকি দুই অংশ যদি খুঁজে পাওয়া যেতো তাহলে হয়তো এত কষ্ট করতে হতো না। কিন্তু কোথায় ও তো কোনো সূত্র পাওয়া যায় নি।

 

পরদিন শুনতে পায়, এক্সিডেন্ট করে মারা যাওয়া

মেয়েটির বাবা ‘সিদ্দিক সাহেব’ রাতে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে! শরীরের চামড়া নেই! জীবিত থাকা অবস্থায় সম্ভবত সিদ্দিক সাহেবের শরীর থেকে চামড়া তুলে নেওয়া হয়েছিলো। সিদ্দিক সাহেবের পুরো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে, ফাঁসি দেওয়া পাখার সাথে। যেখানে দেহ টি ঝুলে রয়েছিলো, নিচে রক্তে পুরো ফ্লোর ভেসে গিয়েছিল। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো রক্ত গুলো ফ্লোরে এমন ভাবে ভেসে ছিলো যে, রক্তের মাঝে ত্রিশ(৩০) সংখ্যা টি ভেসে উঠেছে!

 

পুলিশ এসে সিদ্দিক সাহেবের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

পুলিশের ধারণা ছিলো- সিদ্দিক সাহেবের পুড়নো কোনো দাগি শত্রুর কাজ হবে এই সব। হত্যা হরে সিদ্দিক সাহেব কে ফাঁসির রশিতে ঝুঁলে রেখেছে।

 

দুই দিন পর ঐ আকিলাপুরে ৫৫ বছরের ‘আরিফ সাহেব  নামের একজন কে’ ধর্ষনের মামলায় জেলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ!

 

মামলাটি ৩০ বছরের পুড়নো!

 

মামলার বাদীপক্ষের এক আত্মীয় তিন মাস মামলাটি চালানোর পর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নি। দীর্ঘ ৩০ টি বছর পর মামলার বাদীপক্ষের কেউ একজন এসে আবার মামলাটি পুনঃজীবিত করেছেন, যে কারণে আরিফ সাহেবকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছে। 

 

সেই মামলার আসামি তিন জনকে দেওয়া হয়েছিলো। প্রথম আসামি আরিফ সাহেব ছিলেন, দ্বিতীয় আসামি হলো গলায় ফাঁসি অবস্থায় যার চামড়া তুলে নেওয়া হয় সেই সিদ্দিক সাহেব! তিন নাম্বার আসামির নাম অজ্ঞাতনামা ছিলো।

 

একের পর এক হত্যা কিন্তু কোনো সূত্র পাওয়া যাচ্ছে না, পুরোহিতও সম্ভবত সত্যি টা প্রাণের ভয়ে গোপন করে রাখছে, কোন কুল না পেয়ে জুরা ভাবলো এর রহস্য বের করতে হলে ব্যতিক্রম ভাবে চেষ্টা করতে হবে। 

 

জুরা সিদ্ধান্ত নিলো আকিলাপুরের এই পর্যন্ত যত গুলো মেয়ে অকালে মারা যাওয়ার পর তাদের মৃত শরীর থেকে চামড়া তুলে নেওয়া হয়েছিলো সবার পরিবারের সাথে কথা বলে, তাদের মৃত্যু সম্পর্কে জানার জন্য, মৃত্যুর পূর্ব সময় গুলোতে তাদের অবস্থান কেমন ছিলো।

 

 আকিলাপুরে যতটি মেয়ের সাথে এমন ঘটনা করা হয়েছিলো প্রথম যে মেয়েটি মারা গিয়েছিলো তার নাম ‘ইশিতা’। ইশিতার বয়স ২০ বছরের ছিলো। পরিবারের উক্তি ছিলো- ইশিতা খুবই সাধারণ এক মেয়ে ছিলো। কেনো জানি মৃত্যুর তিন দিন পূর্ব থেকে ইশিতার শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দেয়। রাতে ইশিতার রুমে কিছু একটা হাঁটার আওয়াজ অনুভব করত। সকালে উঠে পুরো শরীর বেথা অনুভব করতো। বাড়ির চারপাশে মাঝ রাতে একদল বাদুরের ঝাঁক আসতো, বাদুর গুলো শুধু ঢাকতো। মাঝে মাঝে ভয় লেগে যেত বাদুরগুলোর আওয়াজ শুনে। ইশিতার পরিবার এটাকে প্রথমত স্বাভাবিক ভেবে ছিলো, মনের কোনো ভুল হবে ভেবে ছিলো, আর বাদুর রাতে ঢাকতেই পারে ভেবেছিলো।

 

 ইশিতা, যে রাতে আত্মহত্যা করে মারা যায়, দেয়ালা রক্ত দিয়ে ত্রিশ (৩০) সংখ্যা টি লিখা ছিলো। এটা লিখে ইশিতা কি বুঝাতে চেয়েছিলো তার পরিবার আজও জানতে পারে নি। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় ছিলো যে- ইশিতা চুরি দিয়ে নিজের অর্ধ গলা নিজে কেটে আত্মহত্যা করেছিলো! পোস্টমর্টেম রিপোর্ট তাই বলেছিলো। তাছাড়া ভিতর থেকে ইশিতার রুমের দরজা নক করা ছিলো। কারো পক্ষে সম্ভব ছিলো না ভিতর থেকে ইশিতাকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার।

 

ইশিতাকে মাটি দেওয়া হয়। পরদিন সকালে দেখে কবর খুঁড়িয়ে কেউ একজন ইশিতার শরীরের চামড়া তুলে নিয়ে যায়! যা প্রথম আকিলাপুরে ঘটে। এলাকার মানুষ প্রথমত ডাকাতের কাজ হতে পারে ভেবে ছিলো। কিন্তু যখন দ্বিতীয় বার আকিলাপুরে ‘শাহানা’ নামের একটি মেয়ের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করা এবং তার মৃত লাশটির সাথেও ইশিতার ন্যায় করা হয়। তখনই গ্রামের মানুষ ভাবলো এটা কোনো ডাকাতের কাজ নয় কোনো অদৃশ্য শক্তির কাজ। কোনো অপশক্তির ছায়া পড়েছে হয়তো আকিলাপুরে।

 

এই এলাকায় এই পর্যন্ত আটটি মেয়ের অস্বাভাবিক ভাবে অকাল মৃত্যু দেখা দেয়। মৃত মেয়ে গুলোর সবাই অবিবাহিত ছিলো। সবার মৃত্যুর তিন দিন পূর্বে শরীরের পরিবর্তন দেখা দিয়েছিলো। মৃত্যুর পূর্বে তিন রাতে তাদের রুমে কিছু একটা হাঁটছে লক্ষ্য করত। মৃত মেয়েগুলোর সবারই বয়স ২০ থেকে গড়ে ৩০ এর মধ্যে। প্রত্যেকের বয়স যেন সিরিলায় অনুযায়ী সাজানো। শুধু মাত্র একুশ, তেইশ ও ঊনত্রিশ বছর গুলো ছাড়া। 

 

পঞ্চম যে মেয়েটি আত্মহত্যা করে ফাঁসি দিয়ে, তার রুমে রক্ত দিয়ে দেয়ালে বড় করে লিখা ছিলো ৩ (তিন) সংখ্যাটি।

মেয়েটির পরিবার ও এলাকাবাসী এই ঘটনায় পূর্বের চেয়ে একটু বেশি আতঙ্কিত হয়েছিলো। কেননা, মেয়েটির শরীরে মৃত্যু কালে কোনো কাটার আঘাত খুঁজে পাওয়া যায় নি। মেয়েটি তো ফাঁসি দিয়ে মারা গিয়েছিলো।

 

জুরা প্রতিটি মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলার পর পুরোহিতের গগনচারীর একটি লাইনের কথার মিল খুঁজে ফেলো। গগনচারীতে বলা হয়েছিলো এগারো জন নারীর রক্ত চুষে খাওয়ার কথা। আট জন নারী যদি মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তিন জন বাকি থাকে। ২০ বছর থেকে ৩০ বছরের গড় হিসেবে একুশ, তেইশ ও ঊনত্রিশ বছর গুলো বাকি থাকে। এই খানে ২০ থেকে ৩০ গড় বছরে তিন টি সংখ্যা বাকি ঐ খানে পুরোহিতের গগনচারী অনুযায়ী এগারো জন হতে তিন জন বাকি, যদি পুরোহিতের কথা সত্যি হয়, তাহলে কি বাকি তিন একুশ, তেইশ ও ঊনত্রিশ বছরের মেয়ে মারা যাবে!

 

 জুরার মাথা চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আচ্ছা যদি এটাই সত্যি হয় তাহলে বাকি তিন জন মেয়ে কারা! তাদের খুঁজে বের করতেই হবে। 

 

জুরা গোপনে গোপনে গ্রামের সবার বাড়ীতে যেয়ে খোঁজ নিতে লাগলো। পুরো গ্রামে একুশ, তেইশ ও ঊনিশ বছরের মেয়ে কারা কারা রয়েছে। পুরো গ্রামে জুরা মোট সাত টি মেয়ে খুঁজে ফেলো একুশ, তেইশ ও উনিশ বছরের।

জুরা সবাইকে সতর্ক করলো। কারো সাথে অদৃশ্য কিছু হওয়ার সাথে সাথেই যেন জুরাকে জানানো হয়।

 

প্রায় দুই দিন চলে গেলো, মেয়েগুলোর সাথে তেমন কিছুই করা হলো না। 

 

জুরার রাতে ঘুমের মধ্যে কিছু একটার শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙে যায়। দরজার নিচ দিয়ে ফুটো দিয়ে মৃত মানুষের ঘ্রাণ আসতে দেখে। জানালার উপরে কিছু একটার ছায়া রয়েছে বুঝতে পারে।

জুরা ভয় ভয় কন্ঠে চিৎকার দিয়ে জানতে চাইলো,

কে আপনি? 

 

কোনো উত্তর আসলো না।

 

জুরাঃ দেখুন আমি আপনার সম্পর্কে জানতে চাই আপনি কে দয়া করে বলুন- তাও কোনো আওয়াজ নেই। একটি হাসির আওয়াজ একবার এসে বন্ধ হয়ে গেলো। ছায়া টি ও চলে গেলো। মৃত মানুষের ঘ্রাণ টিও চলে গেলো।

 

পর দিন রাতে তেইশ ও ঊনত্রিশ বছরের দুইজন মেয়ে মারা যায় গলায় ফাঁস দিয়ে! এই ঘটনার শুনার জন্য জুরা কখনই প্রস্তুত ছিলো না! এমনটি হওয়ার কথাও ছিলো না। কেনো যেন মনে হলো পুরোহিতের কথা, তাহলে কি পুরোহিতের কথাই সত্যি হতে চলছে। মেয়ে গুলোকে পোস্টমর্টেম করে মাটি দেওয়া হলো। জুরা পূর্বের ন্যায় গোরস্তানের কাছে গেলো। পূর্ণিমার আলোতে ঝলমল করছে পুড়ো গোরস্তান। রাত ২.৩০ বেজে, সেই অদৃশ্য শক্তিটির আগমনের কোনো চিহ্ন আজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে না আসবে। জুরা চলে আসবে বলে যেই পিছনে ঘুরলো – ঘুরার সাথে সাথে হঠাৎ প্রচন্ড ঝড় বাতাস আসতে লাগলো। মুহুর্ত্বের মধ্যে আসমান অন্ধকার হয়ে গেলো। মনে হচ্ছে চাঁদ হঠাৎ রাগ করেছে জুরার সাথে। জুরার নিজের শরীরের ঠান্ডা একটি হাতের আভাষ লক্ষ্য করলো।

 

মুহুর্ত্বের মধ্যেই জুরাকে উপরে তুলে মাটিতে ছেড়ে দিলো। জুরা মাটিতে পরে হাউমাউ করতে লাগলো। মুখ থেকে কোনো শব্দ বের করতে কষ্ট হচ্ছে। দাঁড়ানোর কোনো শক্তি পাচ্ছে না। অদৃশ্য কেউ বলছে, মৃত্যু পথে হাঁটতে বারণ করা হয়েছিলো। নিজের মৃত্যু নিজে ঢেকে এনেছো, তোমার মৃত্য অতি নিকটে। জুরা বললো- আমি মৃত্যুর ভয় করছি না। মৃত্যুর পূর্বে জানার খুব ইচ্ছে তুমি কে? আর কেনোই বা এই সব নিরহ মানুষগুলোর সাথে করছো? তোমার কি লাভ এদেরকে হত্যা করে? জুরার কথা গুলো শুনে অদৃশ্য শক্তিটি শুধু হাসছে, কোনো প্রতি উত্তর আসে নি। এবং জুরাকে পুনরায় উপরে তুলে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। জুরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফিরে একটি হাসপাতালে দেখতে পায়। এবং শুনতে পায় এই দুই মেয়ে গুলোর লাশের সাথেও পূর্বের ন্যায় করা হয়েছিলো।

 

সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসে।

 

হঠাৎ দুইদিন পর আকিলাপুরে হৈই চৈই পরে গিয়েছে চার থেকে দশ বছরের এগারো (১১) টি কন্যা শিশু গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে! যা বিশ্বাসের অযোগ্য! শিশুরা কিভাবে গলায় ফাঁস দিবে! ফাঁসি দেওয়ার শব্দটাই তো কেউ বুঝে না। আর শিশুগুলো বাবা-মা যে মেরে রশিতে ঝুঁলে রাখবে তা ও তো বিশ্বাস করার নয়। একটি বা দুইটি হলে ভাবা যেত, কিন্তু এগারোটি শিশু হত্যা! শিশু গুলোর বাবা মায়ের কান্না গুলো দেখে পুরো গ্রামের প্রতিটা মানুষ কান্নায় জড়িত হয়ে পড়েছে।

পুরো গ্রামে হৈই চৈই পড়ে গিয়েছে। পড়বেই বা না কেনো একটি না দুইটি না এক রাতে এগারোটি কন্যা শিশু হত্যা হয়! 

শিশুগুলোর লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কারো কোনো স্পর্শ বা আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় নি! 

 

জুরা পুরোহিতের গগনচারীর শিশু হত্যার ইঙ্গিত টি বুঝতে পারছে এখন। এই কাজ সেই অদৃশ্য শক্তিরই হবে। পুরোহিত বলেছিলো শিশু হত্যা যখন শুরু হবে পুরো গ্রাম শূন্য হবে। তাহলে কি আর অদৃশ্য শক্তিটিকে থামানো যাবে না! সে এই গ্রাম কে শূন্য করে ছাড়বে!

….চলবে…

.

লেখাঃ জুরা চৌধুরি

.

 

গল্পঃ এডজ্বিন

…#৪র্থ_পর্ব…

 

জুরা পুরোহিতের গগনচারীর শিশু হত্যার ইঙ্গিত টি বুঝতে পারেছে এখন। এই কাজ সেই অদৃশ্য শক্তিরই হবে। পুরোহিত বলেছিলো শিশু হত্যা যখন শুরু হবে পুরো গ্রাম শূন্য হবে। তাহলে কি আর অদৃশ্য শক্তিটিকে আটকানো যাবে না! সে এই গ্রাম কে শূন্য করে ছাড়বে!

 

জুরা পূর্বের ন্যায় মেয়ে গুলোর মৃত লাশের সাথে যা যা করা হয়েছিলো, এই শিশু গুলোর সাথেও কি তা তা করা হবে কি না, বিষয়টি জানার জন্য জুরার মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। গ্রামের মানুষগুলোর সাথে আলোচনা করলো।

 

জুরা আজ পুরোপুরি আগ্রহ নিয়ে রাতে গোরস্তানের কাছে গিয়ে শিশু গুলোর কবর গুলোতে পাহারা দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি শিশুকে  যেহেতু সবার নিজ নিজ গোরস্তানে কবর দেওয়া হয়েছে তাই আলাদা আলাদা করে প্রতিটা শিশুর কবর পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। প্রত্যেকটি কবরের জন্য দুইজন করে পাহারাদার রাখা হয়। 

 

জুরা যে কবরটি পাহারা দিয়েছিলো, রাতে সেই গোরস্তানের কাছে পূর্বের ন্যায় সেই ঝিঁ ঝিঁ পোকারা ডাকতে ছিলো। এক ঝাঁক বাদুর এসে চারপাশ ঘুরতে থাকলো। বাদুর গুলোর থেকে ভয়ের আভাষ ভেসে আসছে। ভিন্ন আওয়াজ ভেসে আসছে বাদুর গুলোর ডাক থেকে। জুরা প্রথম ভয়ে চমকে উঠে। ভয় ফেলেও এর রহস্য খুঁজার জন্য আজ কোনো ভাবেই পালিয়ে যেতে নারাজ। 

 

হঠাৎ দূরে এক ছায়ার আভাষ ভেসে উঠলো, ছায়া থেকে হাসির শব্দ ভেসে আসতে লাগলো। হঠাৎ হাসির আওয়াজ টি বন্ধ হয়ে গেলো।

কিন্তু সারারাত অতিক্রম হতে চললো শিশুটির লাশের সাথে কিছুই করা হলো না। জুরা বাসায় চলে আসলো।

 

সকালে জানতে পারে বাকি দশ টি শিশুর কবর পাহারা দেওয়া বিষ জনের সবাই ‘বোবা’ হয়ে যায়। কেউ কোনো কথা বলতে পারছে না! রাতে কি হয়েছে তাদের সাথে জানতে চাইলে, কোনো উত্তর আসে নি, সবার চোখ বেয়ে বেয়ে শুধু পানি পড়ছে। মনে হয় রাতে এদের সাথে নির্মম কিছু করেছে অদৃশ্য শক্তিটি।

 

গ্রামের মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে অদৃশ্য শক্তিটির একের পর এক নির্মম অত্যাচার দেখতে দেখতে। সবার মনে শুধু একটিই প্রশ্ন, কে এই অদৃশ্য শক্তি কি? কি তার উদ্দেশ্য? সে কেনো এমন করছে নিরহ মানুষ গুলোর সাথে? তার কি পূর্বের কোনো শত্রুতা রয়েছে কি! যা গ্রামের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে রয়েছে। ভয়ে কেউ গ্রাম থেকে পালিয়ে কোথায় যেতেও পারছে না। যদি যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা মৃত্যু বরণ করে। 

 

পর দিন সকালে,জুরার কাছে একটি অচেনা ব্যক্তির চিঠি এসেছে।  চিঠিতে নাম ঠিকানা কিছুই লিখা নেই। শুধু লিখা আজ যে লোক টি মারা যাবে, তার সম্পর্কে তথ্য গুলো তোমার পরবর্তীতে রহস্য উৎঘটনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে।

 

জুরা সকালে শুনে ঐ গ্রামের আঃ মজিদ নামের একজন লোক মারা যায় গলায় ফাঁসি দিয়ে।

 

জুরা আরো আশ্চর্য হয়ে পরে!

 

অচেনা সেই চিঠি দেওয়া মানুষটির কথা সত্যি হলো কি করে! কেউ মারা যাওয়ার পূর্বে সে কি করে জানে! সেই কি তাহলে অদৃশ্য শক্তি! নাকি তার সাথে অদৃশ্য শক্তির কোনো সম্পর্ক রয়েছে!

 

মরার পূর্বে সতর্ক করা! নাকি অন্য কেউ! জুরার মনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বার বার।

 

আঃ মজিদের বাড়িতে পুলিশ এসে তদন্ত করে। আঃ মজিদের মৃত্যুর রহস্যের কোনো সূত্রই খুঁজে পায় নি। জুরা ভাবলো, অচেনা ব্যক্তির চিঠির কথা অনুযায়ী যদি মৃত্যু সত্যি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই চিঠির কথা অনুযায়ী এর রহস্য কোনো না কোনো ভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে।

 

পুলিশ চলে যাওয়ার পর জুরা আঃ মজিদের পরিবারের সদস্যদের অনুমিত সাপেক্ষে আঃ মজিদের রুমে প্রতিটি স্থান খুঁজে দেখতে লাগলো। জুরা আঃ মজিদের ঘরে টেবিলের উপর একটি ডায়রি ছাড়া পুরো ঘরে আর কিছুই খুঁজে ফেলো না সূত্র পাওয়ার মতো। ডায়রিটি ধরে খুলতে যাবে পাশ থেকে আঃ মজিদের স্ত্রী বললো, দয়া করে এই ডায়রিটি ধরবেন না, আমার স্বামী ত্রিশ বছর পূর্বে যখন বিয়ে করে। প্রথম রাতেই বলে দিয়েছে আমাকে উনার এই ডায়রি যাতে কেউ না ধরে। এই ডায়রিতে আঃ মজিদের ব্যক্তিগত অনেক স্মৃতি জড়িত রয়েছে।

 

জুরার মনে কিছু সন্দেহজনক বিষয় নি মনে হলোও কারো ব্যক্তিগত ডায়রি পড়া উচিৎ নয়।

কিন্তু চিঠির কথা অনুযায়ী তো আঃ মজিদের বাড়ীতে এই ছাড়া কোনো সূত্রই পাওয়া গেলো না। চিঠির সংবাদ অনুযায়ী যদি মৃত্যু হতেই পারে নিশ্চয়ই কোনো সূত্রও পাওয়া যাবে। সেটা আজ হোক বা কাল হোক।

 

আঃ মজিদের মৃত্যুর এক দিন পাড় হতে না হতেই ধর্ষনের মামলায় জেলে থাকা আরিফ সাহেবের মৃত্যুর খবর শুনা যায়। আরিফ সাহেবের দেহ থেকে গলা কেটে দুই খন্ড করে দুই পা রশি দিয়ে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়। মাথার অংশ টি মাটিতে পড়ে রয়েছে। আরিফ সাহেব কে যে রুমে রাখা হয় ঐ রুমে কোনো ধরনের রশি ছিলো না। কিন্তু রশি দিয়ে অাঃ মজিদের পা ঝুলানো হয়! মেঝেতে রক্ত দিয়ে তলিয়ে আছে। রক্তে মাঝ খানে সুন্দর একটি সংখ্যা রয়েছে ত্রিশ(৩০)। এই ঘটনায় পুরো জেলখানায় আলোচিত হয়ে পরে। জুরার মনে আঃ মজিদের মৃত্যুর পর- দিন দিন ভয় ও আতঙ্ক বেড়েই চলছে। 

 

জুরা এই পর্যন্ত পুরোহিতের গগনচারীর কথা গুলোর প্রায় অনেক জায়গায়ই মিল খুঁজে পাচ্ছে, যদি শেষ চরনটি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে কি জুরার মৃত্যু অনিবার্য অদৃশ্য শক্তিটির হাতে! 

 

পরদিন খবর আসে সেই পুরোহিত আত্মহত্যা করেছেন! পুরোহিতের মৃত্যু খবরটি অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা।

জুরা ভাবছে, পুরোহিতের গগনচারী দেওয়াটি কি  রহস্যের দাড় প্রান্ত তাকে পৌঁছে দিবে যে কারণে পুরোহিত কে ও ছাড় দিলো না অদৃশ্য শক্তি টি!

 

নাকি এর ভিন্ন কোনো রহস্য ছিলো!

 

পুরোহিতের মৃত্যুর পর জুরা এই অদৃশ্য শক্তিটির রহস্য খুঁজার হাল ছেড়ে দিয়েছে। যেখানে যায় শুধু মনে ভয়ের সঞ্চার দেখা দেয়। যেনো মনকে স্থির করতে পারছে না। 

 

এক এক করে দশটি মেয়েকে হত্যা, এগারো জন শিশুকে একই রাতে হত্যা। আরিফ সাহেব, আঃ মজিদ, ও আরিফ সাহেবের মৃত্যু হয়। কোনো ভাবেই অদৃশ্য শক্তিটির হাত থেকে কাউকেই বাঁচানো যায় নি। যদি অদৃশ্য শক্তির হাতে জুরার ও মৃত্যু হয়! ভয় তো পুরো গ্রামের অসহায় মানুষ গুলোর জন্য। কোনো ভাবে যদি পরমহংসের দেহের বাকি দুই অংশ খুঁজে পাওয়া যেত তাহলে হয়তো এর রহস্য জানা যেত!

 

এগারোজন নারীর মধ্যে বিশ থেকে ত্রিশ বছরের গড় সিরিয়ালের একমাত্র একুশ বছরের ‘নিহা’ মেয়েটির ইদানীং শরীরের কিছু একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিহা পরিবারের সবার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। সারাক্ষণ চুপচাপ থাকে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয়, তাছাড়া সারাক্ষণ চুপই থাকে।

 

নিহার শরীর দিন দিন কালো বর্ণের হয়ে যাচ্ছে। নিহা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। নিহাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডাক্তাররা সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পায় নিহা মা হতে চলেছে। নিহার পেটে একটি শিশু রয়েছে। 

 

ডাক্তাররা পরীক্ষা করে জানতে পারলো, বাচ্চাটি মানুষ আকৃতি নয়। কিছু একটা প্রাণীর ন্যায় আকৃতির। ডাক্তারের কথা গুলো জোক্স মনে হবে যে কাহারো কাছেই। 

 

কেননা নিহা তো অবিবাহিত!

তার পেটে বাচ্চা আসবে কি করে! 

ডাক্তার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নিহার পরিবারকে বলল পরের সাপ্তাহে আবার আসতে, তারা পুনরায় পরীক্ষা করে দেখবে আসলেই কি রিপোর্টে সমস্যা নাকি সত্যি সত্যি নিহার পেটে বাচ্চা রয়েছে।

 

ঘটনাটির দুইদিন যেতে না যেতেই আকিলাপুরে বাইশ, তেইশ, চব্বিশ ও পঁচিশ বছরের অবিবাহিত চারটি মেয়ের পেটে বাচ্চা রয়েছে জানা যায়! সবার পেটের বাচ্চাগুলো দেখতে কোনো এক প্রাণীর আকৃতির ন্যায়।

যার পলে পুড়ো এলাকা আতঙ্ক!

 

এর রহস্য ও সমাধান কোথায় রয়েছে কেউ জানে না।

 

 রাতে জুরার কিছু শব্দের আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে দেখে রুমে সকল কিছু অগোছালো ভাবে পরে রয়েছে। বাহিরে প্রচুর বাদুর ডাকছে। বারান্দার দরজার ফাঁকা অংশ থেকে মৃত মানুষের ঘ্রাণ ভেসে আসছে। কেউ জুরার শরীরে হাত রেখেছে জুরা অনুভব করলো। হাতটি একদম শীতল অনুভব হচ্ছে।

অদৃশ্য শক্তিটির গায়েবি হাসির আওয়াজ আসছে। 

জুরা বুঝতে পারে,

অদৃশ্য শক্তিটির আগমন হয়তো হয়েছে।

অদৃশ্য শক্তিটি বলছে- নিজের মৃত্যু নিজে ডেকে এনেছো। তোমার শাস্তি পেতে হবেই, মৃত্যু তোমার অনিবার্য! 

 

জুরা বুঝতে পারে, আজ হয়তো তার শেষ দিন।

সে আর অদৃশ্য শক্তিটির হাত থেকে রক্ষা পাবে না।

জুরা ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। 

 

হঠাৎ জুরাকে উপরে তুলে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

 

জুরার দেহ থেকে আত্মাটি কে আলাদা করা হয়। 

জুরার দেহ টি একটি বন্ধ ঘরে আবদ্ধ করে রাখে অদৃশ্য শক্তিটি। জুরার আত্মাটি বোতল বন্দী করা হয়,অতঃপর  গোরস্তানে মাটি খুঁড়ে চাপা দিয়ে দেওয়া হয়। দুই দিন জুরার দরজা না খোলার সন্দেহে হোটেলের ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা দরজা ভেঙে রুমে ঢুকে।

রুমে জুরা কে দেখতে পায় নি!

 

এই ঘটনা এলাকায় আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। 

শহর থেকে আসা জুরাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রুমের ভিতর থেকে দরজা নক করা ছিলো যেহেতু এলাকার মানুষের ধারণা অদৃশ্য শক্তিটি জুরা কে হত্যা করে কোথায় নিয়ে দেহ টি ফেলে দিয়েছে।

 

এরপরই আগমন ঘটলো রোমান ক্যাথোলিক বংশের অষ্টম পুরোহিত ‘রাসমনির’।

….চলবে….

.

লেখাঃ জুরা চৌধুরি

.

 

গল্পঃ এডজ্বিন

…#৫ম_পর্ব..(শেষ পর্ব)

 

এরপরই আগমন ঘটলো রোমান ক্যাথোলিক বংশের অষ্টম পুরোহিত ‘রাসমনির’।

 

‘রাসমনি’ রোম নগরীর বড় একজন পুরোহিত। রাসমনি পরমহংসের মৃত্যুর পূর্ব থেকে অপশক্তি, অদৃশ্য শক্তি, কালো জাদু সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন।

 

আকিলাপুরের একের পর এক ভয়াবহতার সম্পর্কে পুরোহিত মৃত্যুর পূর্বে রাসমনিকে সকল ঘটনা বলে গিয়েছেন। যার সুবাদে আকিলাপুরে রাসমনির আগমন।

 

মৃত আঃ মজিদের ডায়রিতে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা পুরোহিত আত্মহত্যার পূর্বেই রাসমনির কাছে বলে গিয়েছে। 

 

ডায়রিতে ৩০ বছর পুর্বের একটি ঘটনা উল্লেখ করা আছে। আকিলাপুরে ‘জরি’ নামে বিশ বছরের একজন সুন্দরি নারী ছিলো। জরি এতিম ছিলো, ছোট থাকতে জরির বাবা মা দুইজনই গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা যায়। জরি চাচার কাছে বেড়ে উঠে। চাচা দিনমুজরী ছিলেন।

জরির চাচার কোনো সন্তান ছিলো না। জরির চাচা জরি কে নিজের সন্তানের মতো লালনপালন করেছেন। 

 

চাচার অভাবের ফ্যামেলিতে জরি পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করতেন। 

 

ফেরার সময় প্রায়ই রাত হতো।

 

তেমনি এক রাতে জরি কে আঃ মজিদ ও তার দুই বন্ধু আরিফ সাহেব এবং সিদ্দিক সাহেব জোড় করে নিয়ে যায় একটি বাড়িতে। ৩ রাত জরি কে গৃহবন্দী করে আঃ মজিদ, সিদ্দিক সাহেব, আরিফ সাহেবসহ শারীরিক নির্যাতন করে।

 

নির্যাতনের প্রথম ধাপ শুরু হয় রাত ১.২০ মিনিটের সময়। ৩য় তম রাত ২.৩০ মিনিটের সময় শেষ হয়।

জরি দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিলো।

সুস্থ হওয়ার পর জরি কে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

জরির বৃদ্ধ চাচা ও জরি এলাকার সবার কাছে জরির নির্মম নির্যাতনের কথা খুলে বলেন। গ্রাম্য সালিশ ডাকেন। আঃ মজিদ, আরিফ সাহেব ও সিদ্দিক সাহেব অধিক ক্ষমাশীল ব্যক্তি হওয়ার কারনে গ্রামের সবাই তাদের কথাই বিশ্বাস করে এবং জরি কে মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার কারণে ৩০ টা চাবুক আঘাত দেওয়া হয়। জরি কে আকিলাপুর গ্রাম ছাড়া করা হয়।

 

জরি আর কোনো দিনই আকিলাপুরে ফিরে আসে নি।

 

ডায়রিতে এই ছাড়া আর কিছুই লেখা ছিলো না।

 

পুরোহিত, রাসমনিকে বলে গিয়েছে আঃ মজিদ, আরিফ সাহেব ও সিদ্দিক সাহেবের হাতে জরি নির্যাতন ও অপমানের বদলা নিতে আকিলাপুর ফিরে এসেছে, আঃ মজিদ, আরিফ সাহেব, সিদ্দিক সাহেবকেও সে হত্যা করেছে। কিন্তু গ্রামের নিরহ মেয়ে ও শিশু গুলোকে কেনো হত্যা করেছে তার ব্যাখ্যা পুরোহিত নিজে জানে না। যার কারনে ওস্তাদ রোমান ক্যাথোলিক বংশের অষ্টম পুরোহিত ‘রাসমনি’ কে আকিলাপুরে আসতে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

রাসমনি জানতে পারেন তার বংশধর পরমহংসের মৃত্যু ঘটনা সম্পর্কে।

 

পরমহংস অদৃশ্য শক্তি টি সম্পর্কে জানার পূর্বেই পরমহংস কে হত্যা করা হয়। পরমহংস ধ্যানে মগ্ন ও মন্ত্র পড়া ছাড়াই অদৃশ্য শক্তিটা কে বন্দী করতে চেয়েছিলো। পরমহংস মৃত্য মন্ত্র প্রয়োগ করেন নি।

কেননা একজন পুরোহিত তার ধ্যান ছাড়া মন্ত্র ছাড়া কোনো অপশক্তি কে ভয়কট করতে পারে না।

 

 অদৃশ্য শক্তিটা এতই শক্তি ছিলো যে পরমহংস কে তার অদৃশ্য শক্তি দিয়ে বন্দী করে। দেহ টা কে তিন টি টুকরো করে গোরস্তানের কাছে দেহের মধ্যম অংশ রেখে যায়। বাকি দুই টি অংশের খোঁজ কেউ বলতে পারবে না।

 

রাসমনি অদৃশ্য শক্তি টা কে ডাকার জন্য দুই রাত দুই দিন একটি গোরস্তানের পাশে বসে ধ্যানে মগ্ন হন। দ্বিতীয় রাত, রাত প্রায় ২.৩০ মিনিট, গোরস্তানের চার পাশের  মাটি গুলো থর থর কাঁপছে। চারদিকে প্রচুর দমকা হওয়া বইছে। ঝিঁ ঝিঁ পোকারা ঢাকছে। একঝাঁক বাদুর গোরস্তানের এপাশ থেকে ওপাশ ছুটাছুটি করছে।  বাদুর গুলোর কন্ঠের আওয়াজে ভয়ের ছাপ ভেসে আসছে। ধ্যান থেকে রাসমনি একটুও অমনোযোগী হয় নি। রাসমনি শুধু অদৃশ্য শক্তিটির আগমনের পথ চেয়ে। 

 

হঠাৎ দূর থেকে এক ছায়ার আভাষ ভেসে আসে। রাসমনি বুঝতে পারে অদৃশ্য শক্তিটির আগমন।

খুবই রাগান্বিত কন্ঠে ছায়া থেকে শব্দ আসছে, আমাকে ঘুম থেকে কেনো ডেকেছো? এর পরিনাম তোমাকেও দিতে হবে। রাসমনি অদৃশ্য শক্তিটার কথা শুনে ভয় পায় নি বরং রাসমনি বলছে- আজ তোমাকে তোমার কর্মকান্ডের জন্য ডাকা হয়েছে। তোমার তো বদলা নেওয়া হয়ে গিয়েছে, এর পরও তুমি এমন করছো কেনো? 

 

রাসমনির কথা শুনে অদৃশ্য শক্তিটি হাসছে শুধু।

বদলা নেওয়া মানে, আমি তো পাপের শাস্তি দিচ্ছি।

 

রাসমিনঃ তুমি এবার বন্ধ করো সবকিছু, তুমি তোমার গন্তব্যে ফিরে যাও। মৃত্যুর পর কোনো আত্মা যদি বদলা নিতে ফিরে আসে দুনিয়ায় সে বদলা নেওয়ার পর ফিরে যায়, তোমার তো বদলা নেওয়া হয়েছে তুমিও ফিরে যাও।

 

অদৃশ্য শক্তিঃ জরির নির্যাতন অত্যাচারের পাপের বদলা নেওয়া হয়েছে মাত্র! আমার প্রভুর হুকুম তো এখনো শেষ হয় নি বলেই হাসতে হাসতে অদৃশ্য শক্তিটি চলে গিয়েছে। 

 

রাসমনি চিন্তিত! অদৃশ্য শক্তিটা কি বুঝাতে চেয়েছে। এর রহস্য খুঁজে বের করতে হলে রাসমনিকে আগে জুরার আত্মাকে ফিরে আনতে হবে। তাহলেই সব কিছু জানা যাবে।

 

আকিলাপুরে আগমনের পর পুরোহিতের কাছে জুরা যখন গিয়েছিল পুরোহিত বুঝতে পারেন জুরার ভিতর অনেক সাহস রয়েছে। সেই পারবে অদৃশ্য শক্তিটার হাত থেকে সবাইকে মুক্ত করতে।

 

পুরোহিতের মৃত্যুর সময় কখন হবে সে পূর্বেই জানতে পারে। তার পূর্বেই পুরোহিত জুরাকে না জানিয়ে মন্ত্র প্রয়োগ করে জুরার শরীরে ৩০ বছরের অভিজ্ঞাশীল একটি আত্মা সঞ্চার করে দেয়। আত্মাটি পুরোপুরি শক্তি পেতে ৩০ দিন সময় লাগবে। ৩০ দিন পূরণ হতে দুই দিন বাকি। এই আত্মাটার কারনেই অদৃশ্য শক্তিটি জুরা কে হত্যা করতে পারে নি পরমহংস ও অন্যান্যদের মতো। যার ফলে অদৃশ্য শক্তিটি জুরার আত্মাকে দেহ থেকে আলাদা করে গোরস্তানের মাটি খুঁড়ে চাপা দিয়ে রাখে। 

 

রাসমনি জুরার দেহ তে আত্মা সঞ্চার করেন মৃত্যু মন্ত্র প্রয়োগ করে। জুরা পুনরায় জীবিত হয়ে ফিরে আসে। কিন্তু মন্ত্র প্রয়োগের পর রাসমনি মৃত্যুবরণ করেন!

 

কেননা, রাসমনি এমন এক মন্ত্র শিখেছিলেন, যা প্রয়োগ করলে কালোজাদু, শয়তান, বিভিন্ন অপশক্তির হাতে মানুষের বন্দী থাকা আত্মা মুক্তি লাভ করে। 

 

যদি কোনো যাজক/পুরোহিত এই মন্ত্র প্রয়োগ করে কোনো মানুষের আত্মা দেহে সঞ্চার করে জীবিত করে তুলে,তাকে সাথে সাথে সেচ্ছায় মৃত্যু পথ বেঁচে নিতে হবে। এই মৃত্য মন্ত্র একমাত্র বিশেষ প্রয়োজনে একটা পৃথিবী, দেশ বা গ্রামের মানুষের কল্যাণার্থে করে থাকেন। সৃষ্টির পর থেকে পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে শয়তাদের শক্তি বেশি হওয়ার কারণে কোনো এলাকার পাপিষ্ঠ দূর করতে কোন শুভাকাঙ্ক্ষী সেচ্ছায় তার জীবন টি দান করা হয় মৃত্যু মন্ত্রের দ্বারা। জীবন দান করা ব্যক্তিটা এর ফলে সর্গের শান্তির পথ সুগম্য করে তোলে। এতে সৃষ্টিকর্তা খুশি হোন।

 

আকিলাপুরের একের পর নির্মম ঘটনা, জুরার আত্মা বন্দী সকল ঘটনা সম্পর্কেই পুরোহিত রাসমনিকে বলে গিয়েছে। সব কিছু চিন্তা করে প্রভুর খুশিতে সেচ্ছায় নিজের জীবন দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েই রাসমনি মৃত্যু মন্ত্র টা শিখেছেন। অদৃশ্য শক্তিটা যতই শক্তিশালী হোক জুরার দেহে প্রাণ সঞ্চার হওয়ার পর এর সমাধান হবে।

 

দুই দিন পর জুরার দেহ তে ৩০ বছরের অভিজ্ঞাতশীল আত্মাটি সঞ্চার হয়। পুরোপুরি শক্তি ফিরে পায়।

 

জুরা জানতে পারে অদৃশ্য শক্তিটির রহস্য সম্পর্কে।

 

‘জরি’ কে আকিলাপুর থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর জরি একটি জঙ্গলে চলে যায়। জঙ্গলের ভিতর একটি ঘর দেখতে পায়। অনুমতি ছাড়াই ঘরটিতে জরি ঢুকে পড়ে। ঘরটাতে এক শয়তানের পূজারী পুরোহিতের দেখা পায়। যে সব সময় শয়তানের পূজা করে। যার কাজ শয়তানের উপসনা করে শয়তান কে খুশি রাখা।

 

জরি ঢুকার পর আর ঘরটি থেকে বের হতে পারে না। শয়তানের উপসনা করা পুরোহিত জোড় করে জরির শরীরে শয়তানি মন্ত্র প্রয়োগ করে। জরি কে শয়তানের উপসনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শয়তানের উপসনা করার পর নির্যাতনে জরির দেহে যে অবৈধ সন্তান জন্ম নিয়েছিলো তা ভূপৃষ্ঠ হয়ে শয়তানের সন্তানে রূপান্তর হয়। কিছু দিন পর শয়তান পূজারি পুরোহিত মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে বলে যায়, জন্ম নেওয়া শয়তানের সন্তানটা জন্মের ৩০ বছর পর শয়তান থেকে কালো জাদুকর শয়তানে রূপান্তর হবে। ৩০ বছর পর কালো জাদুকর শয়তানটি জরি’কেই বিবাহ করবে! তাদের ঘরে পাঁচ টি শক্তিশালী কালো জাদুকর শয়তান জন্ম নিবে। জরি ও কালো জাদুকর শয়তান মারা যাবে। জরি ও জাদুকর শয়তানের মৃত্যুর পর পরই জন্ম নেওয়া পাঁচ টি শিশু তিন গুন শক্তিশালী জাদুকর শয়তানে রূপান্তরিত হবে। এই ৩০ বছর জরি কে এই জঙ্গলেই থাকতে হবে। না হয় মৃত্যু অনিবার্য!

 

৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার একদিন আগেই জরি আত্মহত্যা করে মারা যায়।জরির মনে যে প্রতিশোধের আগুন জ্বলেছিলে তা দূর হয়, জরির মন স্থির হয়, সে বুঝতে পারে জাদুকর শক্তির পৃথিবীতে আগমন ঘটলে খুবই ভয়াবহ সৃষ্টি হবে। 

যা জরি কখনই মৃত্যুর পর মেনে নিতে পারবে না।

যার কারণে জরি আত্মহত্যা করে। 

 

কালো জাদুকর শয়তান টা তার জাদুকর শয়তানি দ্বারা জরি কে পুনরায় জীবিত করতে চায়। কুমারী ১১ নারীর শরীরের চামড়া ৫০ বছরের জরির শরীরে প্রয়োগ করে জাদুর মাধ্যমে জীবিত করে কুমারী নারীতে পরিনত করতে চেয়েছিলো। এই কারণেই কুমারী নারী গুলোকে জাদু দিয়ে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে কবর খুঁড়িয়ে দেহ থেকে চামড়া তোলে।

 

 এই রহস্য পুরোহিত জেনে যায়। পুরোহিত সে কারনেই আত্মহত্যা করে মারা যায়। পুরোহিত চায় নি শয়তানের হাতে তার মৃত্যু হোক।

 

দশজন নারীকে মেরে শরীরের চামড়া তোলে মৃত জরির দেহ তে প্রয়োগ করার পর শয়তানটি জানতে পারে জুরার শরীরে শক্তিশালী এক আত্মা সঞ্চার করেন পুরোহিত। যা জরির জীবিত হওয়া, জাদুকর শয়তানটির বংশ বিস্তারে ও ২১ বছরের নিহার হত্যার পথে জুরার আত্মা বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। 

যে কারণে আগেই জুরার আত্মা টা কে দেহ থেকে আলাদা করে বন্দী করে। । 

 

জাদুকর শয়তান টা অদৃশভাবে নিহা সহ বাকি চার জনের পেটে বাচ্চা জন্ম দেন। 

 

নিহা সহ বাকি চার জনের পেটের বাচ্চা গুলো পৃথিবীতে ভূপৃষ্ঠ হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মারা যাবে। বাচ্চা গুলোর আত্মা অদৃশ্য শক্তিটি কাছে চলে যাবে। আত্মাগুলো ভূপৃষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে অদৃশ্য শক্তিটা মারা যাবে। পৃথিবীতে ভূপৃষ্ঠ হওয়ার পর আত্মা গুলো অদৃশ্য শক্তিটা’র থেকে তিন গুণ বেশি শক্তিতে রূপান্তিত হবে। যারা পরবর্তীতে পৃথিবীতে একের পর এক মানুষ হত্যা করবে। এই পৃথিবী রাজত্ব করবে।

 

বাচ্চা গুলো পৃথিবীতে আসার আগে বাঁধা দিতে হবে। যদি বাঁধা দেওয়া না যায় তাহলে এরাই হবে পরবর্তী পৃথিবী ধ্বংসকারী। 

 

নিহা সহ বাকি চার জন মেয়ে যদি গ্রামের সাধারণ মানুষ গুলোর কথা চিন্তা করে নিজের জীবন কে নিজে হত্যা(আত্মহত্যা)  করে তাহলেই এদের মৃত্যুর সাথে সাথে বাচ্চাগুলোর মৃত্যু হবে। কালো জাদুকর শয়তানটা ও মারা যাবে।

 

গ্রামের মানুষের কল্যাণার্থে নিহা সহ বাকি চার জন মেয়ে আত্মহত্যা করে মারা যায়। 

তাদের মৃত্যুর সাথে সাথে জাদুকরি শয়তান টি ও মারা যায়!

আকিলাপুরে শান্তি ফিরে আসে।

..

………..(সমাপ্ত)………

.

লেখাঃ জুরা চৌধুরি 

.

.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।