সিজন ১

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ০১ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

   

   

    

☆ভালোবাসি…..   

 ☆কি??!!   

  ☆বললাম যে ভালোবাসি….  

☆ভালোবাসি মানে??  

     ☆ভালোবাসি মানে ভালোলাসি।  আমি আপনাকে ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি ॥  

  ☆ এই মেয়ে তুমি কি out of mind …. তুমি কি আমাকে চেনো? জানো? আমাকে আগে কখনো দেখেছো? আমি কি? আমি কে? বিবাহিত না অবিবাহিত? ধনী নাকি গরীব? ভালো নাকি খারাপ? পরিবার কেমন?  পরিবার আছে কিনা? even  নাম কি সেটাও কি জানো?  

  ☆নাম ছাড়া মানুষ হয় কিনা আমি জানি না¿¿  কিন্তু তবুও যদি  আপনার নাম না থাকে আমি নাম দিবো।   অর্থ না থাকলে অর্থ দিবো।  Fame  না থাকলে  fame দিবো।  পরিবার না থাকলে পরিবার দিবো। gf থাকলে break up করিয়ে দেবো।  বিবাহিত হলে  divorce করিয়ে দিবো। আমাকে ভালোনাবাসলেও ভালোবাসবো….  আপনার নাম ধাম কিছুই matter  করেনা।   মেরিন বন্যা খানের আপনাকে ভালো লেগেছে। তো লেগেছে। আর তাই মেরিন বন্যা খান আপনাকে ভালোবাসে মানে বাসে…….     

 

.

 

এতোক্ষন যারা কথা বলছিলো তারা কে সেটা বুঝেই গেছে।   সবার ভালোবাসার মেরিন বন্যা খান & নীড় আহমেদ চৌধুরী  বর্ষন।  

 

হয়েছে কি…..

   মেরিন আকাশে মুখ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো তখন নীড়ের সাথে ধাক্কা লেগে পরে যেতে নিচ্ছিলো।  নীড় মেরিনের কোমড় জরিয়ে ধরলো যেন মেরিন পরে যায়।  মেরিনের কোমড় জরিয়ে ধরার জন্য মেরিন ক্ষেপে গেলো। ঠাস করে থাপ্পর মারতে নিলে নীড় খপ করে হাতটা ধরে ফেলল।  মেরিন  impress  হয়ে গেলো। কারন কোনো ছেলে ওকে প্রতিরোধ করেছে।  😌😌😌

 

.

 

   নীড় মেরিনের কথা শুনে অবাক হলো। এতোটুকু ১টা মেয়ে…. কারন  এর আগে কখনো মেরিনকে দেখেনি। আর মেরিনও ওকে দেখেনি।  কেউ কারো নামও জানেনা। ১ম দেখাতেই ১টা মেয়ে কিভাবে বলছে যে ভালোবাসি?  নীড় মেরিনের গলায় id card, হাতে  apron, stethoscope দেখে বুঝতে পারলো যে মেরিন student…   

   নীড়: কোন  year??  

মেরিন: 2020….😎😎.. oy my ALLAH…. brain এ সমস্যা আছে নাকী? নাকি  brain ই নেই??  যে কোন  চলছে year সেটাও জানেন না?😱😱।  heart  এর মতো  brainও implant  করা যায় কিনা জানিনা । কিন্তু যদি   brain implant  করা যায় তবে আমি কথা দিচ্ছি বাংলাদেশের সেরা বুদ্ধিমান ব্যাক্তির brain আমি আপনার মাথায়  implant করাবো।😎😎।  

   নীড়: shut up… ১টা থাপ্পর দিবো। যার নামটা পর্যন্ত জানোনা , যাকে প্রথম দেখলে তাকে ভালোবেসে ফেললে?😤😤।  

    মেরিন: হ্যা। বেসেছি। কার বাপের কি?

    নীড়: shut up… তুমি 1st year এর student  আর আমি doctor… practice করছি। তোমার লজ্জা করলো না এভাবে আমার সাথে কথা বলতে?  i m like ur teacher … 

     মেরিন: তো আমার বাপের কি? 

   নীড়: ভুলেও কখনো আর আমার সামনে আসবে না।  TC দেয়ার ব্যাবস্থা করাবো। বেয়াদব ।

    মেরিন: সে যাই বলেন। আপনার বউ কিন্তু আমিই হচ্ছি।  আর হ্যা 1st year এর  final exam  আজই শেষ হলো।। so i m now 2nd year … teacher হলে আপনি আমার classroom এ হবেন। আর তাছারাও এখনো কোনো  class করানও নি। so…  যাই হোক আমি আপনাকে ভালোবাসি। আমাদের বিয়ে হচ্ছে thats final…. 

   নীড়: তুমি কি পাগল???

   মেরিন: correction please মেয়েরা পাগল না। পাগলি হয়। আমি পাগলি আপনার প্রেমে….  my dear জানু।  

    নীড়: stupid girl…

     নীড় রেগে চলে গেলো। 

 বডিগার্ড (জন): mam….. 

 মেরিন: আমি  ৫মিনিট সময় দিলাম আমার জানুর নিখুজি গুষ্ঠি জানতে চাই…..  

 

.

 

৫ মিনিটপর…… 

   জন: ম্যাম.. ওনার ন….

    মেরিন ঠাস করে জনকে থাপ্পর মারলো।  জন বুঝলো না এর কারন।  

  মেরিন:give him honor …   call him sir….  উনাকে উনি কেবল আমি ডাকবো।  

   জন: sorry mam…. স্যারের নাম নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন। বাবার নাম নিহাল আহমেদ চৌধুরী।  কবির স্যারের rival company এর কর্নধার। sir doctor ।  practice করছে ২বছর ধরে।  USA & singapore থেকে ২টা  course degree নিয়ে এসেছেন।  এখানেই patient দেখে। অন্যকোথাও আর  chamber নেই। তবে  এখন ছুটিতে আছে।   

   মেরিন: ছুটিতে থাকার কারন? 

   জন: …… 

    মেরিন: কারন?  

জন:…… 

   মেরিন আবার ঠাস করে থাপ্পর মারলো।  

    জন:ম্যাম  স্যারের next ১৭তারিখ বিয়ে। আজকে বন্ধুদের invite করতে এসেছিলো। 

   মেরিন আবার জনকে  থাপ্পর দিলো।

   মেরিন: এতো তারাতারি  বিয়ে করতে হবে আমাকে?? 20ও তো হলোনা…..😕😕…  

   জন:🤔🤔।

    মেরিন: আমার না হওয়া স্বতীনের নামটা কি??

    জন:…..  

  মেরিন: তোমার কি মনে হয়না তুমি ইদানীং থাপ্পর বেশি খাচ্ছো……😤😤😤। 

   জন: নাম শুনলে আবার মারবে।

    মেরিন: না বললে বেশি মারবো।

    জন:কনের নাম নিরা রহমান… 

  মেরিন:কি? 😠😠।  

জন: নববিরা রহমান।  

মেরিন  নামটা শুনে উন্মাদের মতো হাসতে লাগলো।

  মেরিন: বিয়েতে তো বউ লাল জোরা পরে…… 

  তাই না জনি জনি yes papa…..

     জন: জী ম্যাম….. 

মেরিন: কখনো তো ভুলেও কোন দেশে কোনো ধর্মে  বিয়েতে কালো জোরা পরেনা… তাইনা??

   জন: জী ম্যাম।  

মেরিন: 🤣🤣🤣।    

 

.

 

১৭তারিখ…..  

নীড়ের বিয়ের দিন…. 

press media ,, দেশের সব   বড় বড় মানুষ এমনকি politicianরাও অনেকে আছে।   বিয়ের জন্য  কাজী  চলে এলো।  just  বিয়ে পরাবে তখন ১দল কালো স্যুট পরা  পিস্তলওয়ালা লোক বিয়েতে উপস্থিত সকল মেহমানের মাথায় বন্দুক ঠেকালো।   ওদের মধ্যে থেকে 

১জন লিডার  type ব্যাক্তি (রুদ্র)বলে 

উঠলো: এই বিয়ে পরানো এই মুহুর্তে বন্ধ  করো।

নিহাল: কি হচ্ছে কি এসব?

 রুদ্র: এইযে নিহাল স্যার  নরবেন না।  আর কোনো কথাও বলবেন না।

    সবার মাথায় বন্দুক ঠেকানো থাকলেও  নীড়ের মাথা়য় না।  তবে পরিবার পরিজন এবং তারথেকেও বড় কথা  হলো নীড়ের কলিজা  নিরার মাথায় বন্দুক ঠেকানো।

     নীড়: তোমরা কারা? কি চাও? টাকা পয়সা?just tell me the amount ….. 

   রুদ্র: আমরা আপনাদের টাকা চাইনা।  এখনই ম্যাম চলে আসবেন।  আর স্যার আপনিও নিজের জায়গা থেকে নরবেনা please …. 

   নীড়: যদি আমার জানের কিছু হয়…. mind it…..   

 

.

 

 তখনই বাদ্য বাজনা বাজিয়ে  ১দল  band party  এলো।  এরপর ১টা  কালো BMW এসে হলে থামলো।  গাড়ি চালিয়ে এসেছে ১টা গর্জিয়াস কালোপরী।  কালোপরীটার নাম মেরিন।  মেরিন গাড়ি থেকে নামলো।কালো রঙের লেহেঙ্গা।  পা থেকে    মাথা পর্যন্ত কালো ডায়মন্ডের গহনায় মোরানো। সেই সাথে কালো চশমাও চোখে। ঠোটে লাল লিপস্টিক।  দেখতে অস্বাভাবিক সুন্দর লাগছে।  যে কারো

কবির: মেরিন…….   

   মেরিন: whats up…. ladies & gentleman ….

     নীড়: তুমি…..  

মেরিন: oh hi জানু….  

  কবির: এসবের মানে কি? 

    মেরিন: drama মিস্টার খান।  drama.. wait & watch …..  জন…. নিরা রহমানের বিয়ের  সই না করা কাবিন নামাটা  & registry paper টা দাও।

জন এনে দিলো।  মেরিন সেটা টুকরো টুকরো করে ছিরে আগুনে পুরিয়ে ফেলল।  

মেরিন:আচ্ছা সবার মনে তো ১টাই প্রশ্ন যে কি হচ্ছে আপনাদের সাথে? তাইতো?? আমি সোজা কথা সহজভাবেই বলতে  জানি। আমি এই বিয়ে ভাঙতে চাই…  বিয়ে মানে নীড়-নীরার বিয়ে ভাঙতে চাই। আমি চাই এখানে আজকে কেবল আর কেবল নীড়-মেরিনের বিয়ে হবে। 

 নীড়: এই বেয়াদব মেয়ে  কি আবোল তাবোল কথা বলছো কি? 

     নিহাল: তুমি ওকে চেনো??

  নীড়: she is a mad girl…..  let me handle this…..

    নীড় মেরিনের কাছে গেলো। 

  নীড়: what is all this….. এসবের মানে কি?  

  মেরিন হাতের gunটা দিয়ে নীড়ের মুখে আকিবুকি করতে করতে 

  বলল: আমি কালরাতেও  ভালোভাবে বলেছিলাম আমাকে বিয়ে করবেন কি না? আপনি না করলেন আর তাই এই রাস্তা অবলম্বন করতে হলো।   drama করতে হলো….

     নীড়: আমি তোমাকে বিয়ে করবো না।  

   মেরিন: ok.. as ur wish……  boys shoot them…. 

   কবির:এই মেয়ে পাগল হয়ে গেছো? যাও রুমে যাও।  

   নিহাল: রুম মানে? আপনি চেনেন?

     কবির: না মানে…..   

   শাহজাহান খান: থেমে গেলি কেন? বল ও কে?  

 মেরিন: বাদ দাও দাদুভাই।

  নিহাল: দাদুভাই মানে?    

   মেরিন: শশুর বাবা আমি শাহজাহান খানের একমাত্র নাতনী খান empire এর একচ্ছত্র মালকিন… যাকে বলে the empress….  

  যাই হোক , জানু আপনি বিয়ে করবেন কি না?

    নীড়: no….  

  মেরিন: সবার মৃত্যুর জন্য আপনি দায়ী ফাকবেন….  

  নীড়: i don’t care…   

    মেরিন: আপনার জানের জীবন গেলেও না।  

     নীড়: এই…..

নীড় মেরিনের দিতে আঙ্গুল তুলতেই ৫-৭জন নীড়ের মাথায় gun  ধরলো।  

    মেরিন: জন…. 

   জন: আরে গান নামাও সবাই… বলেছিনা স্যারকে touch ও না করতে।  

ওরা নামিয়ে ফেলল।  

মেরিন  পাগলের মতো নীড়ের গাল ধরে 

   বলল: আআপনার কোথাও  লাগেনিতো….  

   নীড় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। 

   মেরিন: 🤣🤣🤣।  জন…. উনার জানকে আমার সামনে নিয়ে আসো তো…… 

   জন নিরাকে এনে মেরিনের পায়ে ফেলল।  

  নীড়:  জান….. 

   জন: আগে বারবেন স্যার  না হলে নীরাকে shoot করে দিবো……  

নীড় দারিয়ে গেলো।  মেরিন নীরা চুল ধরে মাথাটা তুলল। 

   নীড়: নিরা…  🥺🥺🥺।  

কনিকা: নিরামা….   

মেরিন:🤣🤣🤣  

    নিরা: দেখ মেরিন ভালো করছিস না কিন্তু….. 

    মেরিন: তোমাকে জিজ্ঞেস করিনি।   তুমি এখন হুকুমের টেক্কা।   

বাহ   তোমার লাল টিপটা তো বেশ  সুন্দর।  

মেরিন এরপর  বন্দুকটা নীরার কপালের ঠিক মাঝখানে ধরলো।  

   মেরিন: bullet দিয়ে বানানো টিপ বেশি ভালো হবে।  life time i mean death time থাকবে। তোমার শরীরের মাংস পচে গেলেও তোমার করোটিতে থেকে যাবে।  অনেকদিন… কি বলো….  

   নীড়:নননা।   ছছেরে দাও ওকে।

    মেরিন: আমাকে বিয়ে করবেন? 

 নীড়: impossible …..  

মেরিন: নিরাকে মেরে ফেললেও না।  

নীড়:ননননা।   

 নিরা: রাজী হয়ে যাও নীড়। তুমি ওকে চেনোনা। ও dangerous … আমাকে সত্যি সত্যি মেরে  দিবে।  plis রাজী হও।

 

   মেরিন মনে মনে: এদের প্রেম তো  মহা মহান… 🤣🤣🤣। 

 

  নীড়: ভয় পেওনা নিরা। এই মেয়ে কিছু করবেনা।  empty vessel sound much….

    মেরিন নিরার হাত ঘেষে ১টা shoot করে দিলো। এতে   নিরার হাত থেকে রক্ত ঝরতে লাগলো।

    নীড়:জান…..  

মেরিন:বিয়ে করবেন আমায়?? 

  নীড়:ননা।  never…  

মেরিন:জন। শশুর বাবার মাথায় বন্দুক ঠেকাও তো। আর উপস্থিত সবার মাথায়ও ঠেকানো হোক। তবে আগে যেন শশুর বাবাকে shoot করা হয়। 

    জন গান লোড করে ফেলল।  just shoot করবে।

   নীড়:না…..  don’t shoot ….. আমি এই মেয়েকে বিয়ে করবো।  

    নিহাল: না নীড়। তুমি এই পাগল মেয়েকে বিয়ে করবেনা।   

   মেরিন:🤓🤓।  আপনারা তারাতারি decision টা বলেন।   

  নীড়: বললাম তো বিয়ে করবো।   

  মেরিন: সত্যি??😍😍। 

   নীড়: হামম। সত্যি। তবে ১টা কথা আমি

 

ও বলে দিলাম….. সকল মেহমান… family  & আমার জানকে  gun point এ রেখে তুমি বিয়ে হয়তো করছো আমায়।  officially wife হবে তুমি কিন্তু মন মস্তিষ্ক থেকে আমার স্ত্রী সবসময় নিরাই থাকবে।  কখনোই তুমি আমার ভালোবাসা হবেনা। ঘৃণা হবে। তোমার নাম এমন কি তোমার ছায়াকেও আমি ঘৃণা করবো।  তুমি ভালোবাসার মেরিন না ঘৃণারমেরিন  ……

   মেরিন: তাতে আমার বাপের কি?😎😎😎     সেটা আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। আপনার অর্ধাঙ্গিনী হবো…. আপনার  বউ হবো…. আর কিছু লাগবেনা। কাজী সাহেব। 

কনিকা:এই কবির ওই মেয়েকে থামাও…. ওর জন্য যদি আমার নিরার….

কবির:মেরিন….

মেরিন: বলুন …. mr. khan… 

কবির: যদি তুমি এই বিয়ে করো আমি তোমাকে তেজ্য করবো।

কথাটা শুনে মেরিন উন্মাদের মতো হাসতে লাগলো।  সে হাসির কারন সবার অজানা হলেও দাদুভাইয়ের কাছে না। এই হাসির মাঝে যে কতোটা দুঃখ কতোটা কষ্ট কতোটা হৃদয় ভাঙা চিৎকার লুকিয়ে আছে তা কেউ দেখতে পাচ্ছে।

 মেরিন;😂😂। তো mr. khan…. আপনার আর আপনার স্ত্রীর সাথে আমার কি সম্পর্ক কি? যে আপনি আমাকে তেজ্য করবেন?  আপনি হয়তো ভুলে গেছেন আমি চাইলে আপনাদের তেজ্য করতে পারি।  খান বাড়ির সম্রাজ্ঞী আমি।  মেরিন বন্যা খান। আমার জীবনকে কি হবে আমি decide  করবো। আপনি না। 

কবির: মেরিন…

মেরিন: চুপ….. আর ১টা শব্দ করলে আপনাকে আর আপনার বউকে এখন এই মুহুর্তে জানে মেরে দিবো।  তখন এই সাধের নিরা রহমানের কী হবে?  so  চুপ…. not a single word….

কাজী সাহেব।

   

 

.

 

 তখন মেরিনের ঠিক কাজ করা কাজী এলো।  ওদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হলো। এরপর নীড়কে আরো ১টা কাগজে সই করতে হলো যেটাতে লেখাছিলো যে মেরিনের মৃত্যুর আগে  নীড় ২য় বিয়ে করতে পারবেনা এবং কোনো পরিস্থিতিতেই মেরিনকে divorce দিতে পারবেন না।  নিরা রহমানের সাথে দেখাও করতে পারবেনা।

 এরপর মেরিন নীড়কে নিয়ে দাদুভাইকে সালাম করলো এরপর নিহালকে।

নীড়: এখন কি আমি শেষবারের মতো নিরার কাছে যেতে পারি…

নীড়ের  চোখে টলমল পানি। তা দেখে মেরিন অস্থির হয়ে গেলো।

মেরিন: একি জামাই আআপনি কাদছেন কেন?  দদদাদুভাই উউনি কাদছে।  এএকদম কাদবেন না। 

মেরিন নীড়ের চোখের পানি মুছিয়ে দিলো।

মেরিন:আপনার চোখে আবারো পানি কেন?

নীড়:……

মেরিন:আপনার  চোখে এখন আআবার পপপানি এলে আমি আমি আমি নিরাকে মমমেরে দিবো…. কান্না থামান।

নীড়: এই না। ওকে কিছু করোনা। ও আমার জাব। কিন্তু ১টা বার ওর কাছে যেতে দাও। কতোটা রক্ত পরছে দেখো। 

মেরিন:যান। শেষবারের মতো।

নীড় ছুটে নিরার কাছে গেলো। ব্যান্ডেজ করে দিলো।

নীড়: i m sorry জান…

নিরা: i understand  জান….

নীড় নিরাকে জরিয়ে ধরলো। 

যা দেখে মেরিন devil smile দিলো।

 

.

 

 মেরিন: আমার বিয়ের সাক্ষী সবাই হলেন তো তাইনা? তো my dear press & media  & politician আপনারা খুব ভালোভাবে ভয় পাওয়ার অভিনয় করেছেন। তারজন্য  আপনাদেরকে ধন্যবাদ।  আমাদের বিয়ে।  আর mr.  আজম (politician )   আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ। এই  special  trained  black cat force  আমাকে আজকের  জন্য দেবার জন্য।  আর my dear মেহমানরা কারো গায়ে  কোন আচরও লাগবেনা।  ভয় পেয়েছেন তাই sorry …..    ভয়ের বিনিময়ে আপনারা perfect  gift পাবেন। যার যেটা দরকার।  like কারো bank loan….  কারো  bill pass…  কারো  tender  pass….   blah blah…   তো সবাই আমাদের দোয়া, আশীর্বাদ করে যাবেন।   আর বাকী মেহমানগন… ভয় পাবার কারন নেই। বিবাহ সম্পন্ন হইলো।

…..

……..

[চলবে……]

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ০২ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

   

   

    

চৌধুরী বাড়িতে…..     

নতুন বউ নিয়ে নীড় ফিরলো। দোরের কাছে  নীলিমা বরনডালা  নিয়ে দারিয়ে আছে।  গাড়ি থামতেই নীড় মেরিনকে ফেলেই হনহন করে ভেতরে যেতে নিলে নীলিমা বাধা দিলো।

 নীলিমা: ভেতরে ঢুকছো কেন? 

মেরিন: সেটাই তো…. বউ  রেখে কেউ একা একা বাড়িতে ঢোকে…..  

নীড়: মামনি ও আমার নিরা না… ও ….  

নীলিমা: মেরিন….. 

নিহাল:তুমি কি করে জানলে?

নীলিমা:ভুলে গেছো নাকি যে বাসায় TV আছে..??

   নীড়: দেখি মামনি সরো…. ভেতরে যেতে দাও।

  নীলিমা:না…. যেভাবেই হোক বিয়েটা হয়েছে।  আর চৌধুরী বাড়ির বউ হিসেবে আমার কিছু দায়িত্ব আছে। তাই আমি তোমাকে এভাবে ঢুকতে দিতে পারিনা।

  নিহাল:  নীলিমা..  

নীলিমা: ঘরের কর্ত্রী আমি….তাই আমার সংসার আমাকে সামলাতে  দাও।  ওদের ২জনকে বরন করতে দাও।  

নীড়: মামনি আমি ওকে বউ বলে মানিনা….

নীলিমা: তাতে কিছু করার নেই….  সারাদেশের লোক দেখেছে যে তোমাদের বিয়ে হয়েছে।   ৩কবুল বলে বিয়ে হয়েছে।  

নিহাল: এটা…..   

নীলিমা: চুপ।

  নীলিমা ২জনকে বরন করলো। 

 নীলিমা:  নীড় এবার মেরিনকে কোলে নিয়ে বাড়িতে ঢোকো ।  

 নীড়: impossible … কখনোই না…….. 

মেরিন: আমি যদি উনার কাধে করে ঢুকি হবে?

    বলেই মেরিন লাফ দিয়ে নীড়ের পিছনে গলা ধরে ঝুলে পরলো।  নীড় মেরিনকে নামিয়ে দিলো।

     নীলিমা: বিয়ের পর বউকে ১ম কোলে তুলে বাড়িতে ঢুকতে হয়। এটাই চৌধুরী বাড়ির নিয়ম। 

   নীড়: মামনি….. তুমিকি পাগল হয়ে গেছো???

  নীলিমা নীড়কে একটু আলাদা ডেকে নিলো।  

নীড়: মামনি তুমি……   

নীলিমা: ঠিক করছি… কাটা দিয়ে কাটা তুলতে হয়। এই মেয়েকে আমাকে আমার মতো সামলাতে দাও।  ওই মেয়েকে তোমার ঘার থেকে আমি নামিয়েই ছারবো।  ওর জীবন যদি ছারখার না করেছি তো আমিও……  উল্টা পায়ে দৌড়ে পালাবে…..  দেখিস….

    নীড়: মানে??  

নীলিমা: দেখে যাও…..   আমি মলমও লাগাবো আবার ক্ষত গভীরও করবো। তোমার অমঙ্গল হোক সেটা আমি কখনোই চাইবো না।  তোমার ভালোর  জন্য আমি সব করতে পারি বাবা….  

   নীলিমার কথায় নীড় মেরিনকে  কোলে তুলে বাড়িতে ঢুকলো।  

 

.

 

১ঘন্টাপর…..

     মেরিনকে নীড়ের কাজিন ভাবিরা রুমে রেখে গেলো।   সারা রুম  ফুলের বাগান হয়ে আছে।  খুবই সুন্দর করে। কিন্তু খাটে N❤N  দেখে মেরিনের মাথা খারাপ হয়ে গেলো।  ও ছুরি দিয়ে পরের N টাকে নষ্ট করে নতুন করে  N❤M  লিখলো।  

   মেরিন: নীড়ের পাশে কেবল আর কেবল মেরিন থাকবে।

   এরপর মেরিন দারিয়ে গেলো। রুমের চারপাশটা দেখতে লাগলো।   সব জায়গায়  নিরার ছবি আর  নিরার ছবি…..  

মেরিন হাতের ছুরিটার দিকে তাকিয়ে  devil  smile  দিলো। তখনই নীলিমা রুমে এলো।  

 

      নীলিমা: মামনি…  কিছু তো মনে হয় খাওয়া হয়নি তোমার।  এখন কিছু খেয়ে নাও। আমি নিজে খাইয়ে দিচ্ছি তোমায়। এসো।  

   মেরিন নীলিমাকে টেনে সোফায় বসিয়ে। হাত থাকা ছুরিটা দিয়ে নীলিমার গাল ছুইয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে আকিবুকি করতে করতে

    বলল: পেছন দিয়ে সাধারন কাটার আঘাতের থেকে সামনাসামনি গুলি করা আমার বেশি পছন্দ।

নীলিমা: মমমানে?

মেরিন:কাটা দিয়ে কাটা তুলতে হয়। এই মেয়েকে আমাকে আমার মতো সামলাতে দাও। ওই মেয়েকে তোমার ঘার থেকে আমি নামিয়েই ছারবো। ওর জীবন যদি ছারখা না করেছি  তো আমিও…..  ও উল্টা পায়ে দৌড়ে পালাবে…. কি তাইতো???  

   নীলিমার চোখ চরকগাছ। 

  মেরিন: কি নিখুত অভিনয়…. যে  neurologist নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন চৌধুরী পর্যন্ত তোমার অভিনয় ধরতে পারলোনা।😁😁😁

  নীলিমা: ধরবে কি করে… পরিচালনাতে যে মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী ছিলো।😏😏😏।

    বলেই ২জন হা হা করে হাসতে লাগলো।  মেরিন নীলিমাকে জরিয়ে ধরলো।  

    মেরিন: মামনি…  what an acting …. u r too good….  

নীলিমা: যার এমন ১টা কুটুপুটু বউমা আছে তাকে তো too good হতেই হবে।  তবে তোমার লেখা এই dialogue টার জন্য আমি কিভাবে যে  practice করেছি তা কেবল আমি জানি।

 মেরিন:🤣🤣🤣।  ভীষন ক্ষুধা লেগেছে।  

   নীলিমা: এখনই দিচ্ছি।

   নীলিমা মেরিনকে খাইয়ে দিচ্ছে আর মেরিন অদ্ভুদ দৃষ্টিতে নীলিমার দিকে তাকিয়ে আছে।

    নীলিমা: কি দেখছো?  

মেরিন: মমতা।  

নীলিমা: মানে? 

   মেরিন: মানে কিছুনা।  আর শোনো পরশু তোমাকে কি করতে হবে? 

 

.

 

     ২ ঘন্টাপর….

  নীড় রুমে ঢুকলো।  ঢুকে অবাক হয়ে গেলো। কারন রুমে আগুন জ্বলছে।  

নীড়: এ কি??

   মেরিন: ভয় পাওয়ার কিছু নেই।  আমি ধরিয়েছি । কিছু আবর্জনা পুরাচ্ছি।   

   নীড় দেখে বুঝতে পারলো যে কোনো ছবি পুড়ানো হচ্ছে।  ১টা ছবি side এ পরলো। ছবিটা দেখে নীড় বুঝলো যে সেটা নিরার ছবি।  কিন্তু মুখটা বিকৃত।  নীড় রুমে চোখ বুলিয়ে দেখলো যে রুমে নিরার কোনো ছবিই নেই।

   নীড়: এই এই …. তোমার সাহস কি করে হয় নিরার….

    মেরিন: আমার সাহসের প্রমান ৪ঘন্টা আগেই পেয়েছেন।  

 নীড়: এই ছবি পুরিয়ে কোনো লাভ নেই মেরিন…..   নিরার ছবি আমার বুকের মধ্যিখানে আকা আছে।  আমার মন থেকে নিরাকে  তুমি কখনোই নিরাকে সরাতে পারবে না।

   মেরিন:আমি চাইলে নিরাকে দুনিয়া থেকে সরাতে পারি।  আর আপনার মন থেকে পারবোনা?….. 

   আমি যদি চাইতাম  তবে আপনার নিরাকে ছলে বলে কৌশলে আপনার সামনে জঘন্য প্রমান করতে পারতাম।  এরপর  কল্প লোকের কোনো কল্প লতা হয়ে আপনার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করে আপনার মনে  আমার জন্য ভালোবাসার ফুল ফোটাতে পারতাম।  কিন্তু আমি তা করিনি।  আমি , আমি হয়েই আপনার সামনে নিজেকে তুলে ধরেছি। কারন  মেরিন ছলনা করতে জানেনা।

    নীড়: হামম। ছলনা করতে জানেনা। ধংব্স করতে জানে….. কেরে নিতে জানে……   

   মেরিন: হামম। but u know what? i love you..  

   নীড়: &  i hate you….

মেরিন: ভালো….  মিথ্যা ভালোবাসার থেকে সত্যিকারের ঘৃণা অনেক ভালো। 

    বলেই মেরিন নীড়কে সালাম করতে গেলো। নীড় পিছে সরে গেলো।  

  নীড়: আমি তোমাকে বউ হিসেবে মানিনা। so  এই বউগিরি করবানা……

    বলেই নীড় চলে যেতে নিলে মেরিন ধাক্কা দিয়ে নীড়রে সোফায় ফেলে নীড়ের পা ধরে সালাম করলো।  

  মেরিন: আপনার মানাতে কিছু যায় আসেনা। আমি আপনার বউ। সেটা আমি মানি । দুনিয়া মানে। আমি মানি আমি আপনার বউ।  so thats it….   আপনার জীবনের যদি কোনো সত্য থাকে তবে সেটা হলো এই যে আমি আপনার বউ। 

   নীড়ের চোখে আগুন।  মেরিনের গলা চেপে ধরে

   বলল: আর তোমার জীবনের বড় সত্য হলো তুমি আমার চোখের কাটা। আজ থেকে আমার সকল অভিশাপে তুমি…. 

   

 

 গলা চেপে ধরাতে মেরিনের দম আটকে যাবার অবস্থা। মুখ চোখ লাল হয়ে গেছে।  কিন্তু তবুও মেরিন নিজেকে ছারানোর চেষ্টা করছেনা। উল্টো ওর ঠোটের কোনে হাসি।   মেরিনের অবস্থা দেখে নীড় নিজেই মেরিনকে ছেরে দিলো।  মেরিন কাশি দিতে লাগলো। 

 

 স্বাভাবিক হবার পর মেরিন 

   বলল: আপনার সকল অভিশাপে আমি হলেও আমার সকল আমলে আপনি…. আমার সকল দুআয় আপনি….. 

 

.

 

নীড় চলে যেতে নিলো।  মেরিন নীড়ের হাত টেনে নিয়ে ১টা  স্বর্নের bracelet পরিয়ে দিয়ে 

বলল: এটা সবসময় হাতে রাখবেন। এটা আমি কাবা শরীফের ওখান থেকে স্বর্নের গিনি কিনে এনে বানিয়েছি। যে গিনিটা কাবা শরীফে স্পর্শ করানো হয়েছে।  এই  bracelet টা আপনাকে সকল বিপদ আপদ থেকে দুরে রাখবে। ইনশাল্লাহ।  আর এটা সেদিনই খুলবেন যেদিন আমি মরে যাবো……   

     নীড় তখনই ওটা হাত থেকে খুলে ছুরে bed এ ফেলল।

    নীড়: তুমি এখনই আমার কাছে মৃত। আজীবন থাকবে। যদি তোমার বদৌলতে আল্লাহর  তরফ থেকে  আমার  ওপর কোনো সোভাগ্য, রহমত নাযিল হয় তবে তার বদলে আমি আল্লাহর অভিশাপ নিতে চাইবো। তোমার বদৌলতে জান্নাতের থেকে জাহান্নাম কে আমি প্রাধান্য দিবো।

 

    নীড়ের কথার জবাবে মেরিন শুধু ১টা হাসি দিলো।  এরপর আবার bracelet টা এনে নীড়ের হাতে পরিয়ে দিলো।

     মেরিন: ভালোভাবে কোনো কথাই বোঝেন না।  পরিয়ে দিলাম। এরপরও যদি এটা কব্জি থেকে  খুলে ফেলেন আপনার জানের শরীর থেকেও কব্জিটা কেটে ফেলা হবে। আর আপনি জানেন যে আমি এটা করতে পারবো। 

   

 

.

 

    নীড় কথা না  বারিয়ে  fresh  হয়ে শুয়ে পরলো।  মেরিনও  fresh হয়ে  change করে খাটে এসে নীড়ের বুকে just মাথা রেখে শুতেই নীড় ১টা ধাক্কা দিয়ে মেরিনকে ফেলে দিলো।  bed এর কোনায় লেগে মেরিনের কপাল কোনা কেটে গেলো।  মেরিন হাত দিয়ে দেখলো রক্ত পরছে।  

    নীড়: আগেই বলেছি আমি তোমাকে বউ বলে মানিনা।    আমাকে touch করারও সাহস ২য় বার করবা না…..  না হলে এর থেকেও বেশি আঘাত পাবে……   

      মেরিন: shahrukh khan এর দেবদাস ছবিটা দেখেছেন???  সেখানে পার্বতীর নিজের ওপর অনেক গর্ব ছিলো। কারন চাদের গায়ে কলঙ্ক আছে কিন্তু ওর গায়ে নেই। তাই দেবদাস ওর কপালে আঘাত করে।  এরপর ১টা গান দেয়।  গানে ১টা লাইন আছে।

 

   ” যো দাগ তুমনে মুঝকো দিয়া 

উস  দাগসে মেরা চেহরা খিলা

 রাখুঙ্গি ইসকো নিশানি বানাকার

 রাখুঙ্গি ইসকো হামিশা সাজাকার”  

 

শরৎচন্দ্র চট্যোপাধ্যায়ের গল্পে দেবদাসের আঘাতে পার্বতীর রুপ সত্যি সত্যি বেরেছিলো কিনা জানিনা কিন্তু আজকে নীড়ের আঘাতে মেরিনের কপালে যে দাগ হলো তাতে অবশ্যই মেরিনের রুপ অবশ্যই বেরে গেলো।  

     নীড়: যার মন সুন্দরনা তার রুপও সুন্দরনা।   তুমি খাটে ঘুমাও আমি সোফায় ঘুমাবো।

    মেরিন: এইযে আমি আপনার কাছে কিছু চাইনা।like স্ত্রী মর্যাদা or what… তবে রোজ রাতে আপনার বুকে মাথা রেখে  একটু শান্তির ঘুম ঘুমাতে চাই।  

    নীড়: ভাবলে কি করে যে তোমাকে আমার বুকে মাথা রাখতে দিবো……?  

   মেরিন: request করছি নীড়। 

    নীড়: না।  

মেরিন: ভালো হবেনা। 

 নীড়: আর কি খারাপ করবে??   

মেরিন:হাহাহাহা…..   এই রিমোট টা দেখতে পাচ্ছেন??  এটা normal remote না। এটা press করলে bomb  blast হবে……   

নীড়: ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।

মেরিন: আপনার কি মনে হয় মেরিন ভয় দেখায়??  ভয় তারা দেখায় যারা নিজেরা ভয় পায়।

 আপনার ফোনে তো bomb tracker আছে। check করে দেখুন।   

   নীড় check করে দেখলো যে সত্যি আছে। 

  নীড়: তুমি এতোটা জঘন্য……..  

 মেরিন: যতোটা দেখছেন বা ভাবছেন তারথেকেও বেশি জঘন্য আমি।   

 

  বাধ্য হয়েই নীড় মেরিনকে বুকে জরিয়ে শুয়ে পরলো।  মেরিন  ১টা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। 

  মনে মনে: জানিনা কতো বছরপর এমন শান্তি পেলাম……  আমার যে মাথা গোজার কোনো জায়গা নেই নীড়….  আজ থেকে পেলাম।

 

.

 

    ওদিকে……

  নিহাল: এসবের মানে কি?

  নীলিমা: কোন সবের? 

নিহাল: তুমি ভালো করেই জানো কিসের কথা বলছি?  তুমি ওই মেয়েকে বউ বলে  কিভাবে মেনে নিতে পারো?  ওই অসভ্য বেয়াদব  বেলাগাম মেয়েকে বউ হিসেবে কিভাবে মেনে নিতে পারো?  এখন বলোনা  যে  নীড়কে বলা কথা আমি বিশ্বাস করবো।   ওই মেয়েটা কতোটা খারাপ তুমি জানো? কি করেছে আজকে?  তুমি কিছু বলছোনা কেনো?  

    নীলিমা:  তুমি তোমার মনের ভাব প্রকাশ করো।  কারন  আজকের পর থেকে আমি আমার মামনির  নামে কোনো বাজে কথা শুনবো না। 

   নিহাল: মামনি? তুমি কি পাগল হয়ে গেছো?  

   নীলিমা: না। আমি একদম ঠিক আছি।  তোমাদের বাবা ছেলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কারন আমার ছেলের পাশে কেবল মেরিনকেই মানায়।   নিরা নয় মেরিনই আমার ছেলেকে সত্যিকারের ভালোবাসে।  অকারনে ভালোবাসে।  মেরিন নীড়ের জন্য perfect …  রুপে, গুনে, যোগ্যতায়, বংশ  পরিচয়, সবটায় ।  

    নিহাল: কি আবোল তাবোল বলছো? কোন জমানার মতো করে কথা বলছো?  

  নীলিমা: ঠিকই বলছি।  আর শুরু থেকেই নিরাকে আমার পছন্দ ছিলোনা। কারোন যার বাবার ৩বিয়ে করা মা ২-৩ বিয়ে করা সে মেয়ে আর কতো  ভালো হতে পারে?

   নিহাল: নীলা….  

নীলিমা: চিল্লাইও না। ঠিকই বলেছি।  ওই মেয়েরও  চরিত্র শুরু থেকেই আমার ভালোলাগেনি। যতোই ভালো হবার নাটক করুক না কেন…  শুধু খান বাড়িতে থাকলেই খান বাড়ির শিক্ষা পেলেই সে খান বাড়ির মেয়ে হয়ে যায়না।  খান বাড়ির রক্ত হয়ে যায়না।  বিষবৃক্ষ কখনো আম গাছ হয়না

   নিহাল: আর ওই মেয়েটা বুঝি ভালো?  

   নীলিমা: ওই মেয়েটার নাম আছে। আর সে তোমার মেয়ের মতো। সম্মান দাও।

    নিহাল: তো? এই মেয়েটা সবার সাথে সবসময় খারাপ ব্যাবহার করে, মারামারি করে,  ছেলেদের পোশাক পরে,….  এই মেয়ে এতোটাই খারাপ যে নিজের আপন মা-বাবা  তাকে মেয়ে হিসাবে মানেনা…..  

   নীলিমা: এটা মা-বাবার কলঙ্ক। সন্তান খুনি, জঘন্য খারাপ হলেও  মা-বাবা সন্তানকে ফেলে দেয়না। এনারা ফেলেছে।  

    নিহাল: তুমি যাই বলোনা কেন……  

   নীলিমা:  আগে থেকেই মেরিনকেই আমার পছন্দ ছিলো। 

    নিহাল: তুমি ওকে কবে দেখলে? 

   নীলিমা: গতবছর।  যখন আমি নিরাকে ঈদের জামা দিতে যাই। মেরিন বাড়িতে ঢুকলো। হাত থেকে অনেক রক্ত ঝরছিলো।  তবুও কনিকা উঠে গেলোনা। সে নিরাকে কোন পোশাকে দেখতে  ভালো লাগবে সেটা দেখতে ব্যাস্ত।  পরে মেরিনের দাদু দৌড়ে এসে হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলো।    মেরিন ১বার আমার দিকে তাকালো। কি অদ্ভুদ সেই চাহনী। কি মায়া সেই চোখে মুখে।  কোনো কাজল কোনো লিপস্টিক ছিলোনা তার মুখে।   কুদরতের সাজে সজ্জিত সে। যখন জানতে পারলাম যে কনিকা ওর মা। তাও আপন মা তখনই ভেবে নিয়েছিলাম যে  কোনো ঘাপলা আছে। ভাবছিলাম যদি মেরিনই নীড়ের বউ হতো।  কিন্তু নীড় তো নিরা নিরা বলে অজ্ঞান। কিন্তু ভাবতেও পারিনি যে মেরিন নীড়কে ভালোবেসে ফেলবে….    আর এতে আমার থেকে খুশি কেউ না।।  কারন মেরিন নীড়কে সত্যিকারের ভালোবাসে ।

     নিহাল: ঘাপলা টা কি?? 

   নীলিমা: দারাও….  সবে তো গল্পের শুরু…. 

   নিহাল: যাই হোকনা কেন…..  নীড় মেরিনকে সারাজীবন ঘৃণা করবে।  কোনোদিন ভালোবাসবেনা।  

   নীলিমা: বাসবে।  

  নিহাল: impossible …  

  নীলিমা: বাজী…. 

  নিহাল: what???   

নীলিমা: হামম। বাজী। চলো বাজী লাগি নীড়ের কাছে কি কখন মেরিন ঘৃণারমেরিন থেকে ভালোবাসার মেরিন হতে পারবে কিনা? 

 নিহাল: ok… লাগলাম বাজী…..  আমি বললাম কখনোই নীড়ের কাছে মেরিন ঘৃণারমেরিন ভালোবাসার মেরিন হতে পারবে না।  

     নীলিমা: আমি লাগলাম। হতে পারবে।  আজকে মেরিন নীড়কে যতোটা ভালোবাসে তার থেকে হাজারগুন বেশি নীড় মেরিনকে ভালোবাসবে।   তখন মেরিন নীড়কে ছারলেও নীড় মেরিনকে ছারবেনা।

 

.

 

     সকালে…….  

মেরিনের আগে ঘুম ভাঙলো।  দেখলো যে ও এখনো নীড়ের বুকেই ঘুমিয়ে আছে।  নীড়ের বুকে ১টা চুমু একে দিলো। এরপর নীড়ের ঠোট জোরা দখল করে নিলো। ঘুমের মধ্যে নীড়ের মনে হলো দম নিতে কষ্ট হচ্ছে।  চোখ খুলে দেখে কাহিনি কি….  মেরিন ছেরে দিলো।

    নীড়: এসবের মানে জানতে পারি???  

  মেরিন:good morning kiss….  

 

সন্ধ্যায়  রিসিশনের পর  নীড়-মেরিন খান বাড়িতে গেলো।  দাদুভাই নিজেই বরন করে নিলো ।  নীড়কে দেখেই নিরা দৌড়ে এলো  জরিয়ে ধরতে।  কিন্তু পারলোনা।  মেরিন সামনে  দারালো। 

  মেরিন: নিরা আপপু….. অন্যের বরকে এভাবে জরিয়ে ধরতে এসোনা।  মানুষ বলবে তোমার নজর খারাপ। খাটি বাংলায় কি বলে জানো….

     নিরা আঙ্গুল তুলে বলল মেরিন…. 

   

 সাথে সাথে মেরিন নিরার আঙ্গুল এমনভাবে মোচর দিলে যে  নিরার আঙ্গুল ভেঙে যায়যায়।

    মেরিন: সাহস কিভাবে হয় আমাকে আঙ্গুল দেখানোর?😤😤😤। 

   নীড়: আরে ছারো ওকে……  

  মেরিন ছেরে দিলো।   

  মেরিন: আপনার না হওয়া বউকে  বলে দিন যেন ভুলেও আমার আপনার সামনে না আসে তবে এই দুনিয়া  থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে।  আর হ্যা…  খান বাড়িতে শেষ ১০ সেকেন্ড গুনে নাও।   

নিরা: মানে??

   মেরিন: মানে get out from my house ..  নিজের ভিখারী   বাপের   বাড়িতে যাও।   get out..

  কবির: তুমি ওকে বাড়ি থেকে বের করার কে??

   মেরিন: বাড়ির মালিক….. কেন ভুলে যান mr. khan…. এখন নিরা বানু আপনি চলে যান এখান থেকে। 

   নীড়: ত…. 

   মেরিন: বাড়ি থেকে বের করছি। দুনিয়া থেকে না। 

 নিরা: খালামনি….  

কনিকা: চিন্তা করিসনা মা। তুই তো আমার সোনামা। লক্ষি মা। তোর জন্য তো সবার মনের দুয়ার খোলা।  এর মতো অপয়া না।  

   মেরিন: হয়ে গেছে..?  শেষ?   আরো কিছু বলার আছে। নিরা… don’t waste my time…  তোমার খালামনি হাজার চেষ্টা করলেও তোমাকে এই বাড়িতে রাখতে পারবেনা। so  out. 

 

.

 

নিরা চলে গেলো।  মেরিন fresh হতে গেলো। নীড় বাগানে দারিয়ে আছে। কনিকা নীড়কে কফি দিলো।  

 

    নীড়: আরে খালামনি।

  কনিকা: no worry।  তুমি কালই  ওই মেয়ের থেকে মুক্তি পাবে। কথা দিলাম।

 

.

 

   সকালে….. 

 নীড় এখনো ঘুমাচ্ছে।   মেরিনকে  তমা(servant) এসে বলল যে নিচে office maneger  এসেছে।  মেরিন নিচে গেলো।     

 

    ম্যানেজার: hello mam… good morning … 

 মেরিন: good না bad  সেটা তোমার  এখানে আসার কারন শোনার পর  decide  করবো। বলে ফেলো।  

  ম্যানেজার: ম্যাম এই কাগজগুলোতে  আপনার signature লাগবে? 

    মেরিন: কেন? কার বিয়ে লাগসে?  

   ম্যানেজার: না মানে ম্যাম  এগুলো…  

   মেরিন: yeah… whatever .  give me….

      মেরিন ১বস্তা বিরক্তি নিয়ে পেপারগুলা পড়ছে। আর sign  করছে।  হঠাৎ  মনে হলো কাগজটার মাঝে কিছু গন্ডগোল আছে।  হামম। মাঝখান থেকে   লুকানো  divorce paper বের করলো।    

 

      মেরিন: কনিকা খান…..  মিসেস কনিকা খান। 

  মেরিনের আত্মা কাপানো কন্ঠে নীড়ের ঘুম ভেঙে গেলো।   সবাই দৌড়ে নিচে এলো। মেরিনের রাগান্বিত কন্ঠে আজকে পুরা  খান বাড়ি কেপে উঠলো।

 

.

 

মেরিন: এসবের মানে কি?? বলবেন….  

    কনিকা: যেটা দেখছে সেটাই….. divorce paper.. তোমার আর নীড়ের….

    এটা শুনেই   মেরিন টেবিলে পরে থাকা ছুরি নিয়ে কনিকাকে দেয়ালে ঠেকিয়ে ছুরিটা গলায় ধরলো।

     মেরিন: কি বললেন আরেকবার বলেন… বলেন..

    কবির-নীড় মিলেও সরাতে পারলোনা।  পরে দাদুভাই এসে সরালো। 

     নীড়: তুমি    কি পাগল?  নিজের মায়ের গলায় কেউ ছুরি ধরে.?   

   মেরিন: আমি ধরি…..  আর unfortunately  এই মহিলা আমাকে জন্ম দিয়েছে। আর তাই সে এখনো জীবিত আছে।  না হলে আমার আর উনার divorce এর কথা উচ্চারন করার জন্য  এতোক্ষনে উনার গলাটা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যেতো।

   বলেই মেরিন হাতে থাকা ছুরিটা ছুরে মারলো।    যার handle টা গিয়ে লাগলো দাদুভাইয়ের পায়ে দাদুভাই আহ বলে উঠলো। মেরিন দৌড়ে দাদুভাইয়ের কাছে গেলো। তেমন ব্যাথা পায়নি তবুও মেরিন অস্থির হয়ে গেলো।     

 

নীড় মনে মনে: এই মেয়ে এমন কেন?? নিজের মায়ের গলায় ছুরি ধরে….  অথচ দাদুভাইয়ের সামান্য ব্যাথায় অস্থির ……   

 

     বিকালে ওরা ২জন চৌধুরী বাড়ি পৌছালো।

…..

……..

চলবে…

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ০৩ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

   

    

    

      রাতে……   

মেরিন কাপড় চোপর ভাজ করে cupboard এ রাখছে।  নীড় কিছু কাজ করছে। 

   মেরিন: বউ আমি আপনার সরাসরি দেখতে পারেন আমাকে……. 

  নীড়: তোমার ঠিক পিছেই যে ১টা ঘড়ি আছে সেটা দেখো।  তোমার দিকে তাকানোর  আগে যেন আমি অন্ধ  হয়ে যাই।  

 

.

 

পরদিন…….

  নাস্তার টেবিলে।  

নিহাল: কি ব্যাপার….. আজকে সকাল সকাল এতো item….   কলিজা ভুনা… আলু পরাটা,  মাংস ভুনা,  সবজি, পাস্তা, সুজির হালুয়া।   ঘ্রাণ এবং রং-রুপই  বলে দিচ্ছে যে খাবার কতো মজা হয়েছে।  

    সবাই মন ভরে তৃপ্তির সাথে খেলো।    শুধু তাই নয় দুপুরে আর রাতেও সবাই  জমিয়ে খেলো । রাতের খাওয়ার পর সবাই বসে পিঠা খাচ্ছে।  পাটিসাপটা, পুলি, মালপোয়া।

  নিহাল: নীলিমা  বিয়ের চক্করে তো ১২দিন ধরে তুমি রান্না বান্না করছোনা।  এই ১২দিনে তোমার হাতের মতো রান্না আমার মা-দাদীমার মতো  রান্না কিভাবে শিখে গেলে?  

      নীলিমা: আজকে সকাল থেকে কোনো রান্নাই আমি করিনি।  এমনকি রান্নাঘরে পা পর্যন্ত রাখিনি। 

 নিহাল: তাহলে??

নীলিমা: সব রান্না আজকে মামনি করেছে।

  নিহাল: what???  

নীড় মাঝপথে খাওয়া থামিয়ে হাত থেকে পিঠা ফেলে 

  বলল:  এখনি hospital এ চলো।  

  নিহাল: মানে?

  নীড়: এই মেয়ে খাবার বানিয়েছে । damn sure… আমাদের মেরে ফেলার জন্য বিষ টিষ মিশিয়েছে। 

   মেরিন: যদি আপনাদের মেরে ফেলতে হয় তবে এখন এই মুুহুর্তে bomb blast করিয়ে মারতে পারি…..   গুলি করে মারতে পারি….   মেরিন ছলনা করে কাজ করেনা ।   মেরিন ভীতদের মতো পেছনো ছুরি চালায় না…

নীড় উঠে চলে গেলো।   নিহালও চলে যেতে নিলো। 

     মেরিন: দারাও বাবা….. 

    নিহাল: খবরদার আমাকে বাবা ডাকবেনা। আমি তোমাকে সেই অধিকার দেইনি।

    মেরিন: মেরিনকে অধিকার দেয়ার অধিকার তোমাদের কারো নেই।  আমি বাবা ডাকবো তো ডাকবো।  তোমাকে জিজ্ঞেস করে ডাকবোনা ।  সে যাই হোক। মামনি বলল যে চৌধুরী পরিবারে নাকি নতুন বউকে বিয়ের পরপরই কিছু রান্না করে  বাড়ির সবাইকে খাওয়াতে হয়। রান্না যখন করতে হবে তাই আজই করলাম। এরপর কবে করবো তা আমি নিজেও জানিনা।  চৌধুরীরা নাকি নতুন বউয়ের রান্না  খেয়ে তাকে কিছু  gift করো। 

 

     নিহাল: তোমাকে আমি ছেলের বউ হিসেবে মানিনা।  

   মেরিন: সেটা তোমার ব্যাপার।  তবে আজকে দেখি সত্যি চৌধুরীদের খান্দানি নিয়মের জোর আছে কিনা?

    নিহাল: মানে? 

  মেরিন: খুব সহজ। আমি রান্না করেছি। তাই আমি কোনো gift চাইবো সেটা দিতে হবে।  

নিহাল:…..

  মেরিন: ভয় নেই। টাকা পয়সা চাইবোনা। ওগুলো তো আমারই অভাব নেই।  তুমি  আর কি দিবে….

  নিহাল: তুমি কি আমাকে নিচু দেখাচ্ছো।     

   মেরিন: মোটেও না। আমি কেবল তোমাকে ভয় পেতে না করছি।  

  নিহাল: কি চাই?  

মেরিন: বিয়ের দিন তোমাকে সালাম করেছিলাম।  কিন্তু তুমি শুধু নীড়ের মাথায় হাত দিয়েছিলে। আমার মাথায় দাওনি।  আজকে আমি আবার তোমাকে সালাম করবো। তুমি আমার মাথায় হাত রাখবে।  

      নিহাল: কেউ সালাম করলে তার মাথায়  শুধু হাত রাখাই হয়না সাথে কিছু আশীর্বাদও করতে হয়।  তোমাকে আমি কখনো আশীর্বাদ করতে পারবোনা। 

  মেরিন: না না আশীর্বাদ করতে হবেনা। সেটা আমায় কেউ করেনা।   শুধু মাথায় হাত রাখবে। মাথায় হাত রেখে অভিশাপই করো। কিন্তু তবুও হাত রাখো।  

  নিহাল অবাক হয়ে গেলো মেরিনের কথায়।

মেরিন সালাম করলো। নিহাল মাথায় হাত রাখলো।

মনে মনে: সুখী হও…..

 

.

 

মেরিন রুমে গেলো। গিয়ে দেখে নীড় সোফায় হেলান দিয়ে কপালে হাত দিয়ে বসে আছে।  মেরিন গিয়ে ধাপ করে নীড়ের কোলে বসলো।  নীড় অবাক হয়ে গেলো।

       নীড়: এই মেয়ে আমার কোলে বসলে কেন, নামো। নামো বলছি। 

    মেরিন: আমার লাগে নাম নেই????  এই মেয়ে এই মেয়ে বলে ডাকেন কেন?? 

   নীড়:তো??

    মেরিন: বুঝেছি আপনি আমাকে ভালোবেসে  এই মেয়ে  বলে ডাকেন।  যাই হোক।  আজকে আমার রান্না খেলেন। বিনিময়ে আমাকে কিছু উপহার দিবেন না???

   নীড় মেরিনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।   

       নীড়: তোমার রান্না আমার জন্য বিষ বরাবর।  আর উপহার । যদি চাও তবে উপহারে  তালাক  দিতে পারি।     

     মেরিন:🤣🤣।  এতো বড়  gift আমি নিতে পারবোনা। 

    মেরিন উঠে আমার আবার নীড়ের কোলে বসলো।

    মেরিন: আমি আপনাকে ভালোবাসি। আপনি  চান আর না চান আপনাকে আমার সাথে থাকতেই হবে।  

 

.

 

      পরদিন……  

নীড় মেডিকেল যাবে।  গাড়িতে গিয়ে বসেই দেখলো পাশের সিটে মেরিন বসে আছে।    

     নীড়: তুমি???   

মেরিন: any doubt ??,  

নীড়-মেরিন মেডিকেল পৌছালো।  গিয়ে নীড় জানতে পারলো যে নীড় রোগী দেখার পাশাপাশি আর কোনো ক্লাস করাতে পারবেনা।   শুধু  2nd year  এর  A section  এর ক্লাস নিতে পারবে।

 

নীড় কাহিনি বুঝতে পারলো।  নীড় আজকে রোগী না দেখে  রুমে বসে আছে।  তখন ওর ১টা কলিগ ওর রুমে এলো। 

    নীড়: আরে এলা।  তুমি?

    এলা: হামম।

  নীড়: বসো ।

      এলা: তোমার মুখটা এমন লাগছে কেন? 

নীড়: হাহ্… আর কতো ভালো থাকবো? মেরিনের বর হয়ে বেচে আছি   তাই বেশি।

      এলা: আমি বুঝি তোমার কষ্টটা।

   এলা নীড়ের হাতের ওপর হাত রাখলো।  

এলা: কিন্তু তোমার তো এভাবে থাকলে হবেনা…. তো….

   তখনই কোথায় থেকে মেরিন এসে এলার চুলের মুঠি ধরে দার করালো।

      নীড়: তুমি?

  মেরিন: তোর সাহস কি করে হয় আমার নীড়ের হাত ধরার।  আজকে আমি তোর এমন অবস্থা করবো যে তুই আমার  নীড়ের দিকে ভুল করেও আর কখনো হাত বারানোর কথা কল্পনাও করতে পারবিনা…..    

   মেরিন এলার চুল ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো।         

    নীড়: মেরিন ছারো ওকে…..  ছারো বলছি।  

মেরিন টেনেই নিয়ে যাচ্ছে।   মেরিন এলার চুল টেনে নিচে নিয়ে মাঠের ওখানে নিয়ে সবার সামনে নিচে ফেলল।  এরপর এলার ডান হাতের ওপর পারা দিয়ে দারালো।  চিকন  পেন্সিল হিলের যাতা খেয়ে এলার জান বেরিয়ে যাচ্ছে।  মেরিন আবার এলার চুলের মুঠি ধরে

     বলল: খুব শখ না আমার নীড়ের হাত ধরার… হ্যা?  আর যদি কখনো নীড়ের দিকে চোখ তুলে তাকাস তবে জানে মেরে দিবো।  

 

এরপর এলাকে ছেরে দিলো।

      মেরিন: সবাই নিজের কানে ১টা কথা ভালোভাবে ঢুকিয়ে রাখো।  নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন   মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরীর স্বামী।  কেউ উনার দিকে চোখ তুলে তাকালেও  আমি তার চোখ উঠিয়ে ফেলবো। এরপরও যদি কেউ কলিজা দেখায় তবে আমি তার কলিজাটাই বের করে ফেলবো।

 

.

 

    ২দিনপর…… 

 ২জন বাড়ি ফিরছে।  সামনে ১টা গাড়ি এমনভাবে break মারলো যে accident এরানোর জন্য নীড়কেও খুব জোরে break চাপ দিতে হলো।  যার কারনে স্টিয়ারিং  এ  লেগে নীড় কপাল সামান্য একটু খানি কেটে গেছে। একদম সামান্য।

    মেরিন : নীড় আপনি ঠিক আছেন?  

মেরিন একদম অস্থির হয়ে গেলো।   পাগলের মতো করতে লাগলো।  one time ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিলো। 

   নীড়: আরে ঠিক আছি…..  

মেরিন দেখলো সামনের  গাড়িটা  start  দিয়ে চলে যাচ্ছে।  

মেরিন নীড়কে 

     বলল: নীড় আপনি পিছে গিয়ে বসুন। 

 নীড়: মানে? 

মেরিন: পিছে যান…..    

নীড়কে বাধ্য হয়ে পিছের সিটে গেলো।   মেরিন driving sitএ বসলো।  এরপর এমন speed এ গাড়ি চালাতে লাগলো যে ভয়ে নীড়ের আত্মা যায়যায়।

মেরিন  গাড়ি একদম ওই গাড়ির সামনে নিয়ে থামালো ।   এরপর গাড়ি থেকে নেমে  ওই গাড়ির  driverএর কলার ধরে টেনে বের করলো ।  এরপর ইচ্ছা মতো পিটানো শুরু করলো। 

   মেরিন: তোর জন্য আমার নীড়ের কপাল কেটে গেছে। তোকে তো আমি…..

  মেরিন মারতেই আছে মারতেই আছে। ততোক্ষনে জনও চলে এসেছে।  অনেক কষ্টে নীড় মেরিনকে সরিয়ে আনলো।

     নীড়: পাগল হয়ে গেছো। মরে যাবে লোকটা। 

 মেরিন:যাক। ওর জন্যেই আপনি ব্যাথা পেয়েছেন।

   নীড়: আরে  এটা সামান্য একটু ব্যাথা।  

  মেরিন: আপনার জন্য সেটা সামান্য। আমার জন্য নয়।   জন….

      জন: জী ম্যাম…..  

মেরিন: এর এমন অবস্থা করো যেন আর কোনোদিন গাড়ি না চালাতে পারে।

    জন: ম্যাম আপনার হাত তো কেটে গেছে। রক্ত বের হচ্ছে। 

 নীড়ও দেখলো।  

    মেরিন: ওহ হ্যা।  এমনভাবে বলছো যেন এই  ১ম কেটেছে।  আসছি।   

  নীড় driving sit এ বসতে নিলেই 

 

মেরিন বলল: আরে আরে আপনি drive করবেন নাকি? 

   নীড়: হ্যা।  

মেরিন: মোটেও না  আপনি ব্যাথা পেয়েছেন না…. তো কিভাবে  drive করবেন? 

     নীড়: আরে এ…..  

মেরিন: কোনো কথানা।  

মেরিন কাটা হাত নিয়েই drive করে বাড়িতে পৌছালো। মানবতার খাতিরেও নীড় মেরিনের কাটা হাতের কথা জিজ্ঞেস করলোনা।  কারন ঘৃণা।   এভাবেই চলছিলো দিনকাল।  মেরিনকে দেখে নীড় অবাক হলেও ঘৃণা ১বিন্দুও কমেনি।   কিন্তু মেরিনের ভালোবাসা বেরে গেছে। সবসময় নীড়ের সামনে ঢাল হয়ে দারিয়ে থাকে। ১টা আচরও লাগতে দেয়না নীড়ের গায়ে। রোজ রাতে নীড়ের বুকে ঘুমায়। আর সকালে good morning kiss…

 

.

 

     ১মাসপর……  

  নীড়-মেরিন কোথাও যাচ্ছে।  তখন দেখলো।  যে ১টা মেয়ে taxiএর জন্য দারিয়ে আছে।  আঙ্গুলে  ব্যান্ডেজ করা।  আর মেয়েটা নিরা।   নীড় গাড়ি থেকে নামতে নিলে মেরিন  হাত ধরে বাধা দিলো।  নীড় ঝারা দিয়ে মেরিনের হাত সরিয়ে দিলো।   নীড় বেরিয়ে গেলো 

  নীড় নিরার  হাত ধরে 

    বলল: তততোমার হাতে কি হয়েছে? তুমি এখানে কি করছো?  

    নিরা: কি আর করবো বলো। গরীব মানুষ। তাই  taxi এর জন্য দারিয়ে আছি ।   

    নীড়: কিন্তু তোমার কাছে  তো গাড়ি ছিলো।   

   নিরা: ছিলো। কেরে নিয়েছে।

   মেরিন: একটু ভুল হলো। কেরে নেইনি। আমার জিনিস আমি ফেরত নিয়ে নিয়েছি মাত্র।   আমার সম্পত্তি  আমি তো আর কোনো ছোটলোক পথের ভিখারীর সাথে share করবোনা।

   নিরা: মেরিন…  

মেরিন: চুপ ভিখারীর ঘরে ভিখারী, ছোটলোকের ঘরে ছোটলোক, চোরের ঘরে চোর।

    নীড়: mind ur language ….    

    মেরিন: চুপচাপ গাড়িতে উঠুন।   

নীড়:না। 

  মেরিন: contract এর কথা ভুলে গিয়েছেন???  

     নীড়: go to hell with that contract……  

   মেরিন: আপনি সত্যি ভালো কথা ভালোভাবে বোঝেন না…..  

   মেরিন gun টা বের করলো।  সেটা দেখে ভয়ে নিরা নীড়কে চেপে ধরলো।  

    মেরিন: ছার নীড়কে….l না হলে আমি তোকে গুলি করে দিবো।  

       নীড় নিরার সামনে দারালো।  

    নীড়: করো গুলি……  নিরার কাছে যেতে হলে আগে নীড়কে জানে মারতে হবে…….  নীড়ের বুক থেকে কখনো  নিরাকে সরাতে পারবেনা…… 

      মেরিন: নীড় ওকে ছেরে দিন……. 

    নীড়: না….. দেখো এখন আমি তোমার চোখের সামনে কি  করি……  

    বলেই  নীড় নিরার কোমড় জরিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। এরপর কেবল kiss  করবে তখনই কেউ ওদের chloroform দিয়ে দিলো।  ২জন অজ্ঞান হয়ে গেলো।  

 

.

 

         ৩ঘন্টাপর……. 

 ২জনের জ্ঞান ফিরলো।  নীড় চোখ মেলে দেখলো যে ওকে চেয়ারের সাথে লোহার শেকল দিয়ে বাধা হয়েছে। কিন্তু লোহার শেকলের ওপর ১টা কিছুর আবরন লাগানো হয়েছে যেন লোহার শেকলটা দিয়ে নীড়ের গায়ে ব্যাথা না লাগে।  আর ওর চোখ বরাবর আছে মেরিন।  

    মেরিন: hello honey…….  

    নীড়: আমাকে এখানে কেন এনেছো??  

    মেরিন: ছবি দেখাতে…..

    নীড়: মানে?

 মেরিন: মানে আপনার ডান দিকে দেখুন……  

    নীড় ডানদিকে ঘুরলো।  দেখলো সেখানে নিরাকে দারা করানো। ওকে কস্টেপ দিয়ে পেচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।  

    নীড়: নিরা…. ছেরে দাও ওকে।

      মেরিন: ছেরেদিলে ছবি কিভাবে দেখবেন?  

নিরা: please মেরিন আমাকে ছেরে দে।  আমি কখনো  তোর ছায়াও মারাবোনা…..    

     মেরিন: সেটা আজকে আমার ছায়া মারানোর  আগে ভাবা দরকার ছিলো……..   

     বলেই টেবিলে থাকা ৪-৫টা ছুরি থেকে সবথেকে ভয়ংকর আর ধার ছুরিটা হাতে নিলো।   

       মেরিন: আমার এই ছুরি গুলো অনেকের রক্ত ঝরিয়েছে।  কিন্তু আজকে প্রথম জান নিবে……

     নীড়: না মেরিন তুমি এমন কিছু করবেনা…  

   মেরিন: আমি এমনটাই করবো  ॥  

   খুব শখনা তোর মিথ্যা আঙ্গুল কাটা নিয়ে সমবেদনা নেয়ার। এখন সত্যি সত্যি কাটার যন্ত্রনা উপভোগ কর।     

      মেরিন নিরার কাছে গেলো।  

 মেরিন: তুই এই হাতে নকল ব্যান্ডেজ করেছিলিনা…..

     বলেই ছুরি দিয়ে নকল ব্যান্ডেজটা ছুরি দিয়ে কেটে ফেলল।   

    মেরিন:এই হাত দিয়েই নীড়কে চেপে ধরেছিলিনা…..  

   বলেই নিরার হাতে ছুরি দিয়ে পোচ মারলো……  

   নীড়: নিরা…..

মেরিন নিরার অন্য হাতে পোচ দিলো।  

   নীড়: মেরিন ওকে ছেরে দাও… আমি আর কখনো ওকে touch করবোনা। এমনকি তাকাবোও না ওর দিকে….   ওকে ছেরে দাও…….

      মেরিন নীড়ের কথা কানে না নিয়ে নিরাকে একের পর একের আঘাত  করেই যাচ্ছে….  শেষে ছুরি নিরার গলা বরাবর চালাতে নিলে 

    নীড় বলে

 উঠলো:  তোমাকে আমার কসম লাগে থেমে যাও মেরিন….   

 

 .

 

 মেরিন থেমে গেলো।  ছুরিটা just  নিরার গলায় touch করেছে।  নীড়ের কসমে থেমে গেলো। 

    নীড়:  আমি কথা দিলাম যে কখনো নিরার কাছে যাবোনা….  তবু  ওকে মেরে ফেলোনা please ….. 

    মেরিন থেমে গেলো।  নিরার থেকে  ৪কদম সরে  এসে হাতের ছুরিটা দিয়ে  নিজেরই অন্যহাতে চালাতে লাগলো। নিজের হাতে একের পর এক পোচ দিতে লাগলো।  আর সাপের মতো কুমাতে লাগলো।  

    জন: ম্যাম… ম্যাম… কি করছেন কি?    

   জবাবে মেরিন এমনভাবে জনের দিকে তাকালো যে  জন কেপে উঠলো।   পিছে চলে গেলো।  নীড় অবাক চোখে দেখছে।

মেরিনের চোখ অসম্ভব লাল। 

     মেরিন: জন…..  নিরার মাথার তুল সব ফেলে ন্যারা করে।  মুখে কালি মাখিয়ে…..   ছবি তুলে facebook এ newspaper এ  খবরে সব জায়গায় দিয়ে দাও যে এই ভিখারীর বাচ্চাটা চুরি করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে। এরপর ব্যান্ডেজ করো।    

    নিরা : না মেরিন না….. এর থেকে তুই আমাকে  জানে মেরে ফেল তাও ভালো। কিন্তু এমন করিস না।   আমি কথা দিচ্ছি যে কোনোদিন তোদের সামনে আসবোনা। তবুও আমার সাথে এমন করিসনা।   

    মেরিন:জন…. ৫মিনিট সময় দিলাম……  

    জন: জী ম্যাম…. এই  সানা…..  

    সানা নামের মেয়েটা এসে মেরিনের কথা মতো কাজ করতে লাগলো।  

    জন: ম্যাম এবার তো ব্যান্ডেজ করান। এখন তো নিরা যথেষ্ট  শাস্তি পাচ্ছে।  

    মেরিন: আমি নিরার জন্য আমার হাত কাটিনি…..  আমি তোমাকে ২টা injection এর নাম লিখে দিচ্ছি। সেগুলো এখন গিয়ে নিয়ে আসবে।  

   জন:  ok.. mam…..   

 

.

 

    ১০মিনিটপর…..   

মেরিন নীড় ডান হাতে ১টা  injection push করলো।   এরপর  লোহার খুব সরু ধারালো কাঠির মাথা আগুনে পুরিয়ে  নীড়ের হাতে মেরিন লিখতে লাগলো। injection এর কারনে নীড়  হাতে একটুও  ব্যাথা পাচ্ছেনা।  নীড়ের হাত থেকে রক্ত ঝরছে। তা দেখে মেরিনের জানটা বেরিয়ে যাচ্ছে। 

     মেরিন: iii m sssorry….  কতো রক্ত বের হচ্ছে আপনার…..  তততাইতো আআমি আপনার থেকে চচচারগুন রক্ত বের করছি।   আপনার ব্যাথা লাগছেনা তো??  আপনার এই ক্ষতটা তারাতারি শুকিয়ে যযযাবে।  কিন্তু এই মমমেরিন নননামটা সবসময়  সারাজীবন আআপনার হহহাতে থাকবে….. আপনার  হাতে লেখা এই মেরিন নামটা আপনাকে সসসবসময় আমার নাম স্মরন করিয়ে দদেবে।  আপনি চাইলেও কককখনো ভুলতে পপপারবেন না যে….  মমমেরিন আপনার  বউ।  আপনার  life partner ….. আপনি না চাইলেও এই লেখার মতো আমিও সারাজীবন আপনার জজীবনে থাকবোহ।   

 

       মেরিন নীড়ের হাতে নিজের  নামটা লিখে medicine লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিলো।  এরপর নীড়ের বাধন খুলে দিলো। মেরিনের মাথাটা ঝিমঝিম করতে লাগলো। 

     জন: ম্যাম….. এবার তো হাতে ব্যান্ডেজ করিয়ে নিন….  

   মেরিন: হু… হামম।  দাও।

    জন: দিন ম্যাম হাত….  

   মেরিন: আমারটা আমিইহ…. ককরতে পারবো…….   

   জন: একি স্যার কি করছেন কি??  

   মেরিন ঘুরে দেখলো যে  নীড় সেই লোহার কাঠিটা দিয়ে যেন কি ১টা লিখলো।   মেরিন দৌড়ে গিয়ে  নীড়ের হাত থেকে ওইটা ফেলে দিলো। 

   মেরিন: আআপনার হাত থেকে তো রররক্ত পর……  

   মেরিন দেখলো যে নীড় মেরিনের আগে ঘৃণার শব্দটা লিখেছে।   

    নীড়: তুমি আমার হাতে মেরিন লিখেছো। আমি তার আগে ঘৃণার কথাটা লিখলাম।   আমার হাতের মতো আমার মনেও এবং আমার জীবনেও তুমি আজীবন ঘৃণারমেরিন ই হয়ে থাকবে……..  কখনো ভালোবাসার মেরিন হতে পারবেনা…….   

     মেরিন নীড়ের হাত নিয়ে ব্যান্ডেজ করতে করতে

    বলল: যেভাবেই হোক আপনার মনে আমার নামতো থাকবে। সেটা ভালোবাসার নাই বা হলো…. হোক না সে নামটা  ঘৃণার। ঘৃণার উছিলায় আমি সারাজীবন আপনার বুকের গভীরে তো থাকতে পারবো……  

     কারন যাকে আমরা ভালোবাসি তাকে বুকের মাঝে রাখি।  আর যাকে ঘৃণা করি তাকে রাখি বুকের গভীরে….  

    ভালোবাসা ভোলা গেলেও ঘৃণা কখনো ভোলা যায়না।  

   আপনার ঘৃণা কখনোই আপনাকে মেরিনের নাম ভুলতে দেবেনা……

    মেরিন মরে গেলেও না। আর এটাই ঘৃণার মেরিনের বড় পাওয়া।  

    নীড়: মেরিনের মৃত্যুই এখন নীড়ের সকল দোআয়……    

 

.

 

      ১৫দিনপর…..  

মেরিন পরীক্ষা দিচ্ছে।  তখন হঠাৎ ১টা message  পেয়ে পরীক্ষা মাধপথে রেখেই মেরিন ছুটলো।   নীড় balcony তে দারিয়ে ফোনে কথা বলছিলো  দেখলো মেরিন দৌড়ে কোথাও যাচ্ছে।

     নীড়: এরনা exam চলছে…. exam রেখে কোথায় যাচ্ছে ??  জাহান্নামে যাক…..  কিন্ত এ তো এর study নিয়ে অনেক serious….

তখনই নীড়ের mobile এ নীলিমার ফোন এলো।  জানতে পারলো মেরিনের দাদুভাইয়ের accident হয়েছে।  নীড়ও hospital এ গেলো।  

 

 

.

 

    হাসপাতালে…..   

doctor :  uncle এর  রক্ত লাগবে….  

  মেরিন:doctor uncle  …. আমার রক্তও তো O+…..  আমারটা নিন…. 

   doctor : না মামনি… তোমার এমনিতেই রক্তশূন্যতা… তারমধ্যে BP একদম  low….. তোমার শরীর থেকে রক্ত নিতে পারবোনা…  

   মেরিন:আমার বাচা মরা matter করেনা….. আমার দাদুভাইকে বাচান……

     নীলিমা: মামনি… মামনি…  আমি দেখছি কোথায় রক্ত পাওয়া যায়??  

   নার্স: sir… blood bank এ blood নেই।    

মেরিন: দেখেছেন uncle .. আপনি আমার রক্ত নিন।   

    doctor : কিন্তু ১জনের জীবন  বাচাতে গিয়ে আমি অন্যজনের জীবন নিতে পারবোনা।   

 

    মেরিন  doctor এর কলার ধরে 

    বলল: এই doctor এই.. আমার জীবনের বিনিময় হলেও আমার দাদুভাইয়ের জীবন বাচান…..  এই পৃথিবীতে   আমার বাচার দরকার নেই কিন্তু আমার দাদুভাইয়ের বাচার দরকার আছে।  তাই আমার চিন্তা বাদ দিয়ে আমার দাদুভাইয়ের জীবন বাচান। না হলে আপনাকে আমার হাত থেকে কেউ বাচাতে পারবেনা….  

   doctor :  ok.. fine..  cool …  চলো।।।   

   মেরিন কেবল যাবে ভেতরে তখনই 

    কবির: দারাও  রানা(doctor )…  কনিকার blood group ও O+… তাই কনিকাই বাবাকে রক্ত দেবে।  

 

 ( কবির-কনিকা দেশের বাইরে ছিলো। দাদুভাইয়ের খবর পেয়ে দৌড়ে এসেছে) 

 

রানা: thats better ….  

   কনিকা: চলুন ভাই।  

  মেরিন:  uncle …. আমার দাদুভাই…. আমিই রক্ত দিবো।  

    কবির: তুমি ভাবলে কি করে যে তোমার বিষাক্ত রক্ত আমি আমার বাবাকে দিতে দেবো… 

    মেরিন: এই mr. khan….. সাপের বিষ কেবল মারতে নয় বাচাতেও লাগে। 

     আমি যখন বলেছি তখন রক্ত আমিই দিবো…..

    রানা: মামনি…… দেখো তোমার শরীর থেকে speed এ রক্ত নিতে পারবোনা।  রক্ত কম থাকায় ঝামেলা হবে… late হবে….. uncle এর জন্য ভালো হবেনা।  তাই কনিকা ভাবির রক্তটা নিবো। its about ur দাদুভাই……..  

   মেরিন বাধ্য হয়ে রাজী হলো।     operation চলছে।  সবাই একসাথে বসে আছে।  কবির কনিকা কে শ্বান্তনা দিচ্ছে।  আর মেরিন একা একা এক কোনে। ওকে শ্বান্তনা দেয়ার কেউ নেই…….   

 

.

 

operation successful  হলো।

 কিছুদিনপর দাদুভাই সুস্থ হলো।  নীড় কিছুতেই অংক মিলাতে পারছেনা। 

     নীড় মনে মনে: মেয়েটা অনেক খারাপ। কিন্তু তবুও ওর নিজের বাবা কিভাবে ওর রক্তকে বিষাক্ত বলতে পারে…… strange ……

…..

……..

 

চলবে…

 

গল্প ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ০৪ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

   

    

     

২দিনপর…… 

      খাবার টেবিলে…..  

নীলিমা:এখন তো মামনির  exam শেষ। আর বিয়ের  প্রায় ২মাস হয়েও গিয়েছে তোমাদের ।  

 নীড়: তো??      

নীলিমা: তাই আমি ঠিক করেছি যে তোমরা ২জন next week হানিমুনে যাচ্ছো।

    নীড়: what??? impossible ….  

মেরিন: কিন্তু মাম….. 

  দাদুভাই: কোনো কিন্তু না….. 

      সবাই ঘুরে দেখলো যে দাদুভাই দারিয়ে আছে।  দাদুভাইকে দেখে মেরিন  দাদুভাই বলে দৌড়ে গেলো।  

   মেরিন: তুমি এলে যে? আমাকে বলতে আমি চলে যেতাম….   কষ্ট করে তুমি আসতে গেলে কেন? 

 দাদুভাই: তোর শশুড় বাড়িতে কি আমি আসতে পারিনা দিদিভাই?

    মেরিন: কি যে বলো না।

   নীড় এসে দাদুভাইকে সালাম করলো।

    নীড়: whats up young man???   

দাদুভাই: একদম বিন্দাস। 

    নীড়: চলো breakfast করবে চলো।  

   দাদুভাই: breakfast করবো বলেই তো সকাল সকাল চলে এলাম। কিন্তু তারআগে…. এই তোমরা ভেতরে আসো। 

 

    তখনই ২০জন হাতে করে ২০ধরনের ডালা নিয়ে ভেতরে ঢুকলো।  

   নিহাল: এগুলোর কি দরকার ছিলো কাকা??  

  দাদুভাই: অনেক দরকার….  ১ম নাতনীর শশুড় বাড়িতে এলাম। খালি হাতে কি আসা যায় নাকি?  নীলিমা মা….  এগুলো রাখার ব্যাবস্থা করো।   

 

.

 

     একটুপর….. 

দাদুভাই: দেখো দাদুভাই… তোমাদের বিয়েতে তো আমি কোনো gift দিতে পারিনি ।  তাই এই হানিমুন প্যাকেজটা আমার তরফ থেকে তোমাদের জন্য wedding gift…..  

 

    বয়স্ক লোকটার কথা কেউ ফেলতে পারলোনা। 

 

.

 

 দাদুভাই চলে যাবার আগে……

   দাদুভাই: নীড় দাদু…. একটু এসো তো…

  নীড়: হ্যা দাদুভাই….  

দাদুভাই: তোমাদের রুমে নিয়ে চলো……..  

নীড়: চলো। 

 

  ২জন নীড়ের রুমে গেলো। 

  দাদুভাই: দরজাটা লাগাও।

  নীড়: ok….. 

 নীড়  তাই করলো। 

দাদুভাই: globe  আছে  রুমে?

  নীড়:হ্যা?

  দাদুভাই: globe আর মোমবাতি নিয়ে আসো।  

   নীড় নিয়ে এলো।  দাদুভাই মোমবাতি জালিয়ে বলল লাইট বন্ধ করে দিতে।   নীড় তাই করলো।    এবার দাদুভাই  মোমবাতির সামনে  গ্লোবটা ধরলো।   নীড় দাদুভাইয়ের বিপরীতে বসে আছে।

 

দাদুভাই: তোমার দিকে গ্লোবটা আলোকিত  না অন্ধকার??? 

  নীড়: ঘুটঘুটে অন্ধকার….. 😎😎😎…. 

   দাদুভাই:  কিন্তু আমার দিকে এটা ঝলমলে আলোকিতো।  

  নীড়: তাতো হবেই দাদুভাই। কারন  গ্লোবটার   আলোকিতো দিক। মানে  মোমবাতির আলোতো তোমার দিকটাতে……       

 দাদুভাই:হামম। এই গ্লোবটার মতো রক্তে মাংসে গরা ১টা চাদের কনাও আছে। যার আলোকিত দিকটা আমার দিকে আর ঘুটঘুটে অন্ধকার দিকটা তোমার দিকে……. এ..

    তখনই দরজায় করা নরলো। 

   মেরিন: দাদুভাই….. দাদুভাই….. ও দাদুভাই….

   দাদুভাই: লাইট on করে দরজা খোলো।   

   দরজা খুলতেই মেরিন ভরভর করে রুমে ঢুকলো।  

  মেরিন: দাদুভাই চলো…..   চলো ….cake ready….. 

    দাদুভাই: চলো…..  

 

.

 

পরদিন…… 

   ২জন মেডিকেল থেকে ফিরছে।  jam এ বসে নীড় দেখতে পেলো যে ২টা ছেলে ১টা মেয়েকে  tease    করছে।  নীড় সাথে সাথে   গাড়ি থেকে বের হয়ে  ছেলে ২টাকে পিটালো।  ২জন কোনোরকমে দৌড়ে পালালো।  মেরিন নীড়কে টেনে গাড়িতে নিয়ে বসালো।  নীড়ের হাত পা দেখতে লাগলো যে কোথাও ব্যাথা পেয়েছে কিনা??

      নীড়: what the hell are u doing ???  

 মেরিন: আপনি ব্যাথা পাননি তো???  কি দরকার ছিলো মারামারি করার?  

  নীড়: আমি তোমার মতো selfish নই  যে কেবল নিজেকে নিয়ে খুশি থাকবো। 

  মেরিন: তাই বলে  কে না কে  বিপদে পরলো বলে বের হয়ে মারামারি করবেন? সবসময় দেখি… বের হয়ে যান…   

  নীড়: মারামারি আর করতে দাও  কোথায় বের হলেই তো  fire  করা শুরু করো।  আর গুন্ডারা পালায়।   

   মেরিন: যাই হোক….  এতো বাহুবলি গিরি দেখাতে হবেনা…..   

   নীড়: চোখের সামনে  কারো বিপদ দেখলে বসে থাকতে আমি পারিনা।  কারন তোমার মতো আমি কেবল নিজেকে নিয়ে  busy থাকিনা…… তুমি এতো টা খারাপ কেন???

     আজও জবাবে মেরিন ১টা হাসি দিলো।  

 

.

 

৩দিনপর……. 

  ২জন shopping   করে ফিরছে। হঠাৎ  গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলো।

মেরিন: কি হলো?? 

নীড়: আমার বাপের মাথা।

    মেরিন:😒😒😒।  

 

২জন নামলো। তখনই জন হাজির।   

   জন: কি হয়েছে ম্যাম?

    মেরিন: উনার বাবার মাথা….  

   জন: মানে ম্যাম??? 

মেরিন: জানিনা….. 

জন: ম্যাম …. গাড়িটা মনে হয় খারাপ হয়ে গেছে।  আপনারা আমার গাড়ি নিয়ে জান।  

  মেরিন:না। আজকে আমরা আজকে রিকশা দিয়ে যাবো। 

   জন: কিন্তু ম্যাম….   

মেরিন: বলেছি মানে বলেছি…….   চলুন নীড়….. 

   নীড়: তুমি কি absolutely পাগল…..  

মেরিন: হামম।  আপনার প্রেমে। 

 

 

.

 

 বলেই মেরিন নীড়ের হাত ধরে হাটতে লাগলো  সুনসান সড়ক দিয়ে হাটছে ২জন।  

  মেরিন: জানেন নীড়…. আমাদের ছেলে হলে কি নাম রাখবো? নির্বন…… (নীড়বন)  আপনার পুরো  নাম মানে নীড় আর আমার বন্যা নামের বন….. 

  নীড়+বন=নির্বন।  নির্বন আহমেদ চৌধুরী।☺️☺️☺️।

     নীড়: সেটা কখনো ভেবোও না। বুঝেছো?  i hate you।। 

   মেরিন: & i love you….. সে যাই হোক…..     আমি কি বলেছি যে আজই আপনার ছেলের মা হবো??  ১বছর পর কি ১০ বছর পর তো হবোই আমি নির্বনের মা….. দেখে নিবেন….  

  নীড়: impossible …. তোমার এই কুৎসিত চেহারাটাই আমার দেখতে মন চায়না…..  

   বলেই নীড় মেরিনের হাতটা ঝারা দিয়ে সরিয়ে দিলো।  এরপর হাটতে লাগলো।  

   মেরিন: কেন? আমার চেহারা কুৎসিত কেন? আমার চেহারা কি সুন্দর না?  কোন দিক দিয়ে খারাপ আমি??  দেখুন আমাকে।  দেখে বলুন। 

    ওখানে ৪-৫জন বখাটে ছেলে ছিলো। তাদের মধ্যে থেকে 

১জন বলে

   উঠলো: তুমি দেখতে খারাপ হবে কেনো সুন্দরি?  তুমি তো একদম পটাকা…..  তোমার ফিগার মডেলের মতো…..   ঠোট ললিপপের মতো।   

    নীড়-মেরিন ২জনই কথাটা শুনলো।  কেউ react  করলোনা।

নীড় হেটেই যাচ্ছে।  আর মেরিন নীড়কে নানা ধরনের কথা বলছে।   ছেলেগুলোও ওদের পিছে হাটছে।  ১টা পর্যায়ে ছেলেগুলো খুব বাজে বাজে কথা বলতে লাগলো।  মেরিন ১টা বার মেরিনের দিকে তাকালো।  মেরিনের তাকানোতে নীড় মুখ ঘুরিয়ে নিলো। এরপর আবার হাটতে লাগলো। কিন্তু মেরিন ঠিক করলো যে এদেরকে উচিত শিক্ষা এখন দিতেই হবে। তাই মেরিন ছেলে গুলোর দিকে  হাটতে লাগলো।

    নীড় ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো। এরপর আবার নিজের মতো হাটতে লাগলো। সামনে ১টা রিকশা পেয়ে ওটাতে বসে চলে গেলো।  মেরিন তখন ছেলে গুলোকে পিটাতে ব্যাস্ত।  

 

   মেরিন নীড়ের চলে যাওয়া দেখে অবাক হলো। আর সেই সুযোগে ১জন পেছন থেকে ওর মাথায় বাড়ি মারলো।  মেরিন চোখে ঝাপসা দেখতে লাগলো। ছেলেগুলো মেরিনকে তুলে নিয়ে গেলো।   জন সময় মতো এসে মেরিনকে বাচালো। 

 

     জন: ম্যাম আমি আপনাকে বাসায় পৌছে দিচ্ছি চলুন।   

মেরিন: গাড়ির চাবি দাও।

   জন: কিন্তু ম্যাম…..  

মেরিন: give me the key….. 

   জন মেরিনকে চাবি দিলে মেরিন এমন  speed এ গাড়ি চালিয়ে চলে গেলো যে জন ওর পিছে যাওয়ার সুযোগই পেলোনা। 

 

.

 

 ওদিকে……  

নীড় একা বাসায় ফিরলে

  নীলিমা বলল: তুমি একা?? মামনি কোথায়??

   নীড়:  i don’t know …. 

  নিহাল: মানে কি??? এতো রাতে …. 

  নীড়: তো? ও একা চলে আসতে পারবে?  

   নিহাল: একা ফিরতে পারবে  বলে  এতো রাতে ১টা মেয়েকে একা ফেলে আসবে??

    নীড়: ওকে নিয়ে হঠাৎ তোমার এতো চিন্তা কেন হচ্ছে বাবা? 

নিহাল: কারন ও ১টা মেয়ে।

   নীড়: so what??  

বলেই নীড় রুমে চলে গেলো।  

 

.

 

       ২ঘন্টাপর…..

   নীড় মনের সুখে ঘুমাচ্ছে।  জনের ফোনে ঘুম ভাঙলো। 

   জন: hello sir…  নীড়: কি হয়েছে?

   জন: স্যার,   ম্যাম কি বাসায় ফিরেছে?

   নীড়: আমি কি জানি??😴😴😴 ।  

  জন: না মানে ম্যাম গাড়ি নিয়ে কোথায় যেন গেলো। পাচ্ছিই না।  বৃষ্টিও হচ্ছে প্রচুর।  

   নীড়: whatever …  জাহান্নামে যাক।  bye.. let me sleep …

    জন এবার নিজেকে আটকে রাখতে পারলোনা।

    জন: আপনি কি মানুষ? এতো রাতে বৃষ্টির মধ্যে  ১টা মেয়ে বাইরে । আর আপনি আরামে ঘুমাচ্ছেন? তাও মেয়েটা আপনার বিয়ে করা বউ…..  লজ্জা করেনা আপনার ??? shame on u….

    বলেই জন ফোন রেখে দিলো।  জনের কথায় নীড়ের বোধ হলো ও কি করেছে।

আর দেরি না করে নীড় গাড়ি নিয়ে বের হলো।  অনেক বৃষ্টি পরছে।  

 

.

 

  এদিকে…..

  মেরিন ১কেস বিয়ার কিনে ১টা শ্মশানের মধ্যে গাড়ি থামিয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে বসে বিয়ারের ক্যান শেষ করছে।  সেই সাথে নিজের জীবনের অংক মিলাচ্ছে।

 কারন আজকে নীড়ের কাজে মেরিন খুব কষ্ট পেয়েছে। খুব। কারন যে ব্যাক্তি অন্যের বিপদে ঝাপিয়ে পরে,  অচেনা অজানা ১টা মেয়ের সম্মান বাচাতে ২বার ভাবেনা সে নিজের স্ত্রীর জন্য  stand নিলোনা। উল্টা একা ফেলে চলে গেলো।

  

 

.

 

  আর অন্যদিকে নীড় মেরিনকে পাগলের মতো খুজছে।  হঠাৎ শ্মশানের ওদিকটাতে কিছু দেখতে পেয়ে  ওখানে গেলো।   গি়য়ে দেখলো ওখানেই মেরিন।  মেরিন বসে বসে বিয়ার খাচ্ছে।  

 

    নীড়: এটাই বুঝি দেখা বাকী ছিলো…. তুমি এখানে বসে এসব ছাইপাশ গিলছো আর ওদিকে তোমার দালাল আমাকে যাতা শোনাচ্ছে…….

    মেরিন নীড়ের দিকে ঘুরলো।  

  মেরিন: আরে আপনি? 

 মেরিন উঠে দারালো……  ঠিক মতো দারাতে পারছেনা। টলছে।  

 

   নীড়: বাজে মেয়ে ১টা….  

  মেরিন:🤣🤣🤣।  হামম।  এহকেবারে ঠিক। আমি বাজে… অপয়া… খুনী… অলক্ষি….  🤣🤣🤣।

    নীড় বুঝতে পারছে যে মেরিন full মাতাল……  

    নীড়: বাসায় চলো।  বলেই নীড় মেরিনের হাত ধরলো। 

  মেরিন: একি…..  আপনি নিজের থেকে আমার হাত ধরছেন!!!😱😱😱।  ভাবা যায়???  🤣🤣🤣। আপনি না আমাকে ঘৃণা করেন??? 🤣🤣🤣।  আপনাকে আমি ১টা  কথা বলি? কাউকে বলবেন না কিন্তু..🤫🤫🤫….. আমাকে না আমি নিজেও ঘৃণা করি।  🤣🤣🤣।  

   পাগলের মতো হাসতে হাসতে মেরিন অজ্ঞান হয়ে গেলো । নীড় বুকের ওপর পরলো।  নীড় মেরিনকে বাসায় নিয়ে গেলো।  ওকে শুইয়ে দিলো।  আর ভাবতে লাগলো কি  আছে এই বন্যার গভীরে।  

  নীড়: জানিনা কেন আজকে তোমার কথার আরালে হাসির আরালে হৃদয় ভাঙা চিৎকার শুনতে পেলাম।   কি আছে তোমার মাঝে…….

ভাবতে ভাবতে নীড় ঘুমিয়ে পরলো। 

 

.

 

   চলুন আমরা ঘুরে আসি অতীত থেকে।    

 

.

 

{{{  নিরা মেরিনের খালাতো বোন।  নিরার বাবা আলতাব রহমান , মা  রচনা।  রচনা সবার বড় বোন। তাই নিরাকে নানুবাড়ির সবাই ভীষন আদর করতো। নানাভাই, নানুমনি… মামা, কনিকা।  কনিকার তো জান ছিলো নিরা।  কিন্তু  মেরিন হবার পর সবাই নিরার থেকে বেশি মেরিনকে আদর করতো। কারন মেরিন ছোট।  নিরা সবার টা মেনে নিলেও মামা আর কনিকার  মেরিনের প্রতি ভালোবাসা সহ্য করতে পারতোনা। এখন মেরিন তো কনিকার নিজের মেয়ে তাই স্বাভাবিক ভাবেই নিরার থেকে বেশি মেরিনকেই আদর করবে।   মেরিন কনিকা-কবিরের কলিজা  ছিলো।  আর ছোট & গুলুমুলু বলে  মামাও নিরার থেকে বেশি মেরিনকেই আদর করতো। বেশি বলতে ছোটদের প্রতি সবারই care টা বেশি থাকে।  মামা-খালামনির আচরনে নিরার ইচ্ছে হতো মেরিনরে মেরে ফেলতে। নিরা মেরিনের থেকে ৭বছরের বড়।  (নিরা বয়সে নীড়ের থেকেও বড়।) 

 

১দিন  দেড় বছরের মেরিনকে নিরা  swimming pool  এ ইচ্ছা করে  ফেলে দিয়েছিলো। যেটা মামা দেখতে পেলো। নিরা just ফেলেছে তখন মামা ছুটে এসে মেরিনকে তুলল। আর ঠাস করে নিরাকে থাপ্পর মারলো।  সবাই নিরাকে ভীষন বকলো।

কনিকা তো প্রায় কথা বলাই বন্ধ করে দেয় নিরার সাথে। 

সেই থেকে নিরার রাগ আরো বেরে যায়।   ধীরে ধীরে মেরিনের বয়স ৫বছর হয়। 

   মেরিন রোজ মায়ের কোলে ঘুমাতো। মাথা থাকতো মায়ের কোলে আর পা থাকতো বাবার কোলে। মেরিন বলতে মামা অজ্ঞান আর মামা বলতে মেরিন।  মামার বাধক হয়ে যায়। 

 

.

 

   ১দিন  সবাই cox’s bazar বেরাতে যায়।   মামা ২ভাগনিকে নিয়ে 2step  speed boat এ করে সাগর ভ্রমনে বের হয়।  মেরিন মামার কোলে।  মামা ১হাতে নিরার হাত ধরে রেখেছে অন্যহাতে মেরিনকে কোলে রেখেছে।  চালক নিচে বসা।  মামা মেরিন আর নিরাকে দুরের জিনিষ গুলো দেখাচ্ছে।       সেই  সুযোগে নিরা ওর ব্যাগে রাখা পাথরটার সাথে speed  boat এ থাকা দরিটার সাথে খুব সাবধানে বেধে দিলো।  এরপর দরির আরেকপ্রান্ত খুব সাবধানে মামার পায়ে বেধে দিলো।   আনন্দে বিমোহিত মামাকে হঠাৎ করে পেছন থেকে নিরা মারলো ১টা ধাক্কা । মামা তাল সামলানোর চেষ্টা করছে। ঠিক তখনই নিরা পাথরটাও নিচে ফেলে দিলো।   উদ্দেশ্য মামা আর মেরিনকে একসাথে পানিতে  ফেলা। আর বাকীদের মেরিনকে হারানোর শাস্তি দেয়া।  পাথরের টানে মামা কোনোভাবেই আর নিজেকে সামলাতে পারলোনা। পরে যেতে নিলো মেরিনকে নিয়েই।  কিন্তু মামা মেরিনকে ধপ করে কোল থেকে boat এ ফেলে দিলো। যেন মেরিনের কিছু না হয়।  এমন ভাবে ফেলল যে ধাক্কা লেগে নিরাও বসে পরলো। নিরা উঠে মেরিনকে আবার ধাক্কা মারবে তখন চালক চলে এলো।    ছোট মেরিন   সাগরের অতলে মামাকে তলিয়ে যেতে  দেখলো।   মেরিন ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো।

   তীরে যাবারপর নিরা সবাইকে বলল যে মেরিনের জন্য মামা পানিতে পরেছে।  বাড়িতে শোকের ছায়া পরে গেলো।   রচনা মেরিনকে অপয়া শয়তান টয়তান বলতে লাগলো। ছোট্ট মেরিন এতো বড় ঘটনাটা মেনে নিতে পারেনি।    মেরিন কেমন যেন হয়ে গেলো।  

 

.

 

   কোনো ১ভাবে নিরার বাবা জানতে পারলো যে  মামার মৃত্যুর জন্য নিরাই দায়ী।  তাই সে নিজের মেয়েকে বাচানোর জন্য মেরিনকে দোষী বানাতে busy হয়ে গেলো।   কিন্তু ছোট মেরিনকে কেউ কিছু বলতে নারাজ। তারমধ্যে ১দিন নানাভাই-নানুমনি মামার ১দিনের বলার কথাকে শেষ ইচ্ছা মনে করে সেটা পূরন করার জন্য মামার নামের সব সম্পত্তি মেরিনের নামে করার সিদ্ধান্ত নেয়।           

যেটা আলতাব রহমান মেনে নিতে পারেনা। সে  plan বানাতে থাকে। সে ঠিক করে যে সে নানাভাই-নানুমনি কে জানেই মেরে দিবে। কিন্তু এমন কিছু  করতে হবে যেন সাপও মরে আর লাঠিও না ভাঙে। 

   তখন ওর মাথায় আসে মেরিন।

 

.

 

লোকটা মেরিনের কানে নানাভাই-নানুমনির নামে বিষ ঢালতে থাকে।  এটা বলে যে মামাকে নানাভাই-নানুমনিই লুকিয়ে রেখেছে।  ওদের জন্যেই মেরিন মামার কোলে উঠতে পারেনা।  আরো অনেক কিছু।  যা মেরিনের ছোট মস্তিষ্ককে  এমনভাবে বিকৃত করে যে মেরিন ওর নানাভাই-নানুমনিকে সহ্যই করতে পারেনা।  নানাভাই বা নানুমনি আদর করতে আসলে ধাক্কা দেয়, কামড় দেয়, খামছি মারে আরো কতো কি…..  যার জন্য কনিকা মেরিনকে  প্রথমে আদর করে  বোঝায়।  কিন্তু তারথেকে হাজারগুন বেশি আলতাব কুমন্ত্রনা দেয়।আর  তাই মেরিন দুর্ব্যাবহার করে।   তাই কনিকা শাসন করে।  কনিকার কথাও যখন মেরিন মানেনা তখন কবির চেষ্টা করে। মেরিনের মধ্যে aggressive ভাব বারতেই থাকে। ধীরে ধীরে মেরিন কবির-কনিকার থেকে দুরে সরতে থাকে। 

  ১দিন lawyer এর কাছে আলতাব জানতে পারে যে মেরিনের নামের  প্রায় will ready।  ২-১দিনের মধ্যে ready হয়ে যাবে।  

 

আলতাব:যা করার কালই করতে হবে।

 

.

 

 পরদিন সবাইকে ভুলিয়ে ভালিয়ে বেরাতে বের হলো।   তবে গাড়ির petrol বের করে রেখেছে যে উনার plan  করা যায়গাতেই গাড়ি থেমে যায়।  গাড়ি থামলো।  তখন রচনার ব্যাগ নিয়ে কেউ দৌড় মারলো। রচনা, কবির,কনিকা সেটা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরলো।  তখন আলতাব মেরিনকে 

  বলল: মামনি ওই দেখো ice cream …. চলো খাবে চলো।  যাও….. 

   মেরিন দৌড়ে পার হতে লাগলো।    তখন ১টা ট্রাক ছুটে আসতে লাগলো।   যেটা দেখে নানাভাই-নানুমনি অস্থির হয়ে ওকে বাচাতে দৌড় লাগালো।  আর ট্রাকটা নানাভাইয়ের  ওপর  উঠে গেলো।  আলতাব নানুমনিকেও ধাক্কা মেরে দিলো।  নানুমনিও …..

 

আসলে এই মৃত্যু ফাদটা ছিলো ওনাদেরকে   মারার জন্যেই আলতাব পেতেছিলো।  নানাভাই-নানুমনি মারা গেলো।   

 

.

 

 আলতাব কনিকা-কবিরকে বলল যে মেরিন ট্রাকের সামনে ওনাদেরকে ধাক্কা দিয়েছে।  আর  তাই…….   তখন মেরিন বলে 

উঠলো :মিথ্যা কথা…. আমি তো ধাক্কা মালিনি… আমিতো…. iic..  

  আলতাব:ভয় পেয়ে মিথ্যা বলেনা মামনি….  

  মেরিন: আমি মিথ্যা বলছিনা…..   আমি তো ওই পালে ice cream খেতে যাচ্ছিলাম। তু… 

 

 আলতাব গিয়ে মেরিনের কাছে গিয়ে  কোলে নিয়ে

   বলল: না মা এমনটা বলেনা।  

  তখন মেরিন আলতাবকে জোরে কামড় বসিয়ে দিলো।  দৌড়ে কবিরের কাছে গেলো। কবির ঠাস করে ছোট মেরিনকে থাপ্পর মারলো।  কনিকা ভেঙে পরলো। মা-বাবা-ভাই কে হারিয়ে কনিকা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পরলো। কবিরও এমনটা মেনে পারছেনা।  ওদেরকে নিরা সামলানোর চেষ্টা করলো।  যেটা নিরাকে আলতাব শিখিয়ে দেয়।   ধীরে ধীরে নিরা কবির-কনিকার চোখের মনি হয়ে উঠতে থাকে।  মেরিন সেটা মানতে পারেনা। কারন তার মায়ের কোলে এখন নিরা ঘুমায়। বাবা এসে নিরাকেই কোলে নেয়।  তাই  মেরিন ১দিন নিরার সাথে ঝগরা করে। ঝগরা করতে করতে মেরিনের হাত লেগে নিরা সিরি থেকে পরে যায়। ব্যাস মেরিন কবির-কনিকার  মন থেকে আরো বেরিয়ে যায়। কবির-কনিকা নিরাকে আরো আদর করে।  মাঝে ১দিন কবির মেরিনকে বোঝাতে গেলে মেরিন flower vase দিয়ে কবিরের মাথা ফাটিয়ে দেয়।  মেরিন হারিয়ে ফেলে ওর মা-বাবাকে।  

 

.

 

মেরিনের দাদুভাই গ্রাম থেকে doctor দেখাতে  আসে।  মেরিনের প্রতি অবহেলা দেখে সে কবির-কনিকাকে বকা দেয়। কনিকা সবটা বলে।

   দাদুভাই:  shut up….  তাইজন্য এতোটুকু বাচ্চা মেয়ের সাথে এমন ব্যাবহার কেউ করে??

   তখন মেরিন বায়না ধরে: দাদুভাই…. আমি তোমাল সাথে যাবো…. আমি ওদেল সাথে থাকবোনা…..  ওলা পচা।  অনেক পচা।   

 

     দাদুভাই তখন মেরিনকে নিয়ে কিছুদিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে যায়।  ততোদিনে আলতাব মেরিনের নানাবাড়ির আর  মেরিনের মামার সব সম্পত্তি নিজের নামে করিয়ে নেয়।  

 

.

 

১৫দিনপর মেরিন দাদুভাইয়ের সাথে ঢাকায় আসে।  কনিকা কোলে নিতে গেলে অভিমানী মেরিন দৌড়ে  রুমে চলে যায়।   যার সুযোগ টা নেয় নিরা।   নিরা হয়ে ওঠে চোখের মনি।  মেরিনের খবরও মা-বাবা নেয়না।  খালি নিরা আর নিরা।  শুরুর দিকে নিরাকে ওরা বেশি আদর করতো যেন মেরিন ওদের কাছে নিজে থেকে আসে। কিন্তু মেরিন আসেনা। মেরিন অনেকটাই চোখের আরালে থাকে  মা-বাবার। চোখের আরাল থেকে মনের আরালও হয়ে যায়। মেরিনের  খবরও মা-বাবা নেয়না।   মায়ের কোল ছারা মেরিনের ঘুম হয়না।  দাদুভাই কতো গল্প শোনায় 

তবুও ঘুম আসেনা।  মেরিনের জ্বর টর এলেও ওরা কেউ দেখেনা ।   কনিকা খবর নেয়না। নিরা নিরা বলতে অজ্ঞান।

 

.

 

 তাই দাদুভাই ঠিক করে মেরিনকে নিয়ে কবির-কনিকার থেকে যথেষ্ট দুরে চলে যাবে। এতে যদি ওরা মেয়ের কদর বোঝে।  দাদুভাই মেরিনকে নিয়ে কোলকাতা চলে গেলো।

 

.

 

 ১২বছর পর ফেরে বাংলাদেশে।   এই ১২বছরে আলতাব রহমান নিজের সব সম্পত্তি হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে গেছে। পথের ভিখারী হয়ে গেছে। নিরা কবির-কনিকার সাথেই ছিলো।  emotional attachment টা অনেক গভীর হয়ে গেছে। এই ১২বছরের শুরুর দিকে যাও তারা একটু আধটু মেরিনের খোজ নিতো পরে  তারা ১বারো মেরিনের খবর নেয়নি।  এই ১২ বছরে মেরিন কান্না করতে করতে কান্না ভুলে গেছে।  রাগ বেরে গেছে ১২গুন। হয়ে গেছে মূর্তী। মারামারি, ঝগরা করা, নিজের জিনিষ কেবল নিজের করে রাখা সবটা করে।  কারো ভালো মন্দে ওর কিচ্ছু যায় আসেনা। ওর জীবন কেবল ওর দাদুভাইয়ে আটকে যায়।  দেশে ফিরে মা-বাবাকে  আম্মু বাবা না ডেকে mr. khan & mrs. khan ডাকে।   কবির-কনিকাও আর চেষ্টা করেনি।  

 

১৭বছরের মেরিনের উগ্র ব্যাবহার কবির-কনিকাকে আরো ক্ষেপিয়ে দেয়। 

 

ছোটবেলার সব নিয়ে ভাবতে ভাবতে ১দিন সব ঘটনা অনুধাবন করে। আলতাব আর নিরার করা সব কাজের অংক মিলায়। কিন্তু দাদুভাই ছারা কাউকে সেটা বলেনা। কারন যে আম্মু বাবা তার সাথে এমন করেছে যে তাদেরকে মেরিন নিজের নির্দোষ হওয়ার প্রমান দিতেও চায়না। কিন্তু আলতাব রহমানকে উপযুক্ত শাস্তি দেয়। ১মে হাতের আঙ্গুল ১টা ১টা করে কাটে। পরে পায়ের ১টা ১টা করে আঙ্গুল কাটে। এরপর  ১পা আর ১হাত কেটে দেয়।  যদিও মেরিন নিজে কাটেনি। লোক দিয়ে করিয়েছে।  নিরাকেও উপযুক্ত  শাস্তি দিতো। দেয়নি কারন………    বলবো বলবো। সেটাও বলবো অন্যদিন। ব্যাস এভাবেই মেরিন হয়ে উঠলো ঘৃণারমেরিন ।  }}}

 

.

 

 বর্তমান…….

 

 সকালে মেরিনের ঘুম ভাঙলো। প্রচুর মাথা ব্যাথা করছে।   উঠে দেখে নীড় বসে বসে ঘুমাচ্ছে।  

নীড়ের গায়ে চাদর দিয়ে দিলো।  

মেরিন: আমি বাসায় কি করে এলাম।

 

.

 

 আজকে friday ….  তাই মেরিনের রান্না করতে ইচ্ছা হলো।  shower নিয়ে শাড়ি পরলো আজকে।  খয়েরি রঙের।  সবার জন্য নাস্তা বানালো।   চা করলো । নীড়ের জন্য কফি করলো।   নীলিমা-নিহালকে রুমে চা দিতে গেলো।

 নীলিমা:আরে আমার মামনিটাকে তো আজকে একেবারে পাক্কা গিন্নি লাগছে।

 মেরিন ১টা হাসি দিলো।   এরপর নীড়ের জন্য কফি নিয়ে এলো।

  মেরিন নীড়ের কপালে চুমু একে দিলো। 

 মেরিন: নীড়….. নীড়….. উঠুন। দেখুন কয়টা বেজে গেছে।  সাড়ে ১০টা বাজে।  

নীড়ের ঘুম ভাঙলো।   বাইরের সূর্যের আলো ঠিক মেরিনের মুখের ওপর পরছে। ডান নাকের nosepin টা ঝিকিমিকি করছে।   গাঢ়ো খয়েরি রঙের শাড়ি পরা, কাজল ছাড়া কালো হরিণী ২টা চোখ, গোলাপী ঠোটের মালিককে দেখতে প্রস্তুত ছিলোনা নীড়।   কতোটা সুন্দর কতোটা পবিত্র লাগছে মেরিনকে…….  নীড় অবাক চোখে দেখছে।  কারন এর আগে নীড় কখনোই মেরিনের মুখ সেভাবে দেখেনি।  মেরিন যথেষ্ট সুন্দরী। 

 মেরিন মিষ্টি ১টা হাসি দিয়ে বলল: good morning honey ….

 নীড়ের কেন যেন সেই হাসিটা ফুলের থেকেও সুন্দর লাগলো।

পরক্ষনেই মনে পরলো যে এটা মেরিন। কফির মগটা ছুরে ফেলে washroom  এ চলে গেলো।

  মেরিন: পাগল….

 

.

 

পরদিন….

ব্যাংককের phuket যাবার জন্য নীড়-মেরিন  flight  এ উঠলো।

…..

……..

 

চলবে…

 

গল্প ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ০৫ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

    

    

     

মেরিনের phuket যাবার কোনো ইচ্ছাই ছিলোনা। কারন মেরিনের একমাত্র দুর্বলতা হলো পানি। যা দেখলে মেরিন ভয় পায়। কারন মামাকে এই পানিরে মধ্যে তলিয়ে যেতে দেখেছিলো।   মেরিন phuket এর কথা না করেছে বলে নীড় ইচ্ছা করেই আরো phuket গেলো। 

 

.

 

 ২জন phuket পৌছালো।   rest নিলো।  

 

.

 

   পরদিন…..

  মেরিন: একি আপনি এতো সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছেন?

   নীড়: তো কি করবো?? ব্যাংককে এসে কি ঘরে বসে থাকবো?? ঘুরবো… বেরাবো।

  মেরিন: তো কোয়ার্টার পরে যাচ্ছেন কেন??  

   নীড়: ওয়….. ব্যাংকক মানেই sea beach …  jeep  নিয়ে সাগরের কিনার দিয়ে ঘোরা।  এগুলো কি আর  formal dressএ হয়??  

  মেরিন: sssea beach….. sea beach কেন?? sea beach এ যাবোনা।

   নীড়: oh hello…. তোমাকে যেতে বলিনি। আর তোমাকে নিবোও না।  আমি একাই যাবো।

মেরিন: নননা না। আমিও যাবোনা। আর আপনিও যযযাবেন না।  পপানি, সসাগর ভভভালোনা। যযযাবেন না ওখানে। অন্য কোথাও যাবো। 

    নীড়: listen ….  সব কিছুই কি তোমার মতো চলবে? আমি কি আমার মতো কিছুই করতে পারবো না? আমি কি তোমার হাতের পুতুল? যে আমাকে যেভাবে নাচাবে সেভাবেই নাচবো???  life টা  hell  করে দিয়েছো।  

     মেরিন: আচ্ছা ঠিকাছে চচলুন।

  নীড়: যাবোনা কোথাও।  সরো চোখের সামনে থেকে।  

   মেরিন: না না চলুন।  

নীড়: গিয়ে বা কি হবে? কোন মেয়ে আমার দিকে তাকালে তার জানের পিছে পরবে। তোমার জন্য কি কোথাও আমার শান্তি আছে??  

মেরিন: না না আমি এমন কিছু করবোনা।  

 নীড়:যাবো না আমি। such a selfish girl……

  মেরিন:চলুন না চলুন।  আপনার এমন মুখ দেখতে পারবোনা। আমি কথা দিচ্ছি আমি উল্টা পাল্টা কিছু করবোনা ।  

 নীড়: মনে থাকবে??  

মেরিন: হামম।  আপনি বসুন আমি  ready হয়ে আসছি। 

  নীড়: নাও ৮০ঘন্টা wait করো। 

   মেরিন: মোটেও না। আমি ready হতে অতো সময় নেইনা…. ৫মিনিটে ready হবো।  

নীড় জানে ওর বউ ready হতে বেশি সময় নেয়না। 

 

.

 

৫মিনিটপর….

 মেরিন জিন্স আর লং টপস পরে এলো।  টপসের সামনে নীড়ের ছবি আকা। কালো পোশাক আর ঠোটে লাল লিপস্টিকে মেরিনকে দারুন মানিয়েছে।   মেরিনকে সুন্দর লাগছে।

    নীড়: ওরনা কোথায়??

  মেরিন: কিসের ওরনা?  

 নীড়: ওরনা চেনোনা ওরনা? ওরনা গায়ে দাও। 

  মেরিন: সে কি কেন?? টপসের সাথে আমি ওরনা পরিনা।

   নীড়: ১টা থাপ্পর মারবো। যাও ওরনা পরো। 

  মেরিন নীড়ের ঝাড়িতে খুশি হলো।

  নীড়: হাসো কেন?? কি হয়েছে? 

  মেরিন: কিছুনা। 

  নীড়: তো দাত দেখাও কেন??  

  মেরিন: i love u….  

বলেই মেরিন নীড়ের ঠোটে চুমু দিয়ে বসলো। এরপর ১টা ওরনা  পরে নিলো। 

 

.

 

 ২জন jeep নিয়ে বের হলো।

২জনকে  এক্কেবারে FAV  জুটি লাগছে।  নীড়ের  phuket জায়গাটা ভীষন ভালো লাগে।  আর jeep চালাতে ওর ভীষন ভালো লাগে। এভাবে drive করে ওর মনটা ভীষন ভালো হয়ে গেলো । অনেক  enjoy করছে নীড়। মেরিন নীড়কে এতোখুশি কখনো দেখেনি….    মেরিন মুগ্ধ হয়ে নীড়কে দেখছে।  

  নীড়: ice cream খাবে?? 

মেরিন:…..

 নীড়: ice cream খাবে??

  মেরিন:…… 

 নীড় মেরিনের দিকে তাকিয়ে দেখলো যে মেরিন ওর দিকে তাকিয়ে আছে।  নীড় তখন জোরে জোরে horn বাজাতে লাগলো। মেরিনের ধ্যান ভেঙে গেলো।

মেরিন:কিছু বললেন???

  নীড়: বলছিলাম কি ice cream খাবে?  

মেরিন: হামম। 

 

  নীড় ২টা ice cream নিয়ে এলো।  chocolate flavor ……   

 

.

 

নীড়: বলোতো আমরা এখন কোথাও যাচ্ছি?   

মেরিন: জানিনা।

  নীড়: beach এ…..  

মেরিন চমকে উঠলো।  

মেরিন:  bbbeach…..  চচচলুন না অন্য কোথাও যাই। বা এমন করে গাড়ি নিয়ে রাস্তায়ই ঘুরি।

  নীড়: not at all….. 

 

.

 

ওরা সাগর তীরে পৌছালো।  দুরে সাগর দেখতে পেয়ে মেরিন আগেই ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল।   নীড় সাগরের ঠিক পার ঘেসে jeep চালাতে লাগলো।    খুব জোরে।  নীড় তাকিয়ে দেখলো মেরিন চোখ বন্ধ করে আছে। ও ভাবলো গাড়ির speed এর জন্য ভয়ে মেরিন চোখ বন্ধ করে আছে। তাই নীড় আরো speed  এ চালাতে লাগলো। তখন চাকায় লেগে পানি ওপরে আসতে লাগলো। মেরিনের মুখের ওপর পানি ছিটে এলো। সাথেসাথে  মেরিন চমকে গিয়ে চোখ খুলল।   যা দেখে নীড় হেসে কুটিকুটি।  নীড়ের হাসি দেখে মেরিন নিজের সকল ভয় ভুলে গেলো।  মেরিন মুগ্ধ চোখে নীড়ের হাসি দেখতে ব্যাস্ত। ওর কাছে সবথেকে সুন্দর নীড়ের এই হাসি।  মেরিনের তাকানো দেখে নীড় হাসি বন্ধ করে দিলো।  

 

  নীড়: সামনে তাকাও… মেরিন: উহু…….

   বলেই মেরিন নীড়ের কাধে মাথা রাখলো।  

   নীড়: কিছু খাবে? 

মেরিন: উহু।  

  নীড়: কিন্তু আমি খাবো। ক্ষুধা লেগেছে।  চলো তোমাকে আমার প্রিয় best thai restaurant এ নিয়ে যাই……  

 ২জন গেলো খাওয়া দাওয়া করে হোটেল পৌছালো।  

 

.

 

  রাতে……

   মেরিন নীড়ের বুকে শুয়ে আছে।  নীড়ের বুকে আঙ্গুল দিয়ে আকিবুকি করছে। আর নীড় mobile দেখছে।  আসলে mobile এ নিরা আর ওর ছবি দেখছে।   আজকে কেন যেন নিরার কথা পরছে ভীষন। 

   মেরিন:নীড়…. 

   নীড় চমকে উঠলো।  মোবাইলটা রেখে দিলো। 

 মেরিন: নিরার ছবি দেখছিলেন বুঝি…….  

নীড়: কোই নননাতো……..

  মেরিন: আমি আপনাকে শিরায় শিরায় চিনি নীড়…….   

নীড়: তো? দেখেছি তো দেখেছি……  এখন কি নিরাকে মেরে ফেলবে???  

মেরিন:   নিরার মৃত্যু হয়তো আমার হাতে নেই। এখন আপনার  জন্য মারতে পারবো আর এর আগে….. 

   আচ্ছা নীড়….. ১টা কথা বলুন তো…. 

নীড়:কি…. 

   মেরিন: আপনি তো সেদিন বলেছিলেন মেরিনের মৃত্যু আপনার সকল দোআয়……  

নীড়:……

  মেরিন: আমি মরে গেলে আপনি খুব খুশি হবেন। তাইনা??   

নীড়:হ….. 

 

  

 

     নীড় কেন যেন হ্যা বলতে গিয়ে বলতে পারলোনা।   

   

  নীড়: কখন থেকে আমার বুকের মধ্যে কি সব আকিবুকি করছো….  ঘুমাবো আমি।    এমনিতেই  তোমার জন্য আমার  ঘুম হারাম হয়ে গেছে।  বুকের ওপর উঠে শুয়ে থাকো। 

  মেরিন: sorry…..  

বলেই মেরিন নীড়ের বুক থেকে নেমে বারান্দায় চলে গেলো।   নীড় এতে বেশ অবাক হলো।  তবুও ঘুমানোর চেষ্টা করলো।  কিন্তু কেন যেন ঘুম আসছে না।  অথচ একটু আগেও ভীষন ঘুম পাচ্ছিলো।   ১ঘন্টা নীড় এপাশ ওপাশ করলো। তবুও ঘুম এলোনা।  ভাবলো মেয়েটা কি করছে দেখা দরকার।  যেই উঠতে নেবে। 

 

.

 

তখনই ঝরের বেগে মেরিন দৌড়ে এসে নীড়কে জরিয়ে ধরে শুয়ে পরলো।  

    নীড়: oh my goodness…… কি তুমি?? 

  মেরিন: আপনার  বউ। শুনুন…..

  নীড়: আবার কি???  

মেরিন: আমি মরে গেলেও আপনি নিরাকে বিয়ে করতে পারবেন না। অন্য যাকে মন চায় করবেন। বুঝেছেন??? না হলে কিন্তু ভূত হয়ে ঘাড় মটকাবো…..  আর তাছারাও….. আমি তো আর আপনাকে বিয়ে না করতে বলিনি। তাইনা???  কারন আপনি তো আর আমাকে ভালোটালো বাসেন না যে আমার শোকে ২য় বিবাহ করবেননা।  তাই বলছি বিয়ে করবেন কিন্তু নিরাকে না…..  

 নীড় জানেনা এর জবাবে কি বলবে!!   

নীড়: good night …. 

 

.

 

 ২জন ঘুমিয়ে গেলো।  পরদিন ২জন ঘুরতে বের হলো কিন্তু beach আর সেদিন গেলোনা।

সারাদিন ঘুরে টুরে মেরিন গাড়িতেই ঘুমিয়ে গেলো।  কেন যেন আজকে মেরিনকে জাগাতে ইচ্ছা হলোনা নীড়ের।  মেরিনকে কোলে করে রুমে নিয়ে গেলো।  যা অনেকে টুকুর টুকুর দেখলো।  

 

.

 

পরদিন সকালে মেরিনের ঘুম ভাঙলো।  দেখলো নীড় আশেপাশে কোথাও নেই।  

  মেরিন:নীড়….. নীড়….  নীড়….. 

 তখন washroom থেকে নীড়

    বলল: কি হইসে চেচাচ্ছো কেনো??? shower ও কি নিতে দেবেনা….. 

 মেরিন: sorry…….  

২জন fresh হয়ে  breakfast করে ঘুরতে বের হলো।  তবে আজকে নীড় গাড়ি নিলোনা। পায়ে হেটে বের হলো।  হাটতে হাটতে আর কথা বলতে বলতে মেরিন খেয়াল করেনি যে ওরা beach এ চলে এসেছে।

 

   মেরিন: নননীড়  আআমরা  এএখানে কেন?  

নীড়: মানে কি???  এখানেই তো আমার আসার ছিলো।   আচ্ছা তুমি কি সাগর দেখলে ভয় পাও???।  মেরিন বন্যা খানও ভয় পায়। ভাবা যায়। 

 মেরিন: মোটেও না। মেরিন কিছুতেই ভয় পায়না।   আর আমি মেরিন বন্যা খান না। আমি এখন ইহকাল পরকাবের জন্য মেরিন বন্যা নীড় খান   চৌধুরী। 

  নীড়:সে যাই হোক। ভয় তো তুমি পাও। 

 মেরিন: জী না।

   মেরিন নীড়ের হাত খুব জোরে ধরে রেখেছে। আর হাটছে।  

নীড় মনে মনে: ভয় তো তোমার আছেই। পানির না অন্যকিছুর তা জানিনা।  

 

.

 

 নীড়  মেরিনকে নিয়ে হাটতে হাটতে beach ছেরে  অনেকদুরে অনেকটা উচুর দিকে চলে গেলো।  সেখানে মানুষ নেই বললেই চলে।  

মেরিন:আমরা কোথায় যাচ্ছি??? 

 নীড়: তোমাকে মেরে গুম করতে……  

মেরিন:🙄

  নীড়: সামনে তাকাও  ।  

মেরিন তাকিয়ে দেখলো যে সামনে সমুদ্র। আর এক কদম আগে বারলেই ও সোজা সমুদ্রে পরবে। ভয়ে নীড়কে খিচে ধরলো।  পিছে চলে এলো।   

 

নীড়: কি হলো সুন্দর না??

  মেরিন: হামম। খুব সুন্দর। এখন চলুন আমরা যাই এখান থেকে। 

নীড়: ইশ এতো সুন্দর জায়গা থেকে এতো তারাতারিই চলে যাবো??  দেখো কি সুন্দর  চারদিকটা…….  

বলেই নীড় সামনে বারলো। 

  

 মেরিন: নীড় আপনি পরে যাবেন।  পেছনে আসুন।  

 নীড়: shut up……  

 

বলেই নীড় নিজের ২বাহু প্রসারিত করে  

বলল: just feel this moment …..

 

  বলতে বলতে  নীড় পা ফসকে নিচে পরে গেলো।  

মেরিন: নীড়……. 

  নীড়: বা….হ….চা…ও ।  মেরিন…… বাচাও।  

 

মেরিনের চোখে ছোটবেলার সেই সময় মনে পরে গেলো। যখন মামা পানিতে পরে গিয়েছিলো।  তলিয়ে গিয়েছিলো অতল সমুদ্রে।  

মেরিন: নীড়…    কককে আআছো….. আমার নীড়…. পপপপানিতে….. 

 নীড়: বা…..চা….ও।  

মেরিন: আহমি তো সসসাতার জজজানিনা…..

   নীড়: বা…..চা……ও……।  

মেরিন আর কিছু না ভেবে পানিতে ঝাপ মারলো।  আর হাবুডুবু খেতে লাগলো। যা দেখে নীড় হেসে কুটিকুটি।  কারন নীড় নাটক করছিলো।  ইচ্ছা করেই পানিতে পরেছে।  সাতার জেনেও ডুবে যাওয়ার অভিনয় করছিলো।

  নীড়: মেরিন আমি এখানে??? 

  নীড় তো আর জানেনা যে মেরিন সাতার কাটতে পারেনা।   যখন বুঝতে পারলো তখন অনেকটা দেরি হয়ে গেলো।

 

.

 

মেরিন অনেকটা পানি খেয়ে নিয়েছে।  নীড় মেরিনকে পানি থেকে তুলে তীরে আনলো।  

নীড়: মেরিন…. মেরিন…   

নীড় মেরিনের পেট থেকে পানি  বের করলো। হাত পায়ে massage করতে লাগলো।    নীড় মেরিনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো।    doctor check up করে বলল যে মেরিনের পানিতে phobia আছে। সেই সাথে ভীষন depression এ আছে। মানসিকভাবে বেশ দুর্বল। মানসিক রোগও আছে।  আর তাছারাও ডুবে গিয়ে  ফুসফুসের মধ্যেও  অনেকটা পানি ঢুকে গেছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে মেরিন কোমায়  চলে যেতে পারে। 

 

 নীড়  চিন্তায় পরে গেলে।  অনুশোচনায় পুরতে লাগলো।  

 

নীড়: যদি ওর কিছু হয়ে যায় তবে ওর দাদুভাইকে  কি জবাব  দিবো……  আল্লাহ ওকে সুস্থ করে দাও।  

 নীড় প্রহর  গুনতে লাগলো।  পরশু রাতের মেরিনের বলা সেই কথা ভাবতে লাগলো।   

 

“আমি মরে গেলে আপনি খুব খুশি হবেন। তাইনা?”   

 

 নীড়ের কানে বারবার  একই কথা বাজতে লাগলো।   

যে নীড়ের দোআয় মেরিনের মৃত্যু ছিলো আজকে সে নীড়ের দোআয় মেরিনের সুস্থতা।

 

.

 

  ১৩ঘন্টাপর মেরিনের জ্ঞান  ফিরলো।

   নার্স বেরিয়ে এলো।

 

বলল: আপনিই কি নীড়??

  নীড়: হামম। 

 নার্স: patient আপনাকে ডাকছেন…..  

নীড়:মেরিনের জ্ঞান ফিরেছে???  

নার্স:হামম। 

 

 নীড় দৌড়ে ভেতরে  ঢুকলো।  নীড়ের আভাস পেয়ে মেরিন চোখ মেলল। 

 মেরিন: নীড়…… 

 নীড় গিয়ে মেরিনের পাশে বসলো।   

  মেরিন: আহপনি ঠঠঠিক আছেন তো???  আপনার কককিছু হহয়নি তোহ…….

নীড় অবাক চোখে মেরিনকে দেখছে।  নিজের এই অবস্থাতেও ও নীড়ের  কথা ভাবছে ।  এতোটা ভালোবাসে  মেয়েটা ওকে?? এও সম্ভব? 

 মেরিন: কি হলো??  বববলুন….. কককষ্ট হচ্ছে কককথা ববলতেহ…

   নীড়: চুপ একদম চুপ….. ১টা থাপ্পর দিবো।  যখন সাতার জানোনা তখন কে  বলেছিলো পানিতে ঝাপ দিতে???  

মেরিন:তো কককি করতাম….. চচচচোখের সামনে আপনাকেহ ডুবে যেতে দেখতাম???  

নীড়:এতো কিছু জানো আমার ব্যাপারে আর এটা  জানোনা যে আমি সাতার জানি……  

মেরিন: জানতাহম।  কককিন্তু আমি মনে ককরেছিলাম যেহ অতো উউচু থেকে পরার জন্য  পপপানির pressure  সসসামলাতেহ পপপারেননি।   

নীড় মনে মনে: এতো কেন ভালোবাসো আমায়……. 

 

মেরিন: আপনাকে  ছারা নিজেকে ভাবতেও পারেনা মেরিন…….

 পরদিন মেরিনকে release দেয়া হলো।   

 

.

 

৩দিনপর……   

 নীড় ঘুম ভেঙে গেলো।  কারো কোরআন শরীফ পড়ার সুরে। খুব মিষ্টি কন্ঠে কেউ  কোরআন শরীফ পরছে।  নীড় ঘার ঘুরিয়ে কারো পেছনটা দেখতে পেলো। কেউ সাদা কাপড় পরে জায়নামাজে বসে কোরআন পাঠ করছে।   নীড় খাট থেকে নিচে নেমে বসলো।  চোখ বন্ধ করে কোরআন পাঠ শুনতে লাগলো।

মেরিন পড়া শেষ করে পেছনে ঘুরতেই দেখে নীড় বসে আছে।  

 

মেরিন: একি আপনি???

 নীড়:হামম। 

 নীড় চোখ খুলল।   মেরিনকে দেখে নীড় মুগ্ধ হয়ে গেলো।  মুখে যেন অন্যকম  ১টা নূর চলে এসেছে।  পর্দাশীল ধার্মিক  নারী মনে হচ্ছে।

  মেরিন: sorry…. আপনার  ঘুম ভাঙার জন্য।  ভালোই হয়েছে।  নীড় আজকে আমাকে একটু  একা ছারতে হবে।  

 

.

 

একটুপর মেরিন বের হয়ে গেলো।  আসলে আজকে মামার মৃত্যু বার্ষিকি। এই দিনে মেরিন রোজা রাখে। নামায পরে। কোরআন শরীফ পড়ে।  আর গরীবদেরকে ২হাত ভরে দান করে।   কিন্তু সেটা কেই জানেনা।  কিন্তু মেরিন জানেনা যে আজকে সারাদিন নীড় ওকে follow করেছে।  আজকের মেরিনকে দেখে নীড় অনেক অবাক।  রাতে মেরিন হোটেলে যাবার আগেই নীড় চলে গেলো।  নীড় কোনো প্রশ্ন করলোনা।  নীড়ের মনে মেরিনকে জানার আগ্রহ সৃষ্টি হলো।  নীড় মনের বরফ ধীরে ধীরে গলতে লাগলো। ওরা আরো ৯দিন phuket ছিলো।  এই ৯টা দিন সব মিলিয়ে ভালোই কেটেছে ২জনের।   মেরিনের মনে হলো এটাই ওর জন্য অনেক। নীড় ওর সাথে কথা বলে তাই বেশি।

 ৯দিনপর ওরা দেশে ফিরলো।

…..

……..

 

চলবে..

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন

পর্ব – ৬

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

   

    

     

নীড়-মেরিন দেশে ফিরলো। সবার জন্য মেরিন এত্তো এত্তো  gift এনেছে।   দিন কাটতে লাগলো।  মেরিনের পাগলামো ভালোবাসায় নীড় অভ্যস্ত হয়ে গেছে।  

 

.

 

১দিন নীড় জানতে পারলো যে নিরার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।  যেটা শুনে নীড়ের রাগ উঠলো।   নীড় মেরিনকে নিয়ে বাসায় ফিরছে।  নীড় চুপচাপ  drive করছে। ভীষন রেগে আছে।  

  মেরিন: নীড়….. 

নীড়:…..

 মেরিন: নীড়…..  

নীড়:….  

 মেরিন: এই যে শুনছেন আমি আপনার বাচ্চার মা হতে চলেছি…  

  কথাটা শুনে  নীড় এতোই অবাক হলো যে অবাকের চোটে গাড়ি বেসামাল হয়ে গেলো।

 কোনো রকমে গাড়ি থামালো।

  নীড়: what???!!  

মেরিন:🤣

 নীড়:😠

  মেরিন: মনটা খুব খারাপ তাইনা?? 

 নীড়: জানিনা……  

মেরিন: নিরার বিয়ে…… তাইনা???

 নীড়: জানিনা……   

মেরিন: এই কারনেই তো মন খারাপ আপনার ……… 

 নীড়: তুমি কি অন্তর্জামি???  সব কিভাবে জানো???  

মেরিন: its magic ……  

 

মনে মনে:  আমি জানবোনা???  আমিই তো নাটের গুরু।   আমিই তো নিরার বিয়ে টা করাচ্ছি….. লোভ দেখিয়ে। বলেছি যে ছেলেরা অসম্ভব ধনী। আমেরিকায় থাকে। ওখানেই settle ….. আর তাই লোভী নিরা ড্যাং ড্যাং করে বিয়েতে রাজী হয়ে গেলো। such a greerdy lady…… 

 

   মেরিন: আচ্ছা আপনি এতো upset কেন??

নীড়: আমার ভালোবাসার বিয়ে আর আমি upset হবোনা তো ড্যাং ড্যাং করে নাচবো?? 

 মেরিন: ভালোবাসা?? আচ্ছা আপনার কি মনে হয়না যে  নিরা আপনাকে কখনো ভালোইবাসেনি….. আপনার টাকাকে ভালোবেসেছে…..  তা না হলে কি এতো তারাতারি অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজী হতো???

   কথাটা শুনতেই নীড় রেগে মেরিনের দিকে তাকালো। 

মেরিন:রেগে লাভ নেই। আমার তো মনে হয় আপনিও নিরাকে তেমন ভাবে ভালোবাসেননা। যদি ওকে  মনের গভীর থেকে ভালোবাসতেন তবে বিয়ের দিন ওর গলায় ছুরি ধরতেই বিয়েতে রাজী হয়ে যেতেন। তাই আমার মনে হয়না যে আপনিও নিরাকে ভালোবাসেন…… 

 

কথাটা শুনেই নীড় মেরিনকে ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।  

 নীড়: তোমার সাহস কিভাবে হয় আমার ভালোবাসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার??

মেরিন:ভালোবাসা??

  নীড়: হ্যা হ্যা ভালোবাসা। নিরা আমার ভালোবাসা।  আমি নিরাকে ভালোবাসি।

   মেরিন: না। কখনো না।  তাও মানলাম যে আপনি নিরাকে ভালোবাসেন। কিন্তু নিরা??  নিরা কি আপনাকে সত্যি ভালোবাসে?? ভালোবাসলে কি এতো তারাতারি বিয়ের পিড়িতে বসতে পারতো???

  নীড়: তো কি করবে? আমার জন্য সারা জীবন অবিবাহিত থাকবে?? তুমি কি কখনো আমাকে ছারবে???

  মেরিন: আপনি কি কখনো নিরাকে ভুলে আমাকে ভালোবাসতে পারবেন?

  নীড়:…..  

মেরিন:জানি আমাকে কখনো ভালোবাসবেন মা।  যদি আপনি  নিরার জন্য আমাকে মেনে না নিতে পারেন তবে নিরা কিভাবে অন্যকাউকে মনে জায়গা দিচ্ছে?  

নীড়: তো কি করবে?? তোমার মতো  ভালোবাসা ছিনিয়ে নেবে?? 

 মেরিন: আপনি কথা কাটাচ্ছেন নীড়। 

 নীড়: shut up….  

মেরিন: সত্যি তো এটাই যে নিরা কখনো আপনাকে ভালোইবাসেনি।  ভালোবেসেছে আপনার  টাকা পয়সাকে।

  নীড়: get out…… 

মেরিন: what???   

নীড়: get out from my car??? 

 মেরিন:😒  

নীড়:নামতে বলছি কিন্তু…… 

 মেরিন: নাহ…..

  মেরিন নামছেনা বলে নীড় নিজে মেরিনকে টেনে গাড়ি থেকে বের করলো।   এরপর গাড়ি নিয়ে চলে গেলো।  

মেরিন:যাহ বাবা। এটা কি হলো??? বুঝেছি…… 

 আগুন লাগাইলোরে টিংকু আগুন লাগাইলো।    

 

.

 

রাত১টা……  

নীড় বাসায় ফিরলো।

বাসায় ফিরে রুমে ঢুকে নীড় অবাক। কারন সারা রুম মোমবাতি আর ফুল দিয়ে সাজানো।  দেখতে ভীষন সুন্দর লাগছে।   মেঝেতে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে  sorry লেখা।  তখন মেরিন এসে পেছন থেকে নীড়কে জরিয়ে ধরলো।   

মেরিন: i love u…..।  

নীড়: দেখি ছারো…..  

মেরিন:উহু।

  নীড়: সরতে বলছি না???  সবসময় ভালো লাগেনা….. 

 মেরিন: তাতে কি…..  sorry বললাম তো।   

নীড়:হ্যাহ…. sorry…. আমার জীবনটা  শেষ করে দিয়ে sorry  বলতে আসছো??? 

 

মেরিন নীড়কে ছেরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে 

বলল: আমি ওগুলোর জন্য sorry বলিনি…..  আমি sorry  বলেছি কারন তখন আমার বলার কথার জন্য আপনাকে এতোক্ষন বাইরে থাকতে হয়েছে, না খেয়ে থাকতে হয়েছে তাই।

  নীড়:….. 

 মেরিন: যান fresh হয়ে আসুন॥আমি খাবার বেরে দিচ্ছি।

  নীড়: খাবোনা। ক্ষুধা নেই।  

মেরিন: বললেই হলো?? রাতেরবেলা না খেয়ে শুতে নেই…..   

নীড়: তোমার কি মনে হয়ে এইসব stupid decoration করে , romantic পরিবেশ তৈরি করে তুমি তোমার নোংরা উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে??  

মেরিন:উদ্দ্যেশ্য???  আমার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো আপনার বউ হওয়ার। হয়েছি।  আর আজকের এই  decoration কেবল আপনাকে sorry বলার জন্য ছিলো।  কোনো নোংরা উদ্দেশ্য না। আর তাছারাও আপনি  যেটা mean করছেন সেই উদ্দেশ্য হলেও সেটাও কিন্তু নোংরা উদ্দেশ্য হতোনা…. 

    যাই হোক। আপনি fresh হয়ে আসুন ততোক্ষনে আমি রুমটা normal করে দিচ্ছি।   

 

.

 

নীড় fresh হয়ে এসে দেখলো যে রুমে ফুল মোমবাতি কিছুই নেই।  নীড় না খেয়েই শুতে গেলে ।

মেরিন বলল: না খেয়ে ঘুমানোর সাহস করবেন না…..  

নীড়: কি করবা কি তুমি??  

মেরিন:bomb ফাটাবো।  

নীড়: তুমি কি আমাকে একটুও শান্তি দিবানা??  

মেরিন: না……   আসুন খেয়ে নিবেন।

  নীড় জানে না খেয়ে উপায় নেই।  তাই খেতে বসলো। কিন্তু আজকে মেরিন নীড়ের সাথে ওর প্লেটেই খেতে বসলো না।  নীড় অবাক হলেও   ১টা বার জিজ্ঞেসও করলো না  মেরিন খেয়েছে কিনা??  নীড় দেখলো যে মেরিন ওর দিকে তাকিয়েই আছে।  

 

নীড়: ওই তোমার খেয়ে দেয়ে কোনো কাজ নেই???  যখন দেখি তখনই আমার চেহারার দিকে পরে ধরে তাকায় থাকো???  কি লাভ পাও আমার চেহারা দেখে?? ভালো তো আর তুমি একা বাসোনা। আমিও তো বেসেছি। কই আমি তো জনমে কোনোদিন এমন করে পরে ধরে নিরার চেহারার দিকে তাকায় থাকিনি।  কি দেখো আমার খোমাতে?

 মেরিন: আমার স্বর্গ……   

 

.

 

বলেই মেরিন ১গাল হাসি দিয়ে নীড়ের কোলে গিয়ে ধাপ করে বসে 

বলল: নিন আমাকে খাইয়ে দিন….. 

 নীড়: what!!! 

 মেরিন: হামম। এটা আপনার শাস্তি। কারন ১টা বারও আমাকে খেতে বলেন নি…  নিন খাইয়ে দিন……  

 

নীড় মনে মনে: দারাও দেখাচ্ছি মজা…..    

 

বলেই নীড় ভাতের লোকমার মধ্যে  মরিচ ঢুকিয়ে দিলো। কারন এই কদিনে দেখেছে যে মেরিন  ঝাল খেতে পারেনা।   মেরিন মরিচ খেয়েও  react  করলো না।  নীড় অবাক হয়ে আরো ১বার মরিচ দিলো।  মেরিন তাও react  করলো না। এরপর থেকে নীড়  আর মরিচ দিলোনা।  

 

নীড় মনে মনে: alien …  খাওয়া  just শেষ হতেই মেরিন নীড়ের ঠোট জোরা দখল করে নিলো।  

 

নীড় মনে মনে:😔

  নীড়কে ভীষন জোরে ১টা কামড় দিয়ে মেরিন ছেরে দিলো।  

   নীড়: মা গো…. vampire ….  

মেরিন:  আপনাকে ভালোবাসি বলে কি আপনার ভুলের শাস্তি দিবোনা?

নীড়: এখন কষ্ট করে আমার কোল থেকে ওঠো। ঘুমাবো।  

মেরিন:উহু…. আগে আমাকে romantic ভাবে request করে বলুন।

  নীড়: what!!! 

  মেরিন: আপনি না কোনো কথা ১বারে বোঝেন না…..    না বললে কিন্তু আমি উঠবো না।  

 নীড়:😡

বলছিলাম কি জা……ন  একটু ওঠোনা।  please ….. একটু কাজ ছিলো তো….   

মেরিন: awwwee…. এতো cute করে বললে না উঠে পারি??  love you এত্তোগুলা…….  

 

.

 

২ঘন্টাপর…… 

 নীড় আরামে ঘুমাচ্ছে।   মেরিন ঘুমন্ত নীড়কে দেখছে।  

মেরিন: ভালোবাসার বিরহ কখনো আমাদের শান্তিতে ঘুমাতে দেয়না। আর আজকে আপনি নিরার বিয়ের কথা শুনেও পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন। কারন আপনি নিরাকে ভালোবাসেন না….. এটা আপনার ভুল ধারনা মাত্র। ভালোলাগা কে ভালোবাসা মনে করেছেন আপনি। তাছারা কিছুই না। তবে আপনার এই ভুল ধারনা আমি ভাঙবোই….   

 

.

 

মেরিন নীড়ের গিটার নিয়ে ছাদে গিয়ে গান গাইতে লাগলো। 

 

🎶🎵🎶  

ম্যা দেখু তুঝে 

দিন মে স’মার তাবা 

ইয়ে আগার ইশক হ্যা 

তো হ্যা বে ইনতেহা…. 

তু মাঙ্গলে আগার 

জান দে দু তুঝে

 তু আগার বোলদে

 তো কারদু খুদকো  ফানা 

আ তুঝমে খাতাম কারদু ইয়ে শ্বাসে মেরি …. 

 

 ইস ইশকে মে মারজাওয়া 

তু যো কাহে বো কারজাওয়া …. (2)   

 

 ইয়ে রাজ হ্যা দিলকা মেরে 

কারু কেয়া বায়া  

ম্যাহফুজ হ্যা আব ইয়ে মুঝমে

 সুনলে যারা 

বেখোয়াব সা আব তু রেহনা ইয়াহা 

বানকে রাহু ছায়া তেরা….

 

 ইস ইশকে মে মারজাওয়া তু যো কাহে বো কারজাওয়া …(2)

 

🎶🎵🎶 

 

.

 

গান শেষে মেরিন পিছে ঘুরে দেখে নীড় দারিয়ে আছে।   

 নীড়:🤨

মেরিন: what??? 

 নীড়: এতো রাতে গান গাওয়ার কারন???  

মেরিন: কিছুনা।  

নীড়: তুমি গানও গাইতে পারো???  

মেরিন: any doubt???  

নীড়: কোন জিনিসটা পারোনা??   

মেরিন: কি মনে হয়???  

নীড়: ভালো মানুষ হতে……  

 

.

 

কিছুদিনপর…….   

মেরিন আজকে বাঙালিভাবে শাড়ি পরেছে। navy blue রঙের। ভীষন সুন্দর লাগছে।  নীড়ের ঘুম ভাঙলো পানির ছিটাতে।  চোখ মেলে দেখলো নীলান্জনা  দারিয়ে। যদিও  মেরিনেপ  চুল অতো বড়না। মিচমিচে কালোও না।  তবুও ভেজা চুলে খুব সুন্দর লাগছে।  

  মেরিন: আজকে বুঝি আমাকে খুবই সুন্দর লাগছে???  

 

নীড় মনে মনে: হামম। আবার জিগায়। crush খেয়েছি।  

 

নীড়:  just জঘন্য লাগছে।   

মেরিন: হুহ। শালা বুইরা ব্যাডা।  

নীড়: তোমার একেক দিন একেক রুপের কারন আমি বুঝিনা। fancy dress competition  …..  তো আজকে পেট বের নায়িকা সেজে মেডিকেল যাবার কারন কি??? 

 মেরিন:আপনি ঘুষ দিয়ে ডাক্তার হয়েছেন??

  নীড়: মানে??

মেরিন: ডাক্তার হয়ে কি করে ভুলে গেছেন যে আজকে friday ….  

নীড়:সে যাই হোক।  এভাবে শাড়ি পরে রুমের বাইরে যাবেনা।  

মেরিন: কেন??

নীড়: না মানে না। ব্যাস।  

মেরিন: আরে আজব তো। কারনটা তো বলবেন?? 

 নীড়: এভাবে পেট-কোমড়  বের করে রুম থেকে বের হওয়া আমার সহ্য হবেনা।  

মেরিন:  সত্যি? 

 নীড়: oh hello ….  এতো খুশি হওয়ার কিছু নেই। বাসায় আমার বাবা আছে। সেই সাথে অনেকগুলো servant। তোমার লজ্জা না থাকতে পারে। কিন্তু আমার আছে।  

মেরিন:😒

নীড়: কোমড় ঢেকে বের হবা। বাবার সামনে এভাবে বের হয়ে বাবাকে লজ্জা দিওনা।   

বলেই নীড় washroom এ  চলে গেলো।  মেরিন পিন মেরে কোমড় ঢেকে নিচে গেলো। 

 

.

 

মেরিন মনে মনে: শালা বুইরা বেরসিক। একটু ভালোতো বাসবেই না। আবার তারিফও করবেনা….  লাগে ওর নিরা আমার থেকেও সুন্দর।যেই না বাইট্টা বাউম্বিরি….   ফকিন্নি মার্কা। 

 

 মেরিন নীড়ের ১৪ গুষ্ঠি উদ্ধার করতে করতে নিচে নামছে। নিহালকে খেয়ালই করেনি।  নিহালের সাথে ধাক্কা লাগলো।  নিহাল  দুম করে পরে গেলো। 

নিহাল: আল্লাহ গো…  

মেরিন: oh no… বাবা।  দেখি দেখি হাত দাও। উঠে আসো। 

  নিহাল: তুমি মেয়ে কোনদিন যে আমাকে দুনিয়া থেকে  উঠায় দি…

 

 বলেই নিহাল মেরিনের দিকে তাকালো। আর তাকিয়েই থমকে গেলো। চোখে পানি এসে পরলো মেরিনকে দেখে। কারন মেরিন যে শাড়িটা পরেছে সেটা নিহালের মায়ের।  

মেরিন: কি হলো? উঠে আসো…..

 নিহাল উঠে এলো।  

মেরিন: কি দেখছো???  লাগছে না আমাকে তোমার মায়ের মতো???   

নিহাল জবাব না দিয়েই চলে যেতে নিলো।  

মেরিন: আজকে কি খাবে?? 

নিহাল:…..  

মেরিন:  বলো তারাতারি। তুমিই তো জানোই মাঝে মাঝে রান্না করতে আমার দারুন লাগে।  এখন বলো কি খাবে??  

নিহাল:…… 

 মেরিন: বলবেনা???  ok…. 

 নিহাল:  চিত পিঠা দিয়ে হাসের মাংসা সাথে রুটি পিঠা।  

মেরিন ১গাল হেসে 

বলল: আর মিষ্টিতে???   

নিহাল: বুটের হালুয়া।  

মেরিন: yes sir….. 

বলেই মেরিন রান্নাঘরে চলে গেল।  নিহাল মেরিনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। গাঢ়ো করে আলতা দেয়া মেরিনের পায়ে। সাথে নুপুরও আছে। 

নীলিমা: কি??? মেরিনের মায়ায় পরে গেলেনা..

  নিহাল: হ্যা মানে না। তুমি ওকে মায়ের শাড়ি দিলে কেন??? 

 নীলিমা: কারন  ও তোমার মা বলে… actually তোমার মার থেকে সুন্দর। 

 নিহাল: 😒

মনে মনে: সত্যি মায়ের মতো লাগছে।

 

 দুপুরে সবাই কব্জি ডুবিয়ে খেলো।

 

.

 

বিকালে…. 

নীড় হলরুমে বসে TV দেখছে। তখন ওর বন্ধুরা এলো।  

নীড়: আরে guys তোরা??  কতোদিন পর। 

সুর্য: হামম। তোর কি খবর???

 আকাশ : আরে বিন্দাসই হবে…. অমন হট ১টা বউ থাকলে আর কি লাগে জীবনে???    

নীড়ের রাগ লাগলেও  control করলো।  

নীড়: আয় বোস। 

 সবাই বসলো। 

 রাব্বি: কি রে তোর সুপার হট বউটা কোথায়রে??

  ইমান: থামবি তোরা??  

সুর্য: কেন থামবো রে…..  ওই মামমা বললো তোমার বউটা কই???  

নীড়: তোরা এতোদিন পর আমার সাথে দেখা করতে এসেছিস না কি আমার বউকে দেখতে এসেছিস??

আকাশ : তোর বউকে দেখতে। জ্বলজন্ত পটাকাটাকে দেখতে…. সেই বিয়ের দিন দেখেছিলাম।  একটু ডাক দেনারে……   

নীড়: পারবোনা। 

 রাব্বি: এটাকি বউ এর ওপর রেগে বললি না আমাদের ওপর রেগে??

  সূর্য: আরে বউয়ের ওপর রাগবে কেন? এতো সুন্দরী বউয়ের ওপর কি আর রাগ করা যায়???

আকাশ : মামমা ভুলে যেয়ো না যে নিরাকে নীড় বাবু মন থেকে ভালোবাসে। যাকে বলে  true love…..  

ইমান: এই তোর সব চুপ করবি? নাকি আমি চলে যাবো?? 

সূর্য: তুই চলে যা।

ইমান: ok… 

 ইমান চলে যেতে নিলো। 

 

নীড়:  আরে আরে আরে… কোথায় যাচ্ছি?? বস।  

নীড় ইমানকে যেতে দিলোনা। জোর করে বসিয়ে দিলো। তখনই মেরিন mobile এ কথা বলতে বলতে সিড়ি দিয়ে নামছে।  ও নীড়ের বন্ধুদেরকে খেয়াল করেনি।  

 

.

 

নীড় মনে মনে: এর এখনই আসার ছিলো??

ইমান ছারা সবগুলা চোখ ফাটিয়ে মেরিনকে দেখছে।  মেরিন ওদেরকে দেখে ফোনটা কেটে ওদের সামনে গেলো। 

মেরিন:hello ভাইয়ারা…. 

ইমান:hi… আপুনি… 

বাকীরা: hay…

সবগুলোর তাকানো দেখে মেরিনের ইচ্ছা করছে ওদের চোখ তুলে নিতে।   

রাব্বি: তুমি অমায়িক সুন্দর….  

মেরিন: thank you  ভাইইইয়া… আপনারা বসুন আমি আপনাদের নাস্তার ব্যাবস্থা করছি। 

 

বলেই  মেরিন রান্নাঘরে গেলো। গিয়েই জনকে ফোন করলো।  

মেরিন: hello জন….  নীড়ের বন্ধুদের চেনো তো??? 

 জন:জী ম্যাম। এখন আপনাদের বাসায়।  

মেরিন: হামম। আমাদের বাসায় থেকে বেরিয়ে যেতেই ইমান ভাইয়া ছারা বাকীদের এমন অবস্থা করবে যেন ৬মাসের আগে হাসাপাতালের বেডে থাকে। 

বলেই মেরিন ফোন রেখে দিলো।  

 

.

 

ওদিকে…. 

 আকাশ : কি ফিগার রে…. 

 রাব্বি:হামম রে। 

ইমান: ভুলে যাসনা ও নীড়ের বিয়ে করা বউ।   

রাব্বি: চুপ থাকতো। নীড় ওকে বউ বলে মানেনা। মানলে যে নীড় কোনো মেয়ের অপমান সহ্য করেনা  তার সামনে তার বউয়ের নামে এমন কথা বললে আমরা এখনও জিন্দা থাকতাম নাকি???  

সুর্য: তাইলে আবার…… 

আকাশ : ওই তোর বউকে তালাক দিলে আমি বিয়ে করবো।   

 

নীড় কিছু বলতে নিবে তখনই মেরিন হাজির।  সবাইকে চা-নাস্তা পরিবেশন করতে লাগলো।  তখন হুট করে ওর শাড়ির পেছনের পিনটা খুলে গেলো। যার জন্য ওর পিঠ আর কোমড় দেখা যেতে লাগলো। আর বাঙালভাবে শাড়ি পরলে কোমড় আর পিঠ দেখাই যায়।  মেরিন খেয়াল করলোনা।  নীড়ের তো দেখেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।  মেরিন ওর দিকে তারাচ্ছেও  না যে বলবে।  নীড় উঠে মেরিন কাছে যেতে লাগলো। কিন্তু মেরিন তখন আকাশ চা দিয়ে ওকে just cross  করে রাব্বিকে চা দিচ্ছিলো। তখন অসভ্য আকাশ মেরিনের  খোলা কোমড়ে হাত দিলো। মেরিন ঘুরে থাপ্পর দেবে তার আগেই নীড় এসে আকাশকে বেরোধক পেটানো শুরু করলো।  ইমান ছারা বাকি বন্ধুরা এসে আটকালো।  

 

.

 

আকাশ : তুই ওই মেয়েটার   জন্য তোর ১৭ বছরের বন্ধুর গায়ে হাত ওঠালি??  কে হয় ও তোর?? বল কে হয় এই বাজে মেয়েটা তোর। 

  নীড়: ওকে সম্মান দিয়ে কথা বল। ও আমার বউ।   

 এটা শুনে মেরিন অবাক হয়ে নীড়ের দিকে ঘুরলো। 

রাব্বি: বউ.. এই মেয়ে কারো ঘরের বউ হওয়ার উপযোগ্য না এই মেয়েতো … 

আর বলতে পারলোনা।  নীড় রাব্বিকেও পিটাতে লাগলো।  নীড় সবগুলাকে পিটাতে লাগলো। ইমান দর্শক হয়ে দেখছে।

আর মেরিন…. 

ওর সময় তো তখনই থেমে গেছে যখন  নীড় বলেছে 

“ও আমার বউ”। 

 

.

 

 মারামারির শব্দ পেয়ে নিহাল-নীলিমা ছুটে এলো। ততোক্ষনে নীড় সবকটাকে সাবান ছারাই ধোলাই করে ফেলেছে।  বহু কষ্টে নিহাল নীড়কে থামালো। মারাত্মকভাবে আহত বন্ধুরা চলে যাবার 

আগে বলে 

গেল:  আজ থেকে তোর দুশমনদের নামের তালিকায় আমাদের নাম যোগ করে নিস…… 

 

.

 

ওরা যেতেই নীড় মেরিনকে কাধে করে রুমে নিয়ে গেলো।   

নিহাল: কি হলো?  

নীলিমা: তোমার বাজীতে হারার ১ম ধাপ….

 নিহাল: মানে??

 নীলিমা: মানে ঘৃণারমেরিন ভালোবাসার মেরিন হয়ে ওঠার সূচনা।   রুমে….. 

 

.

 

 নীড় মেরিনকে রুমে নিয়ে দারকরিয়ে ১টানে শাড়িটা খুলে ফেলল। এরপর আগুন দিয়ে শাড়িটা পুরিয়ে ফেলল।   

নীড়: নিজের শরীর দেখানোর খুব শখ থাকলে আমাকে তালাক দিয়ে কোনো পতিতালয় গিয়ে দেখাবা।

 

তোমার সবটা তে কেবল আমার অধিকার। বুঝছো?

 আর যদি কখনো শাড়ি পরতে দেখেছি তো এই শাড়ির জায়গায়  তোমারে পুরিয়ে ফেলে তারপর নিজেকেও শেষ করে দিবো….. mind it……  

 

বলেই নীড় গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেলো।  আজকে নীড়ের কথায় মেরিনের চোখে পানি চলে এলো। না কষ্টের না। আনন্দের। মহা আনন্দের। নীড় ওকে বউ বলে মেনেছে। ওর জন্য নিজের ১৭বছরের বন্ধুদের মেরেছে…..  এর থেকে সুখের মেরিনের জন্য কিছুই নেই।  মেরিনের সুখের আজকে কোনো সীমা নেই। খুশিতে ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।  স্থির হয়ে গেছে।  

 

.

 

রাত১১টা…… 

নীড় ফিরে এলো। দেখতে পেলো…

 

মেরিন এখনো সেভাবেই দারিয়ে আছে যেভাবে ওকে রেখে গিয়েছিলো।  নীড় অবাক হয়ে গেলো।  ধীর পায়ে মেরিনের কাছে গেলো।  

নীড়: মেরিন….. 

ব্যাস নীড়ের এই ডাক দেয়ার দেরি আছে।    মেরিনের নীড়ের বুকে ঝাপিয়ে পরতে দেরি নেই।  মেরিন নীড়কে জোরে জরিয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো করে হাউমাউ করে কাদতে লাগলো।  নীড় অবাক হয়ে গেলো।  নীড়ও মেরিনকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।  কাদতে কাদতে মেরিন নীড়ের বুকেই অজ্ঞান হয়ে গেলো।

…..

……..

 

চলবে..

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন

পর্ব – ০৭ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

    

    

     

কাদতে কাদতে মেরিন নীড়ের বুকেই অজ্ঞান হয়ে গেলো।  নীড় মেরিনকে খাটে শুইয়ে দিলো। এরপর নিজের বুকের সাথে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরলো।  

 

.

 

পরদিন….. 

বিকালে……  

আকাশ , সূর্য, রাব্বি ৩জনের নাজেহাল অবস্থা। ৩জনকে  ফুটন্ত গরম পানির   ২ফুট ওপরে উল্টা  ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।   ৩জন ক্ষমা করে দাও ক্ষমা করে দাও বলছে।।   

মেরিন: চুপ।  তোদের সাহস কি করে হয় আমার নীড়কে হুমকি দেয়ার??? বল??  

সূর্য: ভুল হয়ে গেছে।  

মেরিন: ভুল….. তোদের আমি এমন হাল করবো যে তোরা আর কখনো নিজের পায়ে চলতে পারবিনা…. 

 

.

 

কিছুদিনপর…….. 

  নীড় এখন মেরিনের পাগলামো ভালোবাসা  enjoy করে।  একা বসে থাকলে অজান্তেই মেরিনের কথা ভেবে হাসে।    ভালোই চলছে ওদের জীবন।   

 

১দিন….. 

নীড় মেরিনদের  class নিচ্ছে। মেরিনও মনোযোগ দিয়ে class করছে। তখন ১টা sms  পেয়ে মেরিন ১ সেকেন্ডও দেরিনা করে বেরিয়ে গেলো।   নীড় কতো ডাকলো তবুও দারালোনা।  

 

.

 

হাসপাতালে…….   

কনিকার ২টা কিডনিই ড্যামেজ হয়ে গেছে। কেউ যদি ওকে ১টা কিডনি দেয় তবেই সে বাচতে পারবে।  কিন্তু আফসোস কোথাও O+ রক্তের গ্রুপধারী ব্যাক্তির কিডনি পাওয়া যাচ্ছেনা।  কবিরের মাথা নষ্ট।  doctor রনি  কেভিনে বসে ভাবছেন। তখনই ঝড়ের বেগে মেরিন রুমে ঢুকলো। 

রনি: আরে মেরিন তুমি?? 

মেরিন: ডাক্তার আমার আম্মুকে বাচান..

রনি: শান্ত হও। আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু কিডনি কোথায় পাবো? কে দিবে কিডনি???  

মেরিন: আমি দিবো কিডনি। হ্যা দিবো কিডনি। 

 রনি: তুমি দিবে কিডনি??? 

মেরিম:হ্যা আমার আম্মু তাই আমিই দিবো কিডনি…… 

 রনি: অসম্ভব। তা কোনোদিনই হয়না।     

মেরিন: কেন হয়না doctor ??? আমি তার মেয়ে।  blood group ও এক। তাহলে কেন অসম্ভব।

  রনি: কারন এই  surgery করলে উনার বাচার সম্ভাবনা ১০০%  থাকলেও তোমার বাচার সম্ভাবনা ০০%। কারন তোমার bp একদমই লো। সেই সাথে রক্তস্বল্পতা। আর ১টা mbbs student হয়ে তুমি জানো যে কারো surgery করতে হলে তার pressure normal করে নিতে হয়।  তোমার bp তো কখনোই normal হয়না। আর তোমার  immune system ও একদম দুর্বল। ১জনকে বাচাতে গিয়ে আমি অন্যজনকে মারতে পারিনা। 

  মেরিন:আমি মরলে মরবো।  কিন্তু আমার আম্মুকে বাচাও। 

 রনি: না। আর তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো যে তুমি  কাকে বাচাতে চাইছো।

  মেরিন: না রনিদা আমি ভুলিনি। আমি জানি আমি আমারকে মা কে বাচাতে চাইছি।  

আমি জানিনা কোনো মা-বাবা তাদের সন্তানের সকল ভুল মাফ করতে পারে কিনা…… 

আমি জানিনা কোনো সন্তান মা-বাবার সকল ভুল মাফ করতে পারে কি না???

 আমি কেবল এটা জানি যে মা-বাবা মা-বাবাই হয়। ভালো-মন্দ হয়না……

 রনি:তুমি একথা বলছো??

  মেরিন: হামম। কারন আম্মুর কিছু হয়ে গেলে আমি কেবল আমার আম্মুকেই না আমার বাবাকেও হারাবো। কারন আমার বাবা আম্মুকে অসম্ভব ভালোবাসে। হ্যা তাদের হয়তো মা-বাবা ডাকিনা।  কিন্তু তাই বলে কি তারা আমার মা-বাবা না? তাদেরকে নাই বা মা-বাবা বলে ডাকতে পারলাম… তাদেরকে চোখে দেখতে তো পারবো…… 

please বাচান….. 

রনি: i m sorry….. 

মেরিন: যদি আপনি না করেন তবে কাউকে না কাউকে দিয়ে তো আমি এই surgery অবশ্যই করাবো। আমার আম্মুর তো কিছু হতে দিবোনা।  কিন্তু তখন আপনার কি হবে????  আমি আপনাকে ধংব্স করে দিবো।  

 

রনি জানে মেরিন যেটা বলে সেটাই করে।

রনি: বেশ আমি করবো। 

 মেরিন: thank you…  আর ১টা কাজ করবে। 

রনি: কি??

 মেরিন: বাবাকে বলবে যে কিডনি ১টা মৃত ব্যাক্তির।

  রনি: what?? 

 মেরিন: হামম। কারন আমার কিডনি জানলে আম্মু কখনোই রাজী হবেনা।   আর তাছারাও আমি তাদের কাছে মৃত….. 

 

 রনি মেরিনের পা ধরে সালাম করতে গেলে মেরিন সরে গেলো।  

মেরিন: একি করছো রনিদা….. 

রনি: কোনো সন্তান যে তার মা-বাবাকে এতোটা ভালোবাসতে পারে সেটা তোমাকে না দেখলে জানতামনা।  তোমার মতো সন্তান পাওয়া ভাগ্যের বিষয়। আল্লাহ যদি সহায় থাকে তবে আমি কনিকা আন্টি আর তোমাকে ২জনকেই  OTথেকে বাচিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।   

surgery শুরু হলো।    রনি মেরিনের বলে দেয়া কথা গুলোই বলল।  কেউ জানেনা  সত্যটা কি ১জন ছারা। আর সে হলো দাদুভাই। 

 

.

 

[ হ্যা মেরিন কবির-কনিকাকে অনেক ভালোবাসে।  কনিকা-কবির মেরিনকে যতোটা ঘৃণা করে মেরিন তার থেকে হাজারগুন বেশি ওদের ভালোবাসে।  মেরিন কখনোই ওদের ঘৃণা করেনি।   নিজের সুস্থতার আগে ওদের কথা ভেবেছে। ৪জন বডিগার্ড ঠিক করেছে। যারা কবির-কনিকার চোখের আড়ালে ওদের সাথে ছায়ার মতো লেগে থাকে। নিরাপত্তা দেয়। যেন ১টা মাছিও ওদের ক্ষতি না করতে পারে।শুধু তাই নয়। কবির-কনিকার কথা ভেবেই মেরিন নিরাকে জানে মারেনি। নিরার জঘন্য কাজের জন্য মেরিন নিরাকে জানে মারতে গিয়ে দেখে যে নিরার সাধারন ১টা accident এ কবির-কনিকার জান যায়যায়। যদি নিরাকে মেরিন মেরে ফেলে তবে যে ওদেরকেও বাচানো যাবেনা সেটা মেরিন ঠিকই বুঝেছিলো। তাই এতো power থাকতেও মেরিন নিরার কোনো ক্ষতি করেনি। কারন মেরিন কবির-কনিকাকে কোনোভাবেই হারাতে পারবেনা……  কিন্তু যখন নীড়ের কথা এলো তখন কেন যেন নিরাকে….]

 

.

 

অপারেশন চলছে……   

নীড় খবর পেয়ে ছুটে এসেছে। ওর মা-বাবাও।  নীড়  খবরটা পেয়ে  মনে করেছিলো মেরিন হয়তো কনিকাকে দেখতে এসেছে। কিন্তু হাসপাতালে এসেও মেরিনকে দেখতে না পেয়ে হতাশ হলো।   অপারেশন শেষ হলো।  কনিকা আসংকামুক্ত।  কিন্তু ventilation এ রাখা হয়েছে।   দাদুভাইয়ের ভীষন চিন্তা হচ্ছে। তবুও কাউকে কিছু বলতে পারছেনা।

 

  এদিকে নীড়েরও যেন কেমন ১টা  feel  হচ্ছে।    তবে আল্লাহর রহমত এবং ডাক্তারের পারদর্শিতার জন্য মেরিন সুস্থ হলো।   

 

.

 

১০দিনপর…….    

নীড়ের চোখে ঘুম নেই। কোথায় গেল মেরিন??  খোজ নেয়ার চেষ্টা করেছে। যদিও জন নিজেই ফোন করে বলেছে যে মেরিন  কোনো ১টা কাজে ঢাকার বাইরে গেছে।     কিন্তু তবুও  কেন যেন ওর মন মানছেনা।  খুব চিন্তা হচ্ছে।  কিন্তু কেন???  আজকে ১০দিনপর মেরিন  ফিরলো।  নীড় বারান্দায় দারিয়েছিলো।  মেরিনকে গাড়ি থেকে নামতে দেখে দৌড়ে নিচে গেল।

  মেরিন ভেতরে ঢুকতেই জরিয়ে ধরে 

বলল: তুমি ঠিক  আছো তো?? 

 মেরিন: হামম।  

 বলেই  নিজেকে ছারিয়ে নিলো।  

নীলিমা: কিরে মামনি কোথায় গিয়েছিলি? 

মেরিন: ১টা কাজে।   

বলেই মেরিন রুমে গেলো। 

  নীড়ও গেলো।  

  নীড়: তুমি কোথায় গিয়েছিলে???  

মেরিন:……..  

নীড়: বলো কোথায় গিয়েছিলে?   

মেরিন:…..

 নীড়: কিছু জিজ্ঞেস করেছি…….    জবাব দাও।

মেরিন: মেরিন কখনো কাউকে কোনো জবাব দেয়না। দিতে বাধ্য নয়।  

নীড়: হাজারবার বাধ্য। কারন আমি “কেউ” নই। আমি তোমারে স্বামী। 

 মেরিন: স্বামী!!!🤣🤣🤣।    

বলেই মেরিন washroom এ চলে গেলো।  

 মেরিন: i m sorry নীড়। কিন্তু আমি আপনাকে বলতে পারবোনা। কারন দুর্বল মেরিনকে আমি আপনার সামনেও তুলে ধরতে পারবোনা।  

মেরিন washroom থেকে বেরিয়ে চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে পরলো।    নীড় অনেক অবাক হলো।  মেরিনের চোখে মুখে  অসুস্থতার ছাপ। কিছু তো ১টা হয়েছে।  

 

.

 

৩দিনপর….  

মেরিন নিজের gun টা পরিষ্কার করছে।   এই ৩দিন মেরিন class  করতেও যায়নি।  

  

নীড় মেরিনের হাত ধরে বলল: মেরিন……  

মেরিন: হামম।

  নীড়: সত্যি করে বলো তো কোথায় গিয়েছিলে? 

 মেরিন: আগেই বলেছি যে মেরিন কাউকে জবাব দিতে বাধ্য না। মেরিন কাউকেই কখনো কারো কাছে জবাবদিহি করেনা।  

নীড়: আমার কাছেও না…….  

মেরিন: কারো কাছে না।

নীড়: তারমানে তুমি আমাকে ভালোবাসোনা……  

মেরিন: নিজের জীবনের থেকেও বেশি।  

নীড়: মিথ্যা। একদম মিথ্যা।  আমি তোমার জন্য কেবল নেশা। তোমার জেদ। নিরাকে কষ্ট দেয়ার বাহানা……  

মেরিন: যেটা আপনি মনে করেন……

  নীড়: তবে ছেরে দাও আমাকে…… 

 মেরিন: এই জীবনে সম্ভবনা। এমনকি যদি আবার কখনো জন্ম হয় তখনও ছারতে পারবোনা।

  নীড়: তাহলে বলছোনা কেন যে কোথায় ছিলে??? 

 মেরিন: বলতে বাধ্য নই তাই। 

 

 নীড় মনে মনে: জানতে আমাকে হবেই যে কোথায় গিয়েছিলে তুমি?? কেন যেন আমার ভয় হচ্ছে……. মন হচ্ছে খুব এহেম জিনিষ তুমি লুকাচ্ছো…… 

 

 নীড়: কার সাথে ছিলে তুমি??

  মেরিন: মানে??

  নীড়: মানে স্পষ্ট……. কার সাথে ছিলে? কোন ছেলের সাথে ছিলে?  

মেরিন: নীড় আপনি জানেন আপনি কি বলছেন? কাকে বলছেন? 

 নীড়: জানি…. আমি তোমাকে বলছি…… 

মেরিন:আপনার কি মনে হয় আমি কোনো ছেলের সাথে….. 

নীড়: না মনে হওয়ার কোন কারন নেই….. তোমার মতো মেয়ে সবই পারে। 

 

.

 

 মনে মনে: sorry মেরিন। কিন্তু আমাকে জানতেই হবে যে তুমি কোথায় ছিলে। তাই এটা ছারা আমার আর কোন পথ নেই……. 

 

 মেরিন: কি বললেন আপনি?? আমার মতো মেয়ে সব পারে…..

 

.

 

নীড়: হামম। 

 মেরিন: ভালো…..  

নীড়: কি ভালো হ্যা কি ভালো…… তোমার ওপর কি আমার কোনো অধিকারই নেই…… 

  মেরিন: অধিকারের কথা কেন আসবে নীড়……  মেরিনতো পুরোটাই নীড়ের।  

নীড়:oh really ??  মেরিন কখনোই নীড়ের না। নীড় কেবল মেরিনের খেলার পুতুল।  যা দিয়ে খেলতে মন চাইছে তাই খেলছে…..

 যেদিন মন ভরে যাবে সেদিন ছুরে ফেলে দিবে……  

মেরিন: না নীড় এমন করে বলবেন না…..  আপনি আমার সব নীড়…..  আপনি আমার জীবন। আপনি চাইলে আমি জীবনও দিয়ে দিতে পারি…… 

  নীড়: জীবন…… সে তো অনেক বড় কিছু।  শুধু ১টা ছোট্ট জবাব চেয়েছি তাই দিচ্ছোনা। আর তো জীবন…. সত্যিটা কি জানো?   তুমি আমাকে বলেছিলেনা যে আমি নিরাকে কখনো ভালোবাসিনি…… 

আজকে আমি তোমাকে বলছি যে তুমি মেরিন কখনো আমাকে ভালোবাসোনি…… তুমি কাউকেই কখনো ভালোবাসতে পারোনা।  

মেরিন: ভুল নীড়…….  আমি আপনাকে  ভালোবাসি।  

নীড়:মানিনা….. বিশ্বাস করিনা……  ভালোবাসলে তুমি জ….  

মেরিন: আপনি বিশ্বাস করুন নীড়….. ১টা বার বিশ্বাস করুন।  বললাম তো আপনি চাইলে আমি জীবনটাও দিয়ে দিতে পারি….. 

 ২টা জিনিষ ছারা। এক এই  জবাব  আর দুই আপনাকে divorce ….  

নীড়: জানা হয়ে গেছে….. জীবন দিয়ে দিবো….  হ্যাহ…. 

মেরিন: আপনার  মনে হয়না আমি আপনার জন্য জীবনও দিতে পারি…… 

 নীড়:আমার মনে হয়না যে তুমি আমাকে ভালোবাসো। আমি আমার প্রমান পেয়ে গেছি…… জীবন..😂

মেরিন: ওহ……. আচ্ছা আমি যদি আমার জান দিয়ে দেই আপনাকে উৎস্বর্গ করে তবে মানবেন তো যে আমি আপনাকে ভালোবাসি…… 

 আমার ভালোবাসার  প্রমান হিসেবে কি আপনি আমার জীবন চান………. 

 নীড়:……  

মেরিন: নীরবতা সম্মতির লক্ষন। 

 নীড়: তুমি ভালোবাসার মানেই বোঝোনা….. তুমি আর কি জীবন দিবে…. জীবন তো দেয়া দরকার আমার। কারন তোমার মতো কারো কাছে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো…..  

 

.

 

বলেই নীড়  রুম থেকে বের নিলো।  ঘুরতেই গুলির আওয়াজ শুনতে পেলো।  নীড় পিছে ঘুরলো।  ঘুরেই মেরিন বলে চিৎকার করে দৌড়ে মেরিনের কাছে গেলো।  

নীড়: এটা কি করলে তুমি….. 

 গুলির শব্দ শুনে নিহাল-নীলিমাও ছুটে এলো।   

মেরিন: আপনি আমার কাছে থেকে মমমুক্তি চেয়েছিলেন….. আমি বাতলে সেটা কখনোই সম্ভব না। তাই….

 

এখন আর কখনো আপনাকে জ্বালাবেনা মেরিন……

 আপনার সুখের চিতা জ্বালাবে না মেরিন……   চলে যাচ্ছে আপনার  ঘৃণারমেরিন ।

 আর কেউ বলবেনা যে ভালোবাসতে জানেনা মেরিন….. আমি প্রপ্রপ্রমান করে দিয়েছি যে আপনি চাইলে আমি সব করতে পারি…   আমি জানি আমার স্থান নরকেই হবে। কিন্তু হাজার জান্নাত ত্যাগ করে আপনার  বুকে মরে যাওয়ার সুখ আমার কাছে অনেক দামী…….   

 

 

.

 

নীড় কোলে কোরে মেরিনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো।    OT তে ঢোকানো হলো।   

নীড়: তুমি কেন বুঝলেনা মেরিন যে আমার উদ্দেশ্যটা কি ছিলো…… কেন আমি তোমাকে বুঝতে পারিনা……  

তখন  ডাক্তার বেরিয়ে এলো।  

ডাক্তার: patient এর গুলি কিভাবে লাগলো?? বলুন….  

নীড়: আমার মেরিনকে বাচান ডাক্তার….. 

ডাক্তার: বাচাবো…..!! লজ্জা করছেনা এটা বলতে??  কি হন আপনি রোগীর? স্বামী….. কেমন স্বামী আপনি…. যে স্ত্রীর ১২-১৫ দিন হলো কিডনির অপারেশন হয়েছে…. নিজের কিডনি দান করেছে তাকে কিভাবে গুলি খেতে দিলেন…..  বলুন…. 

 নীড়: what??? kidney ……  

ডাক্তার: এ…..

  নার্স: sir….  মির্জা স্যার ডাকছেন….. 

ডাক্তার চলে গেলো।  নীড় অংক মিলাতে লাগলো। তারমানে ওর সন্দেহই ঠিক যে কনিকারে মেরিনই কিডনি দিয়েছে।  মেরিন ঘৃণার মেরিন নয়।  

নিহাল: নীড়…. কিডনি…..

  নীড়: হ্যা বাবা…. কনিকা খানকে মেরিনই কিডনি দিয়েছে।  

 

.

 

ওদিকে…..

 খান বাড়িতে……

 নিরা কুমিরের মতো কাদতে কাদতে খালামনি করতে করতে খান বাড়িতে ঢুকলো।   

নিরা: খালামনি তুমি ঠিক আছো তো??  কেন তোমার সাথে এমনটা হলো….. তোমার বদলে আমার সাথে এমনটা কেন হলোনা……😂 

 দাদুভাই: এই মেয়ে তুমি এই বাড়িতে কেন?? 

 নিরা: আমার খালামনির এই অবস্থা আমি দেখতে আসবোনা….. আজকে এখানে আসার অপরাধে যদি মেরিন আমাকে মেরেও ফেলে তবুও আমি শান্তি পাবো…..  কারন মরে যাওয়ার আগে আমার খালামনিকে দেখতে তো পেলাম…..  

দাদুভাই: তুমি তোমার নাটক দিয়ে  এদের বোকা বানাতে পারো। কিন্তু আমাকে না…….   

কনিকা: কিছু মনে করোনা বাবা…. কিন্তু এটা বলবে কি এখানে নিরামা কি নাটকটা করেছে….? 

দাদুভাই: সবটাই…..  

কারন এতোই যখন ভালোবাসে তোমায় তখন ১৫দিন আগে এলোনা কেন???  যদি কিডনি দিতে হয় সে ভয়ে…..  

কবির: ওর এখন ঘর আছে সংসার আছে…. হয়তো ব্যাস্ত ছিলো….. 

দাদুভাই:মোটেও না……    ওর কোনো কাজই ছিলোনা। 

 কবির:তুমি তো নিরার পিছে লেগেই থাকো। আচ্ছা তোমার কথাই মানলাম।  কিন্তু তোমার গুনধর নাতনী। সে হাসপাতালে তো দূরের কথা।  বাসায়ও এলোনা।

ওর তো নিজের মা। তবে ও কেন এলোনা…..  বলো? 

দাদুভাই:……  

কবির: এর জবাব তোমার কাছে নেই বাবা।  আমার মনে হয় যে ও আমাদের মেয়েই না। হয়তো হাসপাতালে বদলে গেছিলো। কারন ওর মতো বিষধর সাপ আম….. 

আর বলতে পারলোনা।  দাদুভাই ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।  

দাদুভাই : তুইই ১টা বিষধর সাপ…..  ইবলিসের উপাসক। তানা হলে কি নিজের সন্তানের সম্পর্কে কেউ এমনটা বলতে পারে????  তেজ্য করবো আমি তোকে।  তবে তোর সব জবাব দিয়ে।  সব বলবো আজকে তোকে।  

 

এইযে বউমা তুমি যে আজকে বেচে আছো কেন জানো? সেই বিষধর সাপটার জন্য। কারন সেই বিষধর সাপটাই নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে তোমাকে নিজের ১টা কিডনি দিয়েছে।

 

.

 

 কনিকা বসা থেকে উঠে দারালো। 

  দাদুভাই: নিজের জীবন ঝুকিতে নিয়ে কথাটা কেন বললাম জানো? না তোমরা সেটা জানবে কি করে???   তোমরা তো সেই নিকৃষ্ট প্রানী যারা সন্তান জন্ম দেবার পরই  সন্তানকে একা ফেলে অন্যত্র  চলে যায়। ওর bp  একদম লো।  তার সাথে রক্তস্বল্পতা তো আছেই।  নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে সেই বিষধর সাপটা নিজের জীবন বাজী রেখে কিডনি দিয়ে কনিকাকে বাচিয়েছে।  শুধু তাই নয়।  কবির তোর মনে আছে যে তোকে ১বার ১টা সন্ত্রাস অপহরন করেছিলো…. আর ১টা অচেনা ব্যাক্তি তোকে উদ্ধার করেছিলো। এমনকি তোকে বাচাতে গিয়ে সে হাতে গুলিও খেয়েছিলো……   সেই অচেনা ব্যাক্তিও এই বিষধর সাপটাই ছিলো।  ওর বাম হাতে আজও সেই ক্ষতটা আছে।  শুধু তাইই না….   যেন তোদের গায়ে ১টাও আচর না লাগে তাইজন্য তোদের আড়ালে তোদের  জন্যেই বডিগার্ড ঠিক করে রেখেছিলো।   

 

কবির-কনিকা অবাক। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। 

  দাদুভাই: তোরা যেই বিষধর সাপকে প্রতিনিয়ত অভিশাপ দিতি সেই বিষধপ সাপ তোদের  জন্য প্রতিনিয়ত দোআ করেছে। তোদের অভিশাপ আশীর্বাদ বলে মেনে নিতো…..  

নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতোনা।   তোদের ভালোবাসা না পেয়ে কতো রাত যে মেয়েটা নির্ঘুম কাটিয়েছে তা কেবল আমি জানি.।   কেদে কেদে ওর চোখ পাথর হয়ে গেছে।  চাতক পাখির মতো তোদের ভালোবাসার আশা করতো। কিন্তু তোরা….. ও বেচে আছে না মরে গেছে তারও খবর নিতিনা…..

 যে সন্তান তার মা-বাবাকে দেবতার মতো করে পূজা করেছে সে মা-বাবা তাকে বিষধর সাপ বলে আখ্যায়িত করেছে।

কি নিদারুন বরদান….

  বিষধর সাপটা জানতোনা যে, সে যাদের  দেবতা ভেবেছে তারা  তো নিম্নস্তরের প্রানী হবারও যোগ্যতা রাখেনা।  এমনকি পাথরের মূর্তীর থেকে নিষ্প্রান……  

যে বিষধর সাপ তার মা-বাবাকে নিঃসার্থভাবে ভালোবেসেছে  তার মা-বাবাই তাকে ভালোবাসার না ঘৃণারসন্তান…..  ঘৃণারমেরিন   বানিয়ে দিয়েছে। 

 

কবির-কনিকা:😢

দাদুভাই:  তাে আরো কিছু শুনবি তোরা….  চল আরো কিছু শোনাই তোদের। শোন ত…… 

দাদুভাই  আরো কিছু বলতে নিবে তখন জন দৌড়ে এলো। 

জন: স্যার……   

দাদুভাই: কি হয়েছে জন?? তোমাকে এমন লাগছে কেন??? কি হয়েছে। 

 জন: স্যার…  মেরিন ম্যাম…..

 দাদুভাই: ককি হয়েছে দিদিভাইয়ের??? 

 জন: ম্যামের গগগগুলি ললেগেছে……  

 

.

 

১মাসপর…… 

 মেরিন ১মাস ধরে কোমায় আছে।  নীড় এই ১মাসে মেরিনকে ছেরে ১বারের জন্যেও  বাড়ীতে যায়নি। এই হাসপাতালকে বাড়ি ভেবে আর মেরিনের কেভিনকে রুম ভেবে এখানেই পরে আছে।  দেখলো মেরিনের হাত নরছে।  বুঝতে পারলো যে মেরিন কোমা থেকে বেরিয়ে এসেছে…..  নীড় খুশিতে আত্মহারা হয়ে সবাইকে ডাক দিলো।  মেরিনের সুবিধার জন্যেই ওকে ওই মুহুর্তেই আবার ঘুমের injection দেয়া হলো। 

 

 ৪ঘন্টাপর মেরিন দাদুভাই বলে চিৎকার করে জেগে গিয়ে উঠে বসলো। আর দেখলো…..

 

.

 

দেখলো যে ওর  সামনে সবাই বসে আছে। এমনকি কবির-কনিকাও…… ওর হাত নীড়ের হাতের মুঠোয়।   মেরিন অবাক হলো।   তবুও মেরিন অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস 

করলো: আমার দদাদুভাইটা কোথায়???

সবাই:…… 

 নীড়: মেরিন এখন ততততোমার কেমন লাগছে?? খারাপ টারাপ লাগছেনাতো…… 

মেরিন: আরে রাখুন ভালো খারাপ। আগে বলুন আমার দাদুভাই কোথায়?

  নীলিমা: মমামনি… তুমি কেবল কোমা থেকে ভালো হলে। তোমার একটু relax থাকার দরকার…..  

মেরিন: ও মামনি  আগে বলোনা আমার দাদুভাইটা কোথায়…….  

সবাই:……  

মেরিন:কি হলো? ববলো…..

 সবাই:…..

  মেরিন: বলো দাদুভাই কোথায়? 

 সবাই:…..  

কনিকা: মা…. 

মেরিন: hey don’t touch …… 

  নীড় বলুন না দাদুভাই কোথায়?? 

 সবাই:….. 

 মেরিন: তোমরা কেউ কিছু বলছোনা কেন??  জন….. জন…… জন…. কোথায় মরেছে….. 

 

জন দরজার বাইরেই দারিয়ে কাদছে।    

মেরিন: জন…..জন……   যদি আমাকে উঠে তোমার কাছে যেতে হয় তবে  i swear ….. জন….

 

 জন চোখের পানি মুছে ভেতরে ঢুকলো।  

মেরিন: কোথায় মরেছিলে…… 

 জন:….. 

মেরিন: দাদুভাই কোথায়?  

জন:….. 

 মেরিন: কি হলো? বলো….. 

জন:……  

মেরিন: জন … বলছোনা কেন দাদুভাই কোথায়?

 জন:…..  

মেরিন: জন যদি খুন না হতে চাও আমার হাতে বলো কোথায় দাদুভাই?  

জন:….. 

মেরিন: আমি কিন্তু প্রলয় শুরু করবো জন। ভালোমতো বলো কোথায় দাদুভাই???  

জন: সসসস্যার আর ননননেই মমম্যাম।  তততিনি মমমারা গেছেন……. 

 

  (জন যখন এসে বলল যে মেরিনের গুলি লেগেছে তখন ওই মুহুর্তেই দাদুভাইয়ের heart attack হয়েছে।  কারন যে মেয়ের ১৫দিন আগেই major operation হয়েছে সে মেয়ের গুলি লাগা মানে মৃত্যু……  তাই দাদুভাই এই খবরটা মেনে নিতে পারেনি।  তখনই মারা যায়। )

…..

……..

 

চলবে…

 

গল্প ঘৃণার মেরিন

পর্ব – ০৮ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

    

    

      

জন: সসস্যার আর ননননেই। মমমারা গেছেন।

.

 

কথাটা শুনতেই মেরিন জনকে ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।

 

মেরিন: তোমার সাহস কিভাবে হয় এই সব ফালতু

কথা বলার। বলো? সাহস খুব বেরে গেছে….. না?

নীড়: মেরিন… 

মেরিন: আরে দেখুন না নীড়…. পাগল জন কি বলেছে! আমার দাদুভাই মারা গেছে। পাগল! এই তুমি সরো তো সরো। তুমি এখন আমার চোখের সামনে থাকলে নির্ঘাত আমি তোমাকে জানে মেরে দিবো। সরো তো সরো….. সরো সরো….এই নীড় ওকে সরতে বলেন তো। আমার ওকে সহ্য হচ্ছেনা।  এই জন… তুই যা। যাহ যা।  

 

 কবির মেরিনের মাথায় হাত দিতেই 

মেরিন বলল: hey don’t touch me….. নীড়, এরা এখানে কেন? চলে যেতে বলুন তো…. জন এদের গলা ধাক্কা দিয়ে বের করোতো….. এদের দেখলে আমার ঘৃণা করে। 

 জন মাথা নিচু করে কেদেই যাচ্ছে।

 মেরিন: আজব তো…. এই তুমি কি আজকে বাসায় থেকে ঠিক করে এসেছো যে আমার হাতে মরবে……. ১টা কথাও শুনছো না…… আবার পাগলের প্রলাপ বলছো…..

  নীড়: মেরিন  তুমি আগে শান্ত হও তো….. শান্ত হও….. 

মেরিন: কিসের শান্ত হবো। এই জন এতো ঘাটিয়া কথা বলল আর আমি শান্ত থাকবো।  বেবুনিয়াদ কথা বলে….. মিথ্যাকথা বলে। 

 নীড়: মিথ্যা নয় মেরিন….. সত্যি। দাদুভাই আর নেই । 

 

.

 

কথাটা বলতেই   মেরিন নীড়কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। 

 মেরিন: নীড়…… একদম ফালতু কথা বলবেন না……. 

নীড়: মেরিন…. accept this…. দাদুভাই আর নেই… মারা গেছেন।  

মেরিন: অসম্ভব।  কোনোদিনও না…. কোনোদিনও না…… কোনোদিনও না…..  

বলেই পাগলের মতো হাত থেকে ক্যানোলা খুলে পাগলের মতো দৌড়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেল। কেউ থামাতে পারলোনা।  ১টা  taxi করে খান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে গেলো। বাকিরাও গেলো।  গিয়ে দেখলো  দীদার কবরের পাশে ১টা নতুন কবর। name plate এ শাহজাহান খান লেখা।  এরপর মেরিন পাগলের মতো হাসতে লাগলো।    

 

মেরিন: স্বার্থপর….. স্বার্থপর……  স্বার্থপর…..  স্বার্থপর….. সবাই স্বার্থপর…… তুমিও স্বার্থপর….. কারন তুমিও তো কবির খানেরই বাবা।  তাই তুমিও স্বার্থপর।   কথা বলবোনা।  আরিইই, খুব চালাক না……. ভালোমতোই জানো  যে  তোমার সাথে কথা না বলে আমি থাকতে পারবোনা…… 

আর ঠিকই ভাবছো……. 

 

  বলেই মেরিন দাদুভাইয়ের কবরের ওপর সমান্তরালভাবে শুয়ে পরলো।

 

নীড়: মেরিন ওঠো…..  

মেরিন: কি চাই?  

নীড়: ওঠো….. কবরের ওপর শুয়ে থাকলে দাদুভাইয়ের আত্মা যে কষ্ট পাবে….. 

মেরিন: শাট আপ! আমাকে ঘুমাতে দিন……  আমার ঘুম পাচ্ছে।

 

নীড় মেরিনকে টেনে তুলল।  

মেরিন: আজব তো…..  

নীড়: মেরিন…..  বাস্তব টা মেনে নাও….. সত্যি এটাই যে দাদুভাই আর আমাদের মাঝে নেই….. মারা গেছেন মারা গেছেন……  মারা গেছেন…..  

 নীড় মেরিনকে  ঝাকিয়ে কথাটা বলল।  কথাটা শুনে মেরিন স্তব্ধ হয়ে গেলো। চোখ ২টা স্থির হয়ে গেলো।    

 

নীড়: দেখো কেউ চিরদিন বেচে থাকেনা।  আমার দাদুভাই-দীদাও চলে গেছে…… 

নীড় কি বলছে মেরিন কিছুই শুনছেনা…….  মেরিন আসতে করে নিজের কাধ থেকে নীড়ের হাতটা  সরিয়ে সোজা সামনে হেটে গেলো।  

 

.

 

  আড়াইমাসপর……    

এই আড়াই মাসে মেরিন নিজের রুম থেকেই বের হয়নি।  কারো সাথে কোনো কথাই বলেনি। কাদেও নি… হাসেওনি…..   জীবন্ত লাশ হয়ে গেছে।   নীড় খাইয়ে দিলে খায়। তেমন ভাবে ঘুম আসেনা। পলকই যেন ফেলতে ভুলে গেছে মেরিন। 

 

নীড় এখন কেবল সেই রাগী ভয়ংকারী মেরিনকে miss করে।   যে  অপলক ওর দিকে তাকিয়ে থাকতো।  রোজ রাতে জোর করে ওর বুকে মাথা রেখে ঘুমানো….. সকালবেলা good morning kiss….যখন তখন ওর কোলে বসা…. ওর প্লেট থেকেই খাবার খাওয়া সবটা।  যা এখন শুধু নীড়ের কল্পনায়।

 

.

 

নিহাল:  রুমা….. নীড়কে নিচে আসতে বলো।

 রুমা: জী স্যার।  

 

রুমা গিয়ে নীড়কে ডাক দিলো। রুমার ডাকে মেরিন কল্পনা থেকে বেরিয়ে এলো।  নীড় নিচে গিয়ে দেখলো যে নিহাল-নীলিমা, কবির-কনিকা  , নিরা বসে আছে। 

 

 নীড় কবির-কনিকাকে বলল: mr. & mrs. khan…. আপনারা এখানে? 

নিহাল: নীড়… এনারা তোমার শশুড়-শাশুড়ি হয়।মেরিনের মা-বাবা….. 

 নীড়:  মেরিনের মা-বাবা??   like really ?? কোন দিক দিয়ে? কোন বাবা  তার মেয়েকে বলতে  পারে যে তার রক্তে বিষ আছে…. কোন মা ভাগনির জন্য মেয়ের তালাক করাতে চায়…..  সন্তান যতোই খারাপ হোকনা কেন …. সন্তান সন্তানই হয়…….  কিন্তু এনারা নিজের মেয়ে রেখে অন্য  মেয়ে নিয়ে মাতামাতি করেছে। 

 নিরা: তুমি কি আমাকে অপমান করছো? 

 নীড়: অপমান কেন করবো? আমি কেবল সত্যিটা বললাম……  যাই হোক….  এনারা তো মা-বাবা  নামে কলঙ্ক। 

 নিরা: just shut up নীড়। তুমি খালামনি আর বাবাইকে অপমান করছো…. 

 নীড়: you shut up….  পারিবারিক কথা হচ্ছে এর মাঝে তুমি টকটক কেনো করছো?

 নিরা: পারিবারিক মানে?  আমি কি পরিবারের বাইরে??  

নীড়: অবশ্যই। কারন এখানে আমার বউকে নিয়ে কথা হচ্ছে।  মামনি-বাবা আর এনারাই পরিবার।  

নিরা: আর আমি?  

নীলিমা: পরগাছা…..

নিরা: এতো বড় অপমান??? বেশ আমি এখনি চলে যাবো।   

নীলিমা: তো যাওনা। 

নিরা রেগে মেগে চলে গেলো।  

 

.

 

কবির: বাবা… আমার মেয়েটাকে সুস্থ করে তোলো please …….  

নীড়: মেয়ে? লজ্জা করেনা ওকে মেয়ে বলতে?? তোমরা  জানো ও ১টা মানসিক রোগী?  a psycho…..   আমি damn sure যে এর জন্য  তোমরাই দায়ী। তোমরা ২জনই মেরিনের অপরাধী ।  এমনকি আমি নিজেও।  

 

কনিকা:  দেখো…. আমরা মানছি যে ভুল করেছি…… কিন্তু এখন আমি হাত জোর করে বলছি যে যেভাবেই হোক তুমি আমার মেয়েটাকে সুস্থ করে তোলো….. তুমি তো ১জন ডাক্তার। সেই সাথে ওর স্বামীও। যাকে ও অসম্ভব ভালোবাসে।  দেখোনা যদি পারো………

   নীড়: দেখছি….. সেটা নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবেনা। আমার বউ আমি ঠিক বুঝে  নেবো।  

বলেই নীড় রুমে চলে গেলো। 

 

কবির-কনিকাও বাসায় চলে গেলো।

নীলিমা: কি হলো নিহাল? তুমি হাসছো কেন? 

নিহাল: তার আগে বলো তুমি কেন হাসছো?

নীলিমা: ওই শাকচুন্নিটা  permanently আমার ছেলের মাথা থেকে নেমেছে তাই। আপ তুমি?

নিহাল: তোমার সাথে বাজিতে হেরে আজ আমি মহাখুশি…….

 

.

 

 পরদিন থেকে নীড় মেরিনের সাথে কথা বলতে শুরু করলো। psychologically ভাবে মেরিনকে handle করতে  লাগলো।  কিন্তু মেরিন একটুও স্বাভাবিক হলোনা।  

 

.

 

৭দিনপর…… 

 মেরিন নীড়ের রুমের mini terrace এ দারিয়ে আছে। ঝরো ঝরো বাতাস বইছে।  যেকোনো সময়ে বৃষ্টি পরবে।    নীড় ধীরে পায়ে হেটে গিয়ে মেরিনের পাশে দারালো।

নীড় মেরিনকে নিজের দিকে ঘোরালো।  মেরিনের কাধে হাত রেখলো।

  নীড়: মেরিন…  মৃত্যু মানুষের জীবনের সবথেকে বড় সত্য…..   সবকিছুরই শুরু আছে….. আবার শেষও হয়ে যায়।  তাই কোনো কিছুকে মোকাবেলা করা দরকার।  কোরআন শরীফে ১টা আয়াত আছে। “আর সকল প্রানীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে।”  মৃত্যু সবথেকে বড় সত্য।

মেরিন:…..

 নীড়: মেরিন কান্না করো…. কারন তোমার দাদুভাই মারা গেছে। সে আর কোনোদিন ফিরে আসবেনা……  তোমাকে কখনো আর দিদিভাই বলে ডাকবেনা……  মনে করো দাদুভাই তোমাকে কতোটা ভালোবেসেছে। ছায়ার মতো  তোমাকে আগলে রেখেছে, তোমার ভালো চেয়েছে, তোমাকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবেসেছে সে চলে গেছে মেরিন….. 

চলে গেছে। মারা গেছে ॥ 

শুনতে পাচ্ছো তুমি… শুনতে পাচ্ছো তুমি???   তোমার দাদুভাই মারা গেছে। আর কখনো সে ফিরবেনা । তুমি তাকে দেখতে পারবেনা…. ছুতে পারবেনা…… বুঝেছো তুমি….. শুনতে পাচ্ছো তুমি……   দাদুভাই মারা গেছে। কান্না করো মেরিন….. মেরিন… 

  মেরিনের চোখের সামনে  দাদুভাই এর স্মৃতি ভেসে উঠলো।  দাদুভাইয়ের সাথে  কাটানো সব স্মৃতি চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে উঠলো।   চোখ দিয়ে পানি গরিয়ে পরলো। মেরিন ধাপ করে বসে পরলো।  

 

মেরিন: দদদাদুভাই মমমারা গগগেছে…..  ককককিন্তু  কককেন? এখন কককে আমাকে  ভভভভালোবাসবে??? ককককার কোলে মমমমাথা রররাখবো…… কককে গগগল্প শোনাবে……  আমি যে এএকদম একা…….  আআমার যে আর আপন কেউ রইলো না…….  

 

দাদুভাই……. কেন চলে গেলে…….  তুমিও কি আমার ওপর বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলে……  এখন আমি কককাকে দাদুভাই বববলে ডাকবো….. আমার যে কেউ নেই ……  ও নীড়…. ও নীড় আমি কথা দিচ্ছি আমি আপনাকে  divorce  দিয়ে দিবো…..   আপনি আমার দাদুভাইকে এনে দিন……  আমি সত্যি সত্যি কথা দিলাম আমি আপনাকে divorce দিয়ে দিবো….. আপনি আমার  দদদাুভাইকে এনে দিননা……  আমার দাদুভাই ছারা যে আমার কেউ নেই।

 দাদুভাই……

দাদুভাই……  

 

মেরিনের কান্না দেখে নীড়ও কাদছে।  

 

 নীড় মনে মনে: কান্না করো মেরিন……..  কান্না করো…. মনটা হালকা হবে।

 

  কাদতে কাদতে মেরিন বেহুশ হয়ে গেলো।    নীড় মেরিনকে কোলে করে রুমে নিয়ে শুইয়ে দিলো।  এরপর  বুকের মধ্যে জরিয়ে নিয়ে মাথায় আলতো ভাবে হাত বুলাতে লাগলো…….  

নীড়:তোমার  আপন বলতে এখন আমি আছি মেরিন…… মেরিনের নীড় আছে…..  আমি তোমার সকল দুঃখের অবসান ঘটাবো…..  সেইসাথে মেরিনের ঘৃণারমেরিন  হওয়ার পেছনের কারন অনুধাবন করবো…….   তোমাকে নিজের করে নিবো….ভালোবাসবো…….  

 

.

 

 ২দিনপর….. 

২দিনধরে মেরিন বেশিরভাগ সময়েই কেদেছে। পাগলামি করেছে।  যার জন্য বাধ্য হয়ে নীড় ওকে ঘুমের  injection দিয়েছে।  নীড় বাগানে মাথায় হাত দিয়ে বসে বসে ভাবছে  কি করা যায়।  তখন নীড়ের কাধে  নিহাল হাত রাখলো।  

 

নীড়: আরে বাবা তুমি……   বসো। 

 নিহাল বসলো।   নিহাল: কি ভাবছো?  

নীড়:   ভাবছি মেরিনকে normal কিভাবে করা যায়।  এই শোকের ছায়া থেকে কিভাবে বের করা যায়…….. 

নিহাল: ভালোবেসে……   

নীড়: মানে…… 

 নিহাল: কোন প্রক্রিয়াই মেরিনকে স্বাভাবিক করতে পারবেনা তো তোমার ভালোবাসা ছারা। ওকে নিজের সবটা উজার করে ভালোবাসো।  

ভালোবেসে ওর মাথায় স্নেহের হাত রাখো….. 

ভালোবেসে ওর কাধে ভরসার হাত রাখো….. 

ভালোবেসে ওর হাতে ভালোবাসার হাত রাখো…… 

 ভালোবেসে আপন করে নাও…… দেখবে মেরিন মাটি হয়ে গেছে।

 নীড়:…… 

 নিহাল: আমি জানি আমার ছেলে বুদ্ধিমান……  

নিহাল চলে গেলো।  নিহালের কথাটা গভীরভাবে  পর্যবেক্ষন করে নীড়ও রুমে গেলো।  গিয়ে দেখলো মেরিন রুমে নেই।  

নীড়: মেরিন কোথায় গেলো…..  

washroom এ দেখলো। সেখানেও নেই।  বারান্দায়ও নেই। 

 

নীড়: কোথায় গেলো…….     মামনি মামনি……   

নীলিমা দৌড়ে এলো।  

বলল:  কি হয়েছে??  

 

নীড়: মেরিনকে দেখেছো?

  নীলিমা: না। আমিতো রান্না ঘরে ছিলাম……. 

 

 নীড় দেরি না করে বেরিয়ে গেলো।  সেদিন মেরিনকে যে শ্মশানের সামনে পেয়েছিলো সেখানে গেলো।   কিন্তু ওখানে পেলোনা।   নীড় জনকে ফোন করলো।  জনও জানেনা।  

 নীড়: কোথায় যেতে পারে? কো…… 

নীড় কিছু ১টা ভেবে কবরস্থানে গেলো। দেখলো যে ওখানে মেরিনের গাড়ি দার করানো।  নীড় ভেতরে ঢুকলো। ঢুকে অবাক হয়ে গেলো।  দেখলো যে দাদুভাইয়ের পাশে মেরিন আরো ১টা মাটি খুরছে।   

 

.

 

নীড়: তুমি এখানে??  

মেরিন নীড় কথায় কান না দিয়ে নিজের কাজই করছে।  

নীড়: কি করছো কি??  

মেরিন: কবর খুরছি কবর।  

নীড়: কবর?? কিসের কবর??  

মেরিন:  মেরিনের কবর…..  

নীড়: what??  পাগল হয়ে গেছো। রাখো এটা।

 বলেই নীড় মেরিনের হাত থেকে নিতে গেলে মেরিন সরে গেলো।  

 

মেরিন:  সরেন সামনে থেকে। জীবন প্রথম  কোনো ভালোকাজ করছি…. মেরিন সৎকার। একদম বাধা দিতে আসবেন না……  

নীড়: পাগলামি করেনা মেরিন… 

 মেরিন মাটি খুরছে আর 

বলছে: পাগলামি? কিসের পাগলামি? আমি ঠিকই আছে। আমি জানি আমার কবরও কেউ খুরতে আসবে না আর জানাজাও কেউ দিতে আসবেনা। কারন আমি ঘৃণার মেরিন।

 আর তাই আমার নিজের কবর আমি নিজেই খুরবো। এরপর কবরে ঢুকেে যাবো…..  ঢুকে নিজেকে shoot  করে দিবো……

 

 নীড় মেরিনের হাত থেকে কোদাল কেরে নিয়ে ফেলে দিলো। 

 

মেরিন: আপনার সাহস কি করে হয় আমার হাত থেকে ওটা কেরে নেয়ার? 

   নীড়: আমার অনেক  সাহস। চলো বাসায় চলো। 

মেরিন: বাসা? কার বাসা?

 নীড়: আমাদের বাসায়।  

মেরিন: (হাসতে হাসতে) ওটা তো আমার ঠিকানা না…. কোনোটাই তো আমার ঠিকানা না….. আমার তো কোনো ঠিকানা নেই…. তবে আজ থেকে হবে…. এই কবরস্থান । name plate এ লেখা থাকবে মেরিন বন্যা……  মরহুমা মেরিন বন্যা।The Late marin bonna….

 নীড় : মেরিন আমি জানি তোমার কষ্ট লাগছে….

  মেরিন: কষ্ট কিসের কষ্ট…. আহমার কোনো কষ্ট ছিলোনা।  আর না আছে। আজকের পর থেকে থাকবেও না….. সব কষ্ট মাটির নিচে চাপা পরে যাবে……. 

 

নীড় মেরিনের ২ গালে হাত রেখে 

বলল: মেরিন…… দাদুভাই হয়তো স্বশরীরে আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু আমাদের মনে সবসময় থাকবে।  তাকে বাচিয়ে রাখতে হবে। 

মেরিন: আপনার নীতি কথা বন্ধ করেন। যান এখান থেকে। আমিও চলে যাবো আমার দাদুভাইয়ের কাছে।   আর জ্বালাবোনা আপনাদের।  মেরিন নামের আগুন আজকে চিরতরে নিভে যাবে……  

নীড়: কিন্তু আমি যে জ্বলতে চাই মেরিন নামের আগুনে।  জ্বলে ছাই হতে চাই।

 মেরিন: ভালোগিরি দেখাচ্ছেন….. মনুষত্ব দেখাতে এসেছেন……  লাভ নেই। আপনাকে আমি ভালোবাসি।  আমি শুধুই আপনার । কিন্তু আপনি আমারনা। 

যে আমার ছিলো সে আজকে চলে গেছে। 

 নীড়: মেরিন বুঝার চেষ্টা করো।

মেরিন: আমাকে আমার কাজ করতে দিন নীড়।

নীড়:না। দিবোনা।  তোমাকে বাচতে হবে….. 

মেরিন: বাচতে হবে? কারজন্য বাচবো? যার জন্য বেচে ছিলাম সে নেই। চলে গেছে। আমাকে ছেরে।  তাই বাচার কারন নেই।  

নীড়: বাচার কারন নেই??

মেরিন:না….

নীড়: তবে   আমি কে?   আমাকে না ভালোবাসো…… আমি কি বাচার কারন নই…..  

মেরিন: নাহ…. আপনি আমার বাচার কারন না…..  আপনি আমার ভালো থাকার কারন…… আপনি আমার নিঃশ্বাস নেয়ার কারন……  

আমার প্রয়োজন…..

আমারে চোখের নেশা….

আমার মনের খোরাক…..

 

এর আগে আমি দুর্বল হয়ে যাই আপনি চলে যান। 

  নীড়: কোথাও যাবোনা আমি।   তুমি সাথে যাবে আমার। 

 মেরিন: কেন যাবো? কেন যাবো আমি? আমার দাদুভাই নেই…..  যার কোলে পরম নিশ্চিন্তে মাথা রেখে ঘুমাতাম….. দিতে পারবেন সে কোল??  আপনার বুকেতো জোর করে মাথা রেখে ঘুমাতে হয়।  

ঘুম না এলে দাদুভাই গল্প বলতো…..মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো।  পারবেন সেই ভরসার সেই স্নেহের হাত ফিরিয়ে দিতে…..  আপনার কাছে আমি আবর্জা॥ আমাকে স্পর্শ করতেও আপনার  ঘৃণা করে…… 

সারা পৃথিবীতে কেবলমাত্র আমার দাদুভাই আমাকে ভালোবাসতো….. পারবেন কখনো ভালোবাসতে?? পারবেন না।   আপনি কেন কেউ পারবেনা মেরিনকে কখনো ভালোবাসতে।  কারন মেরিন হলো ঘৃণারমেরিন…. ঘৃণার মেরিন মরে গেলে কারো কিছু যাবে আসবেনা……..  কারো গলার কাটা, কারো চোখের কাটা, কারো পথের কাটা দুর হবে…..

 যান যান যান চলে যান চলে যান……  যান তো যান। যান যান…

নীড়:…..

 মেরিন: যাবেন না তো……  বেশ।  

মেরিন নিজের gunটা বের করে নিজের মাথায় ঠেকালো…..  

নীড়: মেরিন…. 

মেরিন:আপনি না গেলে আমি এখনই নিজেকে shoot করে দিবো।  

নীড়:এই না…. নামাও  gun…. 

 মেরিন: না…..  আপনি যান।  

নীড়: আচ্ছা বেশ আমি চলে যাবো।  কিন্তু এরপরও তো তুমি নিজেকে শেষ করে দিবে….. তবে…  

মেরিন: হ্যা দিবোই তো।  নীড়: তাহলে আমার 

চলে যাওয়ার কি লাভ হবে……

 

 ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলতে বলতে নীড় খপ করে মেরিনের হাত ধরে ফেলল। gunটা এখন ২জনের হাতের মধ্যে।  

মেরিন: ছেরে দিন নীড়…. ছারুন।   আমি বাচতে চাইনা নীড়……  

 

.

 

নীড় কোনো রকমে মেরিনের কাছ থেকে gun টা নিয়ে ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।   

নীড়: অনেক হইসে। আরনা। মরার খুব শখ তাইনা? কখনো কনিকা খানের জীবন বাচানোর জন্য জান দিতে বসছিলা….   কখনো আমাকে ভালোবাসার প্রমান দেয়ার জন্য জান দাও, কখনো দাদুভাইয়ের জন্য……    কেন এতো জান দেয়ার শখ কেন?  যেই আমাকে নিজের থেকে বেশি ভালোবাসো সেই আমার ১টা কথা কখনো শুনেছো। আমার কোনো কথার মুল্য আছে তোমার কাছে? নেই…. do you know that i m fed up with you…. 

 জান দিবো জান দিবো।  জান দেয়া মোবারক হোক।  তবে আজকে জান দেয়ার আগে তুমি আমার জান দিতে দেখবা।

 

বলেই  নীড় সেই gun টা তুলে নিজের মাথায় ঠেকালো। 

নীড়:suicide মোবারক হোক। 

 বলেই নীড়  just trigger টা press করবে তখনই মেরিন gunটা নিয়ে ছুরে মারলো। এরপর গাড়ি নিয়ে চলে গেলো।   কিছুক্ষন পর নীড় রুমে গিয়ে দেখলো মেরিন  মেঝেতে বিছানা করে শুয়ে আছে।  

 নীড় মনে মনে: পাগলি।  

নীড় মেরিনকে কোলে করে  খাটে তুলে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পরলো।   

 

.

 

২দিনপর……  

রাত ১টা…… 

 মেরিন  mini terrace এ দারিয়ে আছে।  আজও ঝড়ো বাতাস বইছে।  বাতাসে মেরিনের চুল উরছে।  মেরিন চোখ বন্ধ করে আছে। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।   তখন কেউ ওকে পেছন থেকে জরিয়ে  ধরলো।  মেরিন  কেপে উঠলো। সেই সাথে অবাক হলো। কারন এটা যে নীড়।  আর এই প্রথম নীড় নিজে থেকে ওকে জরিয়ে ধরলো।  তবুও মেরিন কোনো  react  করলোনা।   নীড় মেরিনের  ঘাড়ে মাথাটা রাখলো। এরপর মেরিনের হাত জরিয়ে আকাশমুখী করে 

 

বলল: চোখ মেলে তাকাও। দেখো  এই মেঘলা আকাশেও শুকতারাটার পাশে ১টা ঝলমলে তারা দেখা যাচ্ছে।  

মেরিন দেখলো।  

নীড়: জানো এটা কে???  

মেরিন:…… 

নীড়: এটা দাদুভাই।  এই ঘনকালো মেঘটাও শাহজাহান খানকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।   যে কালো মেঘ সকল তারাকে ঢেকে দিয়েছে সে মেঘকে ছাপিয়ে গেছে দাদুভাই।   কেন এমনটা হলো জানো???  কারন সে মেরিনের দাদুভাই।  

মেরিন:……  

নীড়: কি হলো । কথা বলো।  

মেরিন:….

নীড়:its too much yaar..  ৩মাস হয়ে গেলো তুমি কথাই  বলোনা আমার সাথে।  not done…. যেই ২দিন বললা তাও কি বলার মতো….. 

 

মেরিন:…..

নীড়:বুঝেছি….. থাপ্পর মেরেছি বলে আমার বউয়ের রাগ হয়েছে….. এই গালটাতে মেরেছি  তাইনা….

 দারাও আদর করে দিচ্ছি।  

 বলেই নীড় মেরিনের গালে kiss   করে দিলো।  

মেরিন:…… 

 নীড়: কি হলো?  বুঝেছি….. থাপ্পরটা খুব জোরে ছিলো…… ok..  তাহলে আরো এত্তোগুলা আদর দিতে হবে। 

 

 বলেই নীড় মেরিনের গালে একেরপর এক  kiss দিয়েই যাচ্ছে।  মেরিন বিরক্ত হয়ে নিজেকে নীড় থেকে ছারিয়ে চলে যেতে নিলেই নীড় টেনে মেরিনকে নিজের সাথে মিশিয়ে দিলো।  আবার মেরিনের ঘাড়ে মাথা রাখলো। 

 

.

 

 নীড়:  বিরক্ত হলে বুঝি…. oh my god….  তুমিও বুঝি আমার ওপর বিরক্ত হতে পারো??!!!😱😱😱।  ভাবা যায়……  নাকি অন্য কিছু……  

মেরিন:…….

  নীড়: পালাতে চাইছো নিজের থেকে? দেখোনা কি সুন্দর ঝড়ো বাতাস বইছে।  বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। যেকোনো সময়ে বৃষ্টি পরবে।  কি রোমান্টিক ১টা মুহুর্ত…. এটা কি অভিমান করার সময় ???

মেরিন:……

নীড়:সবাই তো জোছনা বিলাস করেই। কেউ কি অন্ধকার বিলাস করে…..

 বৃষ্টিতে ভিজে?  চলোনা আজকে আমরা করি……  

 বলেই নীড় মেরিনের ঘারে  kiss  করলো।  মেরিন কেপে উঠলে।  মেরিন নীড়ের হাতটা খামছে ধরলো।  নীড় একেরপর এক  kiss করেই যাচ্ছে। যা ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে।   ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও শুরু হলো।  

 

 মেরিন বহু কষ্টে নিজেকে ছারিয়ে নিলো।  নীড় অবাক হলো।  অবাক চোখে মেরিনকে দেখছে।  জোরে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো।  

 

মেরিন: আমাকে একদম করুনা দেখাতে আসবেন না।  আপনার ঘৃণা স্বাদরে গ্রহন করেছি…… আপনার ঘৃণা আমি মাথায় করে রেখেছি। কিন্তু আপনার করুনা আমার জান নিয়ে নেবে। প্রতি পলকে পলকে আমাকে মেরে ফেলবে……  

 

নীড়:…..

মেরিন:আপনার  কাছে যেমনি আমার ভালোবাসার  থেকে মৃত্যু যন্ত্রনা শান্তিময় তেমনি আমার কাছেও আপনার করুনার চেয়ে মৃত্যু যন্ত্রনা শান্তিদায়ক……  

নীড়:……  

মেরিন: আমি আপনার ঘৃণা নিয়ে  সারাজীবন বাচতে পারবো….  করুনা নিয়ে ২দন্ডও বাচতে পারবোনা।     

নীড়: …….  

মেরিন: রুমে যান। বৃষ্টি পরছে। বৃষ্টিতে ভিজলে আপনার  ঠান্ডা লেগে যাবে। জ্বর আসবে।   

 

নীড় উল্টা পায়ে ধীরে ধীরে রুমে চলে গেলো।   মেরিন  railing  ধরে কাদতে লাগলো।  

 

.

 

৫মিনিটপর……. 

 নীড় ঝড়ের বেগে মেরিনের কাছে গিয়ে মেরিনকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ওর ঠোট জোরা দখল করে নিলো।  মেরিন চাইলেও নীড়ের ভালোবাসার এই অদৃশ্য ডাক উপেক্ষা করতে পারলো না।   কারন মেরিন যে ভালোবাসার কাঙ্গাল।   মেরিন ১টা নতুন জীবন পেলো। এতোদিন মেরিন নীড়ের ছিলো আজকে মেরিনও নীড়ের হয়ে গেলো।  নীড়-মেরিন এক হয়ে গেলো।  নীড় মেরিনকে নিজের করে নিলো।

.

.

 

চলবে….

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ০৯ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

   

   

    

সকালে…..

   মেরিন নীড়ের বুকে ঘুমিয়ে আছে।   পরম শান্তিতে।  নীড় মেরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।  মেরিনের ঘুম ভাঙলো।

   নীড়: good morning honey ……  

 

মেরিন মুচকি হেসে 

বলল: morning …।   

নীড় : আমার good morning kiss??  

মেরিন: নিরার কাছে যান….  

নীড় মেরিনের চুল হালকা করে ধরে মাথাটা তুলে 

বলল: ভেবে বলছো?

মেরিন:হামম।

  নীড়: সত্যি সত্যি যাবো কিন্তু..  

মেরিন:যান। 

 নীড়: হ্যা যাবোই তো..

 নীড় মেরিনকে নামিয়ে উঠতে গেলে মেরিন নীড়কে টান দিয়ে ফেলে নীড় ওপর উঠে নীড়ের ঠোট জোরা দখল করে নিলো। 

 

.

 

  একটুপর…..  

নীড়: ঠিক না ঠিক না……  

মেরিন: আমি জানি……   

নীড়: huh….

মেরিন: ১টা ছেলেমানুষ এতো dramabaaz হতে পারে আপনাকে না দেখলে জানতামই না।

নীড়: দেখতে হবেনা জামাইটা  কার???

 

ভালোভাবেই চলতে লাগলো ওদের জীবন।  নীড় মুখে ভালোবাসি না বললেও নীড়ের কাজে মেরিন ঠিকই ভালোবাসা খুজে পায়।  মেরিনও normal হতে শুরু করেছে।  রাগ টা নিয়ন্ত্রনে আসছে। সবটাই হয়েছে নীড়ের ভালোবাসা আর treatment এর জন্য।

 

.

 

  ১মাসপর……

 রাত ৩টা।   

মেরিন  নীড়ের সাদা রঙের শার্টটা পরে  বারান্দায় গিয়ে দারালো।  আকাশপানে  মুখ করে চোখ বন্ধ করে বাতাসটাকে feel  করছে। নীড় ঘুমাচ্ছে।   

 

.

 

কিছুক্ষনপর……  

নীড় গিয়ে মেরিনকে পেছন থেকে ১হাত দিয়ে জরিয়ে ধরলো।   অন্য হাতে কফির মগ। 

নীড়: কফি??? 

  মেরিন: ঘুমাননি…..  

নীড়: কি মনে হয়???  

মেরিন মিষ্টি ১টা হাসি দিলো।

  ২জনে মিলে কফিটা শেষ করলো।  নীড় rocking chare এ মেরিনকে কোলে নিয়ে বসে আছে।  মেরিন নীড়ের বুকে আকিবুকি করছে। 

 

  নীড়: কিছু কি বলার ছিলো?? 

  মেরিন: হামম।

 নীড়: বলো।

  মেরিন: আমাকে ভালোবাসি কবে বলবেন??

 নীড়: ভালোবাসলে তো বলবো…

মেরিন: মানে?

  নীড়:তোমাকে কেন ভালোবাসি বলবে বলো তো? তোমাকে কি আমি ভালোবাসি নাকি???  আমি তো নি…..রা কে ভালোবাসি… 

 

  মেরিন নীড়ের বুকে জোরে ১টা কামড় বসিয়ে দিলো।  

নীড়: oh মা।   vampire বউ। এতো কামরাও কেন? 

মেরিন: আমার জামাই আমি কামড় মারছি তোর বাপের কিরে???

নীড়:🙊

মেরিন: আর কিছুদিনপর তো আমাদের anniversary …. কি  gift দিবেন???

  নীড়: কিসের anniversary ?? তুমি কি ভুলে গেছো যে আমি এই বিয়েটা মানিনা।

মেরিন:তোর বাপ মানে।  শালা। 

 নীড়:  আচ্ছা শোনো বিয়ের দিন i mean anniversary এর দিন  আমি তোমাকে gift দিতে পারি তবে তার আগে তোমাকে ১টা কথা দিতে হবে।

  মেরিন: আমার কোনো gift চাইনা। আমার   শুধু আপনাকেই চাই…… 

 নীড়: ওহ তবে আমাকে আমার পছন্দের  কোনো কিছু  দিবেনা….  

মেরিন: divorce ছারা যা চাইবেন সব দিবো।   

নীড়: কথা দিচ্ছো যে সেদিন যা চাইবো তাই দিবে?? 

মেরিন: কথা দিলাম সেদিন যা চাইবেন তাই দিবো।  

নীড়: আমাকে ছুয়ে কথা দাও।

মেরিন: এই আপনাকে ছুয়ে কথা দিলাম।

 

 নীড়: thank u……  

 

মনে মনে: তুমি কল্পনাও করতে পারবেনা যে সেদিন তোমাকে কি gift দিবো।   হামম আমি আমাদের ওই বিয়েটা মানিনা।  তাই তো সেদিন আবার তোমাকে বিয়ে করবো।  ৭দিন ধরে জমকালো অনুষ্ঠান হবে।  ১বছর আগে সারা দেশ তোমার ভালোবাসা দেখেছিলো…… এবার সারা দেশ আমার ভালোবাসা দেখবে।  আমিও বলবো যে তোমাকে ভালোবাসি।  অনেক বেশি ভালোবাসি।  । খুব বেশি ভালোবাসি।

 আর সেদিন আমি তোমার কাছে চাইবো যে… তুমি  যেন সকল অভিমান ভুলে তোমার মা-বাবাকে মেনে নাও। আমি জানি তুমি ওদের অনেক ভালোবাসো। প্রকাশ করোনা। 

 সেদিন আরো ১টা উপহার  তুমি পাবে।  তোমার জীবন থেকে সব অন্ধকার মিটিয়ে দেবো।  কেন জানিনা আমার মনে হচ্ছে তোমার সাথে যা যা হয়েছে তার পেছনে নিরার হাত আছে……. ভাগ্য কি অদ্ভদ। যাকে ভালোবেসেছিলাম সেই ভুল। আর যাকে ভুল ভেবেছিলাম সেই ফুল হলো।

   তুমি ঠিকই বলেছো যে আমি নিরাকে কখনোই ভালোবাসিনি….. 

কারন নিরার বিরহ কখনো আমার চোখে অশ্রু আনেনি।   কিন্তু তোমার জন্য আমি কেদেছি।  তুমি তো সেই মায়া যে মায়াতে সবাই বাধা পরে যায়। তোমার সকল কষ্ট আমি দূর করবো। কথা দিলাম।

 

.

 

আরো দেড়মাসপর…….   

নীড় ৪-৫দিন ঘরে  মেরিনকে কিছু বলার চেষ্টা করছে। কিন্তু বলতে পারছেনা। কারন মেরিন কেমন যেন খিটখিটে হয়ে গেছে।  কারো কোনো কথা শুনতে মন চায়না।  কিছু খেতে পারেনা। সবকিছুর গন্ধ লাগে।  তার সাথে মাথা ঘুরানি তো আছেই। অকারনেই কান্না করে।  রাত ৩টা ৪টা বাজে নীড়কে ঘুম থেকে টেনে তুলে বলে এটা খাবো ওটা খাবো।  বেচারা নীড় ঘুমের বলিদান দিয়ে সেগুলো নিয়ে  আসে। তখন মেরিন excited হয়ে ১ম বার মুখে তো দেয়। কিন্তু  পর মুহুর্তেই মুখ থেকে ফেলে দেয়। বলে খাবোনা।  সেই সাথে নীড় জোর করে ধমক দিয়ে খাওয়াতে গেলে কামড়, কিল,  ঘুষি এমনকি লাথিও খেতে হয়। সব মিলিয়ে ১৫দিন ধরে নীড়ের অবস্থা কেরোসিন। তাই  মেরিনের এমন অবস্থাতে ওকে আর সেই জরুরী কথাটা কথাটা বলা হয়ে ওঠেনি।   

 

.

 

মেরিন  ওর কি হয়েছে জানার জন্য কিছু  test করায়।  আর যখন test reportটা হাতে পায় তখন দেখে যে ও pregnant ….  খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়।  ওর মনে হয় যে ও স্বর্গ সুখ পেয়ে গেছে। পাগলের  মতো সারা হাসপাতালে নাচতে শুরু করে।  কি রেখে কি করবে  দিশা পায়না।  নীড়কে ফোন করে। নীড় ধরলোনা।  মেরিন বারবার call  দিলো। নীড় বারবার কেটে দিলো।  মেরিন তো রেগে আগুন। আবার ফোন করলো অবশেষে নীড় ধরলো।  

 মেরিন: hello নীড়……  

নীড়: সবসময় ফোন করে জালাও কেন বলো তো? কখনো তো তোমার ফোন কাটিনা। যখন কেটে দিচ্ছি তখন কোনো না কোনো কারন তো আছে….. why don’t you understand ..  surgery করছি পরে ফোন করবা।  

বলেই নীড় ফোনটা কেটে দিলো।

   মেরিন: শালা… আমাকে রাগ দেখায়…. একে তো…. উফফ মেরিন…. নীড়  surgery করছে। রাগ তো করবেই।  আমিও না।   ১টা কাজ করি ১টা surprise plan  করি। যার মাধ্যমে আমি নীড়কে বলবো যে we r pregnant . খুব তো সেদিন  বলেছিলো যে আমি নাকি কখনো উনার বাচ্চার মা হতে পারবোনা। এখন চৌধুরী বাবু কি বলবেন???

 

.

 

মেরিন গাড়ি দিয়ে বাসায়  যাচ্ছে।  তখন দেখলো যে ১টা পার্কের বাইরে নীড়ের গাড়ি দার করানো।  

মেরিন: আরে নীড়ের গাড়ি? উনি যে বলল surgery করছে!!  এমা ছিঃ ছিঃ আমি উনার ওপর সন্দেহ করছি?  হয়তো অন্য কোনো জরুরী কাজ। তাই।  যাই হোক উনার গাড়ি দেখে তো wait করা আর possible না। এখনই গিয়ে বলে দেই। কিন্তু যদি কোনো দরকারী কাজ হয়???  হোক। আমার আর নির্বনের থেকে তো অন্য কোনো কিছুই বেশি দরকারী নেই।   

 

মেরিন গাড়ি park করে ভেতরে গেলো।   আর গিয়ে যা দেখলো তা দেখে মেরিনের পায়ের নিচের মাটি সরে গেলো।   কারন নীড়-নিরা ২জন ২জনকে জরিয়ে ধরে আছে।    

 

নীড়:  love u … love u a lot জান…… 

 নিরা:& i love u too জান।  

নিরা সরে দারালো।  

নিরা: আচ্ছা যদি মেরিন জানতে পারে যে তুমি OT তে নয় আমার সাথে আছো…. তখন কি হবে???  

 নীড়: come on…. গত ৭দিন ধরেই তো তোমার সাথে meet করছি। ওই সাইকো কি কিছু বুঝতে পেরেছে?? পারেনি।  আর পারবেও না। কারন আমি ওর চোখে ভালোবাসার  কালো কাপড়ে বেধে দিয়েছি। জান।  

নিরা: সেদিন তোমার ব্যাবহারে তো আমি মনে করেছিলাম যে তুমি সত্যি সত্যি ওকে ভালোবেসে ফেলেছো।

  নীড়:  ওই মেয়েকে ভালোবাসবো আমি???  দাদুভাইয়ের শোকে আহত the মেরিন বন্যা।  তাকে support  দেয়ার জন্য ১টা ভরসার হাতের দরকার ছিলো। তাই তার কাধে সেই ভরসার হাতটা রাখলাম।  ১জন neuroligist হিসেবে  ওর brain  নিয়ে খেলা আমার কাছে কোনো ব্যাপারই না।  মেরিন এখন অন্ধের মতো আমাকে বিশ্বাস করে।  

নিরা: এখন ওর তো ১টা ব্যাবস্থা করতে হবে।  তোমারই দোষ। ও suicide করতে  নিয়েছিলো সেদিন ওকে বাচালে কেন? 

নীড়:জান…..  ওকে এভাবে কিভাবে মেরে ফেলি তোমাকে খান empire এর মালকিন না বানিয়ে।  

 নিরা: তু্মি  আমাকে এতো ভালোবাসো???😍। 

 নীড়: any doubt ??  

নিরা: না জান……  

নীড়: ১বার সবটা তোমার নামে করিয়ে নিলেই মেরিনের কাম তামাম। 

শেষ করে দিবো ঘৃণারমেরিন  কে…. চিরতরে। 

  নিরা: কিন্তু কিভাবে? 

 

নীড়: সেটা তখনই দেখতে পাবে… 

নিরা: বললে কি হয়?  

নীড়: তোমার surprised হওয়া cute face টা দেখবো কি করে??? 

 নিরা: ওকে মারবে কিভাবে ওর ওই জন না নামের লেজটা আছে যে।  

নীড়: আর জন। মেরিন নিজে জানলেও কিচ্ছু করতে পারবেনা।  আমি এমন plan বানিয়েছি।  আমার ভালোবাসার জীবনে আধার নামিয়ে আনার শাস্তি তো ওকে পেতেই হবে। আমাদের বিবাহ বার্ষিকীর দিনই সব হিসাব-নিকাশ হয়ে যাবে।  যে যেখানে থাকার সে সেখানেই থাকবে।   আমার ভালোবাসার জীবনটাকে আমি আলোয় ভরিয়ে দিবো।  

নিরা নীড়কে জরিয়ে ধরলো। 

 নিরা: তুমি আমাকে এতোটা ভালোবাসো জান???

   নীড়: হামম। জান।  

 

এর থেকে বেশি দেখা আর  মেরিনের পক্ষে সম্ভব না। কাদতে কাদতে চলে গেলো।  

 

 নীড়তো মেরিনকে দেখলো না।

 নীড় মনে মনে: কালনাগিনী….. তোর জন্য আজ আমার ভালোবাসা…. আমার মেরিনের এই অবস্থা।   তোর জন্য আমার মেরিন অন্ধকারে ডুবে গেছে। ভালোবাসার মেরিনকে তুই ঘৃণার মেরিন বানিয়ে দিয়েছিস।  তোর আর তোর বাবার তো আমি  এমন হাল করবো যে ২য় বার আর কেউ এমন ১টা জঘন্য কাজ করতে হাজারবার ভাববে।  তোরা বাপ-বেটি কেবল খুনই করিসনি সেই সাথে ১টা ফুলের মতো জীবনকে  তোরা শেষ করে দিয়েছিস। ১টা সন্তানকে তার  মা-বাবার থেকে দুরে করে দিয়েছিস। সারা দুনিয়া দেখবে তোদের কি অবস্থা হয়। আর এটাই হবে আমার বউয়ের জন্য সেরা anniversary & wedding gift… সেদিন সারা দুনিয়ার সামনে আমি আমার মেরিনকে আবার ভালোবাসা মেরিন বানাবো। সেই সাথে আবার মেরিনকে বিয়ে করবো।   আর তুই….. তুই না বাচতে পারবি না মরতে….. মরার ভিক্ষা চাইবি কিন্তু মৃত্যু তুই পাবিনা…….     

 

.

 

[হ্যা নীড় নিরার সত্য এবং মেরিনের অতীত জানতে পেরেছে।  টানা ২ মাস অনুধাবন করে নীড় সবটা জানতে পেরেছে।  আর জেনে মেরিনকে আরো ভালোবেসেছে। কিন্তু তার থেকে হাজারগুন বেশি নিরাকে  ঘৃণা করতে শুরু করেছে।  যেদিন নীড় সত্যিটা জানতে পারে সেদিনই চেয়েছিলো নিরা আর ওর বাবাকে জানে মেরে দিতে। পরে ভাবলো কেবল জানে মেরে দিলে ওদের শাস্তি কম হবে ভেবে নীড় plan  বানায় যে সব নিরার সাথে অভিনয় করে সব নিরার মুখ দিয়ে স্বীকার করাবে। এরপর ওর এমন হাল করবে যে …… মেরিনের প্রতিটা কষ্টের হিসাব নেবে ওদের কাছ থেকে। 

 কিন্তু নীড় জানেনা যে আরো ১বার ভাগ্য মেরিনকে নিয়ে পরিহাস করবে। ]

 

.

 

রাতে…..

রাতে নীড় বাড়িতে পৌছালো। আজকে ঠিক করেছে যে ও মেরিনকে গিয়ে সব সত্যটা বলে দিবো। যে ও নিরার সত্যটা জেনে গেছে।  গতকিছুদিন ধরেই বলতে চেষ্টা করেছে কিন্তু মেরিনের  মুড সুইং এর জন্য বলতে  চেষ্টা করেও বলতে পারেনি। কিন্তু আজকে নীড় বলবেই।  নীড় রুমে গিয়ে অবাক হয়ে গেলো।  কারন সারা ঘর এমনভাবে ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে যে মনে হচ্ছে এটা ফুলের বাগান।  খাটটাকেও খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।   খাটের মাঝখানটাতে লাল টুকটুকে শাড়ি পরে ঘোমটা টেনে  মেরিন বসে আছে।  নীড় মুচকি হাসি দিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে মেরিনের পাশে গিয়ে বসলো।  মেরিনের ঘোমটা টা তুলে মুগ্ধ হয়ে গেলো। অস্বাভাবিক সুন্দর লাগছে মেরিনকে।  নীড় মেরিনের কপালে চুমু একে দিয়ে মাতাল কন্ঠে

 বলল: আজকে এভাবে ঘায়েল করার কারন???   এই কদিন কামড়,কিল, ঘুষি , লাথি দেয়ার  পর কি আজ এভাবে মারবে…… 

 

 মেরিন আজও জবাবে কেবল ১টা হাসি দিলো। যে হাসিটা ও আগে দিতো।  ওদের সম্পর্কটা স্বাভাবিক হওয়ার আগে।  

 

নীড়:আজ প্রায় ৬মাস পর তোমার এই রহস্যময় হাসি দেখলাম। কারনটা জানতে পারি এই হাসির??

  মেরিন: সব হাসির কারন এবং সব ভালোবাসার মানে খুজতে নেই…..

  নীড় মেরিনের নাকে নাকটা ঘষে 

বলল: পাগলি…. এর আগে আমি তোমাতে হারিয়ে যাই ১টা অনেক জরুরী কথা তোমাকে জানাতে চাই….. বলতে চাই। 

 মেরিন নীড়ের ঠোটের ওপর আঙ্গুল রেখে 

বলল: shush….. আজকে আমি কিছু জানতে চাইনা….. কিছু শুনতে চাইনা….. আজকে কেবল আপনাকে ভালোবাসতে চাই….. কেবল আপনার ভালোবাসায় হারাতে চাই…ভালোবাসবেন আমায়…

 

.

 

সকালে..

 নীড়ের ঘুম ভাঙলো।  কিন্তু আজকে বুকের ওপর মেরিনকে পেলোনা। অবাক হলো।   নীড় উঠে বসলো।  সাইডে ১টা চিঠি পেলো। তাতে লেখা…

 

” fresh হয়ে ঠিক ১১টায় নিচে আসুন। না ১মিনিট আগে না ১মিনিট পরে।  “

 

 হাতের লেখাটা যে মেরিনের তা বুঝতে একটুও দেরি হলোনা নীড়ের। 

 নীড়: আরে আমার বউটারে…… কি জানি আজকে আবার কোন পাগলামি করবে… জানটা আমার……..  

 

নীড় মেরিনের কথা মতোই ঠিক ১১টায় নিচে গেলো।  গিয়ে  দেখলো যে সেখানে কবির-কনিকা,  নিহাল-নীলিমা, নিরা আর জন দারিয়ে আছে।

 

নীড়: কি ব্যাপার সবাই ১সাথে জরো হয়ে?  সবাই তো আছে কিন্তু মেরিন কোথায়?  

নিহাল: জানিনা রে। খালি কালরাতে বলল ১১টা বাজে যেন এখানে থাকি। 

কবির: হ্যা… আমাদেরও কাল রাতে বলেছে ১১টায় এখানে থাকার জন্য। আর তারথেকেও বড় কথা

১৫টা বছরপর মেয়ের মুখে বাবা ডাকটা শুনে মনে হয়েছে স্বর্গ পেয়েছি….. 

 জন: হয়েছে আপনাদের ঘাটিয়া মনের ভাব প্রকাশ করা?  

নীড়: কি হলো জন??  তোমার কথায় আজ যুদ্ধের আভাস পাচ্ছি।  কাহিনি কি বলো তো??

 জন: আমি  আল্লাহর বান্দা ,  রাসূলের উম্মত। আর মেরিন বন্যার বডিগার্ড।  ম্যামের   order ছারা আমি অন্য কারো order follow করিনা। করতে বাধ্যও নই। এমনকি আপনারও না।  সে যাই হোক। আমার দায়িত্বটা আমি শেষ করি।  mr. & mrs. khan এটা আপনাদের চিঠি আপনারাই কেবল এটা পড়ুন….  mr. & mrs. chowdhuri…. এটা আপনাদের চিঠি…..  স্যার এটা আপনার চিঠি…  mrs. নিরা এটা আপনার  চিঠি।  সবাই নিজেদের চিঠিটা পড়ে ফেলুন।     

 

.

 

কবির-কনিকার চিঠি…… 

” প্রিয় আম্মু-বাবা,    

 

জানি আমি তোমাদের প্রিয় না। কিন্তু তোমার আমার খুব প্রিয়।  আমি জানি আমি তোমাদের মেয়ে হওয়ার যোগ্য নই।  কখনোই তোমাদের মেয়ে হতে পারিনি আর কখনো পারবোও না।   কিন্তু তোমরা আমার আম্মু-বাবা ছিলে আছো আর সারাজীবন থাকবে।  এই চিঠিটার পাশেই ১টা  will আছে। property paper… আমি খান  empire এর একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী হয়ে এই খান  empire ওই নিরার নামে করতে পারবোনা। কারন ওই নিরা….. থাক কারন টা না হয় তোমরা নাই জানলে।  মেনে নিতে পারবেনা। যাই হোক। পুরো খান  empire আমি তোমাদের নামে করে দিয়েছি।  তোমরা এর যা খুশি করতে পারো।  ভালো থেকো।  

 

ইতি তোমাদের 

খুনি মেরিন……   “

 

.

 

 নিহাল-নীলিমার চিঠি……..     

“প্রিয় মামনি-বাবা, 

 তোমাদের জন্যই আমি নতুন করে মা-বাবা ফিরে পেয়েছিলাম।  বাবা হয়তো কখনো মেয়ে বলে ডাকোনি….. কিন্তু তোমার ব্যাবহারে আমি বাবার স্নেহ পেয়েছি।  তুমি যেদিন আমার মাথায় হাত রেখেছিলে সেটা আমার জন্য খুব  special ছিলো। আমি জানি তুমি আর্শীবাদও করে ছিলে। আর যেদিন আমার  হাতের মাংস

পিঠা খেতে চেয়েছিলে সেদিন সত্যিকারের অর্থে আমি বাবা পেয়েছিলাম।  আর মামনি… তোমার কথা কি বলবো? তুমি আমাকে ছেলের বউ না মেয়ে বানিয়ে রেখেছিলে।  ১৫টা বছর মায়ের যে কোলের জন্য ছটফট করেছি সে কোল তুমি আমাকে দিয়েছো।  ৠণি করে দিলে।  এখন নিরা নীড়ের বউ হবে। নীড় খুশি থাকবে। এর থেকে আনন্দের আমার আর কিছু নেই। কিন্তু যে সত্যটা তুমি আমি জানি সেটার জন্য বলছি নীড়কে save রাখার দায়িত্বটা তোমার হাতে দিয়ে গেলাম।  ভালো  থেকো তোমরা। 

 ইতি তোমাদের

 বউমা।”

 

 নিরার চিঠি…..

  “প্রিয় খুনি, 

 

কি রে অবাক হলি? কি ভেবেছিস আমি কোনোদিন কিছু জানতে পারবোনা?   তুই আমার মামাকে মেরেছিস সেটা কেউ কোনোদিন জানবে না?  তুই এখনও কেন বেচে আছিস জানিস???   আমার আম্মু-বাবার জন্য।  কারন তোর গায়ে ১টা ফুলের টোকাও  ওরা মেনে নিতে পারেনা। তোকে জানে মেরে দিলে তো তাদেরও পাওয়া যাবেনা।  তুই এবার নীড়কে পেয়ে যাবি…..  কিন্তু যদি কখনো কোনোদিন নীড়ের দিকে তোর খুনী হাত বারাস তবে মনে রাখিস ওই মুহুর্তে তুই নিজের কাল দেখতে পারবি।  

ইতি তোর 

কাল মেরিন।”

 

     নীড়ের চিঠি…….  

 

“প্রিয় নীড়,  

 

  যেদিন প্রথম আপনি আমার কাছে এসেছিলেন সেদিন আমি আপনাকে ১টা কথা বলেছিলাম যে  আপনার ঘৃণা মেনে নিতে পারবো কিন্তু করুনা না।  কিন্তু আপনিতো আমাকে ছলনা করলেন।   যাই হোক। আপনি চেয়েছিলেন না আপনার নিরা যেন খান  empire এর মালকিন হয়। হয়ে যাবে। আমি mr. & mrs. khan  এর নামে সব সম্পত্তি transfer করে দিয়েছি।  এটাই তো ছিলো আমাকে বাচিয়ে রাখার কারন…..   আসলেই আপনি খুবই ভালো neurologist……  আমি তো আপনার ভালোবাসা কখনোই চাইনি। কারন আপনাকে ভালোবাসার আগে আমি এই শর্ত দিয়ে নেইনি যে আপনিও আমাকে ভালোবাসবেন…….  তবে কেন এই ছলনা টা করলেন?  যদি স্বামীর অধিকার নিয়ে divorce  এমনকি নিরাকে ২য় বিয়ে করতেও চাইতেন তবুও দিয়ে দিতাম।  কিন্তু আপনি তো ছলনায় বিশ্বাসী।   তবুও আপনার  ওপর আমার কোনো অভিযোগ নেই। কারন এতে আপনার দোষ নেই। আমার ভাগ্যে হয়তো আমার আল্লাহ  সুখই কিছু  লিখেননি।   mr. & mrs. khan কে একটু দেখে রাখবেন please …..  আমার মা-বাবা হিসেবে নাই দেখলেন অন্তত নিরার খালামনি-খালু হিসেবে দেখে রাখবেন। এই চিঠিটার সাথে divorce paper আছে। নীড়-মেরিনের। আমি sign করে দিয়ে গেলাম। এটা আপনার জন্য উপহার । আমার তরফ থেকে। কারন ছলনার ছলেই আপনি আমাকে যে মিথ্যা ভালোবাসার মুহুর্ত দিয়েছেন সে মুহুর্তগুলোকে সত্যি করে সাজিয়ে রাখবো। যা আমার বাকীটা জীবন চালানোর জন্য যথেষ্ট। আপনার ভালোবাসা হয়তো সত্যি ছিলোনা কিন্তু আপনার হাতের প্রতিটা ছোয়া তো সত্য ছিলো। সেটুকুই আমার  জন্য অনেক। আপনার দেয়া ভালোবাসার চিহ্ন হবে আমার বেচে থাকার অবলম্বন। আপনার জীবন থেকে সকল ঘৃণার অবসান ঘটিয়ে চিরতরে চলে গেলো ঘৃণার মেরিন। সে কখনো আপনার সুখের পথের বাধা হবেনা। না সে মরবেনা  কারন আপনি তাকে নতুন করে বাচার কারন দিয়েছেন। তারজন্য অসীম ধন্যবাদ। সুখে থাকবেন। & for the last time…

i love u…

   ইতি আপনার 

ঘৃণারমেরিন।

 

চিঠিটা পড়ে নিরা ছারা সবার চোখে পানি।  নীড় ধাপ করে বসে পরলো।  

জন: আশা করি এখন সবাই শান্তি। কারন সবার ঘৃণার অবসান ঘটিয়ে সকলের ঘৃণারমেরিন আজকে  চলে গেলো। কেউ কখনো আর মেরিন বন্যাকে খুজে পাবেননা। সে কোথাও নেই। ঘৃণারমেরিনের কাহিনি এই পর্যন্তই ছিলো।  জানিনা সে কোথায় আছে? কোথায় যাবে? সকলকে শান্তি দিয়ে নিজেকে শাস্তি দিয়ে চলে গেছে সে।   তবে এতোদিন যে জন অশান্তির মেরিনের সাথে থেকেছে সে সবাইকে কি করে এতোটা শান্তি দিতে পারে। মেরিন এখন আমার boss না। তাই তার কথা শুনতে আমি বাধ্য নই। আর তাই সকলের চিঠিটা পড়েছি। আর সব সত্যটা সবাইকে জানাতে এসেছি।  যেটার নিষেধাজ্ঞা ছিলো আমার ওপর।   নিরা তুই তোর চিঠিটা পড় তো ১বার জোরে জোরে। 

   নিরা: জন তোমার সাহস কি করে হয় আমাকে তুই করে বলার?  

জন নিজের gunটা বের করে 

বলল: সাহসের দেখেছিস কি? তুই  চিঠিটা পড়বি এবং সেই সাথে সব সত্য বলবি …. এখনই।  না হলে যে কটা বুলেট আছে সবগুলো ঠিক তোর heart বরাবর লাগাবো।   

 

নিরা ভয়ের চোটে সব ভরভর করে বলে দিলো।   সব শুনে সবাই স্তব্ধ।  

 

জন: আমার আর কিছুই বলার নেই।  নীলিমা ম্যাম…. এই নিন recorder …….  mr. khan…. এই নিন gun…. এটা আপনাদের টাকার ছিলো।

  জন চলে গেলো।  

 

 নিরা মাথা নিচু করে দারিয়ে আছে।   কনিকা কবিরের হাত থেকে gunটা নিয়ে দুমদুম করে নিরার দিকে গুলি করতে লাগলো।  কিন্তু কনিকা shoot করতে না পারায় আর ১টা  shocked এ থাকার কারনে  এবং সেই সাথে নিরা  সরে যাওয়ায় নিরার কেবল হাতে আর shoulder এ গুলি লাগলো।  নিহাল নিরাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলো।         নীড় এখনও একইভাবে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে।  নীলিমা নীড়ের কাধে হাত রাখলো। নীড় বলে ধাক্কা দিলো। আর সাথে সাথে নীড় কান্নায় ভেঙে পরলো। 

 

 নীড়: ও মামনি… ও মামনি..আমার মেরিন চলে গেলো কেন??   ওকে বলোনা ফিরে আসতে। ও তোমার কথা ঠিকই শুনবে। বলোনা  মামনি।  ও মামনি ওকে বলোনা আমার ভালোবাসাও ছলনা ছিলোনা।  ওকে যে আমি সত্যি সত্যি ভালোবেসেছিলাম।  আমি তো ওর সকল দুঃখ দুর করার জন্য, কেবল নিরাকে ধংব্স করার জন্য ওসব করছিলাম। ততুমি তো জজানো মামনি। ওকে বলোনা মামনি ও আমার ঘৃণারমেরিন না.ভালোবাসার মেরিন.. খুব ভালোবাসি ওকে। খুব।  ওকে ছারা বাচতে পারবোনা..

 

 সেদিন নীড়ের আর্তনাদ সকলের দুঃখকে ছাপিয়ে যায়।   কিন্তু তার সেই হৃদয়ভাঙা চিৎকার শোনার জন্য তার ভালোবাসার মেরিন ছিলোনা।  কারন সে চলে গেছে অজানার পথে।  হায়রে অভাগী যদি সবটা জানতে পারতো।  তাহলে হয়তো গল্পটা আজকে এখানেই শেষ হয়ে যেতো।   কিন্তু কিছু করার নেই।  সব মা ই চায় তার সন্তানের সুরক্ষা। তাই মেরিনও চেয়েছিলো তার অনাগত সন্তানের সুস্থতা, সুরক্ষা। যদি anniversary এর দিন নীড় মেরিনের জীবন টা চায় মেরিনযে দিতে বাধ্য। কারন  সে যে নীড়কে ছুয়ে কথা দিয়েছে।   সেদিন নীড় যা চাইবে সেটাই দিবে।  অন্য সময় হলে হাসতে হাসতে জীবন দিতে পারতো।   কিন্তু এখন যে ওর ভেতর আরো ১টা জীবন আছে। ও নিজেকে শেষ করতে পারবে না। কিন্তু অভাগী তো জানেনা যে নীড়ের ভালোবাসা অভিনয় ছিলোনা। ওর উদ্দেশ্য যে অন্যকিছু ছিলো।  ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন। তাই মেরিন ফুলকে ভুল ভেবে নিজের সুখের জীবন ভাসিয়ে দিলো। আসলে মেয়েটা হারাতে হারাতে এতোটাই দুর্বল হয়ে গেছে যে ওর কাছে আর হারানোর শক্তি নেই।  নিজের সন্তানকে ও হারাতে পারবেনা। তাই  সন্তানকে নিয়ে নিজেই সকলের থেকে হারিয়ে গেল।  

…..

……..

[চলবে……]

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ১০ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

   

    

     

৮ বছর পর……  

কোলকাতায়…     

south point school ….  

 

মনি:নির্বন …..  নির্বন…..   এই দীপু নির্বনকে দেখেছো??  

দিপু: না আপু।     

মনি:গেলো কোথায় ছেলেটা।  নির্বন…….     

 

.

 

ওদিকে……. 

রনি, মেঘ, চন্দন নামের ৩টা ছেলে রোহান নামের ১টা ছেলেকে ধরে রেখেছে। আর নির্বন ওকে পিটাচ্ছে।   

নির্বন:আর কোনোদিন এমন কথা বলবি তুই?? এমন কাজ করবি?  হ্যা… বল?    

রোহান:দেখ   নির্বন আমি মিসকে বলে দিবো যে তুই আমাকে মেরেছিস…..  

নির্বন: মিসকে বলে দিবি?? তো কি বলবি? যে আমি তোকে মেরেছি??  কেউ বিশ্বাস করবে? কেউ করবেনা। কারন আমি best student ….  best well mannered student … award ও পাই।  আর  সেটা সবাই জানে।  কিন্তু আমি যদি বলি যে তুই কি করেছিস তবে না তোকে এই  school থেকেই বের করে দিবে।  বাসায় গিয়ে বিচার দিবি তাও আমার কিছু হবেনা। তোর মা-বাবা তোকেই বকবে। তোর কথা শুনবেই না। আর তাছারাও এই স্কুলের principal কে জানিস?? আমার মামিমনি…..  আমার মামা কে জানিস? শহরের সেরা ধনীদের মধ্যে ১জন।    কেউ আমার কিচ্ছু করতে পারবেনা। বুঝেছিস? 

 

 রিদি: এই নির্বন মনি আপু  এদিকেই আসছে। 

 নির্বন: oh fish…..    guys guys guys….  change all of this ….    আর রোহানের বাচ্চা আপুর সামনে আমার হ্যা তে হ্যা আর না তে না বলবি না হলে  এমন মার মারবো যে…..    

 

.

 

মনি: নির্বন… 

 বলেই ….  মনি দরজা খুলল।  খুলে দেখে যে নির্বন, মেঘ, রনি, রোহাদ, চন্দন,রিদি, মিলি, দিনা বসে বসে পরছে।  group study করছে।   মনির কেন যেন খটকা লাগলো।  

 

তবুও মনি হাসির রেখা টেনে 

বলল: একি তোমরা এখানে??

 নির্বন: আরে আপু তুমি?? আসো ভেতরে আসো।

  মনি: পড়াশুনা হচ্ছে বুঝি???  

রিদি: হামম আপু।  

মনি: তোমরা আসলেই খুব ভালো। তাই জন্য তো টিফিন time এও পড়ছো। 

 নির্বন: পড়তে হবেই আপু….  সামনে half yearly  exam না।।।  

মনি: good… সবাই কি টিফিন করেছো??   

সবাই:….. 

 মনি: তারমানে করোনি। ১কাজ করো সবাই টিফিন  করে নাও। 

 সবাই: ok… আপু।  

সবাই বেরিয়ে গেলো।   

 

.

 

নির্বন: চলো আপু আমরাও টিফিন করে নেই।

  মনি চুপচাপ নির্বনের সামনে গিয়ে   নির্বনের কানটা মলে দিলো।  

 

নির্বন: আরে আরে আপু…. কি করছো কি?? লাগছে  তো আমার। 

 মনি: লাগার জন্যেই তো ধরেছি।  আবার মারামারি করছিলি কেন??? 

 নির্বন: মারামারি ??  আমি?? কি যে বলো?? কার সাথে মারামারি করবো??? they r  all my কলিজা।  

মনি: কলিজা না…..  রোহান তোর কলিজা কবে থেকে হলো বল দেখি???  ওকে মারার জন্যেই তুই এখানে এনেছিলি। তাইনা?

 নির্বন: কি যে বলো আপু। আমি কি কখনো কাউকে মারতে পারি?? আমিতো sweet boy… আমিতো মারামারির “ম” ও জানিনা।

 মনি: ওরে আমার sweet boy রে….. আমার সামনে একদম drama করবিনা। আমি মা-বাবা, টিচার & ফুপ্পি নই যে তোর এই cute face এর আড়ালে রাগী নির্বন কে চিনবোনা। তোকে আমি হারে হারে চিনি।   এখন বল ওকে মারছিলি কেন??

  নির্বন: তো কি করবো? ও রিদিকে ইচ্ছা করে ধাক্কা দিয়ে  ফেলেদিয়েছিলো কেন???  তারপর sorry   বলতে বলেছি সেটাতো বলেইনি উল্টা আর ফালতু কথা বলতে লাগলো। এমনকি মামনিকে নিয়েও পচা কথা বলতে লাগলো।  এতো সাহস আমার মামনিকে পচা কথা বলা, আর আমি রাগ control করতে পারলাম না। লাগালাম।  

 

মনি: এতো রাগ কেন তোর?? তুই কি সত্যি আড়াল ফুপ্পির ছেলে?  ফুপ্পি কতো ভালো, কতো polite, কতো sweet…. আর তুই? বিশ্ব বদমাশ।

  নির্বন: কে যে বলো আপু? আমি তো সব থেকে ভালো বাবু। দেখোনা টিচাররা সবাই বলে।  

মনি: ওরে আমার ভালো বাবুরে……  কেউ তো আর তোমাকে চেনেনা। একি.. তোর হাতে রক্ত কেন??  

নির্বন: কিছুনা। just একটুখানি। 

 মনি: একটুখানি? তোর কাছে হতে পারে  একটুখানি। ফুপ্পির কাছেনা। ফুপ্পির heart attack করানোর জন্য এটাই যথেষ্ট।  দেখি বস তো। bandage করে দিচ্ছি। নিশ্চয়ই মারামারি করতে গিয়ে পেয়েছিস ব্যাথাটা। কেন যে মারামারি করতে যাস।  

নির্বন: আমি কি খামোখা কাউকে মারি নাকি? যদি কেউ ভুল করে তখন তাকে শাস্তি দেই। 

 মনি: চুপ থাক। যেদিন ফুপ্পি এগুলো জানবে তখন কি হবে? ফুপ্পি কতো কষ্ট পাবে?? 

  নির্বন:  মোটেও না। আমার মামনি কে কখনো আমি কষ্ট পেতে দিবোনা।  আর তাছাড়াও মামনি জানবে কি করে?? তুমি আছোনা। আমার world best আপু…..  

মনি: হইসে হইসে আর তেল দিতে হবেনা। কোনোদিন ফুপ্পিকে বলিনি আর বলবোও না। কারন আমি জানি যে আমার world best ভাইটু কোনো ভুল করেনা।

  নির্বন: love you আপু।

 মনি: love u too ভাইটু……

 

নির্বন। ছেলেটার পুরো নাম নির্বন আড়াল। ওর মায়ের নাম আড়াল। সে ১জন ডাক্তার। নির্বন class ২তে পড়ে। স্কুলের সব টিচার & কর্মচারীদের চোখের তারা। ওর মতো ভালো বাচ্চা ২য়টা নেই। play class থেকে best well mannered student এর award পেয়ে আসছে।  কিন্তু কেউ জানেনা যে এই innocent নির্বনের আড়ালে ১টা রাগী, জেদী ছেলে লুকিয়ে আছে।

 

.

 

অন্যদিকে…..  

 ১টা bike  হঠাৎ করে সামনে চলে আসাতে ১টা microbus খুব জোরে break মারলো।  গাড়িটা থামতেই পেছনের গাড়ির break করা গাড়ির সবাই নিচে নেমে এলো।  আর জিজ্ঞেস করতে লাগলো যে সবাই ঠিক আছে কিনা।  

 

doctor  নিপা: আরে … সবাই তো এখানে। আড়াল ম্যাম কোথায়?  

doctor দীপ্ত: oh no doctor  আড়াল তো মনে হয়  গাড়ির ভেতরেই।  

নিপা: আমরাই ভয় পেয়ে গেছি । তাহলে আড়াল ম্যাম তো মনে হয়ে কাপছে। 

  দীপ্ত: ভয়ে heart attack না করে ফেলে।  lets go to her……  

doctor  সুমন:  চলো চলো।  

 

সবাই গাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখলো যে পেছনের সিটে বসে আড়াল ভয়ে চোখ বন্ধ করে কাপছে। আর কি যেন বিড়বিড় করে বলছে। নিপা দৌড়ে আড়ালের কাছে গেল।  আড়ালের কাধে হাত রাখতেই আড়াল ভয় পেয়ে চমকে উঠলো।  

 

নিপা: ম্যাম ভয় পাবেন না। its me… নিপা। আপনার P.A.।  

ডাক্তার আড়াল চোখ খুলল।  মায়াবি তার চোখে চাহনি। কিন্তু কালো ফ্রেমের চশমার আড়ালে থাকে সেই অসম্ভব সুন্দর চোখ ২টা।  অনেক সুন্দর চেহারা তার।  সবসময় ফুল হাতার dress পরে।  কোমড় পর্যন্ত  চুল সবসময় খোপা করে রাখে। নিজের সব কথাই সে আড়ালে রাখে। “আড়াল”  নামটা তাকেই শুধু মানায়। অনেকটা ভীতু।  খুব শান্ত স্বভাবের। নম্র, ভদ্র। কখনো উচ্চ স্বরে কথা বলেনা।  খুবই ভালো ব্যাবহার। রাগ কি জিনিস তা সে জানেই না।   ভালো হওয়ার সব গুন তার মধ্যে আছে।  মেডিসিন ডাক্তার। খুবই ভালো ডাক্তার।  রক্ত সহ্য করতে পারেনা বলে সার্জেন হয়নি। মেডিসিন ডাক্তার হয়েছে। তাকে সবাই ভালোবাসে। সে হলো সবার ভালোবাসারআড়াল। ১জন single mother। 

 

.

 

আড়াল: ককককি হয়েছে??  সসসব ঠিক আআছে ? এএমন হলো কককেন?

  নিপা: জীম ম্যাম।  এখন সব ঠিক আছে।   আপনি ঠিক আছেন তো ম্যাম? 

  আড়াল: হহহামম। এএকটু পপপানি খাবো।  

নিপা: এই নিন ম্যাম।  

আড়াল পানি খেলো।  

আড়াল: আমরা কি পৌছে গেছি? 

 সুমন: না dr. আড়াল।  ৪-৫ মিনিটের  মধ্যে পৌছে যাবো। 

 আড়াল: ওহ।  তাহলে আআপনারা গাড়ি দিয়ে যযান আমি রিকশা দদিয়ে চলে যাবো।  

সুমন: no worry dr. আড়াল এবার আর অমনভাবে  গাড়ি চলবে না।  ভয় পাবেন না।  

আড়াল: হামম।    

 

ডাক্তাররা সবাই গাড়ি করে ১টা গ্রামে গেলো ফ্রি চিকিৎসা দিতে।  

 

এই শান্তশিষ্ট , ভীত ডাক্তার আড়ালের ছেলেই সেই নির্বন। তুফান নির্বন। নির্বন ৭বছরের ১টা ছেলে। class 2 তে পড়ে।   ভীষন  জেদী, রাগী।  নাকের মাথায় সবসময় রাগ থাকেই।   চোখের সামনে  অন্যায় দেখলে সহ্য করতে পারেনা।  কিন্তু আড়ালের কাছে, সব টিচারের কাছে, মামা-মামির কাছে নির্বন হলো মায়ের মতো শান্তশিষ্ট ১টা ছেলে।  কিন্তু নির্বনের ৬টা বন্ধু আর মামাতো বোন মনি জানে যে নির্বন কতোটা রাগী-পাজী।  আর যারা নির্বনের হাতে মাইর খেয়েছে তারা চেনে নির্বনকে।   মনি হলো   নির্বনের মামাতো বোন। class ৬ এ পড়ে।  নির্বনকে খুব আদর করে।  

 

.

 

  নির্বনের ছুটিরপর……     

নির্বন: মনি আপু…. 

মনি: বলতে থাক।  

নির্বন: বলো তো আজকে কে নিতে আসবে আমাদের? মামা নাকি মামনি?   

মনি: তোর মামা মানে আমার বাবা নিতে আসবে। 

  নির্বন: উহু। আজকে আমার মামনি নিতে আসবে। মানে তোমার ফুপ্পি। 

  মনি: জী না  ।

  নির্বন: জী হ্যা।  ওই দেখো মামনির গাড়ি চলে এসেছে ।   

 

আড়ালের গাড়ি থামলো  আড়াল গাড়ি থেকে নামলো। নির্বন আর মনি দৌড়ে এলো। আড়াল ২জনকে জরিয়ে নিলো।  

 

আড়াল: আমার ২টা কলিজার টুকরা। 

 মনি: ফুপ্পি….  

নির্বন: মামনি।   

আড়াল: class কেমন হলো ২জনের? 

 ২জন: ভালো।  

আড়াল: ওলে আমার কলিজা ২টা।  কিন্তু দৌড়ে এলে  কেন?? পরে টরে গেলে???  

নির্বন: মামনি অল্প জোরেই দৌড় দিয়েছি। আর দৌড়াবোনা।

আড়াল: good boy…  এখন চলো সবাই।  

 

আড়াল ২জন কে নিয়ে বাসায় গেলো। 

  মনি: ফুপ্পি আমরা কোন বাসায়  যাচ্ছি।    

আড়াল:ফুপ্পির বাসায়।  

মনি: সত্যি?? yeappy……  

 নির্বন: আপু আজকে অনেক মজা করবো।   মামনি আজকে বাসায় গিয়ে  কি surprise পাবো? 

 আড়াল: বাসায় গেলেই পাবে।  

নির্বন: কি রান্না করেছো সেটাতো বলবে!!!  

আড়াল: বলো তো দেখি কে  guess করতে পারে??

  মনি: ফুপ্পি ফুপ্পি…. আমি বলি???  

আড়াল: বলো তো।  

মনি: চিকেন ললিপপ, fried noodlse, পাস্তা, আর আর আর চকোলেট ফাজ।   

নির্বন: মামনি সত্যি!!!

  আড়াল: হামম।  

নির্বন: কিন্তু….. 

আড়াল: কিন্তু কি বাবাই??? 

 নির্বন মিষ্টি ১টা হাসি দিয়ে 

বলল: কিছুনা মামনি।  আপু আর আমি তো একই। 

আড়ালের কাছে নির্বনের হাসিটাই ওর দুনিয়া।

আড়াল: ওলে  আমার সোনামনি।   তোমার প্রিয় রান্নাও করেছি। বিরিয়ানি। আর চকোলেট পুডিং। 

নির্বন: লাভ ইউ এত্তোগুলো মামনি…

 

.

 

in bangladesh…..   

নিহাল: রাত ৩টা বাজে। নীড় যে এখনো ফিরলোনা নীলা….  

নীলিমা: এই ৮ বছরে তোমার ছেলে কদিন বাড়ি ফিরেছে বলোতো……. বাড়িতে থাকে কদিন…. দেশেই থাকে কতোদিন……. খালি খুজে বেরায় মেরিনকে……  

নিহাল: ছেলেটাকে হারিয়ে ফেলেছি। 

নীলিমা: হামম।

নিহাল: তুমি সেদিন ঠিকই  বলেছিলে যে ১টা সময়ে মেরিন নীড়কে ছারলেও নীড় মেরিনকে ছারবেনা…….   

নীলিমা: ভাবতেও  পারিনি কথাটা এমনভাবে প্রতিফলিত হবে…..।  

 

.

 

নীড় । নীড় নামটা এখন সকলের অপছন্দের।  উগ্র মেজাজ, দুর্ব্যাবহার, রাগ সবকিছুর জন্য নীড়ই এখন ঘৃণার নীড় হয়ে গেছে।  মেরিনের যতো রং ছিলো সব রং এখন নীড় ধারন করেছে।   যখন যেখানে , বাংলাদেশের, দেশের বাইরে যেখানেই মেরিন নামের কোনো কারো খোজ পেলেই সেখানে চলে যায়।   নীড় হাতে লেখা “ঘৃণার কথাটা” মিশিয়ে তার আগে “ভালোবাসার” লিখেছে।  ৮টা বছর  নীড় সাইকো হয়ে গেছে। নীড়ের সব পোশাকে মেরিনের নাম লেখা।  নীড়ের সব দোআয়  এখন মেরিন।   কবির-কনিকা কাদতে কাদতে অন্ধ প্রায়।  বিভিন্ন  মাজারে মাজারে ঘুরেছে।  হজ্জ করেছে মেরিনকে পাওয়ার আশায়। কিন্তু মেরিন হারিয়ে গেছে। যেমন করে বয়ে যাওয়া বায়ুকে আর ফিরে পাওয়া যায়না তেমনি মেরিনকেও পাওয়া যাবেনা।

 

.

 

ভোর ৪টা….  

নীড় বাসায় ফিরলো।  মাতাল হয়ে।  

নীড়:

 

 ‘ম্যা দেখু ততুঝে দদিন মেহ 

স’মার ততাবাহ 

ইয়ে আআগার ইইশক হ্যা

 তততো হ্যা বেইনতেহা…… 

 

তততু মাঙ্গলে আআগার 

জজজান দদদেদু তুঝে।

 তু আগার ববোলদে 

খুদকোহ কককারদু ফানাহ  

আ তুঝমেহ খাতম ককারদু 

ইয়ে  সসসাসে মেরি…. 

 

ইস ইশকে মে মমমারজাওয়াহ……

 তু যযো ককাহে ববো কককার জজাওয়াহ….’

  

 

নীড়:একি  মামনি ততুমি ঘুমাওনি।  

নীলিমা: যখন কোনো মায়ের ছেলে  বাড়ির বাইরে থাকে তখন কোনো মায়েরই ঘুম আসেনা।এসব ছাইপাস কবে বাদ দিবিরে??

  

নীড়: যেদিন আহমার জীবন ফিরে পপপাবোহ।

 

.

 

পরদিন…… 

সকালে…..  

নীড়ের ঘুম ভাঙলো।   

নীড়: এই বাবর…. বাবর….    

বাবর দৌড়ে এলো।  বাবর: জী স্যার।  

 নীড়: কয়টা ডাক দিতে  হয়েছে ? 

  বাবর: দদদদুইবার…..  

নীড়: u r fired …..   

বাবর: sorry sir. ১টা সুযোগ দিন। please …..  

নীড়: নীড় মেরিন আহমেদ চৌধুরী বর্ষন কাউকে ২য়  বার সুযোগ দেয়না। out।   

 

তখন নীড়ের ফোনে  মেডিকেল বোর্ড থেকে ১টা ফোন এলো।  

নীড়: hello ….  

author : hello mr. chowdhuri…

কোলকাতার CT hospital এ ১টা বাচ্চার brain  tumor হয়েছে।   খুবই  critical অবস্থা। সেখানকার ১জন senior  doctor আপনার নাম prefer করেছে বাচ্চাটার  surgery টা করার জন্য।

   নীড়: so sad!!! তো আমি কি করতে পারি?? 

 author : mr. chowdhuri আপনাকে সেখানে যেতে হবে  surgery টা করার জন্য। 

নীড়: আমি পারবোনা।  

author : you have to go….  

 নীড়: এই যে hello…. এটা সবাই জানে যে নীড় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করেনা।  আমার এখন কোলকাতা যাবার কোনো ইচ্ছা নেই।  তাই আমি যাবোনা। 

author :তাহলে আমরা আপনার practice বন্ধ করে দিবো।  licence বাতিল করে দিবো।  

নীড়: so what??? i don’t care…..  

author : mr. chowdhuri…..  আপনি কি জানেন যে আপনার নাম  ওই hospital  থেকে 

prefer কে করেছে?  

নীড়: না। জানিনা।  আর জানতেও চাইনা।  

author : mr. chowdhuri আপনার নাম prefer করেছে doctor জাফর ইকবাল।

  নীড়: so wh….  স্যার করেছেন??

  author : yes… এখন কি আপনি যাবেন?  

নীড়: of course…. আমি যাবো।  

author : ধন্যবাদ।   

নীড় ফোন রেখে দিলো।  

 

.

 

নীড়: বাবর…. বাবর…. এই বাবর।  

নীলিমা: কি হলো?  

নীড়: তোমার নাম কি বাবর? ও কোথায়? 

নীলিমা:  তুই নাকি ওকে  fire করেছিস।  তাই চলে গেছে।

 নীড়: oh yes…. whatever ….. কালকে আমি কোলকাতা যাচ্ছি।  

নীলিমা: কেন? 

নীড়: নীড় কখনো কাউকে জবাব দেয়না।  

নীলিমা: আমি কি জানতে পারিনা???  

নীড়: yes… পারো।  আমি তো নিজে থেকেই বলছিলাম।   তুমি প্রশ্ন

করলে কেন??

 নীলিমা: এই কারনে বলবিনা?

 নীড়: হামম।  

নীলিমা: আবার কোন মেরিনের খোজ পেলি???   

নীড় বাঘের মতো নীলিমার দিকে তাকালো। নীড়ের চোখ দেখে নীলিমা ভয় পেয়ে গেলো।  

নীড়: মেরিন শুধু একজনই। আর কোনো মেরিন নেই। আর কেউ মেরিন হতে পারেনা। got it???

.

নীলিমা বড় ১টা ঢোক গিলো 

বলল: হামম।  বববাবা। 

নীড়: now what ??  

নীলিমা: তুমি কি কোলকাতাতেও এমন হনুমান সেজে যাবে??? i mean একটু সেভিং টেভিং করে যাও।  

নীড়: আমি কি ওখানে বিয়ে করতে যাচ্ছি নাকি?? 

 নীলিমা: না তা না।।। airport i mean visa পেতে ঝামেলা হবে।  

নীড়: তুমি মনে হয় ভুলে গেছো যে  আমি নীড় মেরিন আহমেদ চৌধুরী বর্ষন। আমি আমার নিয়মে চলি।   

 বলেই নীড় washroom এ চলে গেলো। 

 

.

 

 নীলিমা: কি ছিলো আমার ছেলেটা আর কি হয়ে গেছে??? আমি জানিনা কবে পাবো আমি আমার ছেলেকে কবে ফেরত পাবো? পাবো কিনা? আমার নীড়কে ফেরাতে পারে একমাত্র নীড়ের মেরিন।   মেরিন মামনিরে….. কোথায় রে তুই??  তোকে যে খুব দরকার আমাদের। বিশেষ করে তোর নীড়ের।

তোর নীড়যে নষ্ট হয়ে গেছে। কবে ফিরবি রে তুই?? তোর খান empire …. তোর চৌধুরী empire যে তোকে ছাড়া শূন্য।  ফিরে আয়রে। দেখে যা তোর নীড়  আর তোর সেই ভালোবাসার নীড় নেই। এখন যে সে নিজেই 

ঘৃণার নীড় হয়ে গেছে।

…..

……..

[চলবে……]

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন

পর্ব – ১১ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

   

    

     

কোলকাতায়,

রাত ১টা.

 

আড়াল বারান্দায় দারিয়ে আছে।  আকাশপানে মুখ করে তাকিয়ে আছে।   মেঘের সাথে তারার খেলা দেখছে। সেই সাথে মেঘ-তারার খেলা দেখে মাতোয়ারা চাঁদের  হাসিও দেখছে। তখন কেউ আড়ালকে পেছন থেকে ১হাত দিয়ে জরিয়ে ধরলো আড়াল জানে এটা কার শরীরের ঘ্রাণ।

  আড়াল: আরে ! তুমি? এখনও ঘুমাওনি দুষ্টু? 

 নির্বন: উহু। আগে বলো তুমি কেনো ঘুমাও নি।    

আড়াল রকিং চেয়ারে নির্বনকে কোলে তুলে নিয়ে 

বলল,মামনির ঘুমটা ভেঙে গেছে। তুমি কেন উঠলে? হামম? 

নির্বন: আমি washroom যাওয়ার জন্য উঠেছি। দেখি আমার মামনিটা নেই।  বুঝলাম আমার মামনি আজকেও মেঘ-তারা-চাদের খেলা দেখছে।  

আড়াল: ওলে আমার সোনা বাচ্চাটারে।

 

আড়াল নির্বনের কপালে চুমু একে দিলো। 

আড়াল : হাতে কফি কেন? এতো কষ্ট করে কফি বানাতে গেলে কেন এতো রাতে?  

নির্বন: আমি তো জানি যে আমার মামনি হালকা শীতের মধ্যে কফি খেতে এত্তোগুলা ভালোবাসে।।  

আড়াল: আমার বাবাইটা বুঝি ভালোবাসেনা?

নির্বন: তোমার বাবাইটা তার মামনিকে বেশি ভালোবাসে। তাই তে সে মামনির কথা শুনে week এ ১দিন কফি খায়।  রোজ খেলে অসুখ হয় যে।  

আড়াল ছেলেকে বুকের সাথে জরিয়ে  নিলো।  

নির্বন: কি হলো মামনি? 

আড়াল:কিছুনা মামনি।  

নির্বন: তাহলে কফিটা খাও।  

 

আড়াল খেলো।  

আড়াল: বাহ! এটি আমার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে টেস্টি কফি। 

নির্বন: সত্যি??  

আড়াল: হামম। এখন 

এতো বেস্ট ১টা কফি বানিয়ে খাওয়ানোর জন্য তো আমার বাবুই পাখিটাকে ১টা গিফ্ট দিতে হবে। তো আমার বাবুই পাখিটার কি গিফ্ট লাগবে হামম? 

 নির্বন: আমার কিছুই লাগবেনা মামনি। আমার তো সবই আছে। আমি কেবল তোমার বুকের মধ্যে ঘুমাতে চাই।  

আড়াল: তাই? সেটাতো রোজই ঘুমাও।  কিন্তু মামনি যে তার বাবুই পাখিটাকে ১টা গিফ্ট দিবোই। কাল মামা-মামিমনি, মনি আপু, বাবুই পাখি আর মামনি মিলে আমিউজমেন্ট পার্ক এ যাবো। এতো এতো খেল না কিনবো।  এতো এতো রাইডে চরবো। মজার মজার খাবার খাবো। খুব মজা করবো।  

নির্বন: সত্যি মামনি?  

আড়াল: হামম।

 নির্বন: ধন্যবাদ  মামনি।  ভালোবাসি। বলেই নির্বন মায়ের গালে চুমু দিলো।

 

নির্বন: আচ্ছা মামনি তুমি মেঘ-তারা-চাদের খেলা কেন দেখো?

আড়াল: আমার ভালো লাগে বাবা। তাই। আর বেশি ভালো লাগে ওই শুকতারার পাশের ঝলমল করা তারাটাকে।

নির্বন: কেন?

আড়াল: কারন ওইটা তোমার বড়বাবা বলে….

নির্বন:আমার বড়বাবা মানে??

আড়াল: তোমার বড়বাবা মানে মামনির দাদুভাই।  

নির্বন: তাই?

আড়াল: হামম। সবসময় সবার থেকে উজ্জ্বল। যে তোমার মামনিকে পথ দেখায়।

.

.

.

২দিনপর,

নীড় কোলকাতা পৌছালো।  বাচ্চাটাকে দেখলো।  ট্রিটমেন্ট করলো। পরদিন নীড় বিকালে হাটতে বের হলো। ১টা পার্কের সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছে।  হাতে থাকা ছোট টুনি ট্যাক হুইস্কি এর বোতল টা কেবল বের করলো।   তখন কোথায় থেকে যেন ১টা ফুটবল এসে ওর হাতে  লাগলো। আর ঠাস করে নীড়ের হাত  থেকে বোতলটা পরে গেল।নীড় ভীষন রেগে গেলো।   নীড় পেছনে ঘুরলো।  দেখলো ৪-৫ টা বাচ্চা বাচ্চা ছেলে দৌড়ে আসছে। 

নীড়: এই বলটা কে ছুরে মেরেছে?   

ওদের মধ্যে থেকে  নির্বন এগিয়ে এসে মাথা নিচু করে 

বলল: আংকেল, আমি মেরেছি। 

 নির্বনের মুখটা কেমন যেন মায়াভরা। 

 তবুও নীড় রেগেই,

বলল:  খেলার জন্য এতো বড় পার্ক তারপরও মানুষের গায়ে বল ছুরে মারো কেন??? 

  নির্বন: সরি আংকেল।  

নীড়: সরি বলাতেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে? খুন করে এসে বলবে যে সরি তাহলে কি সব ঠিক হয়ে যাবে?? 

 নির্বন: সরি আংকেল।  

চন্দন: এই তুই শুধু শুধু লোকটাকে সরি বলছিস কেনরে?  তারওপর লোকটার ঝাড়িও খাচ্ছিস??  

নির্বন: আহ চন্দন। আমাদেরই তো ভুল ছিলো। খেয়াল রাখার দরকার ছিলো। আর তাছারাও আংকেল আমাদের গুরুজন। শ্বাসন করতেই পারেন।  গুরুজনদের শ্বাসনের মধ্যেও ভালোবাসা থাকে। শিক্ষা থাকে।  আমাদের ভুল ধারনাগুলো না ধরিয়ে দিলে আমরা সেগুলো ঠিক করবো কিভাবে? ক্ষমা করে দিবেন আংকেল।

নীড় নির্বনের কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলো। বলটা দিয়ে দিলো।   

 নির্বন মিষ্টি ১টা হাসি দিয়ে 

বলল: থ্যাংকিউ আংকেল।   

নির্বনের হাসির মধ্যে নীড় কি যেন ১টা খুজে পেলো।  

 

.

 

নির্বনের দিকে তাকিয়ে তাকিয়েই নীড় পেছনের দিকে হাটতে লাগলো। তখন আবার ১টা বাচ্চা ছেলের সাথে ধাক্কা লাগলো।   আর সেই ছেলেটার হাতে থাকা ৪-৫টা আইস্ক্রিম নীড়ের গায়ে পরে গেল। 

 

নীড়: হেই ইউ, চোখে দেখোনা?  আকাশের দিকে তাকিয়ে হাটো নাকি?  

মেঘ: আমি না হয় আকাশে চোখ দিয়ে হাটি। কিন্তু আপনি তো চোখ কান সব আকাশে দিয়ে হাটেন।  কখন  থেকে সরতে বলছি সরেন তো নাই।  তারমধ্যে চোখেও দেখেন না। 

  নীড়: এই ছেলে ১টা থাপ্পর দিবো। একে তো ভুল করেছো। তারমধ্যে মুখে মুখে তর্ক করছো।  

মেঘ: তর্ক কোথায়? আমি জাস্ট সত্যটা বললাম। আর আপনি শুধু আমাকে থাপ্পর মারবেন কেন? আমি কি করেছি?  একে তো ছোটদের সাথে কিভাবে বলতে হয় সেটা জানেন তারমধ্যে  পচা পচা কথা বলে। আপনার মতো মানুষের তো এই পার্কে ঢোকাই ঠিক হয়নি।  

মেঘের কথা শুনে নীড় ঠাস করে থাপ্পর মারতে নিলো।   কিন্তু ঠিক যখনই থাপ্পরটা মারবেই তখনই নির্বন মেঘকে সরিয়ে নিজে থাপ্পর টা  খেলো।  নীড় অবাক হয়ে গেল। সেই সাথে ওর বুকটাও কেপে উঠলো।   

 

নীড়: তু…. 

তখন নির্বন তখন হাতে দিয়ে ইশারা করে

 বলল: চুপ থাকো আংকেল।প্লিজ।মেঘ বল তো কি হয়েছে?

 নীড় অবাক হয়ে গেলো এতোটুকু বাচ্চার এটিটিউড দেখে।  মেঘ নির্বনকে সবটা বলল।  

 

.

 

নির্বন: আপনি কেন বিনাদোষে আমার বন্ধুকে কেন মারতে যাচ্ছিলেন?

নীড়: বিনা দোষ মানে? হি ইজ এ ম্যানারলেস! বেয়াদব। ভদ্রভাবে কথা বলতেই শেখেনি। 

নির্বন: আমার বন্ধু যেটা বলেছে সেটাই সত্যি।  আর আপনি বুঝি খুব শিখেছেন।  আপনি নিজেই তো  আদব-কায়দাহীব রেলগাড়ি।  নিজে আদব শিখে তারপর অন্যদের শেখাতে আসবেন। 

 নীড় নির্বনকে থাপ্পর মারতে গেলে নির্বন খপ করে হাতটা ধরে ফেলল।  নির্বনের চোখ রাগে লাল হয়ে গেলো।   নীড় আরো অবাক হলো। এই রাগী চোখ ২টা মেরিনের রাগী চোখের সাথে কতো মিল।  যখন মেরিন রেগে যেতো তখন ওর চোখ ২টাও ঠিক এমনটাই লাগতো।   

 

নীড় নিজেকে সামলে 

বলল:  এতোটুকু ছেলের এতো সাহস। আমার হাত ধরো তুমি। তুমি জানো আমি কে?  

 

নির্বন: জানিনা । আর জানতেও চাইনা।  আর সাহস দেখাতে বড় ছোটো লাগেনা। প্রতিবাদ করতে বয়স লাগেনা। আমি অপরাধ করলে আমাকে ১০টা থাপ্পর মারলেও আমি কিছু বলবোনা।

 নির্বন  নীড়ের হাতটা ছেড়ে দিয়ে

বলল: কিন্তু বিনা অপরাধে চোখ রাঙানোও সহ্য করেনা নির্বন।  

 

.

 

 “নির্বন”….  এই নামটা শুনেই নীড় স্তব্ধ হয়ে গেলো।   ওর মনে পরলো মেরিনের  বলা সেই কথাটা  নীড় এর সাথে বন্যার বন জুরে দিলে হয় “নির্বন”।  আর বলেছিলো  যে আমাদের  ছেলের নাম রাখবো “নির্বন”।    নীড় নির্বনের সামনে হাটু গেরে  নির্বনের  গাল ধরে অস্থির হয়ে 

বলল: তততোমার নননাম কি বললে বববাবাহ?

 

নির্বন: নির্বন। নির্বন আড়াল।

নীড়: তততোমার মায়ের নাম কি???

  নির্বন: ডাক্তার আড়াল। 

  নির্বনের মায়ের নাম শুনে নীড়ের মনটা খারাপ হয়ে গেলো।  নীড়ের চোখে পানি চলে এলো।  

নির্বন: একি আংকেল তুমি কাদছো কেন?  তুমি কি আমার কথায় খুব বেশি কষ্ট পেয়েছো?? সরি গো সরি!

নির্বন নীড়ের চোখের পানি মুছে দিয়ে 

বলল: সরি আংকেল। আমি তোমাকে hurt করতে চাইনি।  কিন্তু আসলে রাগ উঠলে মাথা ঠিক থাকেনা।  তাই ভুলভাল বলে ফেলি।  এই এত্তোগুলা sorry….  তুমি চাইলে আমাকে আরেকটা থাপ্পর মারতে পারো। তবু তুমি কান্না করোনা।  

 

নীড় নির্বনকে জরিয়ে ধরলো।  এতে ২জনেরই কেমন যেন ১টা ফিল  হলো।  

 নীড়: না বাবা তোমাকে  আমি আর মারতে পারবোনা।

  নির্বন: কেন??  

নীড়: কারন তোমার নাম নির্বন।  

নির্বন: কেন? আমার নাম নির্বন বলে আমাকে মারবেনা কেন??

 নীড়: কারন আমার ছেলের নামও নির্বন।

নির্বন: তাই বুঝি? 

নীড়: হামম।  

নির্বন: thats great …. উইই…..

 নীড়: কি হলো? 

 নির্বন: এখন তো আর আমার কখনো বিয়ে হবেনা। 

নীড়: মানে? কেন?  

নির্বন: কারন তুমি তো আমাকে আর থাপ্পর মারবেনা। 

 নীড়: থাপ্পরের সাথে বিয়ের কি সম্পর্ক?  

নির্বন: আরে বুদ্ধু….. ১গালে থাপ্পর দিলে তো আর বিয়ে হয়না। আর তুমি তো আমাকে আর আরেকটা থাপ্পর দিবেনা। তাই আর আমার বিয়েও হবেনা।

নির্বনের এমন মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনে নীড় হো হো করে হেসে উঠলো।  আজকে ৮টা বছর পর নীড় এমন মন খুলে হাসলো।  নীড়ের এই হাসি দেখতে নির্বনের বেশ  লাগছে।  ও নীড়ের দিকে তাকিয়েই রইলো।

 

.

 

নীড় দেখলো যে নির্বন ওর দিকে তাকিয়েই আছে। 

 নীড় হাসি থামিয়ে 

বলল: কি দেখছো?  

নির্বন: আমার স্বর্গ। 

 

বলেই নির্বন নিজেই থতমত খেয়ে গেল।  

নির্বন: না মানে সরি। আসলে আমার মামনি আমাকে কে এটা বলিতো। তাই তোমাকেও বললাম। রাগ করোনা প্লীজ।

 নীড়: হামম।  

নির্বন: আমি এখন আসি।  

নীড়: হামম। 

.

 

নির্বন ওর দলবল নিয়ে চলে গেল।   নীড় ডুবে গেল অতীতে।  নির্বন যেভাবে  ওর দিকে আজকে তাকিয়ে ছিলো মেরিনও অমন করেই তাকিয়ে থাকতো।   নীড় যদি জিজ্ঞেস করতো যে পরে ধরে কি দেখো? তখন মেরিন জবাবে 

বলতো: আমার স্বর্গ।    

 

আসলে নির্বন যখন খিলখিল করে হাসে তখন ওকে ওর বাবা নীড়ের মতোই লাগে।   আর তাই তখন  মেরিন(আড়াল) মুগ্ধ চোখে নির্বনের দিকে তাকিয়ে থাকে।  নির্বন যদি জিজ্ঞেস করে যে মামনি কি দেখছো? তখন মেরিন জবাব দেয় যে আমার স্বর্গ।  মায়ের মতো করে নির্বনও মায়ের মুখের দিকে, হাসির দিকে তাকিয়ে থাকে। আর মেরিন জিজ্ঞেস করলে নির্বনও বলে যে আমার স্বর্গ।  

 

.

 

{{ অনেকেই বুঝে গেছে যে আড়াল মেরিন।  আবার অনেকে  confused ….  সকল confused এখনই clear করে দিচ্ছি। মেরিনই আড়াল।   ৮বছর আগে সেদিন সকালে যখন মেরিন সব ছেরে ছুরে চলে এসেছিলো। তখন  তার সাথে নিজের নামও পরিবর্তন করে আড়াল রেখেছিলো। কারন মেরিন নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে নিতে যাচ্ছিলো। পাওয়ার ছিলো। তাই সহজেই কাজটা তারাতারি করতে পেরেছিলো। মেরিন দাদুভাইয়ের সাথে   ১২বছর কোলকাতা ছিলো। সেখানে ওদের ছোট্ট ১টা  বাড়িও আছে। তাই মেরিন সব ছেরে ছুরে সেখানেই চলে আসে।  খান পরিবারের ১টা টাকাও মেরিন নিয়ে আসেনি। কোনো টাকা পয়সা আনেনি।  শুধু মেরিন হওয়ার পরই মামা আর দাদুভাই যে  পলিসি করেছিলো সে টাকা আর ছোটবেলার বৃত্তির টাকা ব্যাংকে রেখে যে টাকা হয়েছিলো সেগুলো নিয়ে মেরিন কোলকাতা গিয়েছিলো। 

 

[ ব্যাংক ট্যাংক, business  সম্পর্কে আমার কোনো ধারনা নেই। তাই কিভাবে কি বীমা না কি বলে জানিনা ভালোভাবে।  কষ্ট করে বুঝে নেবেন। ]

 

  যাই হোক কোলকাতা গিয়ে মেরিন নতুন করে জীবন শুরু করে। মেরিন মরে গিয়ে আড়াল জন্ম নেয়।  এখন আসি নির্বনের মামা মানে মেরিনের ভাই। মেরিনের ভাই আর কেউনা, জন। হ্যা জনই  মেরিনের ভাই।  বডিগার্ড…… এই বডিগার্ড  শব্দের অর্থ হলো দেহরক্ষী। জন মেরিনের সত্যিকারের অর্থে বডিগার্ড।  যে জীবন দিয়ে হলেও নিজের ম্যাডামকে সুরক্ষিত রাখে।  মেরিন চলে যাওয়ার আগে জনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে যায়। কারন জনের কাছে মেরিন অনেক ৠণি। তাই জন যেন জীবনে কিছু করতে পারে তাই জন্য মেরিন জনকে টাকা দিয়ে এসেছিলো।  মেরিন কতো থাপ্পর মেরেছে , কতো খারাপ ব্যবহার করেছে। কিন্তু জন সবসময় মেরিনকে নিজের ছোট বোনের মতোই ভালোবেসেছে।  তাই তো নিজের বডিগার্ড হওয়ার দায়িত্ব শেষ করে নিজের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাইয়ের দায়িত্ব পালন করতে কোলকাতা চলে যায়। মনি জনেরই মেয়ে।  মেরিনের দেয়া সেই  টাকা দিয়ে জন ব্যবসা শুরু করে। সফল হয়। তাই সে সেরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন।  নির্বন ৬মাস হওয়া পর্যন্ত মেরিন জনের বাড়িতেই ছিলো।  কিন্তু এরপর নিজের বাড়িতে চলে আসে।  মেরিনও এখন জনকে নিজের ভাই ই মনে করে।  জনের স্ত্রীও ভীষন ভালো।

জন নিজের সাথেই মেরিনকে রাখতে চেয়েছিলো কিন্তু মেরিন রাজী হয়নি।  মেরিন নিজেকে বিলীন করে আড়াল কে তৈরী করে। মেরিন যেমন ছিলো তার সম্পুর্ন বিপরীত হলো আড়াল।   মেরিন আর আড়ালের মধ্যে কোনো মিল নেই। শুধু ১টা জিনিস ছারা।  সেটা হলো নীড়ের প্রতি ভালোবাসা।  মেরিন যতোটা নীড়কে ভালোবাসতো আড়ালও ঠিক ততোটাই ভালোবাসে। বলতে গেলে মেরিনের থেকে আড়াল নীড়কে বেশি ভালোবাসে। কারন নীড় আড়ালকে নির্বন দিয়েছে।  যা আড়ালের বাচার একমাত্র অবলম্বন। }}  

 

.

 

পরদিন……  

নীড় আজও  নির্বনের সাথে দেখা করতে সেই পার্কে এসেছে।  নির্বন বন্ধুদের জন্য ice cream  কিনে রাস্তা পার হচ্ছে।  তখন দেখলো যে ছোট্ট ১টা ৩পায়ের  খরগোশ রাস্তায় পরে আছে।  আর ১টা  গাড়ি ছুটে আসছে।  নির্বন সব ice cream ফেলে দৌড়ে খরগোশ টাকে বাচাতে ছুটলো। খরগোশটাকে কোলেও তুলে নিলো। তবে দুর্ভাগ্যবসত একটুর জন্য গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগলো। নির্বন গিয়ে ছিটকে পড়লো। মাথার মধ্যে  প্রচুর ব্যাথা  পেল।  আর সব ঘটলো নীড়ের চোখের সামনে। ওর মনে হলো যে মেরিনেরই accident টা হলো।  নীড় জোরে মেরিন বলে চিৎকার করে উঠলো। এরপর নির্বনকে নিয়ে হাসপাতালে গেলো। এমনকি নিজে রক্তও দিলো।  এরপর নির্বনের ব্যান্ডেজ করা চেহারাটা ১বার দেখলো।  এরপর ছুটলো  সেই driver এর কিয়ামত আনতে।   

 

.

 

এদিকে…….  

ছেলের খবর পেয়ে সবকিছু ছেরে ছুরে পাগলের মতো ছুটে এলো।  হাউমাউ করে কাদতে লাগলো। তেমনভাবে কোনো ক্ষতি হয়নি বলে পরদিন সকালেই নির্বনকে রিলিজ দেয়া হলো।

ছেলের জন্য ১৫দিনের ছুটি নিলো মেরিন।  

 

.

 

১৫দিনপর……  

নীড় নিজের কাজ করে দেশে ফিরবে আজকে। airport যাচ্ছে…….  পথের মধ্যে ১টা ট্রাকের সাথে খুব বাজেভাবে accident হলো। নীড়কে hospital এ নেয়া হলো। 

 

.

 

 in the hospital …….  

১৫দিনপর মেরিন হাসপাতালে এলো। রোগী টোগী দেখে বাসায় ফিরছে।  তখন দেখলো যে  ট্রলিতে করে ১টা রক্তাত্ব রোগীকে নিয়ে আসছে। যা দেখে মেরিনের হাত পা ভয়ে ঠান্ডা হয়ে গেলো।  কারন মেরিন এখন একদম রক্ত দেখতে পারেনা।  মেরিন চোখ মুখ খিচে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে সামনে বাড়তে লাগলো।  আসলে এটা নীড়ই।  নীড়ের খুব সামান্য জ্ঞান ছিলো।  তাই ও মেরিনের মুখটা দেখতে পেলো। তাই মুখে হাসি ফুটে উঠলো।  মেরিনের মুখ দেখতেই  জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।  মেরিন এগিয়ে যাচ্ছে তখন ওর আঙ্গুলের সাথে কারো আঙ্গুল বেজে গেলো।   আর সাথে সাথেই মেরিন থেমে গেলো।  কারন এই স্পর্শ ওর চিরচেনা। ঘুরলো। আর ঘুরে যা দেখলো তা দেখার জন্য মেরিন মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা।  নীড়ের রক্তাত্ব শরীর।  মুহুুর্তেই মেরিনের দুনিয়া ঘুরে গেলো। ৮বছরপর এই মুখটা এভাবে দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা।

নীড়ের ট্রলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।  নীড়ের হাত মেরিনের হাত থেকে ছুটে যাচ্ছে।  মেরিনের মনে হচ্ছে কেউ ওর জীবনটা নিয়ে যাচ্ছে।   মেরিন শক্ত করে নীড়ের হাতটা ধরলো। এরপর নীড়ের সামনে গিয়ে ওকে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কাদতে শুরু করলো। নিজের হাতে নীড়ের  surgery করলো।  যা দেখে সবাই অবাক। কারন  ডাক্তার আড়াল কখনো surgery  করেনা।এরপর হাসপাতাল থেকে resign নিয়ে দৌড়ে বাসায় চলে গেলো। 

 

.

 

 বাসায় গিয়ে মেরিন ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে কান্না করছে।   এদিকে জনের কাছে খবর চলে গেলো মেরিনের রিজাইনের।  তারমধ্যে তখনই নির্বন ফোন করে 

বলল: মামা আমার মামনি  না রুমের মধ্যে দরজা বন্ধ করে বসে আছে। কতো ডাকছি খুল়ছেইনা। 

  জন: দারাও বাবা মামা এখনি আসছি। 

 জন  সব কাজ ফেলে মেরিনদের বাসায় চলে গেলো।  গিয়ে দেখলো  নির্বন রুমের দরজার 

 

বাইরে দারিয়ে কাদছে আর 

বলছে: ও মামনি…..  মামনি… দরজা খোলোনা। 

জন যেতেই নির্বন দৌড়ে ওর কাছে গিয়ে কাদতে কাদতে

 বলল: ও মামা দেখোনা আমার মামনি দরজা খুলছেনা।   

জন: কাদেনা সোনা।  এই মুসকান (জনের স্ত্রী) নির্বনকে নিয়ে আমাদের বাসায় যাও।  

 

নির্বন: না মামা আমি যাবোনা। আমার  মামনিকে ফেলে আমি যাবোনা। 

 জন: মামা আমি তোমার মামনিকে নিয়ে এখনি আসছি। 

নির্বন: না আমি যাবোনা।

  জন: নির্বন না good boy। মামার কথা শুনবেনা?

  নির্বন গেলো।  

 

 জন: আড়াল….. আড়াল। বোন আমার দরজা  খোল।  

 

 মেরিন দরজাটা খুলছেনা বলে জন দরজা ভেঙে ফেলল।  ঢুকে দেখলো যে মেরিন দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে কাদছে। আর সেই সাথে দেয়ালের মধ্যে মাথায় ঠোকা মারছে।  জন দৌড়ে মেরিনের কাছে গেলো।  

 

জন: আড়াল…. এই আড়াল। তুই কাদছিস কেন বোন?? তুই তো জানিস যে  তোর চোখের পানি আমার সহ্য হয়না। বলনা বোন আমার।   

মেরিন জনকে  জরিয়ে ধরে 

বলল:  ভাইয়া …. উউনি ফফিরে এএসেছে। 

 জন: কে? 

 মেরিন: নির্বনের বাবা।

 

জন: কি?

মেরিন: হামম।  

 

মেরিন সবটা বলল।  জন একটু চিন্তিত হলেও মেরিনকে বোঝালো। 

জন: আরে বোকা । পাগল নাকি? তিনি ১জন ডাক্তার।  কতো জায়গাতেই সে যেতে পারে।   হয়তো তাই কোলকাতাতে এসেছিলে।  

মেরিন: যযযদি উউনি আমার নির্বনকে কেরে নেয়। বাবা হওয়ার দাবিতে…..  

জন: ধ্যাত বোকা।  নীড় চৌধুরী নির্বনের কেউনা। বাবাও না।  নির্বনের বাবাও ডাক্তার আড়াল। আর মাও ডাক্তার আড়াল।  আর তারথেকেও বড় কথা নীড় চৌধুরী  নির্বনের কথা তো জানবেই না।  

মেরিন: কিন্তু….

  জন: কোনো কিন্তুনা। কেন ভুলে যাও যে তুমি মেরিন নও। তুমি আড়াল।  যতোদিন জন আছে ততোদিন কেউ আড়ালের নির্বনকে কেরে নিতে পারবেনা।  যে অন্যায়গুলো মেরিনের সাথে হয়েছে তার ছিটেফোটাও আমি আমার বোন আড়ালের সাথে হতে দিবোনা। কথা দিলাম।  

 মেরিন একটু শান্ত হলো।  জন মেরিনকে নির্বনের কাছে নিয়ে গেলো।

 

.

 

 ওদিকে …. 

নীড়ের accident এর কথা শুনে নিহাল-নীলিমা, কবির-কনিকা দৌড়ে কোলকাতা এলো।  নীড়ের জ্ঞান ফিরতেই মেরিন বলে চিৎকার করে উঠলো।  

 

নীলিমা: কি হলো বাবা?  

 

নীড়: আআহমার মমমেরিন। আহমার মেরিন….. আমি দদেখেছি।   

কনিকা: ককোথায়? ককোথায় দেখেছো??  

নীড়: জজজানিনা। তবে দদেখেছি। ও হাত দিয়ে মুখ ঢেকে অন্যদিকে ঘুরে ছিলো। কককিন্তু ওর সেই  কালো তিলটা যে বেরিয়ে ছিলো। যার চমক আমার দৃষ্টি কেরেছিলো।  ওর সেই চিরকোমল হাত।

 

বাকীরা বুঝতে পারলো যে এটা কেবলই নীড়ের কল্পনা।  কিন্তু নীড় জানে, নীড়ের মন জানে যে এটা কল্পনা না। 

 

 নিহাল: বাবা তুমি আরাম করো।  

নীড়: আরাম?আরাম তো সেদিনই করবো যেদিন আমার জীবন পাবো। আর আমি জানি আমি ওকে এখানেই পাবো…

…..

……..

[চলবে……]

 

গল্প ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ১২ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

    

      

      

১৫দিনপর,

 নীড় সুস্থ হলো।    কেন যেন সুস্থ হয়ে নির্বনকে দেখার জন্য মন চাইছে।  নীড় তৈরি হয়ে বের হচ্ছে।  

নীলিমা: কিরে কোখায় যাচ্ছিস?

 নীড়: কাউকে জবাব দেয়না।  

কবির:  চলো তবে আমরাও তোমার সাথে যাই। 

নীড়: কেন? আমি কি ছোট বাচ্চা?  

কবির: না তা কেন  হবে? আসলে বাড়িতে বসে বসে বোর হয়ে গেছি তাই। তুমি যখন নিতে চাইছোনা তখন  যাবোনা।  

নীড় কবির-কনিকার কথা ফেলতে পারেনা।  কারন মেরিন বলেছিলো  আমার আম্মু-বাবাকে দেখবেন।  

নীড়: আমি কি বলেছি যে নেবোনা? চলো।  

নীড়,নিহাল আর কবির হাটতে বের হলো। সেই পার্কে। 

 

.

 

নীড় গিয়ে দেখলো যে  নির্বন  বন্ধুদের সাথে মিলে কি যেন করছে।  

নীড়: নির্বন…… 

নির্বন ঘুরলো।  

নির্বন: আরে আংকেল!

নির্বন নীড়,নিহাল,কবিরকে সালাম  দিলো।  

নীড়: এখন তোমার শরীর কেমন আছে?

নির্বন : এই তো ভালো। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আমাকে সেদিন বাচানোর জন্য। 

নীড়: মোস্ট ওয়েল্কাম। নির্বন এরা হলো আমার বাবা।  মানে আমার ছেলের নানাভাই আর  দাদুভাই।

 নির্বন: দাদুভাই! জানো আংকেল? আমার মামনিরও দাদুভাই আছে।  উইই!

 নীড়: কি হলো? 

নির্বন: ভুল হলো।   

বলেই নির্বন   নিহাল আর কবিরের     পা ধরে সালাম করে বলল, জানো আমার মামনি বলে যে বড়দেরকে সবসময় এভাবে সালাম করতে হয়।  আর জানো তোমরা না দেখতে এত্তোগুলা সুইট। 

কবির নির্বনের মধ্যে ছোট্ট  মেরিন  আর নিহাল ছোট্ট  নীড়কে খুজে পেলো। বাচ্চাদের নিয়ে ওরা আড্ডা দিতে লাগলো।  

 

.

 

১ঘন্টাপর….  

নির্বন: উইই…. 

নিহাল: কি হয়েছে??   

নির্বন : আর বলোনা। কালকে আমার স্কুলে কালচারাল প্রোগ্ৰাম। তো আমি ১ মিনিট কম্পিটিশনে অংশ নেই। সবসময় প্রথম হই।  এখানে এসেছিলাম প্র্যাকটিস করতে। ভুলেই গেছি।  

কবির:তুমি কালকে ১ মিনিট কম্পিটিশনে অংশ নিবে? 

নির্বন: হামম।  

কবির: যদি দেখতে পারতাম!  

নির্বন: ওমা দেখতে পারবেনা কেন? তোমরা ২জন কালকে আমার স্কুলে এসো। ‘সাউথ পয়েন্ট স্কুল’ [ছদ্মনাম] ।

নিহাল: সত্যি?

 নির্বন: হামম। 

 নীড়: নির্বন.. আমাকে ইনভাইট করবেনা?

নির্বন: তুমি কি করে আসবে? 

নীড়: কেন? 

নির্বন: তোর দাড়ি গোফ তো ডাকাতদের মতো জঙ্গল হয়ে গিয়েছে। টিচাররা তো ঢুকতেই দেবেনা।

নীড়: এই কথা…. আমার নির্বন আড়ালের ১ মিনিট কম্পিটিশন দেখতে হলে আমি এই দাড়ি গোফ কেন আমি তো আমার  গলাটাও কেটে ফেলতে পারি…  

নির্বন নীড়ের মুখে হাত দিয়ে

বলল, ছিঃ ছিঃ এমন কথা বলতে নেই।  

 

.

 

পরদিন, 

নির্বনের প্রোগ্ৰাম শুরু হলো। মেরিন এক সারিতে বসা। আর নীড়,নিহাল, কবির  অন্যসারিতে। সবাই সামনের সিটে। নীড় দাড়ি গোফ কেটে মানুষ হয়েই এসেছে। নির্বনের নাম এনাউন্স করতেই সবাই অনেক এক্সাইটেড হয়ে গেল।  নির্বন কাগজটা তুলল।  নির্বন কাগজটা খুলে পড়েই স্তব্ধ হয়ে গেলো।   থমকে গেলো।  কারন তাতে “বাবা” শব্দটা লিখা ছিলো।  বাবা কেমন হয় সেটাতে নির্বন জানেইনা।কি বলবে?

শিক্ষক: ‘And your time start now’ !

 

সময় শুরু হয়ে গেলো। কিন্তু নির্বন চুপ।  মেরিন ইশারা করে বলছে বলতে।   টিচাররাও বলছে বলতে। কিন্তু নির্বন চুপ।  চোখে পানি টলমল। তবুও নির্বন সেগুলো ধরে রেখেছে । কারন নির্বন জানে যে ওর মামনি ওর চোখের পানি দেখলে পাগল হয়ে যাবে।

   নির্বন: আমি দুঃখিত।  

টিচার: আমি নির্বনের মা ডাক্তার আড়ালকে অনুরোধ করছি নির্বনের তরফ থেকে complete করতে।  

নির্বনের মনটা খারাপ দেখে মেরিনের মনটাও খারাপ হয়ে গেলো।  মেরিন স্টেজে এ  গেলো।  

 

.

 

মেরিনকে দেখে নীড়-নিহাল-কবির অবাক হয়ে গেলো।  মেরিন নির্বনের দিকে তাকিয়ে stage এ ওঠায় ওদেরকে দেখলোনা।   মেরিন stage  এ গিয়ে আগে নির্বনের কপালে ১টা চুুমু  একে দিলো।  

 

মেরিন:থাক কেঁদোনা। মা এসে গেছি না?

 বলেই মেরিন নির্বনের হাতের কাগজটা হাতে নিলো।  আর যে শব্দটা লেখা দেখলো তা দেখে মেরিনও স্তব্ধ হয়ে গেলো। কারন  শব্দটা ছিলো বাবা।  আর মেরিনও জানেনা বাবার ভালোবাসা কেমন। ওর বাবাতো ছিলো। কিন্তু বাবার ভালোবাসানা। 

 টিচার: বলুন।

  মেরিন: বাবাহ!

সামনে মাইক্রোফোন থাকায় মেরিনের আসতে করে বলা শব্দটাও সবাই শুনতে পেলো।  

 টিচার: বলুন? 

মেরিন: বববাবাহ…. ববববাবাহ…. হহলো….

‘ii m aalso sssorrry”

কবির আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলোনা। দারিয়ে গেলো। দৌড়ে স্টেজে গেলো । 

কবির: বাবা মানে  মাথার ওপর ভরসার হাত…. বাবা মানে  সকল আবদারের ভান্ডার…. বাবা মানে সকল আশার আলো….. বাবা মানে ……… 

 

কবিরের গলার আওয়াজ পেয়ে মেরিন কবিরের দিকে তাকালো।

তাকিয়ে  অবাক হয়ে গেলো। মেরিনের চাহনি দেখে কবির আর বলতে পারলোনা।   

 

.

 

তখন নিহাল বলে 

উঠলো: বাবা মানে মনের কথা বলার বন্ধু।বাবা মানে  সবথেকে বড় সাপোর্ট সিস্টেম। বাবা মানে না বলা ভালোবাসা।  

 

মেরিন নিহালের দিকে তাকালো।  নিহালের  মুখ দিয়েও আর কথা বের হলোনা।  

 

.

 

তখন নীড় আগে  stage এর দিকে বারতে লাগলো আর বলতে 

লাগলো: বাবা মানে best friend …. বাবা মানে দিন শেষে স্নেহের ভান্ডার।

বাবা মানের দিন শেষে উপহারের সমাহার, বাবা মানে অনুপ্রেরনা, বাবা মানে বট গাছের ছায়া, বাবা মানে অদ্ভুদ মায়া,  বাবা মানে সকল বিপদের জম,  বাবা মানে জীবন,বাবা মানে দুনিয়া।

 

বলতে বলতে নীড় একদম মেরিন-নির্বনের সামনে চলে গেলো।  মেরিন অবাক চোখে নীড়কে দেখছে। জনও সবাইকে দেখে অবাক।  নীড় নির্বনের সামনে হাটু গেরে বসলো। বসে নির্বনের কপালে মুখে চোখে অসংখ্য চুমু দিলো।  এরপর দারিয়ে মেরিনের চোখে চোখ রাখলো।  মেরিন ১পলকও দেরি না করে নির্বনকে কোলে নিয়ে দৌড়ে  বেরিয়ে গেলো।         মেরিন বাসায় গিয়ে রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে নির্বনকে কোলে নিয়ে  শক্ত করে বুকে জরিয়ে ধরে বসে রইলো। যেন একটু ছারলেই কেউ নির্বনকে নিয়ে যাবে। নির্বন তার মাকে কোনো প্রশ্ন না করে চুপচাপ মায়ের বুকের সাথে লেগে রইলো।  

 

.

 

২ঘন্টাপর…..  

নির্বন ঘুমিয়ে পরেছে।  তবুও  মেরিন ওকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। তখন দরজার করা নরলো।  মেরিন নির্বনকে আরো শক্ত করে ধরলো। ওর মনে হচ্ছে ভাগ্য ওর জীবন  থেকে হয়তো নির্বনকেও কেরে নিবে। কেউ   দরজায় করা নেরেই যাচ্ছে।   

মেরিন: না আমি খুলবোনা।  কককে আছো চলে যযযাও।  যযযেই হহহওনা কককেন চচচলে যযযাও।

  জন: its me… বোন। দরজা খোল।  

মেরিন: ননননা খখখুলবোনা। তততুমি চচচলে যযযাও ভভাইয়া।  

 জন:  তোর  এই ভাইয়ের জন্যেও দরজা বন্ধ…..  প্লিজ খোল।   

মেরিন নির্বনকে কোলে নিয়েই দরজা খুলল।  জন মিষ্টি ১টা হাসি দিয়ে নির্বনের মাথায় হাত বুলিয়ে 

বলল: ঘুমিয়ে পরেছে?  

মেরিন: হামম।  

জন: তাহলে  শুইয়ে দে।

মেরিন: ননা আমি কককাউকে দদদিবোনা….  

 জন: আরে বোকারে তোর কাছে থেকে কেউ নির্বনকে কেরে নিতে পারবেনা।   

মেরিন:ওওওরা।  

জন: কেউ পারবেনা….. আমি আছিনা…..

 এরপর জন কিছু পেপার বের করে 

বলল:এখন এই পেপারগুলোতে signature করে দেতো।  

মেরিন: কককিসের পপপেপার এগুলো……   

জন: তোর কাছে থেকে যেন কেউ কখনো নির্বনকে কেরে নিতে না পারে তার  ব্যাবস্থা।  

মেরিন: মমানে? 

 জন: মানে তোর নির্বন আজীবন তোর বুকেই থাকবে।   

মেরিন: সসসত্যি? 

জন: তোর ভাইয়ের ওপর বিশ্বাস নেই তোর?? 

  মেরিন: নননা ননা তততা না।  দদাও আমি এএখনই  কককরে দদদিচ্ছি। 

মেরিন  না পড়েই কাগজে সিগনেচার করে দিলো। 

 

জন মনে মনে: ক্ষমা করে দিস আমায়। তোর সুখের জন্যেই আমাকে এই প্রথম তোকে ধোকা দিতে হলো।  জানি সত্যিটা জানলে আমাকে কখনোই ক্ষমা করতে পারবিনা। তবুও তোর ভালোর জন্য, শান্তির  জন্য আমাকে এটা করতেই হলো।   

 

জন পেপরাগুলো নিয়ে চলে গেলো।   

 

.

 

১ঘন্টাপর…..  

মেরিন নির্বনকে খাটে শুইয়ে দিয়ে যাস্ট ঘুরলো। আর তখনই কেউ ওকে জরিয়ে ধরলো।  একদম নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। পারলে সে মেরিনকে নিজের বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে।  মেরিন ১টা নিষ্প্রাণ মূর্তির মতো দারিয়ে আছে। কারন  মেরিন জানে যে এটা নীড়।  নীড়যে অঝরে মেরিনকে জরিয়ে কাদছে সেটাও মেরিন বুঝতে পারছে।

নীড় মেরিনের চোখে মুখে ঠোটে কপালে গালে পাগলের মতো চুমু দিতে লাগলো।   

নীড়: ককককেন ফেলে এসেছিলিরে আমাকে??  কেহনো? মেরিন নিজেকে সামলে নীড়কে সরিয়ে দিলো।  

মেরিন: ককে আপনি?  আপনি আমার বববাসায়  ঢঢুকলেন ককিভাবে? 

 নীড়: মেরিন তুমি,

মেরিন: মেরিন! কে মেরিন? এখানে কোনো মেরিন থাকেনা।  আমি আড়াল। doctor araal। 

 নীড়: মেরিন আমি, i love you! i just love you! i love you a lot!  আমি তোমাকে ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। 

মেরিন: excuse me… আপনার লজ্জা করেনা অজানা মহিলাকে ভালোবাসি বলতে? ঘরে কি মা-বোন নেই? যান এখনই বববেরিয়ে যান।  নননা হলে আমি পপপুলিশ ডাকবো।    

নীড়: মেরিন…. তুমি ….   

মেরিন: কি আশ্চর্য…. আমি মমেরিন নই আমি আরাল। আআপনার ককোথাও ভভুল হচ্ছে। দদদেখুন  আআমি এএকা এএকা থাকি। আমার ছেলেকে নিয়ে। যযদি কেউ আআপনাকে আআমার বাসায় দদেখে ফেলে ততবে খামোখা ববদনাম হবে। ppplease চচলে যান।   

 

নীড় অবাক চোখে ওর মেরিনকে দেখছে। কতোটা পরিবর্তন…..   যেই চোখে এক সময়ে  আগুন ছিলো সে চোখে আজকে হাজারো সংশয়।   যে চেহারায় সূর্যের তেজ ছিলো সে চেহারায় আজকে লোকভয়।  যে মেরিন এক সময় ভয়ের অন্য নাম ছিলো সে আজকে ভীতের অন্য নাম।  যে মেরিন pant-shirt পরতো সে মেরিন আজকে high neck, full হাতার  dress পরে। যার চুল কখনো নীড় বাধতে দেখেনি তার চুল আজকে খোপার আরালে।  

 

মেরিন: pppplease  চচচলে যযযান। 

 নীড় মেরিনকে আর কথা বলতে না দিয়ে  ওর ঠোট জোরা দখল করে নিলো।

 

.

 

১০মিনিটপর নীড় মেরিনকে ছারতেই মেরিন ঠাস করে নীড়কে ১টা থাপ্পর দিলো।  নীড় অবাক হয়ে গেলো।  

মেরিন: আআপনার সাহস কককিভাবে হহহয়?  

নীড়: মেরিন তুমি যাই বলোনা কেন? নিজের নাম যাই বলোনা কেন আড়াল or what…..  আমি জানি যে তুমিই আমার মেরিন।  এই  চোখ, এই ঠোট, এই নাক,  এই মুখ আমার চিরচেনা।

 মেরিনের কপালে সেই কাটা দাগটা ছুয়ে নীড় 

বলল: এই দাগ….. আমার দেয়া।

 মেরিন দুরে সরে গেলো।

  মেরিন: চচচলে যান।   

নীড়: মেরিন ৮টা বছর আমিহ…..

 যাই হোক।  সব বাদ। চলো আমার সাথে।  তুমি আমি আর আমাদের নির্বন…. আমরা ৩জন মিলে নতুন করে জীবন সাজাবো।  

মেরিন: নির্বন কেবল আমার।  দেখুন আমি হাত জোর করে অনুরোধ করছি। please আপনি চলে যান।  কেউ দেখলে উল্টা পাল্টা কথা বলবে।   

নীড়: মেরিন….  আমিও তোমার হাত ধরে বলছি। 

মেরিন সাথে সাথে নিজের হাত ছারিয়ে  নিলো। 

  নীড়:  রাগ ওঠাচ্ছো কিন্তু এবার।  

মেরিন: আআমি ককিন্তু সসসত্যি পপুলিশ ডাকবো।

  নীড়: আমি আন্দাজ করেছিলাম এমন কিছুই হবে। তবুও শেষ বারের মতো তোমাকে জিজ্ঞেস করছি যে তুমি…. 

 মেরিন mobile হাতে নিলো পুলিশকে ফোন করার জন্য।  তখন নীড় chloroform দিয়ে মেরিনকে অজ্ঞান করে দিলো।  মেরিন ঢলে নীড়ের বুকের ওপর পরলো।  

নীড়: তুমি আমার জান মেরিন…..  ৮টা বছর পর আমি তোমাকে ফিরে পেয়েছি।  কোনোভাবেই আমি তোমাকে হারাতে পারবোনা।  তোমার ঘৃণার পাত্র হলেও  তোমাকে আমি আমার থেকে আলাদা করতে পারবোনা। নাহয়  এবার আমিই হবো তোমার ঘৃণারনীড় ….. 

  তবুও তোমাকে আর আমার ছেলেকে নিজের থেকে আলাদা করতে পারবোনা।  জীবন গেলেওনা।     

 

.

 

২দিনপর…… 

 মেরিনের জ্ঞান ফিরলো।   চোখ খুলেই নীড় অবাক হয়ে গেলো। কারন  ও নীড়ের বাহুতে শুয়ে আছে। আর নির্বন নীড়ের বুকের ওপর ঘুমিয়ে আছে। আর নীড়? নীড় তাকিয়ে আছে মেরিনের দিকে।  নীড়কে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেরিন চমকে গেলো।  টান দিয়ে নির্বনকে নিজের কোলে নিলো।  দারিয়ে গেলো।  

মেরিন: আপনার সাহস কি করে হয় আমার ছছছেলেকে বুকে জরানোর।   

নীড়: খুব বেশি সাহস  হয়ে গেছে আমার…..  তাইনা ??   

মেরিন: দদদেখুন….  

নীড়: দেখছিই তো তোমাকে। সারারাত দেখেছি।   

মেরিন চারদিকটা খেয়াল করে দেখলো যে  এটা নীড়-মেরিনের রুম। সব furniture আগের মতোই আছে। শুধু দেয়ালটার গল্প পাল্টে গেছে। সবগুলো দেয়ালের রং ঢেকে গেছে মেরিন আর নির্বনের ছবি দিয়ে। চোখ ঘুরিয়েই দেখলো নীড় ওর একে বারে সামনে।  মেরিন কোনো কথা না বলে নির্বনকে নিয়ে সোজা নিচে নেমে এলো। সেখানে  কবির-কনিকা, নিহাল-নীলিমা বসে আছে।

 

.

 

মেরিনের চোখে মুখে সে কি ভয়…..  সবাইকে ignore করে মেরিন বেরিয়ে যেতে নিলে কনিকা সামনে এসে মেরিনকে জরিয়ে ধরলো।    

  কনিকা: কেন জানালিনারে সব? কেন আড়ালে রয়ে গেলি? 

কনিকার কথা  মেরিন কিছুই বুঝতে পারছেনা।  নিজেকে ছারিয়ে নিলো। 

 মেরিন: sssorry আন্টি। আআপনি কককি ববলছেন? বববুঝতে পপপারছিনা।  দদদেখি সরুন।  আআআমাকে যযযেত দিন।  

বলেই মেরিন দরজার সামনে গেলো।  দরজা খুলতে নিলো। কিন্তু খুলতে পারলোনা।  

মেরিন: এএটা খখুলছেনা কেন??  খখুলে  দিন না।  

নীড়: ওটা  খুলবেনা। কারন password দেয়া। যা কেবল আআমি জানি।  কোনো মানুষ আমার মর্জি ছারা  বাইরে যাওয়া অসম্ভব।   

মেরিন: আপনি আমার সসসাথে এমন করছেন কেন??  আর আমাকে কোথায় নিয়ে এসেছেন?  

 নীড়: তোমাকে তোমার রাজত্বে নিয়ে এসেছি। 

মেরিন: ককি? বল…. 

তখনই নির্বনের ঘুম ভেঙে গেলো।।  নির্বন নিজেকে মায়ের কোলে দেখে মাকে জরিয়ে ধরে 

বলল: মামনি……  gooody gooody morning ….  

মেরিন: good morning বাবুই পাখি।   

নির্বন: মামনি তুমি উঠেছো? তুমি এতোক্ষন কেন ঘুমিয়ে ছিলে? তোমার মুখ এমন লাগছে কেন? তুমি কি অসুস্থ। 

 মেরিন: না বাবাই।  

নির্বন: ওহ। 

  নির্বন তখন নীড়কে দেখলো।

  নির্বন: মামনি মামনি… ওই uncle টা বলে কি জানো???  বলেকি যে তিনি নাকি আমার বাবা।  আর তারা সবাই আমা দাদুভাই-দীদা…. নানাভাই-নানুমনি…..  আমি বিশ্বাস করিনি। জানো মামনি মামাও বলছিলো। তবুও আমি  বিশ্বাস করিনি।  কারন যতোক্ষন না তুমি আমাকে বলবে ততোক্ষন  আমি কিচ্ছু বিশ্বাস করবোনা।  

 

মেরিন জন এর কথা শুনে অনেক অবাক হলো।   জন কিভাবে এমনটা করতে পারে??  

নির্বন: ও মামনি….  বলোনা……

মেরিন:…… 

 নির্বন: ও মামনি বলোনা….. তুমিনা বলেছিলে যে তোমার মধ্যেই আমার বাবা বিদ্যমান…… তাই তুমিই আমার মা আর তুমিই আমার বাবা……. তাহলে???

 

 মেরিন নির্বনের চাহনী দেখে বুঝতে পারলো যে ও মুখে যাই বলুক কিন্তু ও ঠিকই  বাবাকে চায়।  মেরিন আর এই অবস্থা মেনে নিতে পারলোনা। অজ্ঞান হয়ে গেলো।  

 

.

 

 এখন আসি  কাহিনিতে… 

 

{{  মেরিন যখন নির্বনকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে গেলো। তখন নীড়ও আসতে নিয়েছিলো।  কিন্তু   জন নীড়কে বাধা দিলো।    

জন: আর ১পাও বারাবেন না mr. chowdhuri….. এখানেই দারান। 

 নীড় দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে

 বলল: আমি হাত জোর করে বলছি please আমাকে যেতে দাও।  

জন বাধা দিলো। নীড় সব বাধা  উপেক্ষা করে বাইরে এলো।

কিন্তু সেখানে ১০-১২ জন লোক দারিয়ে আছে।  

নীড়: দেখো ভাই আমি চাইনা  তোমাদের সাথে  মারামারি করতে। যেতে দাও।  

জন: যেতে চাইলেই কি যাওয়া যায়??   আমার বোনের কাছে  যাওয়ার ভুলেও চেষ্টা করোনা।  ও মেরিন না। ও হলো আড়াল।  আর আড়াল কখনো নীড়ের না।  

 

তখন নীড় নিজের কাছে থাকা gunটা জনের মাথায় ঠেকালো। 

নীড়: আমি নীড়। মেরিনের স্বামী। তাই আমার সাথে মেপে কথা বলবে।  & boys … পথ ছারো। না হলে তোমাদের boss… শেষ।  

 

.

 

১ঘন্টাপর…..

   জনের হাত পা বাধা।  সামনে gun হাতে নীড় বসে আছে।   

 নীড়: তুমি আমার মেরিনের জন্য যা করেছো তা হয়তো কোনো আপন ভাইও করেনা।  কিন্তু আমি আমার মেরিনকে আর হারাতে পারবোনা।  

জন: হারাবেন তখন যখন পাবেন।  কখনো পাবেননা।    

  নীড়: good…   আমার বউয়ের জেদ থাকবেনা তো কার থাকবে?  চলো তোমাকে ১টা কাহিনি শোনাই।  ১টা সন্তানের ওপর অবশ্যই মায়ের হক বেশি থাকে।  কিন্তু বাবার অধিকারও ফেলনা না।  তাই আমাকে না জানিয়ে আমার অনাগত সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে আসা। নিজের নাম পরিবর্তন করে সবাইকে ধোকা দেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি সব বলে যদি case file করা হয়। তবে ১মিনিটও লাগবেনা মেরিনকে  জেলে পাঠিয়ে নির্বনকে নিজের কাছে নিতে।  আর নীড়ের পাওয়ার যে তোমার থেকে বেশি  তা তো জানোই……

 জন: আর কতো কেরে নিবেন মেয়েটার কাছে থেকে?

  নীড়: কিছুই কেরে নিবোনা। ওর সবটা ওকে ফিরিয়ে দেবো।  

জন: ফিরিয়ে দেবেন?  কি ফেরাবেন?  সবটাই তো ওই নিরা ছিনিয়ে নিয়েছে। 

 নীড়: নিরা  মেরিনের যা কেরে নিয়েছিলো তা নীড় মেরিনের জীবনে আসার আগে নিয়েছিলো। কিন্তু নীড় থাকতে মেরিনের কোনো কিছুতেই কেউ ভাগ বসাতে পারবেনা।  

 

জন: সব কিছু নিরাকে,  

নীড়: না। 

 নীড় জনকে সবটা বলল। সব শুনে জন অবাক।

 

.

 

 জন: তাহলে….

 নীড়: হামম। নীড়-মেরিন ২জন জনের। ওদের মাঝে আর কেউ কখনো আসতে পারবেনা। শুধু ১টা ভুল বোঝাবোঝির জন্য আমাদের জীবনের চিরসুখের ৮টা বছর চির দুঃখের ৮টা বছরে পরিনিতে হয়েছে। 

 

  

{সব সত্যটা জেনে জন রাজী হলো নীড়ের support করতে। আর সেই পেপারে কি আছে তা না হয় পরে জানবেন। }

…..

……..

চলবে।

 

গল্প ঘৃণার মেরিন

পর্ব – ১৩ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

    

    

      

মেরিনের জ্ঞান ফিরলো।   চোখ মেলে দেখে সবাই দারিয়ে আছে। জনও।  

 নির্বন: মামনি ও মামনি! তুমি ঠিক আছো? মামনি আমি তোমাকে আর কোনো প্রশ্ন করবোনা মামনি। সরি মামনি। 

মেরিন: সবাই প্লিজ একটু বাইরে যাবেন? আমি ভাইয়ার সাথে একটু কথা বলবো।  বাবুই পাখি  তুমিও যাও।  

সবাই বাইরে গেলো।   

মেরিন: ততততুমিও ননননির্বনকে বলেছো যে ‘Mr. Chowdhuri’ ওর বাবা?

জন:     

মেরিন: কককিছু জিজ্ঞেস ককককরেছি ভভভাইয়া ততততোমাকে? 

জন:হামমম।  

মেরিন: ততততুমি কিভাবে পপপারলে ববববলতে?  

 জন: ক্ষমা করে দে রে বোন আমার।

মেরিন: তোমার ওপর তততো আমার কককোনো রাগই নননেই ভভভাইয়া।  তুমি তো আমার ভভভাইয়া।  আমমি কককেবল ততততোমাকে জজজিজ্ঞেস কককরলাম।   যাই  হোক  এখন আমি নির্বনকে নিয়ে কোলকাতা চলে যেতে চাই। তুমি যযযেভাবেই হোক ব্যবস্থা করো।    

নীড় : পারবেনা তো।

মেরিন: আপনি!

নীড়: কোনো সন্দেহ? 

মেরিন ভয়ে জনের হাতটা শক্ত করে ধরলো।  

 

.

 

 নীড়: তোমার ভাইয়া কেন কেউ পারবেনা এখন তোমাকে আমার থেকে আলাদা করতে।  এরপরও যদি তুমি আলাদা হতে চাও তবে,আরে আমি মুখে বলছি কেন?

 নীড় কতোগুলো পেপার মেরিনের হাতে দিলো।    মেরিন দেখলো যে এগুলো  সেই পেপার যেগুলোর মধ্যে জন ওর সিগনেচার নিয়েছিলো।    মেরিন ওগুলো পড়লো। আর পড়ার সাথে সাথেই ওর হাত থেকে পেপারগুলো পরে গেলো।  কারন পেপারগুলোর মধ্যে  প্রথম টাতে আছে  যে ও আবার আড়াল থেকে মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী হলো।  কবির ফয়সাল খান & কনিকা খানের মেয়ে।  নীড় মেরিন আহমেদ চৌধুরী বর্ষনের স্ত্রী।  পরের পেপারে আছে যে মেরিন কখনোই নীড়কে ডিভোর্স দিতে পারবেনা। বা আলাদা হতে পারবেনা। তবুও যদি আলাদা হতে চায় তবে নির্বনকে ওর বাবা নীড়ের কাছে দিয়ে নির্বনের ওপর থেকে সব অধিরার ছেরে দিয়ে চলে যেতে হবে।   মেরিন কাগজগুলো পড়ে ১বার জনের দিকে তাকালো।  জন মাথা নামিয়ে ফেলল।

 

 নীড়: ৯ বছর আগে এমন ধরনের কনটেক্ট এ  আমার সিগনেচার নিয়ে তুমি আমাকে তোমার করেছিলে। আমার স্ত্রী হয়েছিলে।   আর আজকে ৯ বছর পর আমি এই পেপারে তোমার সিগনেচার নিয়ে তোমাকে আমার করে নিলাম। তোমার স্বামী হলাম।  নিজের সাথে বেধে নিলাম।   

মেরিন:  আপনি বববোধহয় ভুলে গগেছেন যে নীড়-মেরিনের ডিভোর্স হয়ে গেছে ৮ বছর আগে।  

নীড়: আমি কিছুই ভুলিনি। তুমি ভুলে গেছো যে ১ জনের সিগনেচার এ কিছুই হয়না।  ২জন সিগনেচার করলে তবেই ডিভোর্স হয়।   

মেরিন: পেছন থেকে ছুরি মারার স্বভাব আপনার কখনোই যাবেনা।  

 নীড়: যেটা তুমি মনে করো।কিন্তু  শুধু এটা মনে রেখো যে তুমি আমার। শুধুই আমার। তুমি আর নির্বন আমার।  আমার পরিচয় এটা নয়যে আমি নীড় মেরিন আহমেদ চৌধুরী বর্ষন। আমার পরিচয় হলো আমি মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরীর স্বামী আর নির্বন আহমেদ খান চৌধুরীর বাবা। তোমার স্বামীতো তাই তোমার মতো করেই তোমাকে আমার করে নিলাম।  

মেরিন: আমি কাউকে ছলনা করে নিজের করিনি। আমি যা করি সামনা সামনি করি।  

নীড়: তবে সেদিন ছলনা করে কেন আমার জীবনের সুখ নিয়ে চলে গিয়েছিলে?  জীবনের রং নিয়ে গিয়েছিলে?  

মেরিন: আমি কারো কখনোই নেইনা। ১ জনকে নিজের ভেবে নিয়েছিলাম।  কিন্তু সেও অন্যেরই প্রমান হলো।  তাই যার জিনিস তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।  আর কেবল মাত্র নিজের জীবন নিয়ে চলে গিয়েছিলাম।   

নীড়: না।  নির্বন শুধু তোমার না। আমারও।  নির্বন আমাদের আর তুমি শুধুই আমার।   আজীবন আমরা একসাথে থাকবো।   

মেরিন:আপনি নির্বনের বাবা হতে পারবেন কিন্তু কখনোই নির্বনের মায়ের স্বামী হতে পারবেন না।  

নীড়: নির্বনের  মায়ের ভালোবাসা আমি।  

মেরিন: ছিলেন। এখন আপনি তার অতীতে করা ভুল। 

 নীড়: ভুল নাকি ফুল সেটা সময়ই বলবে।  ভুলকে ফুলের মালা করে  আবার গলায় জরাবে । নির্বনের মা আবার নির্বনের বাবাকে ভালোবেসে মেনে নিবে।

যাই হোক এখন আমার ছেলেকে বলো যে আমি ওর বাবা।যদি তুমি আপসে না মানো contract তবে আমি আদালতে যাবো।  নির্বনকে আমার সাথে share না করলে নির্বনকেও হারাবে।

 

.

 

 মেরিনের মধ্যে আর কোনো কিছু হারানোর শক্তি নেই।  আর ও জানে যে ওর ভাগ্য ওর প্রতি এতোটাই নির্মম যে হয়তো নির্বনকেও কেরে নিবে। আর ও এখন সেই মেরিন নেই যে নির্বনকে নিজের করে রাখতে পারবে। যখন power  ছিলো  তখনই তো নিজের ভালোবাসাকে মনের খাচায় বন্দী করে রাখতে পারেনি। আর এখন তো নিঃস্ব।  তাই মেরিন দরজা  খুলে নিচে গেলো।  নির্বন ছুটে এলো।  

নির্বন: মামনি।তুমি ঠিক আছো?  

মেরিন: হামম।   বাবাই মামনি তোমাকে ১টা কথা বলতে চাই।  

নির্বন: কি কথা?  

মেরিন: এই কথাই যে তোমার মামা সত্যি কথাই বলছিলো যে ওই uncle টাই তোমার বাবা…. 

 নির্বন: সত্যি মামনি?  

মেরিন: হামম। 

 নির্বন: আমি আমার বাবার কাছে যাই?  

মেরিন: যাও।  

 

.

 

নির্বন  বাবা বলে দৌড়ে নীড়ের কাছে গেলো।  নীড়ও ছেলেকে বুকে জরিয়ে নিলো।   কেদে দিলো নীড়।   

নির্বন: বাবা তুমি কি কাদছো? 

নীড়: নারে বাবাই।এটা তো খুশির কান্না।  তুমি আবার আমাকে বাবা বলে ডাক দাওনা সোনা। 

 নির্বন: বাবা।

 নীড়: আবার?

 নির্বন: বাবা। 

নীড়: আবার বলো।  

নির্বন: বাবা বাবা বাবা। 

  নীড়:বারবার বাবা বলতেই থাকো বাবাই।  

নির্বন: বাবা বাবা বাবা আমার বাবা। 

নীড় নির্বনকে কোলে নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরতে লাগলো।  

নীড়: বাবা!আমিও বাবা হয়েছি বাবা।  আমিও বাবা হয়েছি। আমারও সন্তান আছে বাবা। আমারও support আছে বাবা। আমারও ছায়া আছে বাবা। 

নীড়ের আনন্দ দেখে সবার চোখে পানি চলে এলো।  নীড় এমনভাবে নির্বনকে নিয়ে আনন্দ করছে যে নির্বন খিলখিল করে হাসছে। ছেলের হাসি দেখে বাবাও খিলখিল করে হাসছে।  বাবা-ছেলের হাসি সারা চৌধুরী বাড়িতে  বাজছে।  ৮ টা বছর পর  এই বাড়িতে হাসির শব্দ পাওয়া গেলো।

 

.

 

রাতে……  

সবাই নিচে বসে একসাথে  নির্বনকে আড্ডা দিচ্ছে। কিন্তু মেরিন একা একা বারান্দায় দারিয়ে তারা দেখছে।  সারাটাদিন কিছুই খায়নি মেয়েটা।   

নীলিমা: দেখেছো কথা বলতে বলতে ১০ টা বেজে গেলো।  রাতে কিছু খাওয়ার ইচ্ছা নেই নাকি??  

 নীড়: যা ক্ষুধা লেগেছে না মামনি।  তুমি টেবিল সাজাও আমি আর নির্বন মিলে মেরিনকে ডেকে নিয়ে আসছি।   চলো বাবাই।

  নির্বন: চলো বাবা।

    নীড় নির্বনকে কোলে নিয়ে সিরি দিয়ে উঠছে।  

নির্বন: জানো বাবাই আমি damn sure যে মামনি এখন বারান্দায় দারিয়ে শুকতারার পাশে ঝলমলে তারাটা দেখছে।  

নীড়: তাই বুঝি? কিভাবে বুঝলে?

  নির্বন: কারন যখন আমি ঘুম থাকি তখন মামনি সেটাই দেখে। কেন বলো তো??

  নীড়: কেন? 

  নির্বন: কারন ওই তারাটা হলো বড়বাবা। মানে মামনির দাদুভাই।  

 

নীড়ের মনে পরলো সেইদিনের কথা। যেদিন ও মেরিনকে এই কথাটা বলেছিলো।  নীড় মুচকি হাসলো। 

 নির্বন: হাসছো যে বাবা?

নীড়: কিছুনা।  আচ্ছা বাবাই শোনো আমরা গিয়ে মামনিকে যদি বলি যে আসো খেয়ে নাও তাহলে মামনি খাবেনা। কারন মামনি কোলকাতাকে ভীষন miss করছে।  না করবে।  তারমধ্যে দুপুরেও কিছু খায়নি মামনি।  

নির্বন: তাহলে?

  নীড়: শোনো তোমাকে কি করতে হবে?   

 

.

 

বাপ-বেটা গিয়ে দেখলো যে সত্যি মেরিন আকাশের তারা দেখছে।  নির্বন দৌড়ে গিয়ে মামনি বলে মেরিনকে জরিয়ে ধরলো।  মেরিন চোখের পানি মুছে ছেলের দিকে ঘুরলো।   মেরিন নির্বনকে কোলে নিয়ে কপালে ১ টা চুমু দিলো।  নীড় মেরিনের চোখ  ঠিকই বুঝতে পারলো যে মেরিন কাদছিলো।  

নির্বন: চলো মামনি ডিনার করি নেই।  

মেরিন: এখনো করোনি?

  নির্বন: উহু।  তুমি রাতে না খাইয়ে দিলে কখনো কি আমি  খাই? 

মেরিন: আচ্ছা চলো তোমাকে খাইয়ে দিবো।  

নির্বন: তুমি খাবেনা?  

মেরিন: না বাবাই  মামনির ক্ষুধা লাগেনি।   

নির্বন: মানে কি? তুমি খাবেনা কেন? 

মেরিন: এমনিতেই বাবাই।  

নির্বন: তুমি না খেলে আমিও খাবোনা।   

নীড়: বাবাই চলো বাবা তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি।  

নির্বন: না। আমি রাতে শুধু মামনির হাতে খাই। আর দুপুরে তো তোমার হাতে খেলামই। এখন থেকে রাতে মামনির হাতে আর দুপুরে তোমার হাতে।  আর তার থেকেও বড় কথা মামনি না খেলে আমি খাবোনা খাবোনা খাবোনা।

  নীড়: আহ বাবাই মামনি না খেলে পরে খেয়ে নিবে। চলো আমরা খেয়েনি।  

নির্বন : না না না।   মামনি না খেলে আমি খাবোনা।  

মেরিন বেশ বুঝতে পারছে যে এসব নীড়ের কার্সাযি।

আর ও নির্বনকেও চেনে। ও না খেলে নির্বন ১ফোটা পানিও খাবেনা। অনেক জেদী। মেরিন আর নীড়েরই তো ছেলে। ওর জেদ হবেনা তো কার জেদ হবে?   নীড় মিটিমিটি হাসছে।  

 নীড়: তোমার না ক্ষুধা লেগেছে বাবা? 

নির্বন: লাগুক। তবুও আমি খাবোনা। 

মেরিন: আচ্ছা ঠিকাছে চলো তোমাকে খাইয়ে দিয়ে আমি খাবো। চলো। 

নীড়-নির্বন-মেরিন একসাথে সিরি দিয়ে নামছে। একদম perfect পরিবার লাগছে। বাকিরা তাকিয়ে  আছে।   

 

.

 

টেবিলে,

মেরিন নির্বনকে খাইয়ে দিচ্ছে। 

নির্বন: মামনি তুমি খাও।   

মেরিন: এই তো তোমাকে খাইয়ে তারপর খাবো। 

নির্বন: না এখনই খাবে। না হলে আমি খাবোনা। 

মেরিন: আহা নির্বন,জেদ করে না।  এখন তো আমি তোমাকে খাওয়াচ্ছি। তো আমি কিভাবে খাবো বলো তো?  

নির্বন: কেন ? বাবা খাইয়ে দেবে তোমাকে।

মেরিন: নির্বন। চুপচাপ খাও বলছি। 

 নির্বন: না আমি খাবোনা।

 নীড়: নিজের জেদের জন্য বাচ্চা ছেলের খাওয়া বন্ধ করার কোনো মানে  হয়না।  

 

অনেক জোরাজোরি করার পর  মেরিন রাজী হলো।  মেরিন নির্বনকে খাইয়ে দিচ্ছে আর নীড় মেরিনকে। নিহাল চুপিসারে দৃশ্যটা বন্দী করে নিলো।  

 

.

 

২ঘন্টাপর,

মেরিন নির্বনকে বুকে নিয়ে ঘুম পারাচ্ছে।  সারাদিন অনেক আনন্দ করায়  সাথে সাথেই নির্বন ঘুমিয়ে গেলো।  সেই তখন থেকে নীড় মেরিনের দিকে তাকিয়ে আছে।  মেরিন খেয়াল করলেও ইগ্নোর করলো। মেরিন নির্বনকে খাটে শুইয়ে দিয়ে নিচে বিছানা করে শুয়ে পরলো।  সাথে সাথেই নীড় ওর পাশে গিয়ে শুয়ে পরলো।  

নীড়: হামম বুদ্ধি টা ভালোই। নির্বন ওপরে ঘুমাবে আর আমরা এখানে রোমান্স করবো। এতোক্ষন তো  ছেলেকে ঘুম পারালেই। এখন ছেলের বাবাকে ঘুম পারাও। সে যে ৮ টা বছর ধরে ঘুমায়না। 

 

মেরিন বিরক্ত হয়ে উঠে বারান্দায় চলে গেলো।

 

.

 

নীড় গিয়ে পেছন থেকে মেরিনকে জরিয়ে ধরলো।  ঘারে মাথা রাখতেই মেরিন নীড়কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো।  

মেরিন: stay in your limit…..  আমি আমার ছেলেকে ছারা থাকতে পারবোনা। আর শুধুমাত্র তাইজন্যেই বাধ্য  হয়েই আমি এখানে আছি।  তার সসুযোগ নননেয়ার চেষ্টা করবেন না।  আপনি নির্বনের বাবা। ভালো কথা। কিন্তু আমার স্বামী হওয়ার চেষ্টা করবেন না।  আমি  আপনাকে স্বামী হিসেবে মানিনা। আর না আপনার সাথে বিয়েটা মানি।  

নীড়: same dialogue same situation আমরা আগেও face করেছি। তবে মানুষ ঘুরে গেছে।  ৯ বছরআগে এই  কথা গুলোই আমি তোমাকে বলেছিলাম। আর আজকে তুমি বলছো।  না ৮ বছর আগে এই কথার মানে ছিলো আর না আজকে আছে।  আমাদের বিয়েকে অস্বীকার করার ক্ষমতা  আল্লাহ ছারা কারো নেই।  তোমার আমারও নেই।  তুমি চাইলেও তোমাকে আমার সাথে থাকতে হবে।  আর না চাইলেও।  তুমি মানো আর না মানো তুমি আমার বউ।  এটাই সত্য।  

মেরিন: বউ? 

বলেই মেরিন চলে যেতে নিলো।  নীড় মেরিনের হাত ধরে ফেলল।  ওকে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে 

বলল: হ্যা বউ।  সব গল্পেরই এপিঠ ওপিঠ থাকে। তেমনি আমাদের গল্পেরও এপিঠ ওপিঠ আছে। আমার দিকের পিঠের সত্য তুমি জানোনা। আমি আজকে তোমাকে সেই সত্যটা জানাবো। ৮বছর আগে…. সেদিন তুমি যা দেখ……

 মেরিন নীড়কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো।  

মেরিন: আমি কোনো সত্য জানতে চাইনা।  আমার জীবনের একমাত্র সত্য আমার ছেলে। আর কোনো কিছু আমার জানার নেই। 

 নীড়: কিন্তু আমি তো তোমাকে জানাবোই।  

মেরিন: আমি শুনবোনা। নির্বনের ওপর কোথাও না কোথাও আপনার অধিকার আছে। কারন ছলনার হলেও সে মুহুর্ত গুলো সত্য ছিলো।  তাই biologically আপনি নির্বনের বাবা। তাই আপনি ওর সাথে থাকতে পারবেন। আপনার বাড়িতে ও থাকবে। কিন্তু ওর যাবতীয় সব খরচ আমি দিবো।  এগুলো শুধুই আমার অধিকার।   

নীড়: কিন্তু ও আমাদের ছেলে।  

মেরিন: আমি আর আপনি কখনোই আমরা হতে পারবোনা।   

নীড়: মেরিন তুমি,

 মেরিন: যে মেরিনকে আমি  ৮টা বছর আগে জীবীত কবর দিয়েছি সেই মেরিন নামের প্রলয়কে আর জীবনদান করবেন না।  

 

মেরিন গিয়ে শুয়ে পরলো।

নীড়: আমি তো আমার সেই ভয়ংকর মেরিনকেই চাই। যাকে ভালোবেসেছিলাম।  আমি কোনো অসহায় মেরিনকে ভালোবাসিনি।   

 

নীড় ভেতরে গিয়ে মেরিনকে কোলে তুলে নিয়ে খাটে শুইয়ে বুকের একপাশে নির্বন আর অন্যপাশে মেরিনকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরলো।  মেরিন ছোটার হাজার চেষ্টা করেও পারলোনা।

 

.

 

পরদিন, সকালে।

 নীড় ঘুম থেকে উঠে মেরিনকে ওর আগের style এ good morning kiss করে নিলো। 

 

.

 

একটুপর…. 

মেরিন নির্বনকে ready করিয়ে নিজেও ready হয়ে নিলো। 

 নীড়: ওকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছো?  

মেরিন: স্কুলে ভর্তি করাতে।

   নীড়: ওর ভর্তি হয়ে গেছে।  

মেরিন: মানে?  

 নীড়: ভর্তি মানে ভর্তি। আমার ছেলেকে best school এ admit করিয়েছি।  যেদিন এখানে এসেছি সেদিনই।   after all , খান & চৌধুরী empire এর আপাদত একমাত্র সম্রাট বলে কথা।     

নির্বন: বাবা আপাদত একমাত্র সম্রাট মানে কি?  

নীড়: সম্রাট মানে কি?  

নির্বন: Emperor.

নীড়: good boy….   আপাদত  একমাত্র  মানে হলো খুব তারাতারি মামনি আর বাবা মিলে নির্বনের জন্য ১টা cute ছোট আপুমনি যার নাম কিনা নিরাম তাকে আনতে চলেছি। যে নির্বনকে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকবে।

  নির্বন: সত্যি? 

 নীড়: হামম। তিন সত্যি। 

 নির্বন: আচ্ছা বাবা  আপুমনির নাম নিরাম কেন? 

 নীড়: তোমার মামনির নাম কি?

 নির্বন: আড়াল। 

 নীড়: না বাবা মামনির আরো ১টা নাম আছে। সেটা হলো মেরিন। Marin….   আর এই ইংরেজীতে Marin নামটাকে  উল্টে দিলে কিহয়। 

 নির্বন: N I R A M…..  

নীড়: বানান করো।  

নির্বন: নিরাম। 

নীড়: good …  তো নিরাম মানে হলো তোমার মামনির নামের উল্টোটা। যেখানে তোমার মামনি আর আমি ২জনই আছি।

নির্বন: মজার তো। 

নীড়: now give me a high five…..   

নির্বন দিলো।  

নীড় :good boy…. now go…  দাদুভাই আর নানাভাই  তোমার জন্য wait করছে।   নির্বন দৌড়ে চলে গেলো।  

 

.

 

মেরিন জানে নীড়ের কথায় এখন react  করলে  নীড় আরো পেয়ে বসবে। তাই react না করে নিজের সকল certificate ,  আর অন্যসব কাগজপত্র গোছগাছ করছে।  তখন ধাম করে নীড় মেরিনকে কোলে তুলে নিলো।  

মেরিন: আরে কি করছেন কি??  নামান….. 

  নীড়: বারে আমি মেয়ের বাবা হবোনা??  

মেরিন: কল্পনাও করবেন না।  

নীড়: আরে আমি এখনের কথাই বলেছি নাকি? তবে ১দিন না ১দিন তো হবোই।   

মেরিন: আপনার নিরার কাছে যান।  

 নীড়: ok… but আত্মাদের কি  baby হয়?

 মেরিন: আত্মা মানে?  

নীড়: মানে অনেক কিছু। সময় নিয়ে বলবো। যেদিন তুমি শুনতে চাইবে। তখন নির্বনের আসার আভাস পেয়ে নীড় মেরিনকে নামিয়ে দিলো। 

 

 

.

 

নির্বন: মামনি,  

মেরিন: হ্যা বাবাই। 

নির্বন:  আজকে নাকি আমরা নানুৄবাসায় যাবো।  নানাভাই বলল।   

মেরিন: না সোনা,তোমার না তো নানাভাই আছে।  আর না নানুবাসা ।   তাই তুমি যাবেনা। মামনি এখন বের হচ্ছি।  একটুপরই চলে আসবো। ততোক্ষন good boy হয়ে থাকবে।  

 

নীড়-নির্বন: কোথায় যাবে?   

মেরিন: মামনি এখন জবের জন্য যাচ্ছি।  

নির্বন: কিসের জব?

মেরিন: মামনি আগে কিসের জব করতাম? ডাক্তারের তাইনা।

নির্বন: তুমি কোলকাতা যাবে?  

মেরিন মুচকি হেসে বলল: না রে বোকা । ঢাকারই কোনো hospital এ।  now give  me a আপ্পা।   

নীড়: অন্য হসপিটালে কেন জব করবে?  ২ বাবা মিলে তোমার নামের ১ টা হসপিটাল করেছে তুমি সেখানের MD  হবে।  

মেরিন: আপনার বাবাদের হসপিটালে আমি  কেন MD   হবো?  তারা আপনার বাবা। আমার না।   আমি  এতিম।  অনাথ।  

নীড়: মেরিন ১ টা ছোট বাচ্চার সামনে।  

মেরিন: ও আমার ছেলে। আমি ওকে সেই বাস্তব পৃথিবীর সাথে পরিচিত করতে চাই।  সবাইকে সম্মান করতে শিখিয়েছি,  ঘৃণার বদলেও ভালোবাসতে শিখিয়েছি কিন্তু সাদা কে সাদা আর কালো কে কালো হিসেবেই দেখতে বলেছি।  আমি চাইনা আমার ছেলে আমার মতো ভুল করুক।  ভুলকে ফুল ভাবুক।   কিন্তু সবটাই যেন ভালোবাসা দিয়ে করে।  

নীড়: মেরিন তুমি,নির্বন বাবা একটু নানাভাইয়ের সাথে খেলা করো। 

নির্বন চলে  গেলো।  

 

.

 

নীড়: তুমি,

মেরিন: নীড় আমাকে আমার মতো থাকতে দিন।  

নীড়:  যাই হোক। তুমি MD   নাই বা হলে জবই করো। but আমাদের হসপিটালেই করো।  

মেরিন: না। আমি গরীব হলেও ভিখারী নই। আমি কারো ভিক্ষা নেই না। নিজের দক্ষতায় চাকরি করবো। 

 নীড়: আমার ১টা ফোন তোমার জন্য সব দরজা বন্ধ করে দেবে।   

মেরিন: আমার তো সকল দুয়ার আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।  যাও নতুন ১টা দরজা খুলেছিলো তাও বন্ধ করে দিয়েছে। ঘৃণারমেরিন থেকে  ভালোবাসার আড়াল হয়েছিলাম। তাও কেরে নিলেন।  

বলেই মেরিন বেরিয়ে গেলো।  

নীড়: আমার মনে তোমার জন্য কোনো ভালোবাসাই ছিলোনা। ঘৃণা ছিলো। তবুও তোমার ভালোবাসার  কাছে হার মেনেছিলাম। এখন আমার ভালোবাসার কাছে তোমারে হারতে হবে। আর তোমার মনে তো আমার জন্য আগে থেকেই ভালোবাসা আছে। তাই আমি পারবো ইনশাল্লাহ।  তোমাকে আমি গত ৮বছরের দুঃখের কথা শুনিয়ে তোমার ভালোবাসা আদায় করবো না।  আমি ভালোবেসে তোমার ভালোবাসা  আদায়  করবো ।  তুমি তোমার অতীত আড়াল করেছিলে আমার কাছে। তেমনি আমিও এই ৮বছর আড়াল করবো।  অভিমান  কে হারিয়ে ভালোবাসাকে জিতাবো। নিজেকে কথা দিলাম। 

নীড় কাউকে ফোন করলো।  

 

.

 

ওদিকে….. 

 মেরিন ঢাকা মেডিকেলে apply করলে সেখান থেকে ওকে সোহরাওয়্যার্দীতে পাঠালো। ও সেখানেই practice করতে পারবে। পরে মন মতো chamber এ বসতে পারবে।  মেরিন খুশি হলো। সেই সাথে অবাকও।  

মেরিন: এতো সহজেই হয়ে গেলো? mr. chowduri কিছু করেনিতো? না উনি কিছু করলে তো জবটাই হতোনা।

আসলে নীড়ের জন্যেই মেরিন জবটা পেলো।  কারন মেরিন ওদের কাহিনি আবার নতুন করে শুরু করতে চায়।  ঘটনা যেখানে শুরু হয়েছিলে সেখানেই ফিরতে চায়।

…..

……..

[চলবে..]

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ১৪ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

   

   

    

মেরিন জবটা পেয়ে খুশিই হলো।  ওদিকে নীড়…..  

নীড়: আমি তোমার সেই রাগ আবার ফিরিয়ে আনবো।  তোমার চোখের সেই আগুন ফিরিয়ে আনবো। আড়ালকে মেরিন বানাবো। আর এরপর মেরিনকে মিষ্টি।  

 

.

 

রাতে……

   মেরিন  কাপড় চোপর  গোছাচ্ছে।   নীড় ওদের ৩জনের জন্য খাবার ঘরে নিয়ে এলো। কারন  মেরিন যতোই বলুক যে দুপুরে খেয়েছে  কিন্তু নীড় জানে যে  মেরিন আসলে খায়নি। তাই নীড়ও কিছু খায়নি।   

নীড়: নির্বন….. খাবার নিয়ে এসেছি। মামনিকে নিয়ে আসো। আমরা ৩জন মিলে খাই।  

নির্বন: মামনি চলো।  

মেরিন: বাবাই…..  

নির্বন: আজকেও কি বলবে ক্ষুধা লাগেনি?

 মেরিন: না বলবোনা। তবে আসো আগে তোমাকে খাইয়ে দেই।  

নির্বন: কিন্তু মামনি  জানো বাবা না  সকাল থেকে  কিছু খায়নি।

মেরিন: হামম।  

নির্বন: বাবা না বিকালবেলা খেলার সময় হাতে ব্যাথা পেয়েছে। এত্তোগুলা রক্ত বের হয়েছে।  

মেরিন: হামম।   

নির্বন: বলছিলাম কি মামনি…..  বাবা কাটা হাত দিয়ে কিভাবে খাবে?  

মেরিন:…..  

 নির্বন: মামনি বলছিলাম কি  তুমি আমার সাথে বাবাকেও  খাইয়ে দিবে?

মেরিন: what? 

 নির্বন: বাবাকেও  খাইয়ে দাওনা…. please ….  

মেরিন: না… দেখি হা করো।  

নির্বন: তুমি না আমার  মিষ্টি আম্মু।  আমার সব কথা সবসময় রাখো। তাহলে বাবাকেও  খাইয়ে দাওনা। প্লিজ।

মেরিন: না বাবা….  

নির্বন:কেন?  দাও না দাও না।  

মেরিন: নির্বন….. 

নির্বন: বাবাকে না খাইয়ে দিলে আমিও খাবোনা।  

 মেরিন: নির্বন তুমি কিন্তু জেদ করছো।  গুড বয় রা জেদ করেনা। দেখি হা করো।   

নির্বন: আমি খাবোনা।  

মেরিন: নি….  তুমি না খেলে কিন্তু মামনিও খাবোনা।  

 

.

 

 নির্বন পরে গেল বিপদে।  কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা।   একদিকে মামনি আরেক দিকে বাবা।  মহা confused হয়ে গেলো।  আর confused হয়ে গেলে নির্বন কান্না করে দেয়। তাই  এখনও কান্না করে দিলো।  যা দেখে নীড়-মেরিন অস্থির হয়ে গেলো। 

 নীড়-মেরিন: কাদেনা বাবা…..  

নির্বন ভ্যা ভ্যা করে কেদেই যাচ্ছে।  মেরিন জানে নির্বন confused হয়েই কান্না করছে।  মেরিন নির্বনকে কোলে নিয়ে 

বলল: কাদেনা কলিজা..  মামনির লক্ষি বাচ্চানা তুমি।  তুমি কান্না করলে কিন্তু মামনিও  কেদে দিবে।

 

মেরিন অনেক কষ্টে নির্বনকে থামালো।  সেই সাথে  নীড়কেও খাইয়ে দিতে রাজী হলো।   মেরিন আগে নির্বনের মুখে দিলো। এরপর নীড়ের মুখে দিতে গেলো।  নীড়ও মুখে নিলো।   মেরিন ২বাবা ছেলেকে দেখতে লাগলো। একই ভাবে ২জন হা করে। একইভাবে  খায়।

 ২জন একই সাথে বলল: yummy….  

মেরিন অজান্তেই হেসে দিলো।   মেরিন ২জনকে খাইয়ে দিলো।    কিন্তু নীড় খাবার কম মেরিনের হাত বেশি খাচ্ছিলো। 

 নির্বন: মামনি এখন তুমি খেয়ে নাও।  

মেরিন: হামম।  

 

.

 

কিছুক্ষনপর….. 

 মেরিন  বাসনপত্র রান্নাঘরে রেখে রুমে এসে দেখে বাবা ছেলে একসাথে খেলছে। আর হো হো করে হাসছে।  মেরিন কিছুক্ষন  ২জনকে দেখলো।  মেরিন ওদেরকে একা  ছেরে দিয়ে বাগানে চলে গেলো। 

 মেরিন মনে মনে: উপরওয়ালা যা করে হয়তো ভালোর জন্যেই  করে।  বাবা-মায়ের ভালোবাসার জন্য সারাটা জীবন চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করেছি কিন্তু পাইনি। আমি চাইনা আমার ছেলের সাথেও এমন কিছু হোক।  আমি নির্বনকে অনেক ভালোবেসেছি। কিন্তু বাবার ভালোবাসা দেয়া সম্ভব ছিলোনা।  বাবার হাহাকার ছিলো ওর মধ্যে। তাই আমি চাই আমার ছেলেটা তার মা-বাবা ২জনেরই ভালোবাসা পাক।

 তখন কেউ ওর কাধে হাত রাখলো। তবে স্পর্শটা মেরিনের অচেনা মেরিন ঘুরে দেখে কবির।   সাথে সাথে পিছিয়ে গেলো।

কবির: মামনি….  

মেরিন আর দেরি না করে  দৌড়ে রুমে চলে গেলো। 

 

.

 

মেরিন রুমে ঢুকতেই 

নির্বন: ওই তো মামনি চলে এসেছে। 

মেরিন: কি হয়েছে?  

নির্বন: মামনি আসো আসো…. আমরা ৩জন আজকে একসাথে ঘুমাবো। কালকে তো আমি ভুল করে ঘুমিয়েই পরেছিলাম। তাই তো ৩জন  একসঙ্গে শুয়ে  ছবি তুলতে পারিনি। সেলফি নিতে পারিনি।   

মেরিন: সেলফি?  

নির্বন: হামম সেলফি। 

মেরিন: সেলফি কেন? 

নির্বন: বারে সেলফি তুলে আমার বন্ধুদের আর প্রাণকে দিবোনা?  

মেরিন:  বন্ধুরা তো ঠিক আছে। কিন্তু প্রাণ কে কেন? 

নির্বন: ওকে তো সবার আগে দেখাবো। কারন ও রোজ আমায় শোনাতে যে ওর বাবার সাথে হেন করেছে ত্যান করেছে।  রাতে বাবা এই গল্প বলেছে। আরো কতো কি। আর বলতো আমি নাকি এমন moment কখনো পাবোনা। কারন আমার বাবা নেই।  তাই ওকে দেখাবোনা…  ও এমন করতো বলেই তো আমি ওকে…. 

 মেরিন: ওকে?! 

নির্বন মনে মনে : ওকে পিটিয়েছি।

নির্বন: আমি ওকে জবাব দিবো।  আমাদের ছবি দেখিয়ে।

মেরিন: ছিঃ বাবা….. এমন করে বলতে নেই। প্রতিহিংসা ভীষন খারাপ জিনিস।  এমনটা করলে আল্লাহ নারাজ হয়। কেউ খারাপ ব্যবহার করলে তাকে ভালোবেসে বোঝাতে হয়।  ও তোমার অপছন্দ ভালো কথা।  সেটা মনের মধ্যে রাখো।  সেটা প্রকাশ করে প্রতিহিংসা বারানো ঠিকনা। তুমি কিছু করবে এর প্রতিশোধে ও কিছু করবে পরে আবার তুমি কিছু করবে। এমনভাবে চলতে থাকলে তো তোমরা কখনো  বন্ধু হবেনা।   সবার সাথে ভালো ব্যাবহা করবে।

নীড়:  no baby….  কেউ বিনা দোষে তোমাকে ১টা ঘুষি দিলে তুমি তাকে ১০টা দিবে।

 

নির্বন:  কিন্তু মামনি যে বলে মারামারি করা ভালোনা। 

 নীড়: আরে শুধু শুধু মারবে নাকি? তোমাকে কেউ বিনা কারনে মারলে তাকে ছারবে কেনো? তাকে দে দানা দান মারতেই থাকবে।  কেউ যদি কিছু বলে  তো তুমিও বলে দেবে জানো আমি কে? আমি নির্বন আহমেদ খান চৌধুরী। আমার মামনি মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী । আমার বাবার নাম নীড় মেরিন আহমেদ খান চৌধুরী বর্ষন।    দেখবে কেউ তোমার দিকে চোখ তুলে তাকাতেই সাহস পাবেনা।   

 

.

 

 মেরিন  বেশ বুঝতে পারছে  যে নীড় ওকে রাগানোর চেষ্টা করছে।   

নির্বন: আচ্ছা বাবা মামনির নামে তোমার নাম নীড় আছে। আবার তোমার নামেও মামনির নাম মেরিন আছে। কেন?

 নীড় মুচকি ১টা হাসি দিয়ে 

বলল: কারন আমরা এক মন এক প্রাণ। তাই। 

 মেরিন: নির্বন  brush করেছো?

 নির্বন: উইই ভুলে গেছি।  আচ্ছা মামনি আগে সেলফিটা তুলে নেই তারপর করবো।  

মেরিন: না বাবাই আগে  brush করে আসো।  

নির্বন: ok  মামনি।    

নির্বন  washroom এ যেতেই মেরিন কোনো কথা না বলে bag  থেকে ৩০হাজার টাকা দিয়ে

 বলল: এটা আমার আর আমার ছেলের থাকা খাওয়ার খরচ। প্রতি মাসে আপনি শুরুতেই টাকাটা পেয়ে যাবেন।  নির্বন যদি কিছু চায় তবে সেটা আমিই দেবো। আর এমনিতেও নির্বন তেমন আবদার করেনা।   

নীড় অবাক চোখে দেখছে।  নীড় টেনে মেরিনকে বারান্দায় নিয়ে গেলো।  

নীড়: এসবের মানে কি?   

মেরিন: কালই বলেছিলাম যে আমার ছেলের যাবতীয় খরচ আমিই দিবো।  

নীড়: মেরিন…. অভিমানে এমন কিছু করোনা যার জন্য আমাকে  তোমার ওপর রাগ করতে হয়।  আমার ছেলেকে খাওয়ানোর খরচ নেবো আমি। 

নীড়ের চোখ রাগে লাল হয়ে গেছে।    মেরিন নীড়ের চোখ দেখে ভয় পেলো। 

 মেরিন চোখ নামিয়ে 

বলল: নননির্বন আমার ছছছেলে। তততাই ওর ভভভভরন পপপোষনের দায়িত্ব আমার।  

 বলেই মেরিন চলে যেতে নিলে নীড় মেরিনকে টেনে নিয়ে ওর ঠোট জোরা দখল করে নিলো। শেষে ১টা কামড় দিলো।  মোটামোটি জোরেই।    

নীড়: এটা তোমার শাস্তি।  ধরো তোমার টাকা। আমাকে টাকা দেখাতে আসবেনা।    আর কখনো আমার সাথে চোখ নামিয়ে কথা বলবেনা….. got it?চোখ নামিয়ে কথা বলা তোমাকে মানায়না।

 নির্বন : মামনি  বাবা তোমরা কোথায়?

  নীড়: এই তো। চলো সেলফি তুলি।  

 নীড় নির্বনকে বুকের ওপর শুইয়ে মেরিনের পাশে আধশোয়া হয়ে সেলফি তুলল।   

নির্বন: মামনি… 

মেরিন: হামম।  

নির্বন: আজকে আমি বাবার বুকে ঘুমাই ?

  মেরিন:….. হামম।   

নির্বন: yeappy….. বাবা তুমিও কিন্তু মামনির মতো গল্প শোনাবে।  

 

নীড় জবাব দিবে কি? ও তো এটাই চেয়েছিলো। সেদিন রাতে নির্বন ঘুমানোর পর বুকে নিয়েছিলো। আর আজকে ওর বুকেই ঘুমাবে।  নীড় নির্বনের কপালে চুমু দিলো।   নীড় নির্বনকে বুকে জরিয়ে নিয়ে গল্প শোনাতে লাগলো।  নির্বন ঘুমিয়ে পরলো।   নীড়ের চোখের কোনে পানি চিকচিক করছে।  নির্বন ঘুমিয়ে গেলে মেরিন খাট থেকে উঠতে নিলে নীড় টেনে নিজের কাছে নিয়ে নিলো।  

 

 নীড় মেরিনের কপালে কপাল ঠেকিয়ে

 বলল: এতো সুন্দর ১টা উপহারের জন্য ধন্যবাদ দিয়ে ছোটো করবোনা তোমায়।  বাবা হওয়ার মধ্যে যে এতো সুখ আছে তা জানতাম না। 

 মেরিন: দেখি ছছছারুন ঘুমাবো…..  

 নীড়: ঘুমাও। আমার বাহুতে।  

মেরিন:ওটা আআমার জজজায়গা না।

  মেরিন সরে যেতে নিলে নীড় মেরিনকে শক্ত করে ধরে রাখলো। বউ  ছেলেকে জরিয়ে ধরে নীড় ঘুমিয়ে গেলো।  

 

.

 

সকালে…..  

আজকে  মেরিনের আগে ঘুম ভাঙলো। দেখলো রাতে যেভাবে ঘুমিয়েছিলো  এখনো নীড় ঠিক সেভাবেই জরিয়ে ধরে রেখেছে। রাতে মেরিন ভেবেছিলো নীড় ঘুমিয়ে গেলে ও উঠে যাবে।  কিন্তু নীড়ের বাহুডোরে অতি সহজে মেরিনই আগে ঘুমিয়ে গেছে।    অনেক কষ্টে মেরিন নিজেকে ছারালো।  দেখলো নির্বন বাবার বুকে চুপটি করে ঘুমিয়ে আছে। আর নীড়ও পরম যত্নে জরিয়ে রেখেছে। 

 

মেরিন মনে মনে: আমার ছেলেটা বাবার জন্য হাহাকার আর থাকবেনা। এতোদিন তো কষ্ট করেই এসেছি। বাকীটা জীবন না হয় তোর জন্য কষ্ট করে এদের ভীরে বাস করবো। তবু তুই সুখে থাক সোনা। 

 

.

 

মেরিন হসপিটালে গেলো। আর যেতেই ধিরিম করে ১জনের সাথে ধাক্কা লাগলো। পড়ে যেতে নিলে সে তাকে ধরে নিলো।   চোখ মেলে দেখলো নীড়।  মেরিন সরে দারাতে চাইলো। কিন্তু পারলোনা।

 নীড় ওভাবে দারিয়েই 

বলল: ভালোবাসি।  

মেরিন: what?  

নীড়: ভালোবাসি।  

মেরিন: মানে?  

নীড়: ভালোবাসি মানে ভালোবাসি।

 মেরিন: পাগল হলেন নাকি?  

নীড়: হামম তোমার প্রেমে। 

 মেরিন: দেখি ছারুন সবাই দেখছে।

  নীড়: দেখুক তাতে আমার বাপের কি?   তখন ১টা লোক এগিয়ে এলো। 

বলল: আপনার সাহস তো খুব বেশি এতো গুলো মানুষের সামনে ১টা মেয়ের সাথে বেয়াদবি করছেন?

নীড়: ডন… ডন…..   

মেরিন: ডন?  

নীড়: my new assistant ….  

ডন: yes sir…… 

 নীড়: handle that person …..   

ডন: yes sir….. 

 মেরিন সেই দিনের কথা কল্পনা করলো যেদিন নীড়ের সাথে প্রথম ওর দেখা হয়েছিলো। সব এমনই হয়েছিলো।   শুধু আজকে যেই ভালোবাসি নীড় বলছে সেদিন মেরিন বলেছিলো।   মেরিন অনেক কষ্টে নিজেকে ছারিয়ে নিলো। 

 

 নীড়: hey jaan…..  see you soon….   

 

.

 

মেরিন রোগী দেখতে লাগলো।  তখন অন্য ১টা doctor হাত বারিয়ে 

বলল: hello i m doctor নোমান।  আপনি তখন কিছু বললেন না কেন?  এই সমস্ত লোককে   সায় দিবেন না। আমাকে বলতে পারেন।

 বলেই লোকটা মেরিনের ঘারে অন্য  হাত রাখতে নিলো।   আর তখনই নীড় দুম করে এসে নোমানের সাথে হাত  মিলিয়ে 

বলল: & i m নীড় মেরিন আহমেদ চৌধুরী বর্ষন। & she is my wife…… 

 বলেই নোমানের হাতে এমন জোরে চাপ দিলো যে নোমানের জান যায়যায়।  এরপর নোমানকে নিচে ফেলে ২হাত মোচর দিয়ে 

বলল: আমার বউয়ের দিকে হাত….  আমি তোর এমন হাল করবো যে …..

 

নীড় নোমানকে মারতে মারতে নিচে সবার সামনে নিয়ে গেলো। এরপর মেরিনের হাত ধরে

 বলল: যে যে উপস্থিত আছো সবাই শুনে রাখো যে মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী হলো নীড়ের বউ। কেউ চোখ তুলে তাকানোর আগেও ১০ ভেবে নিবে। 

বলেই মেরিনের হাত ধরে নিজের কেবিনে নিয়ে গেলো।  

মেরিন: ছারুন আমার হাত। অনেকে লাইনে দারিয়ে আছে। উনাদেরকে দেখতে হবে। 

 নীড়: ৮বছরে রাগ করতে যেমন করে ভুলে গেছো তেমন করে কি ঘড়ি দেখতেও ভুলে গেছো।  look at the clock ….. its lunch time… lunch break চলছে।     & we have 1 hour to romance ….. & to do lunch …. ভীষন ক্ষুধা লেগেছে। সকাল থেকে কিছু খাইনি।

 মেরিন কোনো কথা না বলে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলে  নীড় ওকে কোলে নিয়ে বসলো।  

 

নীড়: বললাম না  ক্ষুধা লেগেছে।   সকালবেলা না খেয়ে চলে এসেছো কেন? হামম? আর তার থেকেও বড় কথা আমার good morning kiss টা বাকি রেখে আসলে কেন? no problem ….  এখনই নিয়ে নিচ্ছি। 

 

তখনই  দরজায় করা নরলো। 

নীড়: হায়রে….  আমার রাজপুত্র চলে এসেছে।  romance এর মাথায় বাড়ি।

 মেরিন আগামাথা কিছুই বুঝলোনা।  নীড় গিয়ে দরজা খুলল। আর নির্বন ঢুকে এলো। মেরিন অবাক হয়ে গেলো। 

  নির্বন: মামনি…..   

নির্বন ঝাপিয়ে গিয়ে মেরিনের কোলে গেলো। 

 মেরিন: ওলে আমার কলিজাটা।   

নির্বন: love you এত্তোগুলা মামনি…..  

নীড়: নিয়ে এলো বাবা আর love you মামনি? যাও কথা নেই। 

নির্বন: আরে বাবা….  আমি তো তোমাকেও ভালোবাসি।  

নীড়:ওলে আমার prince টারে……   

মেরিন: তুমি এখানে?  

নীড়: আমি আনিয়েছি।  স্কুল তো এখনো start হয়নি পরশু থেকে হবে।  আর আমি আমার champ কে promise করেছিলাম যে possible হলে দুপুরে রোজ আমি ওকে খাইয়ে দিবো।  তাই আমি আমার champ কে নিয়ে এসেছি।  ৩জন একসাথে  খাবো বলে।

 

নির্বন: বাবা বাবা….  

নীড়: হ্যা সোনা…. তুমি আমার সাথে সাথে মামনিকেও খাইয়ে দিবে। ok?  

নীড়: of course … 

মেরিন: না। আমি হাত দিয়েই খাবো।  

নির্বন: কিন্তু মামনি….  

মেরিন: নির্বন তুমি কিন্তু এখন অযথাই জেদ করো।  মামনি কিন্তু ভীষন রাগ করবো।  

নির্বন: sorry …..   

৩জন খাওয়া দাওয়া করলো।  বিকালবেলা ৩জন একসাথেই  বাসায় গেলো।  

 

.

 

 দিন  কাটতে লাগলো।  নীড় মেরিনের সাথে তেমনটাই করে যেমনটা মেরিন আগে ওর সাথে করতো।  মেরিনের মনে হচ্ছে ঘড়ির কাটা উল্টো ঘুরছে।   নীড় মনে প্রানে চেষ্টা করছে মেরিনের রাগ ফিরিয়ে আনার। কিন্তু কোনোভাবেই কোন কাজ হচ্ছেনা।  পরে ওর মাথায় ১টা plan এলো।

 

নীড়: আমি যদি নিজেকে বিপদে ফেলি তবে বুঝে যাবে যে নাটক করছি। কারন তুমি আমায় সবটা চেনো।  কিন্তু …….    

 

.

 

পরদিন….. 

 মেরিন নির্বনকে নিয়ে বাসায় ফিরছে। নীড় ২দিন ধরে ব্যাস্ত। তাই ২দিনধরে মেরিনই আসে।  গাড়ি চলতে চলতে হঠাৎ break মারলো।

 মেরিন: কি হলো driver ভাই?  

driver : জানিনা ম্যাডাম কে যেন রাস্তার মাঝে পরে আছে। রক্তাত্ব অবস্থায়।   

মেরিন: আল্লাহ বলে কি? চলুন তো দেখি…..    

driver: না না। আমি যাবোনা। পরে গুন্ডা বদমাশ হলে।  

মেরিন: আর যদি সত্যি আহত হয়ে থাকে।  

মেরিন নির্বনকে গাড়িতে রেখেই বের হলো। কিন্তু সামনে যেতেই বুঝলো যে লোকটা নাটক করছে।  ৮-১০জন লোক বেরিয়ে এলো। ওদের ঘিরে  ফেলল।    driver তো ভয়ে দৌড়।  মেরিন তো ভয়ে কাপছে।   

মেরিন: আআপনারা ককারা??  ককি চচচান? 

 ১জন বলে উঠলো: চাইতো চৌধুরীর নাতিটা। সালা আমাদের বস কে ফাসির শাস্তি দিয়ে দিলো।  এই তুলে নিয়ে আয় তো।  

মেরিন: নননা এএমন করবেন না।  

 ওরা নির্বনকে নিয়ে যেতে নিলো।  

মেরিন: নননা নননা এমন কককরবেন না। ও কককি কককরেছে?ও ততো ছোট মমমানুষ। ওর তততো দদোষ নেই।  আর দাদুরও তো দদদোষ ননেই।  সসসে তততো ১জন জজ। তততিনি তো নিজের কাজ কককরবেনই।  গুন্ডারা মেরিনের কোনো কথা না শুনে নির্বনকে তুলে নিয়ে গেলো।

মেরিন ভুল করে আজকে mobile টাও আনেনি। আর রাস্তাটা এতোই নির্জন যে ধারে কাছে কেউ নেই।   কি করবে মেরিন?  এদিকে নির্বন কাদছে আর মামনি মামনি বলে ডাকছে।ওদের গাড়ি অনেকটা দুরে চলে গেছে।  আবছা দেখা যাচ্ছে।   না মেরিন কোনো মতেই নিজের ছেলেকে হারাতে পারবেনা।  দৌড়ে গিয়ে গাড়ির  driving sit এ বসলো। গাড়ি start দিলো।    ভীষন speed এ গাড়ি ছুটালো।   ৮বছর পর মেরিন গাড়ি চালাচ্ছে। তাও এতো জোরে। ওদের গাড়ি প্রায় ধরে ফেলেছে।    ওদের গাড়ি ১টা গোডাউন  type জায়গায় গিয়ে থামলো।  ওরা নির্বনকে ভেতরে নিয়ে গেলো।  মেরিনও দৌড়ে ভেতরে ঢুকলো। 

 

.

 

মেরিনকে দেখেই লিডারটা বলল: এই মাইয়াটা এদিকে কেন?

মেরিন: আআআমার ছছেলেকে ছছছেরে দিন না।  আমি হহহাত  জজজোর করে বববলছি আআআমার নির্বনকে ছেরে দিন।  

 

লিডার: ছেরে দিবে? এখন তোর সামনে তোর ছেলেকে টুকরো  টুকরো করবো। এই ওর হাত ২টো  ধরে রাখ। 

তখন ২টা মেয়ে ওকে আটকে রাখলো।  লিডার ১টা ছুরি নিয়ে নির্বনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  মেরিন অনেক আকুতি মিনতি করছে।  কিন্তু লিডার দানবের মতো হাসতে হাসতে নির্বনের দিকে যাচ্ছে।  

 

নির্বন: মামনি বাচাও মামনি। বাচাও মামনি। বাচাও আমাকে…….    

লিডার নির্বনের কাছে চলে গেলো।   আর মেরিন নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না।  নিজেকে ছারিয়ে একেক টাকে ডিটারজেন্ট ছারাই ধুয়ে দিতে লাগলো।  সবার শেষে ধরলো  লিডারটাকে। ছো মেরে ওর হাত  থেকে  ছুরি টা নিয়ে নিলো।  

মেরিন: তুই আমার ছেলেকে কেটে টুকরো টুকরো করবি? আমার ছেলেকে? তুই জানিস আমি কে??  জানিস? মেরিন বন্যা খান। এখন তোর এই ছুরি দিয়ে তোকেই কেটে টুকরো টুকরো করবো।  

মেরিন রাগে কুমাচ্ছে।  হাতের ছুরি নিয়ে লিডারের       দিকে এগিয়ে যেতে লাগলে।  লাথি মেরে লিডারকে নিচে ফেলে  ওর পেটে পারা দিয়ে ধরলো। আজকে মেরিনের হাত থেকে লিডারকে কেউ বাচাতে পারবেনা। just ছুরি দিয়ে আঘাত করবে তখন নির্বন মামনি বলে মেরিনকে জরিয়ে ধরলো। 

 মেরিন  ছুরিটা ফেলে নির্বনকে কোলে নিয়ে 

বলল: বাবাই তুমি ঠিক আছো?

 নির্বন:হামম। 

মেরিন:তো…

 তখনই কারো হাত তালির শব্দ পাওয়া গেলো।  মেরিন সামনে তাকিয়ে দেখলো যে নীড়।  মেরিন অবাক হলো।  নীড় নির্বনের কাছে গিয়ে দারালে বাবা-ছেলে ২জন high five দিলো।  

নীড়: ডন….ডন….  

ডন: yes sir…..  

নীড়: নির্বনকে বাসায় নিয়ে যাও।  আর ওদেরকে হসপিটালে পাঠাও। এদেরকে বাকী payment করে দাও।  যা কথা ছিলো তার ২গুন দিও।  সবাই চলে গেলো।  

 

.

 

 মেরিনের কাছে সবটা স্পষ্ট।   এসব নীড়ের plan ছিলো।   মেরিন ঠাস করে নীড়কে থাপ্পর মারলো।   থাপ্পর খেয়ে নীড় অন্য গাল বারিয়ে দিলো।   

নীড়:মারো।

  মেরিন নিচে পরে থাকা

ছুরিটা হাতে নিয়ে নীড়কে ঘুরিয়ে ওর চুল ধরে ওর গলায় ছুরি ঠেকালো। 

মেরিন: কেন করলেন এমন নী..mr. chowdhuri? কেন?

নীড়: তোমাকে পাওয়ার জন্য।  আসল তোমাকে পাওয়ার জন্য।  রাগী , ভয়ংকারী মেরিনকে।  

মেরিন: আপনার কোনো আন্দাজ নেই আমি কতোটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আপনি এমন কেন? যদি আমার ছেলের কিছু হয়ে যেতো?

 নীড়: আমাদের ছেলে……  আর হ্যা নির্বনের গায়ে ফুলের টোকাও লাগেনি।  আর ওরাও কেউ professional গুন্ডানা।   Actor …ওরা আদর করেই এনেছিলো নির্বনকে। 

মেরিন: খুব শখ ছিলোনা আপনার মেরিন বন্যাকে ফেরানোর?  এখন দেখুন এই মেরিন কি কি করে…..  

বলেই মেরিন হাতের ছুরি টা খুব জোরে আছার মেরে বেরিয়ে গেলো।  

 

.

 

 নীড়: আমার রাগী মেরিনতো ফিরে এলো…..  বাকীটা সামলে নিবো। আর তোমার next step  কি হবে সেটাও আমি জানি….  এবার জমবে মজা। যখন বাঘ-বাঘিনী no no…. সিংহ-সিংহী মুখোমুখি হবে। নীড়-মেরিন এবার প্রেম খেলায় মজবে।

…..

……..

[চলবে……]

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ১৫ 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

   

    

    

মেরিন হনহন করে চৌধুরী বাড়িতে ঢুকলো।  নির্বন নিচে বসেছিলো।  মেরিন বাড়িতে ঢুকেই নির্বনকে নিয়ে ওপরে গেলো।   মেরিন রেগে আছে। তাই নির্বন কোন কথা  বলছেনা।   মেরিন ওদের ২জনের ব্যাগ  গুছাচ্ছে। 

  নির্বন: মামনি আমরা কোথায় যাচ্ছি?

মেরিন:…..  

নির্বন: ও মামনি আমরা কোথায় যাচ্ছি? 

 মেরিন: কোলকাতা।    

নির্বন: কেন? বাবা যাবেনা? 

মেরিন: তুমি কি যাবেনা?   বাবার কাছে থাকবে?

  নির্বন: আমি কি বলেছি…. 

 মেরিন: না তোমার তো আবার এখন বাবাই প্রিয় হয়ে গেছে।  থাকো বাবার কাছে।  আমি চলে যাচ্ছি। 

 নির্বন: না মামনি। আমি তোমাকে ছারা থাকতে পারবোনা।

 মেরিন: মোটেও না। তুমি বাবার কাছেই থাকো। 

 নির্বন: না মামনি।  

মেরিন: ইউ হার্ট মি টুডেই। তোমার বাবার প্ল্যান মতো কাজ করেছো। জানো কতোটা  ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম?

 নির্বন: সরি আর কখনো এমন হবেনা। আমি তোমার সাথেই যাবো। তোমার সাথেই থাকবো। 

মেরিন: ভেবে বলছো?  

নির্বন: হামম।

মেরিন: চলো তবে।  

নির্বন: তুমি রাগ করে নেই তো আমার ওপর? 

মেরিন: জানিনা। চলো এখন।  

 

.

 

 মেরিন নির্বনকে কোলে নিয়ে নিচে নেমে এলো। দেখলো নীড় পায়ের ওপর পা তুলে বসে বসে কফি খাচ্ছে। একদম রিলেক্স মুডে এ আছে। আর বাকীরা আতংকে আছে। মেরিন ওর দিকে খেয়াল না করে দরজার দিকে পা বারালো।  কিন্তু দরজা খুলতে গেলে বাজলো বিপত্তি।  খুলছেনা। পাসওয়ার্ড দেয়া।  

মেরিন: দরজার পাসওয়ার্ড টা বলুন মিঃ চৌধুরি।

নীড় জবাব না দিয়ে কফিই খেয়ে যাচ্ছে। যেন এটার থেকে জরুরী কোনো কাজই নেই পৃথিবীতে।    মেরিন নীড়ের সামনে গিয়ে কফির মগটা নিয়ে ধপাস করে আছার মারলো।

মেরিন: দরজাটা খুলে দিন। 

 নীড়: কেন?

 মেরিন:  দরজা খুলতে বলেছি…..

 নীড়: পাসওয়ার্ড না ভুলে গিয়েছি……. কাল সকালে মনে করে বলবো।

 

বলেই নীড় চলে যেতে নিলো। মেরিন  নীড়ের কলার টেনে সামনে আনলো। 

বলল: ভালোভাবে বলছি দরজা খুলে দিন।  না হলে …..  

নীড়: না হলে?  

মেরিন: আমি….

  নীড়: আমিও ভালোয় ভালোয়  বলছি রুমে যাও।  তুমি আমি যুদ্ধ করবো।  খুব ভালো কথা। কিন্তু যা করবো যেভাবে করবো এই বাড়িতে থেকে। একসাথে থেকে।   

মেরিন: মেরিন বন্যা সমানে সমানে লড়াই এ বিশ্বাসী।  

নীড়: খান আর চৌধুরী সমান সমান ই। 

 মেরিন: কিন্তু না আমি খান আর না আমি চৌধুরী।  আমি কেবল আর কেবল মেরিন  বন্যা।  নির্বনের মা। মেরিন   কাল কেউটে সাপ।  আপনার মতো দুই মুখো সাপ না। যে পেছন থেকে আঘাত করে।  তাই আপনার সাথে আমার লড়াই কখনো হতেই পারেনা।  আমার ছেলেকে নিয়ে আমি চলে যাবোই।  

নীড়: নির্বন আমাদের ছেলে।

  মেরিন: না।  নির্বন শুধুই আমার ছেলে।  যাই হোক দরজা খুলুন।  

নীড়: পারলে খুলে নাও। 

 বলেই নীড় সিরি দিয়ে ওপরে উঠতে লাগলো।  তখন কিছু ১টার আওয়াজ পেলো।  নীড় ঘুরে দেখলো যে মেরিন ফুলের টবটা দিয়ে  কাচের জানালাটা ভেঙে ফেলেছে।  

 

.

 

মেরিন: মেরিনের রাস্তা আটকানোর  ক্ষমতা আল্লাহ ছারা কারো নেই।  

বলেই মেরিন নির্বনকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।  বাইরে গার্ডরা আটকালো। 

গার্ড: ম্যাম আপনি বাইরে যেতে পারবেন না।  

মেরিন: নিউ গার্ডস ? তাইজন্য  আমাকে  চেনোনা….এম আই রাইট অর এম আই রাইট?  ভালোভাবে বলছি পথ ছারো। না হলে যে কলিজা ভরা সাহস দেখাচ্ছো সেই কলিজাটাই বের করে ফেলবো।

গার্ড: সরি ম্যাম…  আপনাকে যেতে দিতে পারবোনা।  

মেরিন গার্ডের কাছ থেকে বন্দুক বের করে মাথায় ঠেকিয়ে 

বলল: পথ ছারো।  না হলে গুলি করে খুলি উরিয়ে দেবো।  

তখনই নীড় পেছন থেকে এসে মেরিনকে কাধে তুলে গাড়িতে বসিয়ে কোথাও নিয়ে এলো। 

 

.

 

মেরিন: আপনার সাহস কিভাবে হয়?  আপনাকে তো আমি…..  

নীড়: গুলি করে মারবে? এই নাও পিস্তল এন্ড শুট মি….. ঘৃণার অবসান হয়ে যাবে। 

মেরিন:……

নীড়: পারবেনা আমি জানি।  কারন আমি যদি তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করেও দেই তবু তুমি এটা করতে পারবে না।  তুমি কখনোই আমাকে আঘাত করতে পারবেনা। 

 মেরিন:..

নীড়:  আর সাহস…..  সাহস তোমার থেকে আমার একটু হলেও বেশি। কারন আমার মধ্যে খুন করার যোগ্যতা আছে। যা তোমার মাঝে নেই।  আমি তোমার থেকেও বিষাক্ত।

মেরিন নীড়ের কথার মানে বুঝলোনা।   

 

মেরিন:  হয়ে গেছে আপনার বলা?  নিজের কল্পনার রাজ্য থেকে  বেরিয়ে আসুন। আর মনে করার চেষ্টা করুন আমি আপনাকে কতো কতো আঘাত করেছি। আপনাকে আপনার ভালোবাসা থেকে দুরে করেছি……  আপনার লাইফ টাকে হেল করে দিয়েছিলাম। আর…..  

 

বলেই মেরিন নীড়ের হাত ধরে 

বলল: আপনার এই হাতে লিখেদিয়েছিলা মে……  

মেরিন নীড়ের হাতে তাকিয়ে দেখলো যে  সেখানে ঘৃণারমেরিনের জায়গায় ভালোবাসারমেরিন লেখা।  

মেরিন অবাক হয়ে গেলো।  

 নীড়: তুমি আমার ভালোবাসা ছিলে আছো থাকবে।  মানুষ মাত্রই ভুল। তাই আমিও ভুল করেছি।  আমার শ্রেষ্ঠ ভুল কি ছিলো জানো? আমি সেদিন রাতে তোমার সেই হাসির মানে বুঝিনি।  যদি বুঝতাম…..  যাই হোক।  শেষ বারের মতো বলছি। চলো নতুন করে জীবন শুরু করি।  আমরা ৩জন মিলে।  

মেরিন: জীবন? আপনি তো ভালোমতোই জানেন যে মেরিন যা বলে তাই করে।  আমি যখন বলেছি আমি চলে যাবো তখন যাবোই।  

নীড়: ওকে গো। নির্বন রেখে।  

মেরিন:  অমন ফালতু কাগজের টুকরা মেরিনের পথের বাধা হতে পারেনা।  আমার ছেলেকে আমি তো নিয়ে যাবোই। 

 নীড়: পারবেনা।  এই দেশ থেকে বের হতে গেলে তোমাকে আমার অনুমতি নিতে হবে।। আমার চোখের আড়াল হতে হলে তোমাকে  আমার অনুমতি নিতে হবে।  ভুলে যেওনা পাওয়ার ইজ পাওয়ার ……  মানি ইজ মানি…. তুমি এখন যত পাওয়ার ই দেখাও আমার সাথে পারবেনা। কারন তুমি কাল কেউটে হলেও আমি দু মুখো সাপ।  তুমি একবারে ১জনকেই ছোবল মারতে পারবে। আর আমি ২জনকে।

মেরিন:  পানিকে হাতের মুঠোয় বন্দী করতে চাইছেন?  পারবেন? 

 নীড়: জ্বলকে জ্বল  নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।  পদ্মা আর বহ্মপুত্রের জ্বল একসাথে মিশে গেলে যেমন আলাদা করা যায় না তেমনি বর্ষন আর বন্যা ক্ষেত্রেও।  তুমি বন্যা but আমি বর্ষন।  আমি নিজেকে তোমার রঙে রাঙিয়েছি। আমাকে হারাতে পারবেনা।  

 মেরিন: আপনি নিজে আমাকে আপনার পাতা ফাদ থেকে মুক্ত করবেন।  

 

নীড়: গুড জোকস্!  

মেরিন: এটা মজা নয় মিঃ চৌধুরি….. এটা আমার চ্যালেজ্ঞ …..   

নীড়: ওকে এক্সেপটেড। বাট ইউ হেভ অনলি ওয়ান মান্থ।

মেরিন: গুড। আমার জন্য এতেই যথেষ্ট।

 

নীড় মেরিনের সামনে  গেলো।  গিয়ে কোমড় টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে আঙ্গুল দিয়ে ওর মুখে আকিবুকি করতে করতে 

বলল:  হারার জন্য প্রস্তুত হও জান।  

মেরিন নীড়ের হাটু বরাবর লাথি দিলো।  এতে নীড়  পিছে সরে গেলো। 

 মেরিন: আমাকে ভুলেও ছুঁবেন না। না হলে এই হাতটা আর….. 

মেরিন আর বলতে পারলোনা।  নীড় মেরিনের ঠোট জোরা দখল করে নিলো।

 

.

 

নীড় ছারতেই মেরিন নীড়কে থাপ্পর মারতে নিলো।  কিন্তু নীড় হাতটা ধরে নিয়ে kiss করে দিলো। 

 নীড়: এই হাত  কেবল আমাকে আদর করার জন্য।  

বলেই নীড় মেরিনকে চোখ মারলো।  পরে ২জন বাসায় ফিরলো।   মেরিন যেতেই নির্বন মেরিনের কাছে ছুটে  গেলো।  

 নির্বন: মামনি তুমি ঠিক আছে?

 মেরিন: হামম। dinner করেছো?  

নির্বন: না। 

 মেরিন: চলো  dinner করে  আমি আর তুমি।   

নির্বন:আমরা কোলকাতা যাবোনা?  

মেরিন: হ্যা যাবো তো।  কিন্তু ১মাস পর।  ভিসা problem হয়ে গেছে।  

নির্বন: ওফ। 

 মেরিন: চলো বাবুই পাখি।  

 মেরিন নির্বনকে নিয়ে  restaurant এ গেলো।  নীড় না খেয়েই রইলো।   

 

.

 

ঘুমানোর সময়…..  

মেরিন নিচে বিছানা  করছে।  নীড় শুধু আর চোখে দেখছে।  নির্বন brush করে এসে মায়ের বিছানায় গিয়ে বসলে। 

 নীড়: নির্বন….. ওখানে কেন? bed এ এসো। 

নির্বন:……  

নীড়: কি হলো আসো।  

নির্বন: আমি আমার মামনির সাথে ঘুমাবো। আমার মামনির বুকে।  

নীড়: কিন্তু আজকে তো বাবার বুকে ঘুমানোর পালা। কালকে মামনির বুকে… তাইনা?  

নির্বন: আমি কেবল মামনির বুকেই ঘুমাবো।  মামনি আমার না ভীষন ঘুম পাচ্ছে।  

মেরিন: come baby…..   

মেরিন নির্বনকে ঘুম পারালো।  নির্বন ঘুমিয়ে গেলো।  

 

.

 

নীড়: আমাদের ২জনের  লড়াইয়ে বাচ্চাটাকে কেন টানছো? আমি তো ওকে তোমার থেকে আলাদা করার চেষ্টা করিনি।   

মেরিন: না জেনে কথা বলবেন না। আমি আপনার মতো পেছন থেকে ছুরি মারিনা। আমি ওকে কিছুই বলিনি।  আমি আপনার মতো না। আপনি তো ধোকা দিয়ে ওই contract paper এ sign  নিয়েছেন।  

নীড়:আরে আমিতো…..  

মেরিন: পেছন থেকে ছুরি মারেন।  আমি বিষাক্ত হতে পারি। কিন্তু আমি আমার ছেলের জীবনে বিষের ছিটে ফোটাও পরতে দেইনি। আর দিবোও না।  আমি ওর জীবনে কোনো আক্রোশ  রাখতে চাইনা। আমি চাই ও মন থেকে হাসুক।   whatever …. i m sleepy…. তো আমি এখন ঘুমাবো।  & আমি মনে করি যে আপনারও তারাতারি ঘুমানোর দরকার।  tomorrow is a long day for you…….  

 

 নীড় আন্দাজ করতে পারছে যে কালকে কিছু ১টা হবে।

 

কিন্তু কি তা বুঝতে পারছেনা।  

মেরিন: লাইট টা কি off হবে?

 নীড় লাইট নিভিয়ে দিলো।  তবে নীড়-মেরিন কারোর চোখেই ঘুম নেই। মেরিনের ঘুম না আসার কারন হলো গত  ২মাস  না চাইতেও ওকে নীড়ের বুকেই ঘুমাতে হয়েছে।  আর তাই আজকে ঘুম আসছেনা।  নীড়েরও ঠিক  একই কারনে।  

 

নীড় মনে মনে: অসম্ভব।  এভাবে থাকতে পারবোনা।

 নীড় দুম করে উঠে মেরিনকে কোলে তুলে নিলো। আর মেরিনের বুকে থাকা নির্বনকে সহ।  

মেরিন: আরে আরে আপনি কি করছেন? ছারুন আমাকে। নামান আমাকে।  

নীড় কোনো জবাব না দিয়ে ওদেরকে বুকে নিয়ে শুয়ে পরলো। আর এমনভাবে  মেরিনকে ধরে রাখলো যে  মেরিন নরতে চরতে পারছেনা।  

মেরিন: দেখুন ভালো হচ্ছেনা কিন্তু।   ছারুন।  

নীড়: দেখো আমি চাইনা প্রথাগত ভাবে তোমার মুখটা বন্ধ করতে। by at any chance নির্বন উঠে গেলে  কি ভাববে বলো তো? আর কাল সকালে যা হবার তা দেখা যাবে। but now…. let me sleep ……  

 মেরিন: ছারুন নীড়। আমি কিন্তু আপনাকে……   

 নীড়: নাহ তুমি থামবে না।  

নীড় মেরিনের মুখের দিকটা ওর বুকের সাথে ভীষন শক্ত করে চেপে ধরলো।  যার জন্য মেরিন আর কথা বলতে পারলোনা। ১টা সময় ঘুমিয়ে পরলো।  

 

.

 

সকালে……   

মেরিনের ঘুম ভাঙলো দেখলো যে নীড় ওর দিকে তাকিয়ে আছে।   

নীড়: good morning honey ……  

বলেই নীড় good morning kiss টা সেরে নিলো।  তখন বাইরে চেচামেচির আওয়াজ পেলো।  

নীড়: কিসের আওয়াজ? 

 মেরিন: a gift  for you….. on behalf of me….

 

নীড় উঠে বাইরে গেলো। 

মেরিন: আপনি আমার রাগ ফিরিয়ে অনেক ভুল করেছেন  মিঃ চৌধুরি  আপনার মান সম্মান আমি ধুলোয় মিটিয়ে দিবো আমি। ঘৃণার মেরিনের ঘৃণা সবার জন্য দেখলেও আপনার জন্য দেখেননি। এখন আপনার জন্যও দেখবেন।  হ্যা এটাও সত্য যে আমি আপনাকে ভালোবাসি কিন্তু  আমি কোনো কিছুর বিনিময়েই আমার নির্বনকে হারাতে পারবোনা।  

 

.

 

 নীড় বাইরে গিয়ে অবাক হয়ে গেলো।  কারন মহিলা কল্যান সংস্থার মহিলার স্লোগান করতে করতে 

এসেছে:  নীড় চৌধুরী নীড় চৌধুরী হায় হায় হায় হায়….   

তারা হাতে করে  কালিও নিয়ে এসেছে।   সেই সাথে press media  free তে।

নীড়: আপনারা এখানে। 

লিডার: আসতেই হয়। কোনো অসহায় মেয়ের সাথে ,  অসহায় মায়ের সাথে জুলুম হলে,  ওঠাতেই হয়।  

 নীড়: অসহায় মেয়ে কে? আর অসহায় মা?  

লিডার: মেরিন বন্যা। আমরা কোনো মায়ের সাথে এমন ধরনের অন্যায় হতে দিবোনা।  

নীড় :কেমন ধরনের অন্যায়? 

  লিডার: মায়ের কাছ থেকে  সন্তানকে মিথ্যা আরোপ দিয়ে কেরে নেয়ার অন্যায়।  

নীড়:তাই? ভালো। এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। আপনারা আসতে পারেন। 

লিডার: ওই মেয়েটার পক্ষে কেউ নেই বলে এমনটা করতে সাহস পাচ্ছেন তো?

 নীড়: যে টা মনে করেন। but now  get out….

 লিডার: না আমরা যাবোনা। আপনাদের মতো চরিত্রহীন লম্পটদের জন্যেই অসংখ্য মেয়েদের জীবন নষ্ট হয়ে যায়।  

নিহাল: excuse me…. আমার ছেলেকে চরিত্রহীন লম্পট বলার সাহস কি করে হয়? 

লিডার: যেভাবে আপনার ছেলের সাহস হয় ঘরে বউ রেখে অন্য মেয়েদের সাথে ফুর্তি করতে….  

নীড়: mind your language ……  

লিডার: কষ্ট লাগলো শুনতে? বিয়ে বিয়ে খেলা আপনাদের কাছে  স্বাভাবিক হলেও  সব মেয়েদের কাছে  নয়।  এতোই যখন প্রেমলীলা…. তখন বিয়ে করেছিলেন কেন?  পরে যখন মেয়েটা নিজের ছেলেটাকে নিয়ে বাচতে চাইলো তাও সহ্য হলোনা।  

নীড়: আমি শেষ বারের মতো বলছি।  আপনারা যাবেন কিনা?

  লিডার: না যাবো না।  মেরিন বন্যা কোথায় তাকে সবার সামনে আনুন। নাকি তাকে মেরে গুম করে দিয়েছেন?

  মেরিন সকলের সামনে এলো। 

 লিডার: তুমি কোনো ভয় পাবেনা বোন। আমরা আছি।  

 

এরপর লিডার এসে নীড়ের গালে কালি মাখিয়ে দিলো। press media  নিয়ে চলে যেতে নিলো। 

তখন  নীড় বলল : স্টপ….

 আর সবাই থেমে গেলো।  ওর দিকে ঘুরলো।

  নীড়: আমি চরিত্রহীন লম্পট।  বেশ ভালো কথা।  লম্পট যখন সবার সামনেই একটু লম্পট গিরি করি…..  

 

বলেই নিজের গাল দিয়ে মেরিনের গালটা ঘষে দিলো। 

 নীড়: নীড়-মেরিনের লাইফ এবং লাভ স্টোরি ১টা ওপপেন সিক্রেট। শুরু থেকেই প্রেস মিডিয়া ছিলো।সব ছিলো। ভবিষৎেও থাকবে। ইনশাল্লাহ। কিন্তু কেউ যদি ভুলেও নীড়-মেরিনের সম্পর্কে নাক গলায়….. 

 

  নীড় নিজের পিস্তল টা বের করে

 বলল: সে নীড় বিরোধী আন্দোলনে শহীদ হবে।

 

.

 

.

 

বিকালে……  

সেই মহিলা লিডার: আমাকে ক্ষমা করে দিন ম্যাডাম,  ছেরে দিন। ভুল হয়ে গেছে।  

মেরিন: ভুল? তোর সাহস কিভাবে হয় আমার জামাইকে চরিত্রহীন লম্পট বলার?

 লিডার: আপনিই তো এসব করতে বলেছিলেন।  

মেরিন: হ্যা বলেছিলাম। কিন্তু চরিত্রহীন লম্পট বলতে বলিনি।  এতো বড় কথা বলিস উনাকে তুই? তোকে তো…  

 

.

 

৫দিনপর…… 

 এই ৫দিনে মেরিন নীড়কে অনেক হেনস্তা করেছে। তার বিনিময়ে  নীড় কেবল রোমান্টিক শাস্তি দিয়েছে।

 

.

 

 রাত ৩টা। হঠাৎ মেরিনের ঘুম ভেঙে গেলো।  মেরিন ও অবাক হয়ে গেলো। কারন ও নীড়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলো কিন্তু এখানে তো নীড় নেই।  সেই সাথে ওর বুকের ওপর নির্বন ঘুমাচ্ছিলো। কিন্তু নির্বনও নেই।  মেরিন মনে করলো নীড় নির্বনকে নিয়ে পালিয়ে গেছে।  মেরিন গাড়ির চাবি নিতে গিয়ে দেখে যে বারান্দায় কাউকে দেখা যাচ্ছে।  মেরিন বারান্দায় গেলো।  গিয়ে দেখলো  নীড় নির্বনকে বুকে নিয়ে রকিং চেয়ারে বসে আছে।  আর অঝরে কান্না করছে। যা দেখে মেরিনের বুকটে মোচর দিয়ে উঠলো।   মেরিনের পক্ষে নীড়ের কান্না দেখা সম্ভব না। তাই চলে আসতে নিলো। তখন নীড় ওকে টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।  

নীড়: আই এম সরি। আমি জানি তুমি আমার কান্না সহ্য করতে পারোনা। তবুও আজকে কান্না আটকাতে পারিনি।  কিন্তু বিশ্বাস করো আমি তোমার কারনে কান্না করছিলাম না। আমি নির্বনের জন্য কাদছিলাম।  জানো ও না আমার কাছে আসেনা….. আগের মতো বাবা বাবা বলে ডাকেনা……  খুব কম কথা বলে……  আমি জানি তুমি ওকে এমনটা করতে বলোনি।  কিন্তু ওকে একটু বলেদিও না যেন আমার সাথে আগের  মতো কথা বলে।

 

মেরিনও দেখেছে  বিষয়টা। আর এ কারনে যে নির্বনের মনও খারাপ তাও দেখেছে।   

 

.

 

পরদিন…..  

নির্বন মায়ের সাথে স্কুল থেকে বাসায় ফিরছে।   

মেরিন: নির্বন…..  

নির্বন: হ্যা মামনি……  

মেরিন: মন খারাপ?  

নির্বন: না মামনি।  

মেরিন: মামনিকে কি মিথ্যা বলা যায়?  

নির্বন: ……..  

মেরিন: বাবার সাথে আগের মতো মিশোনা কেন?

  নির্বন:….. 

 মেরিন: কি হলো? বলো। বাবা কি বকা দিয়েছে? 

 নির্বন: না না মামনি।  

মেরিন: তাহলে? 

নির্বন:……..  

মেরিন:বলো…… 

 নির্বন: আসলে মামনি আমি বাবাকে আমি অনেক ভালোবাসি।  কিন্তু তার থেকেও বেশি আমি তোমাকে ভালোবাসি।  বাবাকে পেয়ে আমি ওভার এক্সাইটেড হয়ে গিয়েছিলাম এবং তোমাকে হার্ট করেছি…..  তাই…..  

মেরিন: তাই বাবার সাথে আগের  তো কথা হয়না। তাইতো? 

নির্বন: হামম। 

 মেরিন: আর এই কারনেই  মন খারাপা?  

নির্বন:মামনি আমি তোমার মন খারাপ দেখতে পারবোনা।   আর তোমাকে হ্যাপি করার জন্যেই আমি বাবাকে সাপোর্ট করছিলাম। 

 মেরিন নির্বনের কপালে চুমু দিয়ে 

বলল: you are my happiness …..  আমি জানি আমার বাবাটা মামনিকে অনেক ভালোবাসে। এখন মামনি ১টা কথা বলতে চাই তোমাকে।  যার সত্যি সত্যি জবাব তুমি আমাকে দিবে।   ok?  

নির্বন: হামম।  

মেরিন: তুমি কি বাবার সাথে থাকতে চাও নাকি মামনির সাথে? 

 নির্বন: মানে মামনি? 

মেরিন: দেখো  বাবাই মামনি  next month কোলকাতা back  করবো।  তো তুমি কি বাবার সাথে থাকবে নাকি মামনির সাথে যাবে? 

 নির্বন: তোমার সাথে যাবো।  

মেরিন: মন থেকে বলো। আমি তোমাকে জোর করছিনা। 

  নির্বন: না  মামনি। আমি মন থেকেই বলছি। i swear ….  

মেরিন: ok…. তো আমরা এখানে যে কদিন আছি বাবার সাথে , সবার সাথে অনেক অনেক সময় কাটিয়ে যাও।  মজা করে নাও। কারন কোলকাতা গেলে তো আর সবসময় ওদের সবাইকে পাবোনা। just vacation এ দেখা করতে পারবে।  

নির্বন:….. 

 মেরিন: তোমার বাবা তোমাকে ভীষন ভালোবাসে……   কালকে রাতে তোমার জন্য কান্নাও করছিলো।   আজকে বাসায় গিয়েই দৌড়ে বাবার কোলে উঠবে । হামম? 

 নির্বন: হামম।  

মেরিন: good boy…. এখন বলো তুমি বাবার জন্য কি  gift নিবে? 

নির্বন: gift? 

  মেরিন: হামম sorry  gift নিতে হবেনা? 

নির্বন: হামম।

  নির্বন বাবার জন্য ১টা মেডেল নিলো যাতে লেখা world best father ……   বাসায় গিয়ে নির্বন দৌড়ে বাবার কোলে গেলো। বাবা-ছেলের খুশি দেখে মেরিন খুশি হলো।  

 

মেরিন মনে মনে: আমি আমার ছেলেকে কোনো সুখ থেকে বঞ্চিত করবো না। আর না আমার ছেলেকে থাকতে পারবো। সময় কাটিয়ে নিন mr. chowdhuri ছেলের সাথে।  আমার জন্য ভালোবাসা  মিথ্যা হলেও ছেলের জন্য আশা করি সত্যিই হবে।  আপনার চোখের পানি  কখনো  মেনে নিতে পারিনি…….  আর পারবোও না। কারন আপনার জন্যেই আমি আমার নির্বনকে পেয়েছি।

…..

……..

[চলবে……

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ১৬

  লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

       

     

      

২দিনপর….

  আজকে শুক্রবার।  তাই সবাই বাসায়।   নির্বন কবির-নিহালের সাথে ঘোড়া ঘোড়া খেলছে। ১বার  নিহালের পিঠে চরছে ১বার কবিরের পিঠে।  দাদা-নানাও  ভীষন মজা করছে নাতি কে নিয়ে।  মেরিন ওপর থেকে দেখলো।  দেখে বুঝতে পারছে যে কবিরের কষ্ট হচ্ছে তবুও খেলেই যাচ্ছে।    মেরিন দৌড়ে নিচে গেলো।  

মেরিন: নির্বন….  

নির্বন: হ্যা মামনি……   

মেরিন: মনি আপু ফোন করেছে। যাও কথা বলে এসো। 

 নির্বন: মনি আপু?

 নির্বন দৌড়ে রুমে গেলো।  

কবির: মামনি…..  

মেরিন: don’t you dare to call me মামনি। আপনি আমার কেউনা। আমি অনাথ।  

কনিকা: মারে ক্ষমার অযোগ্য আমরা তা জানি। কিন্তু সবথেকে  বড় সত্যি তো এটাই যে তুই ছারা যে আমাদের আর কিছুই নেই…….  

মেরিন:  কেন আপনাদের প্রানপ্রিয় কলিজার টুকরা…. না না কলিজার টুকরা না পুরো কলিজা নি…..রা কোথায়? মরছে নাকি?  wait wait …  এমনটা নয় তো সে mr. chowdhuri কে বিয়ে করে খান empire নিজের নামে করিয়ে পালিয়েছে তাই তাকে এখানে দেখা যাচ্ছেনা। যার জন্য mr. chowdhuriএর  মেরিনের কথা মনে পরেছে।  so called  ভালোবাসা।  আর তার থেকেও বড় কথা আপনারা খান বাড়ি ছেরে এই চৌধুরী বাড়িতেই পরে আছেন কেন? ভিখারীর মতো?   

নীড়: মেরিন…….   

মেরিন: চিল্লাবেন না…..  আপনি একাই চিল্লাতে পারেন না…….  

 নীড়: আম্মু-বাবার সাথে এভাবে কথা বলার মানে কি?  

মেরিন: আমার মুখ আমি যেকোনো কথা বলতে পারি। আর তাছারাও যে যার উপযোগ্য।  

নীড়: তারা ভুল করলেও তারা তোমার মা-বাবা…… 

 মেরিন: না। আমার মা-বাবা নেই। আমি এতিম, অনাথ।  এনারা আমার কেউনা……

 নীড়: তুমি বোঝার চেষ্টা করো…. 

 মেরিন: আমাকে বোঝাতে আসবেন না। আপনি নিজের কথা ভাবুন। দেখুন আজকে আপনার জন্য কি অপেক্ষা করছে।  

নীড়: হ্যাহ…..  গত ১০দিন ধরেই তো কিছু না কিছু gift পাচ্ছি তোমার তরফ থেকে।  যা মন চায় করো…..  কিন্তু বাজীতে আমিই জিতবো।  আর আজকের দিনটা special …..  আমার জন্য……  কেন তা হয়তো তোমার জানা নেই……

মেরিন: আজকের দিন কি আর ভোলার নী… mr. chowdhuri….  আজকে যে ছিলো আমার সর্বনাশের  ১ম ধাপ….

 

 .

 

 রাতে…….

   মেরিন ছাদে দারিয়ে আছে।  

মেরিন মনে মনে:  আজকের দিনটা যে আমার কাছে  খুব special ……  আজকের দিনেই আপনি আমাকে ভালোবেসেছিলেন। আপনার জন্য যা খেলার শুরু ছিলো। কিন্তু আমার জন্য তো  তা ভালোবাসাই ছিলো……     

 

মেরিন রুমে গেলো।  রুমে গিয়ে অবাক হয়ে গেলো।  কারন রুমটা খুব সুন্দর করে সাজানো।  মোমবাতি-ফুল দিয়ে।  তখন নীড় পেছন থেকে ওকে জরিয়ে ধরলো।

  নীড়: i m sorry….  তখন  তোমার সাথে ওভাবে কথা বলা আমার ঠিক হয়নি। 

মেরিন নিজেকে ছারিয়ে নিলো।

   মেরিন: আপনার কথা affect  করেনা। you are nothing to me…. একি নির্বন কোথায়?  

নীড়: আজকে ও মামনি বাবার সাথে ঘুমাবে।   গল্প শুনবে।

মেরিন: কেন? 

নীড়: কারন  আজকে আমি তোমাকে চাই….  

মেরিন: shut  up…..  

নীড়: দেখো আমার ভীষন ক্ষুধা লেগেছে।  চলো ২জন মিলে  dinner করেনেই।  আমি জানি তুমি কিছু খাওনি…. আর আমিও। 

  নীড় মেরিনকে কোলে নিয়ে সোফায় বসলো।  

নীড়: দেখো আমি নিজের হাতে বিরিয়ানি রান্না করেছি।  তোমার না আমার হাতের বিরিয়ানি খুব পছন্দের।  নাও হা করো……   

মেরিন নীড়ের হাত ঝাকি মেরে সরিয়ে দিয়ে উঠে দারালো।    

মেরিন: আপনি ভাবলেন কি করে আপনার হাতে বিরিয়ানি আমি খাবো? এর থেকে বিষ খাওয়া আমি বেশি পছন্দ করবো।  আর কে জানে যে এই খাবারে বিষ আছে কিনা…..  

কথাগুলো নীড়ের বুকে তীরের মতো বিধলো।

 

.

 

নীড় খাবার একবার মুখে দিলো। 

 নীড়: এখন তো আমি আগে মুখে দিলাম। বুঝলে তো এতে বিষ নেই…….

  মেরিন:…..  

নীড়: আসো খেয়ে নাও।   

মেরিন: না আমি খাবোনা।          

 

    নীড়: দেখো আজকে নির্বন  এখানে নেই।   তো আমি যা মন চায় তাই করতে পারি।  তুমি যদি  না চাও ৮ বছর আগের  style এ তোমাকে খাইয়ে দেই তবে তুমি ভালো মতো লক্ষি  মেয়ের মতো খাও।

  মেরিন নীড়ের কথা কানে না দিয়ে bed থেকে ফুল টুল ফেলে দিয়ে। রুমের মোমবাতি সব নিভিয়ে  শুয়ে পরলো।

  নীড়: নাহ এই মাইয়া তো জীবনেও শুধরাবে না। 

 নীড় গিয়ে মেরিনকে টেনে তুলল। এরপর কোলে বসিয়ে  গাল চেপে ধরে মুখে খাবার  ঢুকিয়ে  মুখ  বন্ধ করে দিলো। এরপর মুখের ওপর হাত  রেখে

 বলল: চুপ চাপ খাবারটা চিবিয়ে গিলে ফেলো।   

মেরিন না তো নরতে চরতে পারছে আর না  তো  কিছু বলতে পারছে।   মেরিন খাবার মুখে নিয়ে বসে আছে।  গিলছে না।  

নীড়: হায়রে। 

নীড় মেরিনের নাক চেপে ধরলো।  তাই বাধ্য হয়ে মেরিন মুখের খাবার টা গিলে ফেললো।  নীড় এভাবেই মেরিনকে খাওয়াতে লাগলো। সাথে সাথে নিজেও খেলো।

 

.

 

একটুপর…..

  নীড় ১টা ব্যাগ দিয়ে 

বলল: এর ভেতর ১টা শাড়ি আছে। যাও পরে আসো।  আর হ্যা এই খোপা টোপা খুলে চুল ছেরে আসবে।  

মেরিন নীড়ের হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে আগুনে জালিয়ে দিলো।  

মেরিন: বেশি বারাবারি করলে এই ব্যাগটার জায়গায় আপনি জ্বলবেন। 

 নীড়: আমি তো এখনও জ্বলছি…. আর কতো জ্বলবো?

 মেরিন: আপনার bakwas শোনার মতো ফালতু সময় আমার নেই।  

নীড়: তুমি যেই ম্যাচ বক্স থেকে আগুন জ্বালিয়েছিলে তাতে আর কয়টা কাঠি আছে দেখো তো….

 মেরিন: shut up…..   

নীড়: দেখোনা…. 

মেরিন: 

  নীড়: ok… না করলে তুমি check …….   আমিই করছি। 

নীড় ম্যাচ বক্সটা খুলে 

বলল: its empty now….  এখন  তুমি আর আগুন জ্বালাতে  পারবেনা বউ। 

  নীড় ১টা লাল রঙের শাড়ি বের করে 

বলল: আমি জানতাম যে তুমি অমনটাই করবে।  তাই খালি ব্যাগটা তোমাকে দিয়েছিলাম  baby…..  

মেরিন: কাঠি নেই তবে কাচি তো আছে….  

নীড়: আগে আমার হাত থেকে তো মুক্তি পাও।  

 

মেরিন জানে যে ও হাজার চেষ্টা করলেও নিজেকে ছারাতে পারবেনা। 

 নীড়: যাও এই শাড়িটা পরে আসো। 

মেরিন:ভাবলেন কি করে আমি ওটা পরবো। ওটার থেকে আমি কাফন পরতে পারলে বেশি খুশি হবো।    

নীড়:তাই বুঝি। তাহলে তো তোমাকে এটাই পরতে হবে। যাও পরে আসো। 

মেরিন: না। 

 নীড়: পরো। 

  মেরিন: না। 

 নীড়: তুমি পরবে না আমি পরাবো?

  মেরিন: ভয় দেখাচ্ছেন? তাও আমাকে?

 নীড়:না। সত্যি বলছি। যাও পরে আসো।   

মেরিন: না…..   

নীড়: আর কোনো  উপায় নেই…..  বলেই নীড় নিজেই মেরিনকে  শাড়ি পরিয়ে দিলো।  এরপর চুলের  খোপা খুলে দিলো। মেরিনের খোলা  চুল দেখে নীড় অবাক হয়ে গেলো। কারন মেরিনের চুল এখন আগের brown & layer cut নেই।  এখন মেরিনের চুল কালো মিচমিচে। কোমড় ছারিয়ে  গেছে।

  নীড় : crush  খেলাম….   

মেরিন তো ছোটার চেষ্টা করেই যাচ্ছে। পারছেনা।  মেরিনের চুল আচরে দিয়ে নীড় মেরিনকে কোলে তুলে  বারান্দায় নিয়ে গেলো rocking chare এ বসলো। মেরিনকে  নিজের বুকের সাথে  মিশিয়ে রাখলো।  

 

.

 

নীড়: আজকে অন্ধকার বিলাস করবো। আমার চাদের সাথে।

মেরিন: দেখুন ভালো হচ্ছেনা। ছারুন.. 

নীড়:আহা চুপ থাকো তো। let me feel this moment …  

মেরিন: আ…. 

নীড়: আর ১টা কথা বললে কিন্তু তোমার যেটা করতে চাইছিনা সেটা করবো। তুমি এই ৮বছর কিভাবে থাকতে পারলে আমাকে ছেরে…… তুমি তো ১টা দিনও আমাকে ছারা থাকতে পারতে না। তোমার তো কোনো সকালই আমার মুখ না দেখে শুরু হতোনা। না কোনো দিন শেষ হতো আমাকে না দেখে।  আমার হাত ছারা তো ১টা বেলাও খেতে না…..  আমার বুকে না মাথা রাখলে তোমার ঘুম আসতোনা।  তোমার অষ্ট প্রহরে তো অষ্ট নীড় আর নীড় ছিলো। সেই আমাকে  ছেরে  এই  ৮টা বছর কিভাবে কাটালে….  আমার কথা কি ১টা বারও মনে পরেনি?   তোমার মনে  আছে ৮বছর আগেও আমি এই দিনে অন্ধকার বিলাস করতে চেয়েছিলাম। 

 আচ্ছা মেরিন তোমার তো সেই আড়াইমাস নাটক মনে হয়। তোমার মনে হয় যে  আমি ওই আড়াইমাস কেবল তোমার সাথে নাটক করেছি।  ভালোবাসিনি…..  ১টা বার আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো তো……  কি দেখতে পাও….. 

 নীড় মেরিনের মাথাটা তুলে চোখে চোখ রাখলো।

মেরিনের ক্ষমতা নেই নীড়ের চোখ থেকে চোখ সরানোর।  কারন এটা ওর দুর্বলতা। তাই মেরিন চোখ বন্ধ করে ফেলল।  নীড় আবার মেরিনের মাথা বুকে ঠেকালো।   

 

.

 

নীড়:এই ৮ বছর  আমার জন্য কিয়ামত ছিলো..  তোমাকে সারা পৃথিবীতে খুজেছি।। মন খারাপ হলে তুমি যে শ্মশানে গিয়ে drinks করতে সেখানে কতো রাত কাটিয়েছি তুমি জানোনা….. 

 

নানাধরনের কথা বলতে বলতে নীড় ঘুমিয়ে গেলো। নীড়ের কথাগুলো মেরিনকে অনেক অবাক করলো।   নীড় ঘুমিয়ে পরলে   মেরিন উঠে আসতে নেয়। নীড়ের শার্টের ওপরের ২টা বাটন খোলা। মেরিন ওঠার সময়  নীড়ের বুকের দিকে নজর যায়।  সেখানে কিছু লেখা আছে।  শার্টটা সরিয়ে অবাক হয়ে গেলো। কারন সেখানে  “Marin” লেখা। মেরিনের মাথার ওপর দিয়ে গেলো।   

 

.

 

সকালে……..  

 নীড়ের ঘুম ভাঙলো। দেখলো মেরিন নেই। নিচে গেলো।  তবুও মেরিনকে পেলোনা।  নীড় ভয় পেয়ে গেলো। মেরিন আবার ওকে ফেলে চলে যায়নি তো???  

 

  ওদিকে…..  মেরিন তলোয়ারবাজী করছে। না কারো সাথে না।   নিজের সাথেই।  কারন o confused …..  কারন গত রাতে নীড়ের বলা সব কথার মধ্যে  ভালোবাসা  পেয়েছে।। নীড়ের বুকে ওর নাম লেখা।  এসবও কি নাটক? নাকি ভালোবাসা।    তাহলে কি সত্যি ওর আড়ালে কিছু আছে?  

মেরিন: কোনটা সত্য? সেদিন আমি যা দেখেছিলাম  সেটা না কি তারআগের আড়াইমাস? আচ্ছা নিরা কোথায়?  ও কি সত্যি পালিয়ে গেছে।  কিছুই মাথায় আসছেনা।   

নীড়:মাথার দোষ দিয়ে কি লাভ? 

 মেরিন তাকিয়ে দেখলো যে নীড় তলোয়ার হাতে দারিয়ে আছে।  

 নীড় এগিয়ে আসতে আসতে 

বলল:  খেলা দাবার হোক আর তলোয়ারের….. দক্ষ  partner  এর ভীষন দরকার। না হলে খেলাটা boring হয়ে যায়।   

মেরিন নীড়কে cross করে চলে যেতে নিলে নীড় মেরিনের ঘারে  তলোয়ার রাখলো।  

নীড়: হেরে যাওয়ার ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছো।   

মেরিন: হেরে যাওয়া আমার ফিদরতে নেই…..

 

.

 

 শুরু হয়ে গেলো ২জনের তলোয়ার বাজী। 

 নীড়: কিসের এতো confusion …… 

মেরিন: কোনো confusion নেই। 

 নীড়: আমাদের সবসময় মনের কথা শোনার দরকার।  

    মেরিন: মোটেও না।  আমাদের মস্তিষ্কের অনুযায়ী চলার দরকার। 

 নীড়: ভুল। মস্তিষ্ক সফল করতে পারে। কিন্তু  সুখী না।  মন মানুষকে বাচার কারন দেয়। 

মেরিন: নাহ।  মন মানুষকে মেরে ফেলে। 

নীড়: ভুল।  মনের দাবি না মানলে আত্মা মরে যায়।

মেরিন: মনের দাবি পূরন করতে গিয়ে আমি মরে গিয়েছিলাম।

 

.

 

   ২দিনপর……

মেরিন:এতো কিছু করছি তবুও উনি রাগ করছেনা কেন? এখন কিসের নাটক? নিরাকে কোথায় পাবো? পেতেই হবে ওকে।  ওই এখন আমার তুরুপের তাস।  ওরা কি সবাই আমায় মিলে আমাকে নিয়ে খেলছে ?  কিন্তু কেনো খেলবে? আমি তো এদের দাবি মিটিয়ে দিয়েছিলাম। তবে?  আর কি চাওয়া থাকতে পারে? এমনটা নয়তো যে নিরা কখনো মা টা হতে পারবেনা। আর তাই ওরা নির্বনকে নিয়ে নিতে চায়। কিন্তু mr. chowdhuri এর বলা কথা। উনার চোখ….  যদি  ওদের উদ্দেশ্য আমাকে নিয়ে খেলা হয় তবে আমি ওদের একেকটাকে ধরে ধরে কুপাবো। কিন্তু সবার আগে নিরাকে খুজতে হবে।  নিরার গলায় ছুরি ধরলে সবগুলা তোতাপাখির মতো সব বলতে  শুরু করবে। তুই যেখানেই থাকিস না কেন নিরা…… আমি তোকে খুজে বের করবোই।  

 নীড়: পারবেনা……   

মেরিন: মানে? 

নীড়: খুব সহজ। নিরাকে খুজে পাবেনা। 

মেরিন: না শব্দটার সাথে  মেরিন পরিচিত নয়। 

নীড়:তাহলে পরিচিত হয়ে নাও।

মেরিন: ওই….  তখন নির্বন রুমে এলো।  

নির্বন: মামনি বলেই মেরিনের কোলে এলো।  মেরিন বুঝতে পারলো নির্বনের বেশ জ্বর।  

মেরিন: একি বাবাই তোমার তো দেখি ধুম জ্বর।

  নীড়: দেখি দেখি।  oh my god…..  এতো অনেক জ্বর।  

মেরিন: চলো সোনা মাথায় পানি দিয়ে দিচ্ছি।  

রাতভরে নীড়-মেরিন ছেলের জন্য জেগে রইলো।    

 

.

 

৩দিনপর……  

 নির্বন সুস্থ হলো।  বিকালবেলা সবাই নাস্তা করছে।  তখন কেউ একজন নীড় বলে বাড়িতে ঢুকলো।  সবাই পেছনে ঘুরে দেখে অবাক। শুধু মেরিন ছারা।  কারন এটা নিরা। আসলেই নিরা? নাকি মেরিনের চাল?  সবাই দেখে অবাক হয়ে দারিয়ে গেলো  ।  নিরা নীড় বলে দৌড়ে গিয়ে জরিয়ে ধরলো।  এরপর  

মেরিনকে দেখে ভয় পেয়ে

 বলল: মমমেরিন…….  নীড়  ও কেন…..  

মেরিন: no worry…. তোমার সুখের ঘরে আগুন দিতে আসিনি।  

নিহাল: এই মেয়ে কে তুমি। 

 নিরা: আমি নিরা বাবা।  

নিহাল: ১ টা থাপ্পর দিবো।  তুমি কিভাবে নিরা হতে পারো? নিরা তো ম……

  নীড়: বাবা…..  ও নিরাই।   চোখ মুখ চুল বলে দিচ্ছে যে ও নিরা।    

মেরিন মনে মনে: হায়রে আমার পাগল অন্ধ প্রেমি….  চিরকাল চেহারাকেই  ভালোবেসে গেলেন।    ভালো তো ভালোনা।  এখন নিরা আমাকে আসল নিরার কাছে পৌছে দেবে।  এরপর নিজের হাতে ওকে সকলের সামনে খুন করবো।  

নীড় মনে মনে: আমি জানি না এটা কে জান…… কিন্তু তুমি নিজের মুখেই ২দিনের মধ্যে বলবে ও কে? তোমার চালেই আমি তোমাকে মাত করবো।  তবে তুমিও ছলনা করতে পারে দেখে অবাক হলাম।  

 মেরিন মনে মনে: কখনো কখনো কোনো  চোর ধরতে হলে চোরের মতো করে ভাবতে হয়।  আবার কখনো নিজেকেই চোর হতেই হয়। আপনাদের সকলের মুখোশটা খোলার জন্য আমি আজকে ছলনার    আশ্রয় নিলাম।  ছোট ছোট ধামাকা তো অনেক হলো।  এবার আসল খেলায় আসি।  ২০দিন তো হয়ে আসছে। 

…..

……..

[চলবে……]

 

গল্প – ঘৃণার মেরিন 

পর্ব – ১৭ (শেষ) 

লেখিকা – মোহনা চৌধুরী 

     

    

     

রাতে…….

  নীড় রুমে গেলো।  গিয়েই অবাক হয়ে গেলো।  কারন সারা ঘর ফুল দিয়ে সাজানো।  bed টাতো ফুলের দোকান।  আর খাটের মাঝখানে কেউ ১জন লাল টুকটুকে বউ সেজে বসে আছে।   

নীড় মনে মনে: তোমার মায়া তুমিই জানো মেরিন ……  তোমার মন বোঝা বড় দায়।  

 

.

 

 নীড় ধীর পায়ে খাটের কাছে গেলো।  

নীড়: তো তুমি নিরা…….  

নিরা: হামম। তোমার ভালোবাসা। 

 নীড়: তো তোমাকে নিশ্চয়ই  মেরিন সাজিয়েছে।  

 নিরা: হামম। মেরিন এই ৮ বছরে পাল্টে গেছে। আমাকে নিজের হাতে সাজালো। এই  রুমটাও সাজালো।  এগুলো ওর কোনো চাল নয়তো।

  নীড়: who care……  just feel & enjoy the moment …..  let me love you….  

নিরা:…..

 নীড়: কি হলো? ঘাবড়ে আছো কেন?

 নিরা: কিছু একটু tension হচ্ছিলো মেরিনকে নিয়ে।  

নীড়: বাদ দাও তো ওই সাইকো টাকে……. মেরিন এতো সুন্দর করে সাজালো…. এর সদগতি  করা যাক।  

নিরা: বলছিলাম কি আমার না ভীষন  ঘুম পাচ্ছে।  

নীড়: shh…. আজকে কোনো ঘুম না।  আজকে ২জনের চোখ জেগে থাকবে। তবে কোন ২জন তা জানিনা…..

নিরা: মানে….

নীড়:আরে  কতোদিন পর তোমাকে পেলাম বলো তো।  তবে তার আগে তুমি যে গহনার দোকান সেজে বসে আছো সেগুলো তো সরাই।  

বলেই নীড় নিরার হাতের আংটি টা টান দিয়ে খুলে নিলো। এরপর  আংটি টাতে kiss করলো।   তখন নীড় ,  নিরা i mean নকল নিরার মুখে কস্টেপ লাগিয়ে নিজের gun টা বের করলো। যা দেখে নিরা ভয়ে কেপে উঠলো।  এরপর নীড় ১টা কাগজে কিছু ১টা লিখে নিরার চোখের সামনে ধরলো।

 

.

 

  তাতে লেখা 

আছে:  যদি নিজের জান বাচাতে চাও তবে চুপচাপ নিজের হাতে, ঘাড়ে নিজেই আচর কাটো।  আর আমি যেই ক্লিপটা দিবো সেটা দিয়ে নিজের ঠোটে আর ঘাড়ে আঘাত করো।  মনে হবে  love bite….. এরপর চুপচাপ ঘুমিয়ে পরো। আর হ্যা তোমার mobile টা আমাকে দাও। then কিছু romantic romantic sound করে ওই recorder টা তে। ততোক্ষন আমি বারান্দা থেকে আসছি।  যদি কিছু উল্টা পাল্টা হয় তো ৬ ৬টা বুলেট ঠিক মাথায় ঢুকিয়ে দিবো।  ভয় নেই মেরিন যতো টাকা দিয়েছে তার ৩গুন দিবো। 

 

 নিরা নীড়ের কথা মতোই কাজ করলো।     নীড় নিরাকে রুমে রেখে গেস্টরুমের বারান্দার কার্নিশে গিয়ে দারালো। ওর আন্দাজ মতো সত্যি মেরিন বারান্দায়  বসে আছে। আর রাগে কুমাচ্ছে।

 

নীড় মনে মনে:  তোমাকে আমি হারে হারে চিনি জানেমান। আংটির মধ্যে যে sound chip ছিলো সেটা আমি ঠিকই বুঝেছিলাম….. তুমি যে এখানে বসে সব শুনবে তাও বুঝে গেছি।  তুমি যে রাগ ফেটে যাচ্ছো তাও জানি।  কারন তুমি মুখে যাই বলোনা কেন আমি জানি, তুমি যে আমার সাথে অন্যকাউকে সহ্য করতে পারোনা। সারারাত জেগে তুমি নীড়-নিরার  কাহিনি শুনবে আর রাগে কুমাবে। আর আমি সারা রাত তোমায় দেখবো।

 ভোরের দিকে  মেরিন গিয়ে  শুয়ে পরলো।   

 

.

 

সকালে……  

মেরিন  সোফায় বসে আছে।  কফি  খাচ্ছে। তখন দেখলো নীড়-নিরা একসাথে নিচে নামছে।  নিরার মুখে লজ্জা লজ্জা ভাব। ঠোটে কামড়ে  চিহ্ন।  ঘাড় থেকে ওরনা পরে গেলো। যার কারনে নিরার ঘাড়ের দাগটাও মেরিন দেখতে পেলো।   মেরিনের মাথায়  রাগ উঠে গেলো।    দৌড়ে নিজের রুমে গেলো। সব কিছু ভাঙচুর করলো।  

 মেরিন: চরিত্রহীন লম্পট…..  সব মিথ্যা সব…. 

মেরিন গাড়ি নিয়ে  বেরিয়ে গেলো।  

 

.

 

বিকালে……  

মেরিনের শাস্তি মহলে…..

নিরা: আসবো ম্যাম?  

নিরা আসতেই  মেরিন নিরার গলা চেপে ধরলো।  নিরা দম নিতে পারছেনা।

  মেরিন: তুই কে তুই জানিস  না? তোর সাহস কিভাবে হয় ন… mr. chowdhuri এর সাথে …. তোকে আমি মেরেই ফেলবো। 

  নিরা: আআমার কোনো দোষ নেই। আপনি ভভুল ভভভাবছেন।   

মেরিন: ভুল? তোর শরীর যে ….  i will kill you….  

 নীড়: নিরা…… মেরিন ছারো ছারো ওকে। মরে যাবে।  

মেরিন: যাক।   

অনেক কষ্টে  নীড় মেরিনকে সরালো।   এরপর মেরিন নীড়ের গলা চেপে ধরলো।   

 

.

 

মেরিন: চরিত্রহীন লম্পট…..তোর মতো মানুষ কখনো কাউকে ভালোবাসতে পারেনা। তুই আমাকে কেন নিরাকেও কখনো ভালোবাসিসনি।   ভালোবাসলে ঠিকই বুঝতে পারতি যে ও  নিরা না অন্য কেউ। কিন্তু তুই ….  বুঝতে তো পারিসই নি উল্টো রাতভর…. তুই কেবল মেয়েদের শরীরকে ভালোবাসিস।  আমি আজকে তোকে…… 

 

নীড় দম  ছারতে পারছেনা। চোখ লাল হয়ে গেছে।  তবুও নিজেকে ছারানোর চেষ্টা করছেনা। উল্টা ওর ঠোটের কোনে হাসি।  নীড়ের অবস্থা দেখে  মেরিন ছেরে দিলো।   নীড় কাশি দিতে লাগলো।  যা দেখে মেরিনেরই কষ্ট হচ্ছে।  এরপর নীড় উন্মাদের মতো হাসতে লাগলো।    মেরিন কিছু বুঝতে পারছেনা।

  নীড়:  কেন কাল রাতের ঘটনা তোমাকে effect করছে?

  মেরিন: কারন ওইটা  অবৈধ তাই।   

নীড়:তাও মানবে না যে আজও আমাকে ভালোবাসো।   

মেরিন: বাসিনা বাসিনা বাসিনা। কাউকে ভালোবাসিনা।  

নীড় :তাহলে কেন এতো react করছো? বলো? আমি যার সাথে যা মন চায় করতে পারি।  

মেরিন: তাহলে কেন  মিথ্যা বলেন যে আমাকে ভালোবাসেন?  সব তো আপনাদেরকে দিয়েই গিয়েছিলাম তবে কেন আবার এতো নাটক।  

নীড়: সব দিয়ে না সব কেরে নিয়ে গিয়েছিলে…..

 ১টা বার নিজের বুকের ওপর হাত রেখে বলো তো যে সবটাই নাটক মনে হয় কিনা? 

 মেরিন: হ্যা মনে হয়।  আর আপনাকে আমি  divorce  দিয়েই ছারবো।

  নীড়: আমি কখনোই signature করবোনা।  

মেরিন: ভুলে গেছেন নাকি আমরা যে মুসলিম….. তাই  মুখে মুখেও divorce দেয়া যায়।  ৩ বার তালাক  বলে।  

 নীড়:……. 

 মেরিন: ১ তালাক….  ২ ত……  

মেরিন আর বলতে পারলোনা।  নীড় ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।

 

.

 

 নীড় মেরিনের হাত চেপে ধরল।

  নীড়: তোমার কোনো ক্ষমতা নেই আমাকে divorce  দেয়ার।  

মেরিন: ধরবেন না আমায়। আপনার ওই নোংরা হাত দিয়ে।

 নীড়: নোংরা হাত মানে? 

মেরিন: আপনি ভালো করেই জানেন আমি কিসের কথা বলছি।  

নীড় : তাহলে আমিও  তোমাকে কথা বলছি কাল রাতে সবটাই নাটক ছিলো। আর এইগুলো তার প্রমান।  নীড় তার ২হাত দিয়ে শুধু তোমাকেই ভালোবেসেছে। আর কাউকে না।  

মেরিন:মিথ্যা মিথ্যা সব মিথ্যা। আপনি  আমাকে না মেয়েদের শরীর কে ভালোবাসেন।  আপনি আসলে ১টা চরিত্রহীন।  

নীড়: মেরিন থেমে যাও….. 

মেরিন: না থামবো না….. আপনি ১টা মেয়ে বাজ।  দুশ্চরিত্রবান।  

নীড় আবার মেরিনকে থাপ্পর মারলো।  নীড় মেরিনের  চুল টেনে দার করালো। 

 

.

 

 নীড়: কি দেখেছিস মেয়ে বাজের বল….  কি দেখেছিস… বল।  ১বছর তো ছিলি আমার সাথে কখনো তোর দিকে কুনজর দিয়েছি? বল? নাকি অন্য মেয়ের সাথে ফুর্তি করতে দেখেছিস? বল? কতোবার বলবো যে তোকে ভালোবাসি… বল….  ঠিকাছে মানলাম আমি তোকে ভালোটালো বাসিনা। তোকে চিনিনা…  তোকে বুঝিনা। কিন্তু তুই তো আমাকে ভালোবাসিস। আমাকে চিনিস, বুঝিস তাহলে তুই কেন আমার ভালোবাসা চিনিস না বুঝিস না।  ভাসোবাসলে বিশ্বাস করতে হয়। কিন্তু তুই আমাকে বিশ্বাসই করিসনি। আসলে তুমিই আমাকে কখনো ভালোবাসোনি।  তুমি আমাকে  কেরে নিতে চেয়েছিলে নিরার কাছ থেকে। যেমন করে নিরা তোমার সবটা কেরে নিয়েছিলো। আমি তোমার প্রতিশোধ ছিলাম মাত্র।  তুমি ভালোবাসতেই জানোনা।  

 

বলতে বলতে নীড় কেদে দিলো।  নীড় মেরিনকে ছেরে দিলো।  

মেরিন:……  

নীড়: ভালোবাসি তোমাকে।  এই নাও সেই contract paper…. যেখানে ছলনা করে তোমার signature নিয়েছিলাম।  এগুলো নির্বনকে তোমার কাছে থেকে কেরে নেয়ার জন্য ছিলোনা। এগুলো ছিলো।  তোমাকে আমার জীবনে ফিরিয়ে আনার। আর সেই challenge …. যাও তুমি  আমাদের ছেলেকে নিয়ে। তোমাকে আর আটকাবো না। তুমি বললে  তোমার যাওয়ার ব্যাবস্থা আমি করে দিবো।  তাও তুমি শান্তিতে থাকো।  আমার আর কিছু চাইনা।  কিন্তু আমার ভালোবাসাকে নাটক মনে করোনা। আমি সত্যি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি। অসম্ভব ভালোবাসি।  শুধু এটা বিশ্বাস করো। আর কিছু চাইনা।   

মেরিন:…… 

নীড়: যাওয়ার আগে শুধু একটাবর বলে যাও যে তুমি বিশ্বাস করো যে আমি তোমাকে ভালোবাসি……  

মেরিন:…..  

নীড়: বলো…… 

মেরিন: না। আমি বিশ্বাস করিনা।

 

.

 

নীড়:  কি করলে বিশ্বাস করবে যে আমি তোমাকে ভালোবাসি? জীবন দিলে?  

মেরিন:  মেরিনের মতো dialogue মারলেই মেরিন হওয়া যায়না।  আর  যে কেউ মেরিনের মতো জীবন দিতে পারেনা। uffs…..  আমিই তো কখনো ভালোবাসিনি।  নাটক তো আপনি না আমিই করেছিলাম ভালোবাসার।   এখন সরেন আমি যাবো।   

নীড়: তুমি বিশ্বাস করোনা যে আমি তোমাকে ভালোবাসি…..  

মেরিন:না…..  

নীড়: জীবন  দিলে  বিশ্বাস করবে তো আমি তোমাকে ভালোবাসি……  

মেরিন:….. 

 নীড়: দেখতে পারবে আমার মৃতদেহ……?  

মেরিন: সরুন।  

বলেই মেরিন চলে যেতে নিলো। ৪কদম সামনে যেতেই মেরিন গুলির আওয়াজ পেলো। মেরিন দুম করে নীড়ের দিকে ঘুরলো।  আর দেখলো যে  নীড়ের বুক থেকে গলগল করে রক্ত ঝরছে।  পলকেই মেরিনের দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেলো…..  মেরিন চিৎকার করে 

বলল: নীড়………..  

মেরিন ছুটে নীড়ের কাছে গেলো  

মেরিন:এএএটা কককি ককরলেন নীড়……   কি করলেন….. আমি এটা চাইনি নীড়…… আমি যে আপনাকে অনেক ভালোবাসি…..  অনেক….. আপনি বলেছিলেন না কিভাবে আমি এই ৮বছর ঘুমিয়েছি, কিভাবে খেয়েছি, কিভাবে থেকেছি….. আমি বলছি।   আমি এটা ভেবে ঘুমিয়েছি যে আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন। আপনি আপনার ভালোবাসাকে নিয়ে সুখে আছেন। এটা ভেবেই ৮বছর  কাটিয়েছি। তবে কেন আজকে এমনটা করলেন…….

 

 নীড় মুচকি হেসে 

বলল:  যযদি আগে জানতাম যে  ননিজেকে  গগুলি  করলে তততোমার মুখ থেকে নননিজের নাম শুনতে পারবো…..  আমাকে ভালোবাসো সেটা শুনতে পারবো…..  আমি তোমাকে ভালোবাসি সেটা বিশ্বাস  করাতে পারবো…. তবে আরো আগেই এমনটা করে নিতাম।

 

.

 

হসপিটালে…… 

  নীড়ের অপারেশন চলছে।  মেরিন দরজার মধ্যে মাথা ঠেকিয়ে দারিয়ে আছে।  কান্না করছে। আর নীড়ের বলা শেষ কথা গুলো মনে করছে……  তখন বাড়ির সবাই চলে এলো।  জন মেরিনের কাধে হাত রাখলো। মেরিন জনকে জরিয়ে ধরলো। কাদতে লাগলো। 

মেরিন: আমি তো এমনটা চাইনি ভাইয়া…..  তবে  কেন এমনটা হলো? আমি তো উনার ভালোই চেয়েছিলাম। উনার সুখ চেয়েছিলাম। নীড়ের কাছ থেকে নীড়ের ভালোবাসা কেরে নিয়েছিলাম।  তাই তো তাকে তার ভালোবাসা ফিরিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তবে উনি কেন নিজেকে আবার দুর্ভাগ্যের সাথে জোরা লাগাতে আসলেন।  

নীলিমা: আমার ছেলের ভালোবাসা আর কেউনা। কেবল তুমি…… তোমাকেই আমার ছেলে সত্যি কারের ভালোবেসেছে।   আর কাউকে না।   

মেরিন: না মামনি এটা তোমার ধারনা। উনি নিরাকে….

 কনিকা: না নিরাকে না তোমাকে ভালোবাসে।   

মেরিন: মামনি…. ওই মহিলাকে কথা বলতে নিষেধ করো।  

কনিকা: তবুও আজকে আমি বলবো।  

মেরিন: আপনার কোনো কথা শুনতে আমি বাধ্য নই।  

নিহাল: আমার কথা তো শুনবে?? 

মেরিন:……  

নিহাল: তুমি কালকে ওই নিরাকে এনেছিলে কারন তুমি ওর মাধ্যমে আসল নিরার খোজ জানতে চেয়েছিলে….  

মেরিন অবাক হয়ে গেলো।  

নিহাল: অবাক হলে। তাইতো?  আমি জানতাম না….. নীড় জানতো।

  মেরিন:…..   

নিহাল: চলো তোমাকে নিরার কাছে নিয়ে যাই…….

 

.

 

  নিহাল মেরিনকে নিয়ে সেই শ্মশানে গেলো।

মেরিন অবাক হলো…..  

নিহাল: এখানেরই  মাটির সাথে মিশে আছে পুরে ছাই হয়ে যাওয়া নিরা……  

মেরিন:মানে…….  

নিহাল: তুমি জনকে যে কাজটা দিয়েছিলে তার বাইরেও জন ১টা কাজ করেছিলো। জন নিরার সত্যটা আমাদের সবার সামনে তুলে ধরে। এরপর পুলিশ ওকে arrest  করে নিয়ে যায়। তার ৩দিনপর রাতেরবেলা নিরা আর ওর বাবাকে নীড় বের করিয়ে আনে।  

 

( আমার যতদূর মনে পরে আমি বলেছিলাম নিরার বাবার হাত-পা কাটিয়েছিলো মেরিন। জানে মারেনি।)  

 

 তুমি সবাইকে যেখানে শাস্তি দিতে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলো।  সেখানে নিয়ে নিরার বাবার সামনে  প্রথমে নিরার  একটা একটা করে আঙ্গুল  কাটে এরপর হাত-পা। জিহ্বা , কান পর্যন্ত কেটো দেয়।  যা দেখে নিরার বাবা অনেক আকুতি মিনতি করে। কিন্তু নীড় …..   বাবা মেয়ের কান্না দেখে ওর মনে আনন্দ হয়।  অবশেষে  বাবা-মেয়েকে এখানে এনে জীবীত পুরিয়ে দেয়। এর থেকে ভয়ংকর মৃত্যু মনে হয় কখনো কেউ কাউকে দেয়নি। তোমার সাথে হওয়া অন্যায়ের চরম প্রতিশোধ নেয় নীড়।  

মেরিন:……..  

 নিহাল: আর কেন নিয়েছিলো জানো? কারন ও তোমাকে ভালোবাসে।  সেদিন তুমি পার্কে যেগুলো দেখেছে নিঃসন্দেহে সব সত্যি।  কিন্তু সব সত্যিরই ২টা দিক থাকে।  নীড় নিরার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করেছিলো।  যেনো ওর ভরসা অর্জন করে ওর মুখ দিয়ে সব সত্য স্বীকার করিয়ে  ওকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে পারে। আর ওদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিতে পারে। তবে সবটাই আইনী মাধ্যমে।  কারন তুমি তো জানোই ও কেমন ছিলো…..  কখনো কারো ক্ষতি চাইতো না।   সবটা তোমাকে আগেই বলতে চেয়েছিলো।  কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস দেখো…. নির্বনের  কারনে তোমার মুড সুইং হচ্ছিলো। আর তাই নীড় চেয়েও তোমাকে কিছু বলতে পারেনি…..  শুধু তাই নয়।  তোমাদের বিবাহ বার্ষিকিতে ও তোমাকে কি উপহার দিতে চেয়েছিলো জানো?   ও তোমাকে আবার বিয়ে করতে চেয়েছিলো……. কিন্তু একটু ভুল বোঝার জন্য তোমাদের সুখের ৮টা বছর শেষ হয়ে গেলো।  ও তোমার  সাথে ভালোবাসার অভিনয় করেনি মেরিন…. ও তোমাকেই ভালোবেসেছে।  এই ৮বছরে ও যে কি হয়ে গিয়েছিলো তা কেবল আমরা জানি।  

 

সব শুনে মেরিনের মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো।  ও কি করেছে……. 

 

.

 

২দিনপর….. 

 নীড়ের জ্ঞান ফিরলো।   নীড় দেখলো ওকে ঘিরে সবাই দারিয়ে আছে। কিন্তু মেরিন নেই। 

 নীড় মনে মনে:আমার বউটা কোথায়? আমি suicide attempt করতে করেছি বলে রাগ করে চলে যায়নি তো…… 

 

 নীড়ের  মনটা খারাপ হয়ে গেলো।  সবাই নানা ধরনের কথা বলল। নীড় হামম বলেই সব জবাব দিলো। পরে ডাক্তারের বলাতে সবাই বেরিয়ে গেলো।  সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর নীড় বাম দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো  যে  মেরিন বসে আছে।  বসে বসে নীড়ের  report গুলো পড়ছে।   নীড় মুচকি হাসলো।  

 

নীড় মনে মনে: পাগলি…..

 নীড়: সিস্টার….. সিস্টার।

  নার্স দৌড়ে এলো।   

নার্স: জী বলুন।  

 নীড়: আমার বউটাকে দেখেছেন?

  নার্স মেরিনকে দেখিয়ে 

বলল: ওই তো….. 

 নীড় নার্সকে চোখ মেরে 

বলল: না না ওই ম্যাডাম না।  ওই যে আছেনা slim…. hooooot figure …. দেখতে পেন্সিলের মতো ।  কি যেনো নাম? হ্যা নিরা।  নিরা। ওকে ডেকে দিননা। বউ ছারা কেন যেন এতিম এতিম লাগছে।  

 নার্স মুচকি হেসে 

বলল: তিনি তো আসেননি। তিনি আসার আগ পর্যন্ত মেরিন ম্যামকে….

  নীড়: ওরে  বাবারে…..  আগুনে ঝাপ দিবো…. দেখুন কিভাবে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই ভষ্ম করে দিবে। বলছিলাম কি আপনি free আছেন?

 নার্স: sorry sir… i m married ….

 বলেই নার্স চলে গেলো।  মেরিন জানে নীড় ওকে রাগানোর জন্য বলছে।  মেরিন মনে মনে ভীষন হাসছে।  ৫দিনপর নীড়কে বাসায় নেয়া হলে মেরিন নীড়ের সেবায় জুরে গেলো।  হসপিটালেও all time মেরিনই ছিলো নীড়ের সাথে।  তবে ১টা কথাও নীড়ের সাথে বলেনি।  নীড় মেরিনকে অনেক জালিয়েছে।  কিন্তু মেরিন react করেনি। তবে অনেক enjoy করেছে। 

 

.

 

১০দিনপর…..

রাতে…..

 বাবা ছেলে ঘুমিয়ে আছে।  একই ভাবে। মেরিন ২জনের  কপালে চুমু দিলো।  

মেরিন: ভালোবাসার জন্য ১টা নীড় কম ছিলো যে নীড়ের কার্বন কপিও আল্লাহ আমাকে দিয়ে  দিলো।  বাবাকে না দেখে না জেনেও ছোটবেলা থেকে বাবার মতোই হয়েছে।  নজর না লাগুক বাবা ছেলের। থু থু থু……

 

.

 

   মেরিন বারান্দায় দারিয়ে আছে। হঠাৎ কারো গরম নিঃশ্বাস ঘারে পরলো। কেউ তাকে জরিয়ে ধরলো। মেরিন মুচকি ১টা হাসি দিলো। এরপর  মুখে রাগী ভাব ফুটিয়ে নিজেকে ছারিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলো। তবে ব্যার্থ হলো। 

নীড়: নীড়ের বাধন থেকে মেরিন কখনো ছুটতে পারবেনা।  

মেরিন:…..

 নীড়:  ভালোবাসার প্রমান দেয়া কি এখনো বাকি?হামম বুঝেছি  আরো ১টা গুলি খেতে  হবে …. 

মেরিন ঘুরেই নীড়কে ঠাস করে ১টা  থাপ্পর দিলো।  

 মেরিন: suicide করতে চাইলেনা i will kill you….  

 নীড়: থাপ্পর মারার কি দরকার ছিলো? ভালোভাবে বলা যেতো না…

মেরিন:না।  সরেন ঘুমাবো। এই কয়দিন অসুস্থতার সুযোগে অনেক জ্বালিয়েছেন।  

নীড়: তা এখনও কি কোলকাতা যাওয়ার plan  আছে? গেলে ভালোই হবে। নতুন ১টা  বিয়ে করবো।  brand new বউ পাবো।   

মেরিন:খুব শখ না বিয়ে করার না…..  কারো দিকে চোখে তুলে তাকালেও না জানে মেরে দিবো। শালা……   ৩টা মাস ধরে বকবক করে কানের মাথা খেয়ে ফেলেছে অথচ নিরার যে টায়টায় ফিস করছে তা বলে নাই…. আবার ঢং দেখাইতে আসছেন।  সরেন ঘুমাবো। 

 মেরিন নীড়কে  আরো ১টা থাপ্পর দিয়ে  idiot বলে   ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে  রুমে চলে গেলো। 

 

.

 

নীড় আকাশের দিকে মুখ করে বলতে 

লাগলো: ৮বছর আগে তো গালে kiss দিতো। আর এখন থাপ্পর।   আল্লাহ তোমাকে আমি ধন্যবাদ দেই যে আমার বউ typical না। but why she is too much difficult !!

 তখন মেরিন দৌড়ে এসে ঝাপিয়ে পরলো নীড়ের বুকে।   ২জনই পরে যেতে নিলো।  নীড় কোনোরকমে balance  করলো।   মেরিন কাদতে লাগলো।  

নীড়: কান্না করছো কেন?  আমি তো বেচে আছি। 

 তখন  মেরিন নীড়ের বুকে কিল মারলো।

 

নীড়: ouch…..  

মেরিন: i m sorry…….  i m sorry…..  

নীড়: its ok… অতোটাও ব্যাথা পাইনি।

মেরিন: হারামিটা…..

আমার জন্য আমাদের জীবনটা শে…..  

নীড়: shh….  কে বলেছে জীবন শেষ।  হ্যা  সুখের ৮টা বছর   delete হয়ে গেছে। but you know what…….   স্বর্নটা যতো পুড়ে ততোই খাটি হয়।   আমাদের ভালোবাসাও তেমনটাই।   

মেরিন: কিভাবে আমি আপনাকে অবিশ্বাস করলাম? কিভাবে কিভাবে কিভাবে…..  

নীড়: এটা কেবল  situation এর  demand ছিলো।  nothing else……  

মেরিন: না নীড়।  আমি অপরাধী। সত্যি আমি ভালোবাসতে পারিনা।

নীড়: থাপ্পর মারবো।

মেরিন:  u should punish me….  

নীড়: করবো তো punish… romance এর ৮টা বছর কেটে গেলো। ভাবতে পারো এই ৮বছরে at least আমাদের  আরো ৪টা baby হতো। 

মেরিন: what??

  নীড়: হামম। ওদিক থেকে ১জন বাবা সেদিক থেকে ১জন বাবা।  ভাবা যায়….. 

মেরিন: পাগলটা। কিন্তু নীড় শাস্তি না পেলে যে আমি শান্তি পাবোনা।  

নীড়: যদি শাস্তি পেতে চাও তবে আমাকে ১টা promise করতে হবে।  

মেরিন: হামম। বলুন।  

নীড়: promise করো যে আমি যখন তোমার কাছে কিছু ১টা চাইবো তুমি সেটা মন থেকে দেবে……  

মেরিন: এটা কি সেই ৮বছর আগের আবদার….  

নীড়:হামমম।   

মেরিন: mr. & mrs. khan কে আবার আম্মু বাবা বানাতে হবে । এইতো…..   

নীড়: হামম।   কিন্তু জোর করে না মন থেকে। আমি আর তোমার মুখে হাহাকার দেখতে পারবোনা। আমি মেরিনকে সত্যি ভালো থাকতে দেখতে চাই।  আমি চাইনা আমার মেরিনের…. ভালোবাসারমেরিনের জীবনে কোনো কালো মেঘের ছায়াও আর দেখতে চাইনা।  আমি সত্যিকারের হাসি দেখতে চাই। মা-বাবার  সাথে rudely  কথা বলে পরে মনে মনে  কষ্ট পাওয়া , নিজেকে আঘাত করা মেরিনকে আর চাইনা। আমি আমার মেরিনের জীবনটা আলোয় আলোয় ভরিয়ে দিতে চাই।

 

.

 

খুশিতে মেরিনের চোখে পানি চলে এলো।  নীড় ঠোট দিয়ে শুষে নিলো।  

নীড়: আজ থেকে তোমার সকল দুঃখ আমার।  তুমি যেমন আমার চোখের পানি সহ্য করতে পারোনা তেমনি আমিও পারিনা।  

মেরিন: এতো ভালো কবে  বাসলেন আমাকে….  

নীড়: জানিনা…… 

বলেই নীড়  ১টা লকেট বের করে মেরিনকে পরিয়ে দিলো…..  যেটাতে নীড়-মেরিনের  ছবি আছে।

  নীড়: আজকে এই অন্ধকারকে সাক্ষী রেখে  আমি নীড় মেরিন আহমেদ চৌধুরী বর্ষন ওয়াদা করছি   কখনো কোনো কথা তোমার কাছে লুকাবোনা…..  নিঃশ্বাস নেয়ার আগেও তোমাকে বলবো…..  চোখেক পলক ফেলার আগেও তোমাকে বলবো।     সকল ঘৃণা শেষ করে দিবো।  

মেরিন: আমিও কথা দিলাম জীবনের সব পর্যায়ে সকল অবস্থাতেই মেরিন নীড়ের সাথে থাকবে। মৃত্যুর সময়েও মেরিনের হাতে কেবল নীড়ের হাত থাকবে।     

 

.

 

মেরিনের জীবন থেকে  সব ঘৃণার অবসান ঘটলো। ঘৃণারমেরিন ভালোবাসার মেরিনে পরিনত হলো।  মেরিন সুখী হলো।  ওদের marriage  anniversary তে নীড় আবার মেরিনকে বিয়ে করলো। মহাধুম ধাম করে।  মা-বাবা…. শশুড়-শাশুড়ি, স্বামী-সন্তান সবাইকে নিয়ে  মেরিনের সুখের জীবন শুরু হলো।   নীড় মেরিনের জীবনকে সুখ দিয়ে কানায় কানায় পরিপূর্ন করে দিয়েছে।

     

     

                            —(সমাপ্ত)—

 

সিজন ২

 

ঘৃণার মেরিন

পর্ব ০১

 সিজন ২ 

Mohona Chowdhuri 

.

.

.

চট্টগ্রাম….

☆:১১২কোটি ১,, ১১২ কোটি ..    

☆:১৫কোটি… 

☆:১১৫ কোটি ১,, 

☆: ১২০কোটি ….  

☆:১২০কোটি…  the amount is increasing…  ১২০কোটি ১…. ১২০ ক…. 

☆ : ১২৫ কোটি… 

 ☆:১২৫কোটি ১,, ১২৫ কোটি ২,,, 

 ☆: ১৪০ কোটি…।  । 

☆: oh my god…. the নিহাল আহমেদ চৌধুরী বললেন ১৪০ কোটি। হয়তো উপস্থিত আর কেউ এটাকে আর বারাতে চাইবেনা। so… ১৪০কোটি ১,, ১৪০কোটি ২,,  ১৪০কোট…. 

■: ১৯৫কোটি টাকা,,,  

 

১৯৫কোটি কথাটা শুনেই সবাই পিছে ঘুরলো। ১জন ছারা।  যে ঘোরেনি সে হলো নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন।  যে ১সপ্তাহ আগে london থেকে ফিরলো। লেখা পড়া complete করে। সে সাইডে দারিয়ে তার জান নীরার সাথে কথা বলছিলো।  আর যে ১৯৫কোটি টাকা বলল তাকে দেখে কারো ঘাম ছুটতে লাগলো আবার কারো চোখ বেরিয়ে আসতে লাগলো। আবার কারো কাপাকাপি শুরু হলো। আবার তার দিকে তাকিয়ে কারো চোখ ঝলসাতে লাগলো।  কারন সে হলো none other than the মেরিন বন্যা খান।  যে কালো রঙের লেডিস ব্লেজার পরেছে। হাতে কালো ঘড়ি। ঠোটে গাঢ়ো লাল লিপস্টিক। স্মোকি আইস।  4 layer করে কাটা চুলগুলো উচু করে ঝুটি করা। ২পাশে চুল বের করা। 

 ☆:  মমমেরিন ববববন্যা খখখান। ১৯৫কোটি টাকা এএএক,,,  ১৯৫,,, 

 মেরিন : stop… এখানে উপস্থিত কেউ এই dealটার জন্য  ১৯৫কোটি টাকার বেশি দাম চরাবে না।  so don’t waste my time …. 

আসলেই এখানে উপস্থিত কেউ এটাকে আর বারাবেনা। টাকার বিষয় তো আছেই তবে তারথেকে বড় কারন হলো মেরিন। মেরিন যখন এখানে এসেছে তখন এই ডিলটা ও ই নিবে। যেভাবেই হোক না কেন।

☆: tttthis dddeal goes ttto tttthe মমমমেরিন বববন্যা খান।  

 মেরিন style মেরে স্টেজে উঠলো।  deal paper নিলো। তখন চোখ গেলো নীড়ের দিকে। নীড়ের পেছন দেখা যাচ্ছে।  কালো  ব্লেজার। কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। হাতটা দেখা যাচ্ছে। সেই সাথে হাতের ঘড়ি আর আংটি। 

  মেরিন মনে মনে: কে এই ব্যাক্তি যে মেরিন বন্যা খানের উপস্থিতিতে অন্য কাজ করছে। strange …

 সাংবাদিকদের প্রশ্নে মেরিনের ধ্যান ভাঙলো।

মেরিন : yes…

 সাংবাদিক : ম্যাম… এই ডিলটা নেয়ার কারন? 

মেরিন: মেরিন বন্যা খান কখনো কাউকে কোনো জবাব দেয়না। 

 বলেই মেরিন বেরিয়ে গেলো।  নীড় কেবল মেরিনের পেছনটা দেখলো। 

 

   ১ঘন্টাপর…

 মেরিন : জন… 

জন: yes mam… 

মেরিন : নিহাল আহমেদ চৌধুরীর সাথে আজকে তার ম্যানেজারের ছারাও আর কে এসেছিলো?

 জন : ম্যাম উনার একমাত্র ছেলে নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন। 

 মেরিন : ওহ। আচ্ছা শোনো…

 জন: জী ম্যাম… 

 মেরিন: পরশু তুমি officeএ একটু  তারাতারি যেও। আমার একটু লেট হবে। 

 জন: ok ম্যাম। 

মেরিন : ok bye… পরশু দেখা হবে। 

জন: পরশু?

 মেরিন : হামম। কারন এখনই আমি ঢাকা রওনা হচ্ছি। 

 জন : এই রাতে?

 মেরিন : হামম। 

জন: ok mam… আমি তাহলে সব গুছিয়ে নিচ্ছি।

  মেরিন: দারাও…. 

 জন : জী ম্যাম।

  মেরিন: আমি কি বলেছি তুমিও আজকে যাবে?

 জন: কিন্তু ম্যাম… 

 মেরিন : আমি একা যাবো। &  i don’t want any argument …. 

 বলেই মেরিন বেরিয়ে গেলো।  

 

  ২ঘন্টাপর…

  মেরিন full volume এ গান ছেরে গাড়ি চালাচ্ছে। ” আয় খুকু আয়”। গান শুনতে শুনতে হুইসকির বোতলটার মুখ দাঁত দিয়ে খুলল।  এর ঢোক মুখে দিলো।  এরইমধ্যে হঠাৎ  করে ওর গাড়ির কিছুটা সামনে থাকা গাড়িটা break মারায় ওকেই খুব জোরে break চাপতে হলো।  যার কারনে ওর কপালটা স্টিয়ারিং এ লেগে সামান্য কেটে গেলো। 

 মেরিন : what the hell…  

মেরিন রেগে মেগে হুইসকির বোতলটা হাতে নিয়েই বের হলো।  তেরে  গাড়িটার দিকে এগিয়ে গেলো । 

 মেরিন: hey you dumb… stu…. 

তখন গাড়ি থেকে এক সুদর্শন যুবক বেরিয়ে এলো।  formal get up… black suit পরা চুল গুলো হালকা ডার্ক করা। ভীষন ফর্সা। পাকা রং যাকে বলে। কাচা হলুদের মতো। লম্বা ৬.২।  ঠোট ২টা লাল।  crush খাওয়ার মতো।  সে ১বার হাত জোর করে ক্ষমা চেয়ে এরপর ২কান ধরে sorry sorry বলতে বলতে এগিয়ে এলো। ভীষন cute লাগছে দেখতে।  ছেলেটার পরনে থাকা suit সেই সাথে ডান হাতে থাকা ঘড়ি আর অনামিকা আঙ্গুলের সেই স্বর্নের আংটিটা দেখে মেরিন বুঝতে পারলো এটা সেই নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন।  মেরিন নীড়ের পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখছে।

  নীড় কানে হাত দিয়ে cute করে

 বলল : i m really very sorry miss… আসলে আমি ইচ্ছা করে করিনি।  

মেরিন : oh really? আপনার ভুল বসত করা কাজের জন্য আমার গাড়িটা নষ্ট হতে পারতো। জানেন এটার দাম কতো?   u idiot….  

নীড় অবাক হলো। কোনো মেয়ে এমনভাবে কথা বলতে পারে।  তার কপাল কেটে রক্ত বের হচ্ছে তবুও সে ওটার কথা  না বলে গাড়ির কথা বলছে। তাও এতোটুকু ১টা মেয়ে। অতিরিক্ত হলে বয়স ২১ কি ২২ হবে। লম্বায় ৫.৩। হরিনের মতো চোখ। কালো লেডিস ব্লেজার পরা। ঠোটে  dark red lipstick….  স্মোকি আইস। উচু করে ঝুটি করা।  ডান হাতে ঘড়ি সেই সাথে ১টা হুইসকির বোতল। 

 মেরিন : এই যে hello…. why don’t answering? 

নীড় : আসলে মিস গাড়িটা disturbed দিচ্ছিলো কিছুক্ষন যাবত থেমে গেলো। এখন হঠাৎ করে থেমেই গেলো। তাই….  

মেরিন : shut up just shut up…. ছোটোলোক। এমন খাটারা গাড়ি নিয়ে বের হন কেন?  ভালো গাড়ি কেনার টাকা না থাকলে কিনবেন না। third class & cheap ।

 নীড় : excuse me… আপনার সাথে আমি ভালোভাবে কথা বলছি আর আপনি….

ভুল করেছি তাই আমি নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন  আপনার মতো ১টা মেয়েকে  sorry  বলছি। তাও আপনার মতো ১টা বেয়াদব মেয়েকে। যে কিনা মদ খেয়ে টাল হয়ে একটুপর এমনিতেই accident করে মরবে।  যার একহাতে ওই মদের বোতল। যত্তোসব ফালতু মেয়ে।  

মেরিন : you…. 

বলেই হাত ওঠালো নীড়কে থাপ্পর মারার জন্য । আর সাথে সাথে নীড় হাতটা ধরে ফেলল।  

 

 নীড় : আল্লাহ কেবল আপনাকেই হাত দেয়নি। আমাকেও দিয়েছ।  ভুল করেছি বলে এই হাতটা ঠিক আছে। না হলে ভেঙে গুরিয়ে দিতাম। মেয়ে মানুষও মানতাম না। got it….

  মেরিন অবাক চোখে দেখছে নীড়কে। এই প্রথম কেউ সাহস করে ওর সাথে কথা বলছে। তাও চোখে চোখ রেখে।  নীড় মেরিনের হাত ছারলো । নীষ চলে যেতে নিয়ে আবার ফিরে এলো।  

নীড় : দেখি আসুন আপনার মাথায় ব্যান্ডেজ করে দেই। অনেক রক্ত পরছে।

 মেরিন:….

 ও নীড়কে দেখতে ব্যাস্ত।  নীড় মেরিনকে টেনে গাড়ির কাছে নিয়ে গিয়ে first aid box বের করে মেরিনের মাথায় রক্ত মুছে  পরম যত্নে ব্যান্ডেজ করছে। মলম লাগাচ্ছে আর মুখ  দিয়ে ফু দিচ্ছে। মেরিন মুগ্ধ নয়নে নীড়কে দেখছে। 

 নীড় : কতোখানি কপাল কেটে গেছে সেটা না বলে উনি গাড়ির কথা বলছেন। কি ভাব…. 

মেরিনের কাছে দারিয়ে নীড়ের কেমন যেন ১টা অনুভূতি হচ্ছে।  যেটা ৫বছরের ভালোবাসা নীরার কাছে থাকলে কখনোই হয়না। heart beat  অনেকগুন বেরে গেছে। 

 নীড় কথা বলছে যার জন্য ওর ঠোট ২টা নরছে। সেই সাথে আছে নীড়ের অসম্ভব সুন্দর চোখজোরা।।   

মেরিন : i love you… 

 নীরের হাত থেমে গেলো।  অবাক চোখে মেরিনের দিকে তাকালো।   নীড় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেরিন নীড়ের ঠোট জোরা দখল করে নিলো।  নীড় তো just shocked….  রাগ লাগছে ভীষন। কিন্তু কোথাও কোনো অন্যরকম ভালোলাগাও কাজ করছে। তবুও নীড় রাগটাকে প্রাধান্য দিলো।  মেরিনকে ছারিয়ে ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো। 

 নীড় : অসভ্য মেয়ে।  বেয়াদব। নোংরা মেয়ে। মা-বাবা কিছু শেখায়নি? নাকি পতিতালয়ে  বড় হয়েছো? অসভ্য …. যে আমি আমার ৫বছরের ভালোবাসা আমার হবু বউকে…. idiot…. বাজে মেয়ে।

 বলেই নীড় সোজা হাটা ধরলো। 

 মেরিন গালে হাত দিয়েই

 বলল : আপনার গাড়িটা কি আর চলবে?  আসুন আমার গাড়িতে বসুন। একসাথে ঢাকা যাবো। গল্প করতে করতে। 

 নীড়ের মাথা রাগের চোটে ফেটে যাচ্ছে।  নীড় কোনো রকমে গাড়িটা start দিয়ে ওখান থেকে চলে গেলো।   মেরিন ওখানে দারিয়েই হাহা করে হাসতে লাগলো।   হুইসকির বোতলে চুমুক দিলো। 

 মেরিন : পালিয়ে কোথায় যাবেন নীড়…. মেরিনের নজর পরেছে আপনার ওপর। এখন থেকে আপনি আমার দৃষ্টিবন্দী নীড়।  আপনি যে আমার নীড়।  বন্যার বর্ষন।

 

  ৩দিনপর.. শাহজাহান খান স্বয়ং চৌধুরীদের office এ গেলো।  

শাহজাহান খান : আসতে পারি?

 নিহাল : আরে স্যার আপনি?  আসুন বসুন বসুন….

 শাহজাহান খান : ধন্যবাদ। আমি ১টা জরুরী কাজে এখানে এসেছি।

  নিহাল: জী স্যার বলুন। স্যার আমাকে ডেকে পাঠাতেন। 

  শাহজাহান খান: আমার নাতনি মেরিন বন্যা খান student … তবুও সে আমার থেকে ভালোই business বোঝে। তবে মাঝে মাঝে sentimentএরও দরকার হয়। যেটা ওর জানার অগোচরে। তাই ও তোমার দেয়া offer টা reject করে দিয়েছে। আক  সেটা  আমি final করতে এসেছি। খান &  চৌধুরীরা একসাথে কাজ করবে। 

 নিহাল: oh my god… i can’t believe sir.

thank u… 

শাহজাহান : হামম। এই নাও ডিল পেপার । ঠান্ডা মাথায় এটা পড়ো। পড়ে ২দিন পর আমাকে ফোন কোরে। যে এই ডিলটা করবে কি করবেনা।  

নিহাল: স্যার যেখানে আপনি এসেছেন সেখানে কোনা ভাবাভাবির দরকার নেই। 

শাহজাহান : না। তুমি পড়ো। 

 নিহাল : আপনি যখন বললেন তখন এখনই পড়বো।  

নিহাল ড্ল পেপারটা পড়লো। আর পড়ে তো ওর চোখ কপালে। 

 

 কারন যেই project টা ওরা jointএ করতে চায় সেটা সম্পুর্ন হবে minimum ৮০০ কোটি টাকা লাভ হবে। যার থেকে খান গ্রুপ ১টা টাকাও নিবেনা। খান গ্রুপ কেবল চৌধুরী গ্রুপের সাথে কাজ করবে। তবে,,, এই ডিলটা সম্পুর্ন করতে হলে চৌধুরী গ্রুপ & company  এর

70% share মেরিনের নামে করতে হবে। মেরিনের নামে  70% share  দিলেও মেরিন এই company এর কোনো টাকাতে কখনো কোনো ভাগ নেবেনা।  ও just share নিবে 70%।  এমন এ্যাগরিমেন্ট কখনো নিহাল দেখেনি। 

 

 নিহাল : uncle এটা কোন ধরনে ডিল? 

মেরিন : আমি বলছি। 

 নিহাল : তুমি এখানে? 

মেরিন: কেন আসা নিষেধ? যাই হোক uncle ….  এই পেপারে sign করবেন কি করবেন না সেটা আপনি সময় নিয়ে ভাবুন ঠান্ডা মাথায়।  যদি চৌধুরী গ্রুপ খান গ্রুপের সাথে মিলে যায় তবে চৌধুরী গ্রুপ  কতোটা ওপরে চলে যাবে সেটা আপনি অবশ্যই আন্দাজ করতে পারছেন।  তবে মনে রাখবেন যদি 70% মেরিনের  নামে না হয় তবে 100% হয়ে যাবে ।

  নিহাল ভালো মতো বুঝতে পারলো যে মেরিন কি বোঝাতে চাইছে। যদি ও পেপারে sign না করে তবে মেরিন ওর company খেয়ে ফেলবে।  সব ডিলার দের , investor দের কিনে নেবে। তাই বাধ্য হয়েই নিহাল sign করলো। 

মেরিন : thank you uncle.

 নিহাল : welcome .

মেরিন : আমি সপ্তাহে ৩দিন এই officeএ বসবো।  কাল থেকে।  আর পরশু থেকেই project টা শুরু হবে। আসছি। চলো দাদুভাই। 

মেরিন চলে গেলো। 

 পরদিন…

   নীড় officeএ এলো। ওর রুমে গেলো।  দেখলো ওর চেয়ারের পাশেই ১টা চেয়ার । যেখানে কেউ বসে আছে। পেছন ঘুরে। 

 নীড় : who’s that..?

 মেরিন : its me. মেরিম বন্যা খান।  

নীড় : মেরিন বন্যা খান? ঠিক চিনলাম না। 

 মেরিন ঘুরলো। 

 মেরিন : এখন চিনেছেন?

  নীড় : you?

 

চলবে..

 

ঘৃণার মেরিন  

পর্ব ০২

সিজন ২

Mohona Chowdhuri 

 

নীড় : you.?. 

 মেরিন : any doubt ?

  নীড় : তোমার সাহস কি করে হয় আমার অফিসে এ ঢোকার ? আমার কেবিনে ঢোকার? 

মেরিন: মেরিন বন্যা খানের সাহস পরিমাপ করা যায় বা করতে পারে এমন কোনো যন্ত্র বা ব্যাক্তি কিছুই নেই। আমার স্রষ্টাই একমাত্র আমার নিয়ন্ত্রক। বাই দ্যা ওয়ে … এখন তো কেবল আপনার অফিসে কেবিনে ঢুকেছি।

 বলেই মেরিন নীড়ের সামনে এসে দারালো।  

মেরিন : খুব শীঘ্রই এখানো ঢুকবো।

   নীড়ের বুকে আঙ্গুল  রেখে।   

 নীড় ঝারা দিয়ে মেরিনের হাত সরিয়ে দিলো।  এতে মেরিনের হাত টেবিলের সাথে লেগে  কেটে গেলো।

  মেরিন : ও মা.এতো রাগ?জায়েজ আছে। মেরিন বন্যা খানের ভালোবাসার রাগ থাকবে  না সেটা কি হয়?

 

 একে তো মেরিন সামনে আসাতে নীড় হার্ট লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে আসার উপক্রম। তার ওপর মেরিনের এমন তরো কথা।  নীড়ের মেজাজ গরম হতে আর কি লাগে? 

নীড় : shut up just shut up… get out from my cabin & office …

  কথাটা শুনে মেরিন হাহা করে হাসতে লাগলো। 

 মেরিন : জান..আপনি আপনার বাবার কাছে যান।  সব বুঝতে পারবেন। তো মিস্টার জান… যান।   

নীড় রেগে নিহালের কাছে গেলো। সব জানতে পারলো। 

 নীড় : what? এটা মেয়ে মানুষ না অন্যকিছু? একে তো আমি..

 নিহাল : নীড়..দারাও.

   নীড় : তুমি আমাকে আটকাচ্ছো বাবা?

 নিহাল: হ্যা। আটকাচ্ছি।  তুমি ছোটো ছোটো  বাচ্চা বাচ্চা বিষাক্ত সাপ দেখেছো?

নীড়: বাবা…

নিহাল:  বড় সাপের বিষ নামানো গেলেও সেই বাচ্চা সাপের বিষ নামানো অসম্ভব।  মেরিন হলো সেই ছোটো  বাচ্চা সাপ।  যার ওপর না কোনো ওঝা প্রভাব ফেলে আর  না বাজপাখি… ১৯ বছর বয়সে বিজনেস  এ যোগ দিয়েছে। স্টুডেন্ট . বাট এই ৩বছরে ও খান empire এর প্রোপার্টি ৫গুন বারিয়েছে।  ওর তেজ সূর্যের থেকেও যেন বেশি। চোখ বাজপাখির মতো। যেটায় চোখ পরে সেটাতে পরেই।  খুবই ভয়ংকর ১টা মেয়ে। হার্টলেস…. রাগী পাজি জেদী। বদমেজাজী।ড্রিংক -স্মোক , মারামারি… এমন কোনো বাজে স্বভাব নেই যা ওর মাঝে নেই।  যদি ওর নামে 70% শেয়ার না দিতাম তবে পুরো চৌধুরী  গ্রুপটাকে ও মাটির সাথে মিশিয়ে দিতো। 

 নীড় : বাবা ওইটুকু ১টা মেয়েকে এতো ভয়…

 নিহাল : হামম ভয়? ভয় না ঘৃণা।  যারাই সংস্পর্শে এসেছে  তারা সবাই ওকে ঘৃণা করতে বাধ্য ভয়। কেউ ভয় পেতেও বাধ্য হয়  ওইটুকু মেয়েকে ভয়। because she is a psycho… সকলের অপ্রিয় যে সে হলো ঘৃণারমেরিন ।

নীড় : কিন্তু বাবা…. ওকে ভয় পেয়ে এখন  ওর সাথে থাকবো? ওই ফালতু মেয়ের…

 নিহাল : নীড়…  ভাষা ঠিক করো।  ও খারাপ হতে পার তুমি তো না।

নীড় : sorry …  কিন্তু বাবা কি করবো?

নিহাল :  ওর কাছে লাইফটা গেম। সব কিছুতেই হার অথবা জিত খোজে। ওর মন চেয়েছে এই অফিস এর শেয়ার  নেয়ার নিয়েছে….  

 নীড়  মনে মনে : ওর মন অফিস  এ না আমার ওপর..

নিহাল : কি ভাবছো?

নীড় :  তুমি মেনে নিতে পারো বাট আমি না।

 মেরিন : তো কি করবেন?

 নীড় : তুমি? 

মেরিন : হামম। আমি। 70%শেয়ার নিয়ে আমি নিশ্চয়ই এই অফিস  এর যেখানে ইচ্ছা যেতে পারি।

 নীড় : disgusting….. 

 বলেই নীড় বেরিয়ে গেলো। 

মেরিন মনে মনে : পালান জান পালান তবুও পরিশেষে আপনি আমার….

মেরিন  নিজের জায়গায় গিয়ে বসলো।   

 

পরদিন… 

 নীড় অফিস এ  এলো। নীরার সাথে  কথা বলতে বলতে লিফ্টে উঠলো। তাই খেয়াল করেনি যে মেরিনও লিফ্টে।  নীড়তো নীরার সাথে হাসতে হাসতে কথা বলছে।  আর মেরিন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।  এই প্রথম মেরিন নীড়ের হাসিটা দেখলো।  ভীষন সুন্দর।  মেরিন কেবল নীড়ের হাসিটাই দেখে যাচ্ছে। আর কিছু দেখার সময় নেই ওর। এমন কি নীড় কি পোশাক পরেছে তাও দেখেনি মেরিন। নীড়ের চোখ মেরিনের ওপর পরলো।  চোখ পরতো না। কিন্তু হার্টবিট  ফাস্ট  হওয়ার কারন খোজার জন্য সাইডে তাকাতেই মেরিনকে দেখলো।  সাদা লেডিস জিন্স। নেভি ব্লু রঙের লেডিস শার্ট।হাতা ফোল্ড করা।  চুলগুলো খোলা।  ঠোটে লাল লিপস্টিক।  ব্রাউন চশমা।  মেরিনকে দেখে নীড়ের হাসি উধাও হয়ে গেলো। 

নীড় : পরে ফোন করছি জান।

  নীরা : ok baby…  

নীড় ফোন রেখে দিলো।

মেরিন : আপনার হাসিটা ভয়ংকর সুন্দর… keep smiling…

 নীড় কিছু বলতে যাবে তখনই ওদের ফ্লোর এসে গেলো।  নীড়  হনহন করে ওর নতুন কেবিনে গেলো। নীড় রাতারাতি নিজের জন্য আলাদা কেবিনের ব্যাবস্থা করেছে।  কিন্তু গিয়ে অবাক। কারন ওর চেয়ারের পাশে আরেকটা চেয়ার।  কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেরিন এসে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো। 

মেরিন : ভালোবাসি জান….

  বলেই নীড়ের পিঠে চুুমু দিলো।

নীড় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো মেরিনকে।  

 নীড় : একদম আমাকে টাচ করবেনা বলে দিলাম।

  বলেই নীড় গিয়ে চেয়ারে বসলো। বসে চোখ বন্ধ করলো।  কিছুক্ষনপর বুঝতে পারলো যে কেউ ওর  কোলে ধপ করে বসে ওর ঠোট জোরা দখল করে নিলো।  তারাতারি মেরিনকে সরিয়ে ঠাস করে  ১টা থাপ্পর মারলো।

 নীড় : নোংরা মেয়ে। বেহায়া। লজ্জা করেনা এমন কাজ করতে?

  মেরিন : না…. কারন আমি আপনাকে ভালোবাসি। আপনি আমার। ২দিনপর আপনার সাথে আমার বিয়ে। তাই লজ্জা পাওয়ার প্রশ্নেই ওঠেনা।  

নীড় : ভালোবাসো? তোমার মতো বাজে মেয়ে ভালোবাসতে জানেনা। আর বিয়ে?  

নীড় নিজের হাতের আংটিটা দেখিয়ে 

বলল : দেখছো  এটা? এটা আমার এংগেজমেন্ট রিং… 

মেরিন : রিং  টা মোটেও সুন্দরনা।  চিপ… আর এনগেজমেন্ট হয়েছে বিয়ে না। আপনার বিয়েতাে আমার সাথেই হবে।  

নীড় : in your dreams…   তোমার  সাথে আমার বিয়ে কখনোই হবেনা।  যাকে ভালোবাসি সেই নীরা কেই  আমি বিয়ে করবো।

 মেরিন : দেখা যাবে।  

বলেই মেরিন নীড়ের পাশের চেয়ারে বসলো। সারাদিন মেরিন কোনো কাজ টাজ না করে নীড়কেই কেবল দেখলো।   বিকালে ওরা project siteএ গেলো। মেরিন তো কিছুই দেখছেনা  নীড়কে ছারা।  নীড় just বিরক্ত হচ্ছে।

 

২দিনপর…. 

 সাইটে কাজ চলেছে  জোর দমে ।  নীড় আসার আগেই মেরিন চলে  এসেছে।   নীড় এসে দেখে কাজ চলছে। আর perfectly চলছে।

নীড় : এর ধারে কাছে যাওয়া যাবেনা। দূরে থাকতে হবে…  

নীড়  খানিকটা দূরে গিয়ে দারালো। এখানের পরিবেশটা ভীষন সুন্দর।  

নীড় :  really very beautiful ….  

মেরিন : yes… too much beautiful …

 নীড়  : আবার তুমি?

 মেরিন : হামম।  

নীড় চলে যেতে নিলো।  

মেরিন : নীড়…

এমন ভালোবাসা মিশ্রিত ভাবে কেউ কখনো নীড়কে ডাকেনি।  মেরিনের “নীড়” ডাকটাই বলে দিচ্ছে যে মেরিন নীড়কে কতোটা ভালোবাসে। তাই না চাইতেও নীড় দারালো। মেরিনের দিকে ঘুরলো। মেরিন নীড়ের দিকে এগিয়ে গেলো।  ২হাতে নীড়ের গলা জরিয়ে ধরে

বলল : ভালোবাসি…

নীড় মেরিনের হাত সরাতে সরাতে

বলল : are you totally mad…?

 তখনই কোনো সোরগোল পাওয়া গেলো।  নীড়-মেরিন সেখানে গেলো।  

 

গিয়ে দেখলো ৫-৬জন গুন্ডা টাইপ লোক ম্যানেজারকে ধমকাচ্ছে। কারন ওদেরকে চাঁদা দেয়া হয়নি। আর এখানে নাকি কোনো কাজ করতে হলে  ওদেরকে আগে চাঁদা দিতে হয়। ১জনের  হাতে গান। যেটা দিয়ে দিয়ে ম্যানেজারকে ধমকাচ্ছে।

নীড় :  what the…  

বলেই নীড় রেগে যেতে লাগলো। ঠিক তখনই গুলির শব্দ পেলো।  শব্দ পেয়ে নীড় পেছনে ঘুরলো।  দেখলো মেরিনের হাতে গান। নীড় তো যাস্ট  অবাক।  আসলে যে গান হাতে নিয়ে ম্যানেজারকে ধমকাচ্ছিলো তার হাত বরাবর মেরিন shoot করেছে।   বসের হাতে গুলে করেছে দেখে তার  চ্যালাপেলারা ক্ষেপে  গিয়ে মেরিনের দিকে তেরে আসতে নিলো।   মেরিন ওদের পায়ের ওদিকে ফাকা গুলি করলো। ভয়ে ওরা ওখানেই থেমে গেলো।  মেরিন ওদের সামনে গেলো।

মেরিন : এতোটুকু সাহস নিয়ে গুন্ডাগিরি….  whatever …  মেরিন বন্যা খান কখনো কারো  অনুমতি নিয়ে কাজ করেনা। তোরা তো কোন ছার। আর যদি কখনো তোদের চেহারাটা আমার চোখের  সামনে পরে তাহলে কাজ করার জন্য হাত থাকবেনা,,, চলার জন্য পা থাকবেনা। now out….

নীড় তো এখনো হা করে দেখেই যাচ্ছে।

 

নীড় : এতোটুকুর জন্য লোকটাকে গুলি মারলে?

মেরিন : কপাল ভালো যে আমি রাগী অবস্থায় নেই। তাহলে বুলেটটা ওর মাথায় লাগতো।

জন : ম্যাম…. ম্যাম…

মেরিন : চেচাচ্ছো কেন?

জন : ম্যাম এখানে না…

মেরিন : চিন্তার কোনো কারন নেই… ২টা কফি…

জন : জী ম্যাম…

জন চলে গেলো।

 

নীড় : মেয়ে হয়ে সাথে ১টা গান নিয়ে ঘুরতে লজ্জা করেনা?

মেরিন : না.আর ১টা না ২টো গান নিয়ে ঘুরি।

নীড় : .

মেরিন : শুনুন না… একটু হাসুন না… হাসলে আপনাকে অনেক ভালোলাগে।

নীড় : তুমি ভাবলে কি  করে যে তোমার ভালোলাগার কোনো কাজ আমি করবো…

 মেরিন : না করলেন… কিন্তু মনে রাখবেন আজ আমার  পছন্দের কাজ যেমন করছেন না একদিন এমনও দিন আসবে যে আমার অপছন্দের কাজ করবেন না।

নীড় : এমন দিন কখনো আসবেনা….

বলেই নীড় যেতে নিলো।

মেরিন পেছন থেকে

বলল : i love you…

নীড় : & i hate you….

 

কিছুদিন পর…

নীড় ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎ  ওর মনে হলো কেউ ওর হাত পা বেধে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি মুখও বাধা।  নীড় তারাতারি চোখ মেলল। দেখলো ওকে খুব যত্ন সহকারে শূন্যে তুলে গাড়িতে ওঠানো হলো। এরপর কোথাও নিয়ে যাওয়া হলো।  ১টা বিশাল বড় ঘরের মতো কিছু। ঘুটঘুট অন্ধকার। তাই কিচ্ছু দেখা যাচ্ছেনা।  ওকে ১টা চেয়ারে বসিয়ে লোকগুলো চলে গেলো। তবে ওর heartbeat fast… 

নীড় মনে মনে : আবার কেন heartbeat fast? 

তখন লাইট জ্বলে উঠলো।  সামনে তাকিয়ে দেখলো মেরিন দারিয়ে আছে। মেরিন ১টা রিমোট প্রেস করে রুমটার roofসরিয়ে দিলো। চাঁদের আলোতে রুমটা ভরে গেলো।  মেরিন নীড়ের দিকে এগিয়ে এসে  ওর কোলে বসলো।  এরপর নীড়ের মুখের বাধন খুলে দিলো।

নীড় : what is all this?  আমাকে এভাবে এখানে কেন আনিয়েছো?

মেরিন নীড়ের ঠোটে হাত বুলাতে বুলাতে

বলল: আপনাকে ভীষন দেখতে ইচ্ছা করছিলো তাই। 

নীড়ের তো হাত বাধা। তাই নিজের হাত দিয়ে মেরিনের হাতটা সরাতে পারছেনা। তাই মাথা নারাচ্ছে।

নীড় : কি হচ্ছেটা কি? হাত সরাও ঠোট থেকে। আর সারাদিন কি আমাকে দেখোনি? রোজই তো দেখো।

মেরিন : হামম দেখি তো। কিন্তু রাতে চাঁদের আলোতে তো কখনো দেখিনি।  তাই আপনাকে চাঁদের আলোতে ভীষন দেখতে ইচ্ছে হলো। দেখতে ইচ্ছে হলো চাঁদ বেশি সুন্দর না আপনি? নিঃস্বন্দেহে আপনি বেশি সুন্দর। i love you..

নীড় : &  i hate you..  তুমি কি বোঝোনা যে আমি অন্যকাউকে ভালোবাসি।  তোমাকে আমি ভালোবাসিনা। ঘৃণা করি।

মেরিন : করুন… আপনাকে ভালোবাসার আগে তো এই শর্ত দিয়ে ভালোবাসিনি যে আপনিও আমাকে ভালোবাসবেন। আমি আপনাকে ভালোবাসি সেটাই বড়.

নীড় : তোমার problem টা কি? তুমি কি মনে করো তুমি আমাকে পাবে? আমি নীরাকে ভা…

আর বলতে পারলো না। মেরিন ওর ঠোট জোরা দখল করে নিলো। একটুপর নীড় গালে গরম তরল কিছু অনুভব করলো।  একটুপর মেরিন নীড়কে ছারলো। এরপর পাগলের মতো নীড়ের সারা মুখে kiss করলো। এরপর নীড়ের কোল থেকে উঠলো। then লোকগুলোকে ডাকলো। ওরা আবার নীড়কে একইভাবে বাসায়  পৌছে দিলো। 

 

৩দিনপর…

নীড় বসে বসে মেরিনের কথা ভাবছে।

নীড় : মেয়েটা এমন কেন? কেন বোঝেনা যে আমি নীরাকে ভালোবাসি। নীরা এসব কথা  জানলে কতোটা কষ্ট পাবে।  তারমধ্যে আগামী রবিবার নীরা আসছে। জানি না কি হবে? মেরিন যে dangerous ….  ও যদি উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলে… 

নীড়… কি সব ভাবছিস তুই? তোর এটা ভাবা উচিত যে যদি নীরা তোকে ছেরে যায় তাহলে কি হবে….  কিচ্ছু ভাবতে পারছিনা। মেয়েটা আমাকে  পাগল করে ফেলেছে।

নীলিমা : কে পাগল করলো আমার ছেলেটাকে…

নীড় : আরে মামনি… 

নীলিমা : আমার ছেলেটা যে এখনো বেড ছারেনি?  অসুস্থ?

নীড় : না মামনি … এমনিতেই। 

নীলিমা : তাহলেই ভালো। নিচে আসো। বাবা বসে আছে তোমার  জন্য। নাস্তা করবে না?

নীড় : হামম তুমি যাও আমি আসছি।

নীলিমা: come soon…

বলেই নীলিমা চলে গেলো।

নীড় : thanks god যে আজকে শুক্রবার। সাইকোটার সাথে দেখা হবেনা। ১মিনিট ১মিনিট…  যদি আমি বাইরে না যাই তাহলে তো ওকে আর সহ্য করতে হবেনা।  হামম। good idea… কিন্তু রাতে যদি তুলে নিয়ে যায়? সেটারও ১টা ব্যাবস্থা করবো। at least ৩-৪দিন শান্তি পাবো। 

 

৩দিনপর…

এই ৩দিন নীড় বাসা থেকেই বের হয়নি।  নিহাল-নীলিমা-নীড় বসে আড্ডা মারছে। তখন বাইরে থেকে কানে তালা লাগানো শব্দ ভেসে এলো।  আর যে শব্দটা হচ্ছিলো তাতে “নীড়” শোনা যাচ্ছিলো। ৩জন দৌড়ে বের হলো।

 

 চলবে…..

 

ঘৃণার মেরিন 

পর্ব ০৩

 সিজন ২ 

Mohona Chowdhuri 

.

বেরিয়ে দেখলো যে বাসার বাইরে ভীর জমে গেছে।  আর  ১টা গাড়ির  ওপর দারিয়ে আছে। যেটা ধীরে ধীরে ওদের বাড়ির সামনে আছে মেরিন মাইক্রোফোন নিয়ে  বলছে:

নীড় নীড় নীড়… where  you…  i love you…. 

 মাইক্রোফোন টা বড় সরো ১টা স্পিকারে সাথে জইন করা। স্পিকারটাতে মেরিনের কথা বাজছে।   যা শুনে কানে তালা লাগার উপক্রম… 

 নীড় : 😱।  

নিহাল : এই মেয়ে এখানে এভাবে নীড়ের নাম নিচ্ছে কেন? 

 নীলিমা মনে মনে: মেরিন….  

 মেরিন নীড়কে দেখ খুশি হলো।  নীড় রেগে মেরিনের দিকে গেলো।   মেরিন লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নামলো।  

নীড় : এসবের  মানে কি? 

মেরিন : ৩দিনধরে অফিস  না আসার মানে কি? 

 নীড় : অসহ্য….. তুমি কি পাগল?

  মেরিন : হামম। আপনার জন্য…..   বিকজ আই লাভ ইউ…. 

 নিহাল-নীলিমা: 😱। 

 নীড় : এন্ড আই হেইট ইউ…. আমার চোখের সামনে থেকে দুর হও তো। 

 মেরিন : সেটা আপনাকে বলতে হবেনা।  এমনিতেও চলে যাবো। আপনাকে দেখা হয়ে গেছে । আমার কাজ শেষ। আসছি। আর হ্যা আজকে থেকে না হলেও কালকে থেকে অফিস  এ চলে আসবেন।বাই… 

 বলেই মেরিন  চলে গেলো।  

নিহাল : ওহ মাই গুডনেস….  এটা আমার মাথাতেই আসেনি। আসলে মেরিনের উদ্দেশ্য তুমি?

 নীড় কোনোকিছু না বলে রেড়ি হয়ে অফিস এ গেলো।  এদিকে সকালে মেরিন যে কান্ড ঘটিয়েছে সে কান্ডের জন্য প্রেস মিডিয়ায় ঝড় উঠে গেছে।

 

২দিনপর….  

নীড় ফোনে কথা বলছে। আর মেরিন কফি খেতে নীড়কে দেখছে। ঠিক তখনই কোথায় থেকে নীরা দৌড়ের এসে নীড়কে জরিয়ে ধরলো।

  নীরা :মিস ইউ জান…   

নীড় : জান… 

 নীড় ফোন রেখে নীরাকে জরিয়ে ধরলো।  

নীড় :আই অল সো মিস ইউ… বাট তুমি আসবে আমাকে বলোনি কেন?  

নীরা : বললে সারপ্রাইজ দিতাম কিভাবে? 

নীড় : হামম তাও ঠিক।ইউ নো হুয়াট?  

 নীরা : হুয়াট? 

নীড় : i love you…..

 নীরা : i love you 2…

বলেই নীরা নীড়ের বুকে মুখ লুকালো।   তখন নীড়ের চোখ মেরিনের দিকে পরলো।   চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে আর হাত দিয়ে রক্ত। 

 নীড় মনে মনে :  আমি তো এই ডাকাতের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম।  আল্লাহই জানে এখন কি করবে? 

  নীড়কে অবাক করে মেরিন ওখান থেকে চলে গেলো।    গিয়ে  গাড়িতে বসলো ।

 জন : ম্যাম… আপনার হাত দিয়ে তো অনেক রক্ত পরছে।  দেখি ব্যান্ডেজ করে দেই… 

 মেরিন রেগে   জনের দিকে তাকালো। 

  জন : ম্যাম… সেপটিক হয়ে যাবে…

  মেরিন : …. 

 জন : ম্যাম আপনি যদি  বলেন ওই নীরাকে এখনই…  ২মিনিটও লাগবেনা নীড় স্যারের কাছে থেকে ওকে সরাতে।  

মেরিন : আপাদত নীড়ের ওপর মেরিনের কোন অধিকার নেই।  তাই  নীড়ের বুকে ও এখনো সেফ আছে…. 

 বলেই মেরিন চলে গেলো।  

 

 খান বাড়িতে…

 মেরিন বাসায় ঢুকছে। তখন কবিরের সাথে  মেরিনের চোখাচোখি হলো। যতোযাইই হোক  সন্তানের আঘাতে তো  বাবাদের হৃদয় ঠিকই পুরে।  তাই কবিরেরও বুকটা মোচর দিলো।  কিন্তু মেরিনকে ইগ্নোর  করে চলে গেলো। এতে মেরিনের কিছুই যায় আসেনা…   মেরিন রক্তাত্ব হাত নিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠছে। তখন ওর ফুপ্পি  সেতু 

বলল: কিরে অনামুখী কাকে খুন করে এলি?

 মেরিন : আপনার অকর্মা বরটাকে…. 

 বলেই মেরিন সোজা দাদুভাইয়ের রুমে গিয়ে দাদুর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরলো।  দাদুভাইও ফাস্ট এড বক্স নিয়ে রেড়ি ছিলো। কারন জন আগেই ফোন করে সব বলেছে। 

 দাদুভাই: দেখি দিদিভাই… হাতটা দেখি….

  দাদুভাই পরম যত্নে মেরিনের হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলো। 

  মেরিন : আমি নীড়কে বিয়ে করবো। 

দাদুভাই  : হামম  করবে।  কবে করবে তারিখ ঠিক করেছো?

 তখনই ২জন শুনতে 

পেলো : নানু…

  ২জন সামনে তাকালো । দেখলো নীরা দারিয়ে আছে।  

নীরা: নানু নানু নানু….

মেরিন : ওখানেই দারাও… আর এক পাও যেন আগে না বারে …

  নীরা : তোকে বলে আগে বারবো… 

নীরা তাও আগে আসতে নিলে দাদুভাই থামিয়ে দিলো।

 দাদুভাই: যা বলার ওখান থেকেই বলো। 

 নীরা : নানু আমি এতোদিন  পরে এসেছি তাও তুমি..  

দাদুভাই : তুমি কোনো জাতীয় সম্মাননা পাওয়ার মতো   কাজ করে আসোনি। নিজের দোষ ঢেকে এসেছো।  

 নীরা : তোমার এই নাতনি বুঝি পুরস্কার পাওয়ার মতো কাজ করে?  

দাদুভাই : তোমার মতো ছলনা করে না। নাও আউট… 

  নীরা : মাম্মি … মাম্মি…   

মাকে ডাকতে ডাকতে আর ন্যাকা কান্না কাদতে কাদতে নীরা বেরিয়ে গেলো।  

 

 রাতে…  

নীড় : মেরিন ওভাবে চলে গেলো কেন?  কিছুই বললনা।  নীড়… তুই কি চাস যে মেরিন react করুক…? 

 

 পরদিন….  

নীড় অফিস এ গেলো।  দেখলো মেরিনের গাড়ি নেই।  

নীড় : আজকে এখনো আসেনি… কখনো তো লেট করেনা…. 

তখনই মেরিনের গাড়ি এসে হাজির।  মেরিন আজকে নেভি ব্লু লেডিস কোট পরেছে।  ডান হাতে ব্যান্ডেজ।  মেরিনকে দেখে কেন যেন নীড়ের মনে হলো যে মেরিনের শরীরটা ভালোনা।   তবুও নীড় মেরিনকে ইগ্নোর করে চলে গেলো।   গিয়ে নিজের চেয়ারে বসলো।  

৫মিনিটপর…  মেরিন কেবিনে ঢুকলো।  ঢুকে চুপচাপ নিজের চেয়ারে  বসলো।  নীড় আরো অবাক হলো।  

 নীড় মনে মনে : কেন যেন এর নীরবতা ঝড়ের পূর্বাভাসের মতো লাগছে।

 

  মেরিন ল্যাপটপ খুলে কাজ করতে বসলো।

মেরিন:  বিয়ে করবেন আমাকে?

কথাটা শুনে অবাক হয়ে তাকালো মেরিনের দিকে ।  যাকে ভালোইবাসেনা তাকে বিয়ে?   

মেরিন ল্যাপটপে কাজ করতে করতে 

বলল : কি হলো বলুন….

   নীড় : আমি নীরাকে ভালোবাসি….  আর ওকেই বিয়ে করবো।  বুঝেছো?

  মেরিন : ভালোমতো  জিজ্ঞেস করছি তাই ভালোমতো বলুন যে বিয়ে করবেন কি না? 

 নীড় : না…. 

  মেরিন : হামম।  ভালোমতো বললাম ভালো লাগলো না। এরপর কি হবে বা হতে পারে সেটা আমি নিজেও  জানিনা । 

 নীড় : যা মন চায় করো।…  

 

২জন ২জনের কাজ করছে। হঠাৎ মেরিনের হাতের সাথে নীড়ের হাত ছোয়া লাগলো।  মেরিন সাথে সাথে হাতটা সরিয়ে নিলো। কিন্তু নীড় বুঝতে পারলো যে পারলো মেরিনের শরীর অনেক গরম। মানে ভীষন জ্বর।  এখন নীড় বুঝতে পারলো মেরিন কেন এসেই আজকে ওকে   জরিয়ে ধরেনি।  তখনই নীরা রুমে ঢুকলো। 

 নীরা : জান… একি তুই? 

 মেরিন জবাব দিলোনা।  

নীরা : কি রে তুই এখানে কেন?  

বলতে বলতে নীরা আগে বারতে লাগলো।  মেরিন গানটা বের করে নীরার পা বরাবর ফাকা গুলি করলো ১টা। এরপর হাত দিয়েই ইশারা করলো চলে যেতে।

  নীরা : তোর কি মনে হয় যে আমি ভয়ে চলে যাবো?

  নীড় : জান চলো… আমরা অন্য কোথাও যাই।

 

নীড় নীরাকে নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলো। 

 নীরা : আরে তুমি কি ওকে ভয় পাও নাকি?  ওই বেয়াদবটার ভয়ে …

  নীড় : তুমি ওকে চেনো?  

নীরা : চিনবো না কেন ? ও তো মেরিন। মেরিন বন্যা খান। মামার মেয়ে। 

 নীড় : what? ও তোমার মামাতো বোন?

নীরা : হ্যা।  ও এখানে কেন ? তাও তোমার কেবিনে? তোমার পাশে। তুমি আমাকে বলোনি কেন? 

নীড় : শান্ত হও জান… আমি তোমাকে সব বলছি….

নীড় নীরাকে সব বলল।

নীরা : what? এতোকিছু তুমি আমাকে বলোনি কেন?

নীড় : তুমি কষ্ট পাবে বলে… 

নীরা : তুমি জানোনা ও কতো ডেঞ্জারাস … এখনি চলো।

নীড় : কোথায়?

নীরা : marriage registry office …

নীড় : what? কি বলছো কি?

নীরা : তা না হলে তুমি জানোনা ও যখন বলেছে যে তোমাকে বিয়ে করবে তখন করবেই।

নীড় : কিন্তু এখন কিভাবে সম্ভব।

নীরা : এখন না হলে কখনোই না…  তুমি আংকেল-আন্টি কে ডেকে আসতে বলো। আর আমি মাম্মি-পাপা আর মামাকে আসতে বলি।

নীড় : কিন্তু এখনই কিভাবে সম্ভব?

নীরা  : তারমানে তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাওনা?

নীড় : আরে কি বলো কি?

নীরা : তাহলে চলো? 

নীড় : ওকে চলো।

ওরা মেরিজ রেজিস্ট্রি অফিস  এ রওনা হলো।

 

মাঝপথে….

নীড় বাধ্য হয়ে গাড়িতে ব্রেক  মারলো। কারন  মেরিন পথ আটকে দারিয়ে আছে।  নীড়-নীরা গাড়ি থেকে নামলো।

নীরা : তুই? সামনে থেকে সর…

মেরিন : মেরিন নিজের অনুযায়ী চলে। অন্যকারো না । তোমার মতো কোনো কীটপতঙ্গ তো আমার পায়ের ধুলা।

নীরা : 😤।

মেরিন  গানটা আঙ্গুলে ঘোরাতে ঘোরাতে নীড়ের সামনে এলো।

গানটা নীড়ের গালে আলতো করে ধরে

বলল : জীবনে শেষবারের মতো আপনাকে জিজ্ঞেস করছি। বিয়ে করবেন আমাকে? 

নীড় : না….

মেরিন : ভেবে বলছেন?

নীড় : হামম।

জবাবে মেরিন ১টা রহস্যময়ী হাসি দিলো। নীরার ভয় লাগলো মেরিনের হাসিটা দেখে  ভয় লাগলো।

মেরিন : জীবনে আর ভালোভাবে ভালোবাসা পাওয়া হলোনা। আর না মনের আশা পূরন হলো।  এটাই হয়তো “মেরিন বন্যা খানের” সাথে নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষনের শেষ দেখা।

“শেষ দেখা” কথাটা শুনেই নীড়ের বুক কেপে উঠলো।

তবে নীড় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেরিন নীড়ের ঠোটে হালকা ১টা কিস করে চলে গেলো। নীড় অবাক চোখে মেরিনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।

নীরা : তারাতারি চলো…

নীড় : এখন বিয়ে না করলেই না… মনে তো হয়না যে ও আর ফিরবে…

নীরা : ও ফিরবে কি ফিরবে জানিনা… কিন্তু নানু আর ওর চামচা জন কি না কি বাগরা দেয় তার ঠিক নেই।

নীড় : কিন্তু…

নীরা :  ও তো তুমিও ওর রূপের জ্বালে আটকে গেলে…

নীড় : কি যা তা বলছো?

নীরা : তাহলে চলো। রেজিস্ট্রি ম্যারিড টা করে নেই। বিয়েটা ১বার হয়ে গেলে আর কেউ কিছুই করতে পারবেনা। পরে না হয় ধুমধাম করে প্রোগ্রাম  হবে। চলোনা…

নীড় : হামম।

মনে মনে : মেয়েটা না কিছু করে ফেলে….

নীড়-নীরার বিয়েটা সম্পুর্ন হলো।

 

রেজিস্ট্রি অফিস  থেকে বেরিয়েই নীরার ১টা ফোন এলো। ১টা বড় মডেলিং এর।  নীরা তো খুশিতে আত্মহারা।  লাফাতে লাফাতে চলে গেলো। 

আর নীড় ডুবে গেলো ভাবনার জগতে।  

নীড় মনে মনে : সত্যিই কি তবে এটা শেষ দেখা ছিলো? ও কি নিজেকে কিছু করে ফেলবে?  যা মন চায় করুক। আমার কি….

 

২মাসপর….

কালকে নীড়ের গায়ে হলুদ। 

নীড় চাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ১৫-২০দিনের মতো মেরিনের সংস্পর্শে ছিলো। তবুও কেন যেন রোজ ভীষন ভাবে ওকে মনে পরে। ওর কথা , ওর কাজ।  মেরিন নীড়কে ২দিন না দেখলে কেমন করতো সেই মেরিন….

নীড় : আমার জন্য কি তবে মেরিন কিছু উল্টা পাল্টা করলো? যদি সত্যি এমনটা হয় তবে এই পাপ আমি কোথায় রাখবো? কিচ্ছু জানিনা…

 

পরদিন…

সন্ধ্যায়…

আজকে নীড়-নীরার গায়ে হলুদ…

নীড় নিজেই রেড়ি হচ্ছে।  হলুদ রঙের পাঞ্জাবি আর কালো রঙের ধুতি পরেছে নীড়। সিল্কি চুলগুলোতে আজকে জেল দেয়নি। আজও নীড় না চাইতেও মেরিনকে ভাবছে। হঠাৎ ই কারেন্ট চলে গেলো। তখন কেউ ওকে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো।

নীড় : আহ নী…

পরক্ষনেই নীড়ের বোধ হলো যে এটা নীরার ছোয়ানা। মেরিনের। নীড় ঝড়ের বেগে পিছে ঘুরলো। লাইট নেই। চাদও অনেকটা মেঘে ঢাকা। তবুও নীড় মেরিনকে স্পষ্ট দেখলো।  দেখলো মেরিন হলুদ রঙের ১টা শাড়ি পরে আছে। যার মধ্যে কালো পাথর বসানো। খুবই সাধারন কিন্তু দারুন ১টা শাড়ি। অস্বাভাবিক  সুন্দর লাগছে মেরিনকে। না চাইতেও মেরিনকে দেখে নীড় টা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো।

নীড় : ত…

মেরিন নীড়কে কথা বলতে না দিয়ে ওর ঠোটে মাঝে আঙ্গুল রাখলো। 

এরপর নীড়কে বসিয়ে ওর কোলে চরে বসলো। এরপর নীড়ের ২ গালে হলুদ লাগিয়ে দিলো। এরপর নীড়ের গালের সাথে নিজের গাল ঘষে নিজেও হলুদ রাঙা হলো।  এরপর নীড়ের ঠোটে ১টা হালকা কিস করে চলে গেলো। আর লাইট জ্বলে উঠলো। নীড় সাথে সাথে মেরিনকে খুজতে বের হলো।   কিন্তু কোথাও পেলোনা।

নীড় : তুমি স্বপ্ন নাকি সত্যি …

 

চলবে…

 

ঘৃণার মেরিন

পর্ব ০৪  

সিজন ২ 

Mohona Chowdhuri 

.

 

নীড় : তুমি স্বপ্ন নাকি সত্যি…. নাকি  দুঃস্বপ্ন….. 

  নীড়কে নিচে নিয়ে যাওয়া হলো….   হলুদ  সন্ধ্যা শুরু হলো।  অনেক আনন্দ উৎসব হলো  কিন্তু নীড় সত্যি  নামক স্বপ্নটার রহস্য ভেদ করতে ব্যাস্ত।  ও বুঝতে পারছেনা যে ওটা সত্যি সত্যি কি মেরিন ছিলো? 

 

  পরদিন…. 

 আজকে নীড়ের বিয়ে।   

 

নীড় : স্বপ্ন কিভাবে হতে পারে? মেরিন তো সত্যিই  ছিলো।  আমি তো ফিল করেছি।  ফিল করেছি….  নীড় তুই কি করছিস? কি ভাবছিস ?  তুই মেরিনকে কিভাবে মেরিনকে ফিল  করতে পারিস….  তুই নীরাকে ভালোবাসিস…. নীরা তোকে ভালোবাসে। নীরা তোর বিয়ে করা বউ। তোর মনের মালিক কেবল আর কেবল নীরা। মেরিন কেবল ভেসে আসা কালো মেঘ। আজকের পর থেকে আর ওকে নিজের কল্পনায় আনবোনা…… 

আমার 

ভালোবাসার সাথে অন্যায় করতে পারবোনা আমি।  

 রাতে….

 চারদিকে মানুষ ভরপুর।  রমরম করছে। প্রেস-মিডিয়া সবাই উপস্থিত। কাজী সাহেব এলো। কারন রেজিস্ট্রি ম্যারিজ করা হলেও কবুল পরিয়ে তো আর বিয়ে হয়নি…..  ঠিক তখনই সাইরেন বাজাতে বাজাতে ১ডজন পুলিশের গাড়ি হাজির হলো।  সবাই তো অবাক। আইজি, ডিআইজি… কমিশনার সব এসে হাজির।  সবাই তো মহা অবাক।  কবির-নিহাল দৌড়ে গেলো। 

 কবির : কি ব্যাপার আপনারা এখানে?   

নিহাল : কোনো সমস্যা?  আপনারা হঠাৎ এখানে?

 কমিশনার :  হাজার শুকরিয়া করুন যে হোমমিনিস্টার আসেনি।   আচ্ছা আপনারা এতো বড় এবং উচ্চশিক্ষিত মানুষ হয়ে এমন বেআইনি কাজ করতে আপনাদের লজ্জা করছেনা? 

 কবির : বেআইনি কাজ? কি বেআইনি কাজ করছি?

 ডিআইজি: বিবাহিত ছেলের আবার বিয়ে দিচ্ছেন তাও ডির্বোস না করিয়ে…. তাও জোর করে…. আবার বলছেন  কি বেআইনি কাজ। 

 নিহাল: হুয়াট? বিবাহিত ছেলে মানে?  

কমিশনার : বিবাহিত ছেলে মানে বোঝেন না? নাকি নাটক করছেন?  সবার কোমড়ে দরি বেধে নিয়ে যাবো থানায়। 

 নীড় আর বসে থাকতে পারলোনা। কি হয়েছে জানার জন্য উঠে এলো।  

 নীড় : কি হয়েছে? 

 কমিশনার : এই যে আপনি…. ২মাস আগে বিয়ে করা  বউ রেখে নতুন করে বিয়ে করতে লজ্জা করছেনা? 

 নীড় : কি আবোল তাবোল কথা বলছেন?  বউ রেখে নতুন বিয়ে করবো কেন?আমার ওয়াইফ নীরা। আর  নীরাকেই ২মাস আগে বিয়ে করেছি। তখন রেজিস্ট্রি ম্যারিজ ছিলো। আর এখন  ইসলামিক ভাবে…. 

 আইজি : শাট আপ….  লজ্জা করছেনা মিথ্যা বলতে। সবাই কে ধরে নিয়ে যাবো থানায়। থার্ড ডিগ্রি দিলে মজা বুঝবেন।  আমাদেরকে মিথ্যা বলছেন?   আপনার ওয়াইফ আপনাদের ম্যারিজ রেজিস্ট্রি পেপার আমাদেরকে দেখিয়েছে। আমরা সেটা ভালোভাবে চেক করে দেখেছি। সবটা সত্যি ছিলো।  

নীড় : ওহ রিয়েলি ? তো কোথায় , কে আমার  ওয়াইফ ..

 

মেরিন : আমি….. 

 সবাই দরজার দিকে তাকালো। দেখলো সাদা লেহেঙ্গা আর গা ভরতি গহনা পরে দারিয়ে আছে মেরিন।

দেখে মনে হচ্ছে স্বর্গ থেকে কোনো অপ্সরী। সটাইল মেরে হেটে আসলো।

 নীড়: তুমি?  

মেরিন : ইয়েস হানি ….   

কমিশনার : চিনলেন তাহলে…..

  নীড় : চিনবোনা কেন?দ্যা মেরিন বন্যা খান। 

 মেরিন : উহু… একটু ভুল হলো। মেরিন বন্যা খান নয়….  মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী… 

 নীড় :শাট আফ…  অফিসার  সি ইস নট মাই ওয়াইফ…. 

 আইজি: তাই?

  তখন আইজি নীড়-মেরিনের ম্যারিজ রেজিস্ট্রি পেপার টা বের করে 

বলল : তাহলে এটা কি?  

 নীড় কাগজটা হাতে নিয়ে দেখলো তাতে বরের নাম বরের মা-বাবার নাম তো ঠিকই আছে চৌধুরী চৌধুরী…. কিন্তু কনের নামের জায়গায় সব খান খান….  মেরিন বন্যা খান , কনিকা খান , কবির ফয়সাল খান… 

 নীড় : এগুলো সব ফালতু… ভুয়া….

  বলেই নীড় কাগজটা ছিরতে গেলো। কিন্তু পারলোনা। কমিশনার নিয়ে নিলো।

 কমিশনার : মিস্টার নীড়….

আপনার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি…. আপনি আমাদের সামনে…

 নীড় :  দেখুন….

  নিহাল : দারাও নীড়… অফিসার..এই পেপার কি না কি জানিনা…. তবে আমাদের কাছেও ১টা পেপার আছে। দারান। দেখাচ্ছি…. 

 বলেই নিহাল আরেকটা পেপার নিয়ে এলো….  সেটা আইজির হাতে দিলো।  

 

নিহাল :  পড়ে দেখুন।  

আইজি পড়তে লাগলো।

  নিহাল : এটাই আসল। এই কারনেই কপি।  মেজিস্ট্রেট বলেছিলো এখন নাকি নতুন রুলস…  তাই সাথে সাথে আসল পেপারটা পাওয়া যাবেনা।  আর এই মেয়েটা আসল পেপার নিয়ে এসেছে। তাহলেই বুঝুন….

 আইজি : এমন নিউ  রুলস  এর কথা কখনো শুনিনি মিস্টার চৌধুরী…. 

বলেই আইজি সাহেব পেপারটা  নিহালের চোখের সামনে তুলে ধরলো। 

বলল: আই থিং   আপনার এটা পড়ে দেখা দরকার আমার না।

নিহাল পেপারটা হাতে নিলো । পড়লো।  আর পড়ে আরেক দফা ঝটকা খেলো। কারন এটাতো  মেরিনের কাগজেরই কপি।  মানে নীড়-মেরিনের ম্যারিজ রেজিস্ট্রি  এর।  নীড় হাতে নিলো। নীড়ও অবাক। 

 নীড় : এটা কি করে সম্ভব…সিগনিচার করার সময় তো ঠিক দেখেছিলাম।   তা….

তখন নীড়ের মনে পরলো যে সেদিন  নীরা সাইন করার পর হঠাৎ বাইরে শোরগোল হয়েছিলো।  হঠাৎ করে এমন হওয়াতে সবাই বেশ চমকে গিয়ে পেছনে ঘুরেছিলো….   আর বিয়ের ১০মিনিট পরেই নীরা সকল বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে মডেলিং করতে চলে যায়।  আর আকস্মিকভাবে বিয়েটা হওয়াতে পেপারটা  আর পড়াই হয়নি।

 

  নীড় : ওহ গড….  অফিসার  ইস এ চিটিং….  বিশ্বাস করুন… 

 আইজি :শাট আফ..

 নীড় : ওকে  ফাইন … বিয়ে যখন আছে তখন ডির্বোসও আছে। এই ম….

  আইজি: জানতাম… আপনি এই কন্ট্রাক্ট পেপারটাও হয়তো ভুলে গেছেন। 

 

বলেই তিনি আরো ১টা পেপার বের করে দিলো।  যেটাতে লেখা মেরিনের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত  মেরিনই নীড়ের বউ থাকবে । নীড়ের তো কথা বলার ভাষাই নেই। 

 নিহাল: এসব আমরা মানিনা….  

ডিআইজি: কিছু করার নেই…. না মানলে আপনাদের সবাইকে জেলে পচে মরতে হবে…. 

উনারা অনেক অপমান করলো সবাইকে।

  নীরা : এটা কোন ধরনের কথা? আপনারা নিশ্চয়ই ঘুষ  খেয়েছেন….  

মেরিন :অফিসার… আপনাদের ঘুষখোর বলছে… আর তারথেকেও বড় কথা,,, আসল কালপ্রিট তো এই মেয়েটা…. ওই নিজে সব প্লান করেছে। আমার স্বামীকে ফাসিয়েছে…. অ্যারেস্ট হার… 

 কমিশনার : এমন মেয়েকে তো আসলেই …. অ্যারেস্ট করা উচিত.. 

 কবির : ১মিনিট…. নীরার মামা কবির ফয়সাল খান এখনো জীবীত।  আমি কবির ফয়সাল খান বলছি যে  আপনারা চলে যান। আর আমার ভাগনীর দিকে ভুলেও পা বারাবেন না।  আমার পাওয়ার তো জানেন…. 

তখন দাদুভাই পেছন থেকে

 বলল :আর মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরীর পাওয়ারটাও তো জানেন।  মেরিন বন্যা মানেই শাহজাহান খান…. সো অ্যারেস্ট হার…. 

 নীড় : ১মিনিট… সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো মেয়েকে অ্যারেস্ট করা যায়না। নিশ্চয়ই ভুলে যাননি….

 আইজি : না যাইনি….  তবে এনাকে আপনি বাচাতে পারবেন না… 

 বলেই ওনারা চলে গেলো।   

 

.

আর তখন ধাধা করে গুলি চলতে লাগলো। না না কারো ওপরে না। শূন্যে…

কারন এটা মেরিন বন্যার বিয়ে । এখানে বাদ্যযন্ত্রের  শব্দ না , গুলির শব্দ পাওয়া যাবে। বাদ্যযন্ত্রতো সব বিয়েতেই বাজে।  তাই মেরিন ওর বিয়েতে ২১  ধরনের গান এর গুলি আওয়াজ দিয়ে মিউজিক বাজাচ্ছে।

 কবির : তোমাকে তো মেয়ে আমি…. 

মেরিন : জন…. এই লোকটাকে ১মিনিটের মধ্যে আমার চোখের সামনে থেকে সরাও…. 

 জন নিয়ে গেলো। 

 

মেরিন নীড়ের সামনে গিয়ে

 বলল:  ভালোভাবে সেদিন বলেছিলাম না  বিয়ে করতে…. করলেন না…. তাইজন্যেই তো এতোকিছু করতে হলো । এই বাদরমুখীকে অতো বড়  মডেলিং এর অফার দিতে হলো। সেদিন বলেছিলামনা … ” মেরিন বন্যা খানের সাথে নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষনের এটাই শেষ দেখা।  ”   

এখন আপনার সামনে মেরিন বন্যা খান না, মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী দারিয়ে আছে।   চলুন ইসলামিক নিয়মে কবুল বলে বিয়ে করি।

 

 নীড় ঠাস করে মেরিনকে  থাপ্পর মারলো। জন আর মেরিনের বাকি লোকজন  তেরে আসতে নিলে মেরিন থামিয়ে দিলো।  মেরিন ২হাত দিয়ে নীড়ের গলা জরিয়ে ধরলো। 

 মেরিন : কেন খামােখা ঝামেলা করছেন? আপনি কি চাইছেন উপস্থিত সবার মাথার ঘিলু উরে যাক…. আর সবার আগে উরুক আপনার বাবার মাথা। 

 নীড়:সাহস থাকলে করে দেখাও…. 

মেরিন : কেন খামোখা বয়স্ক বাবার রক্ত ঝরাতে চাইছেন? তবুও…. আপনি যখন চাইছেন তখন…. 

 

ওরনার নিচে থাকা গানটা মেরিন নিহালের দিকে তাক করলো।যাস্ট শুট করবে তখন নীড়  মেরিনের হাত ওপরে উঠিয়ে দিলো।

   নীড়:  ঠিক করছো না…

 মেরিন গানটা হাতে নিয়েই আবার নীড়ের গলা  জরিয়ে ধরলো। 

বলল : আমি কখনোই কারো জন্য  কিছু ঠিক করতে পারিনা …. 

 বলেই নীড়ের গালে কিস করলো। আর আবারও হাওয়ায় গুলি বর্ষিত হলো।  বুলেটগুলো মিউজিকের মতো করেই যেন বাজতে লাগলো। 

 

  চৌধুরী বাড়িতে….

 নীলিমা নতুন বউ বরন করবে বলে বরন ডালা নিয়ে দারিয়ে আছে।  নিহাল, নীড়-মেরিন গাড়ি থেকে নামলো।  নীড় হনহন করে ঘরে ঢুকতে নিলে নীলিমা বাধা দিলো।  

 

নীলিমা : আমার বউমাকে ফেলে তুমি একা ভেতরে ঢুকতে পারোনা।  

নিহাল: এটা নীরা মা না.. এটা….

  নীলিমা: মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী।  আমার বউমা… উহু….  আমার মেয়ে । 

 নিহাল:  তোমার কন্ঠ বলছো তুমি খুশি…. 

 নীলিমা: অবশ্যই… 

 নিহাল: ও…. তাহলে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড এর মেয়ের জন্য খুশিতে আত্মহারা…? 

 নীলিমা: হামম। 

 নিহাল: এমন মেয়েকে বউমা হিসেবে পেয়ে তোমার আনন্দ দেখে আমি শিহরিত…  অবশ্য আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে এই মেয়ে এমন কেন। দেখতে হবে না কার মেয়ে? চরিত্রহীন মায়ের অসভ্য মেয়ে। 

 

 “চরিত্রহীন মা”- কথাটা শুনে মেরিন চোখ গরম করে  নিহালের দিকে তাকালো।  

নিহাল : আমাকে চোখ রাঙিয়ে লাভ নেই। সারা দুনিয়ে জানে যে কনিকা কবির খান উফস নট কনিকা কবির খান  জানিনা কি সারনেইম হতে পারে তার। হুয়াট এভার … সবাই জানে যে কনিকা চরিত্রহীনা…. 

মেরিন আর ১মিনিটও দেরি না করে দরজার পাশে জ্বলতে থাকা লাইটের সারি থেকে ১টা লাইন ১টানে ছিরে নিয়ে মেরিন ওটা দিয়ে নিহালের গলায় পেচিয়ে দাতে দাত চেপে 

বলল : যদি  তুমি নীড়ের বাবা না হতে তবে তোমার এই জিহ্বাটা টেনে ছিরে কুকুরদের খাওয়াতাম। 

নিহালের চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম।   ঘটনা টা এতো তারাতারি ঘটলো যে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে গেলো।   নীড় তারাতারি মেরিনকে সরিয়ে নিলো।  

 নীড়  : বাবা তুমি ঠিক আছো?  এই মেয়ে তোমাকে… 

 নিহাল : ছারো তো  নীড়। 

 

 রাত ১টা….

 নীড় রুমে ঢুকলো।  দেখলো সারাঘর ফুলে সাজানো।  আর দেয়ালে ওর আর মেরিনের ছবি দিয়ে ভরা।  নীড় বেডের সামনে গেলো। ১টানে ফুলগুলো ছিরে ফেলল। 

 নীড়: বিয়ে হয়েছে বলেই তুমি আমার ভালোবাসা হয়ে যাওনি। আমি তোমাকে ঘৃণা করি এবং ঘৃণা করবো।  বুঝেছো,,, ঘৃণা।

মেরিন বসা থেকে উঠতে উঠতে 

বলল : আপনার ঘৃণাই আমার জন্য অনেক কিছু। আপনার  ঘৃণাই আমার বেচে থাকার জন্য যথেষ্ট।

 

 আর হ্যা,,, ভালোবাসার  চেয়ে ঘৃণা অনেক দামী… ভালোবাসা তবুও ভোলা যায় কিন্তু ঘৃণা কখনো ভোলা যায়না। কারন ভালোবাসা থাকে হৃদয়ে আর ঘৃণা থাকে হৃদয়ের গভীরে।  মেরিন তো নীড়েরই।   ভালোবাসার নাই বা হোক,,, হোক না সে 

ঘৃণারমেরিন …

 বলেই মেরিন নীড়ের পা ধরে সালাম করতে গেলো।  কিন্তু নীড় সরে গেলো।

নীড় : আমিও দেখবো তুমি আমার ঘৃণা নিয়ে কতোদিন টিকতে পারো….. 

 বলেই  নীড়  ওয়াসরুমে এ চলে গেলো।   বেরিয়ে এসে দেখে মেরিন  লেহেঙ্গাটা পাল্টে ১টা শাড়ি পরে আছে।  নীড় কোনোকথা না বলে কপালে হাত দিয়ে সোফায় শুয়ে পরলো। মেরিনকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে সেই সাথে  কোথাও কোনো বাধাও  অনুভব করছে। তাই শুয়ে পরলো। পরমুহুর্তেই বুঝতে পারলো যে মেরিন ওর বুুকের ওপর মাথা রেখে ওকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।

 

নীড় মেরিনকে ১টা ঝারা দিয়ে ফেলে দিলো।মেরিন পরে গেলো। যথেষ্ট ব্যাথা পেলো।

 নীড় : খবরদার  আমাকে ছোবেনা।  কোনো অধিকার নেই তোমার । বুঝেছো? তোমাকে কখনোই আমি নিজের বউ বলে মেনে নিবোনা। আর  না বউয়ের অধিকার …  ছুতে আসলে জানে মেরে দিবো।

 মেরিন : মানেন না মানেন বউ তো আপনারই কাাছে  বউয়ের  অধিকার চাইওনি।  শুধু একটু ঘুমাতে চাই আপনার বুকে ..

  নীড় : কল্পনাও করবে না …

মেরিন : আপনি কি কোনো কথাই ভালোভাবে শুনতে পারেন না?

  নীড় কোনো কথা না বলে শুয়ে পরলো। 

 মেরিন : ভালোমতো জিজ্ঞেস করছি..আপনার বুকে আজকে আর আগামী প্রতিদিন আপনার বুকে ঘুমাতে দিবেন কি না?  

 নীড়: …

 মেরিন : কি হলো..বলুন..

  নীড় : …

মেরিন :  নীড়…. 

নীড় : না…. শুনেছো? 

 মেরিন : হামমম।  

 

 ৫মিনিটপর….

 মেরিনের কোনো সারাশব্দ  না পেয়ে নীড় পেছনে ঘুরলো । দেখলো মেরিন নেই । নীড় উঠে বসলো। 

 নীড় : গেলো কোথায়?

  মেরিন : আমি এখানে… 

  নীড় বারান্দার দরজার দিকে তাকালো।  দেখলো মেরিন ১টা বড় সরো মদের বোতল হাতে নিয়ে দারিয়ে আছে দরজায় হেলান দিয়ে।  

 নীড় : তুমি আসলেই ১টা বাজে মেয়ে। 

 মেরিন বরাবরের মতো সেই রহস্যময় মুচকি  হাসি দিলো।  এরপর বোতলে ১বার চুমুক দিলো।  মেরিন বারান্দার দরজাটা লক করে বোতল টা হাতে নিয়ে বেডে গিয়ে বসলো। 

মেরিন : বুকে নিয়ে ঘুমাবেন?

  নীড় : ….  

মেরিন বেডের চারদিকে মদটা ছিটিয়ে দিলো। এরপর বাকী মদটুকু   চুমুক দিয়ে শেষ করলো।  

মেরিন : শেষবারের মতো জিজ্ঞেস করছি….  

নীড় :নো…

  মেরিন আর কিছু না বলে চোখের পলকে আগুন লাগিয়ে দিলো।  দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে লাগলো।

.

চলবে…..

 

ঘৃণার মেরিন  

পর্ব ০৫

সিজন ২

Mohona Chowdhuri 

দাউদাউ করে আগুন 

জ্বলতে লাগলো। নীড় তো অবাক। 

নীড় : এই মেয়ে কি করছো কি?  

মেরিন :  বসে আছি  নিজের চিতায়….

দেখতে পারছেন না… 

নীড় : দেখি হাত দাও…

মেরিন বসে রইলো। নীড় বেডে যেতে নিলো। কিন্তু পারলোনা।

   নীড় দরজা খুলতে গেলে পারছেনা..সব লকড। এমনকি ওয়াসরুম এরও..

 

   নীড় : মেরিন বেরিয়ে আসো..আগুন কিন্তু ছরিয়ে যাবে হাত দাও…  

মেরিনের কোন হেলদোল নেই।  নীড় ১টানে ১টা পর্দা নিলো। এরপর সেটা নিয়ে ঝাপ দিলো বেডে….  

মেরিন : আমার সাথে আগুনে পুরতে চান? 

 নীড় : দেখি এটা গায়ে পেচিয়ে নাও।

 মেরিন : আগে বলুন আপনার বুকে ঘুমাতে দিবেন? 

 নীড় : তুমি কি পাগল? 

 মেরিন : হামমম। অনলি ফর ইউ…. 

  নীড় : দেখো তোমার শাড়িতেও কিন্তু অ্যালকুহল…. 

আগুনে ধরে যাবে….

 মেরিন :যাক…

নীড় : আগুনে পুরে যাবে যে….

 মেরিন : বন্যা কখনো আগুনে পুরেনা…

নীড় মেরিনকে ওঠানোর চেষ্টা করলো।  

 নীড় : এতো শক্ত হয়ে ১টা মেয়ে মানুষ কিভাবে বসে থাকতে পারে…. 

 মেরিন : যেভাবে আমি আছি…. 

নীড় : ওঠো…. 

 মেরিন : আগে বলুন তবে বুকে নিয়ে ঘুমাবেন.. আজকে আর  আগামী সবরাতে…. 

নীড় : ..

মেরিন : বলুন… 

 নীড় : ওকে…  

মেরিন :প্রমিস? 

 নীড় :প্রমিস.. 

 মেরিন :গড প্রমিস ?  

নীড়: গড প্রমিস ….

সাথে সাথে মেরিন নীড়কে জরিয়ে ধরলো।

  নীড়: দেখি বের হতে হবে এখান থেকে… 

 কোনো রকমে  আগুন নেভানো হলো।  মেরিন নীড়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমালো।  

 

 পরদিন…

  মেরিনের ঘুম ভাঙলো।  মেরিন নীড়ের ঠোটে ১টা  ডিপ কিস করে উঠে গেলো।  নিহাল বাগানে বসে আছে।  কপালে হাত দিয়ে।  তখন দেখলো ওর সামনে ১টা কাপ এলো। চায়ের না।  তবে কিছু ১টা আছে।  নিহাল তাকিয়ে দেখলো মেরিন দারিয়ে আছে।  

মেরিন : এটা খেয়ে  নাও বাবা.

 নিহাল : খবরদার আমাকে বাবা ডাকবেনা। তোমার অধিকার নেই আমাকে বাবা ডাকার…  

মেরিন: মেরিনকে অধিকার দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই।  এখন এটা খেয়ে নাও।  গলার ব্যাথাটা কমবে…. 

 নিহাল : shut up…

 বলেই নিহাল চলে যেতে নিলো। 

মেরিন : আমি যখন বলেছি যে তুমি এটা খাবে তখন  যদি এটা আমার তোমাকে খাওয়াতে হয় তাহলে

কিন্তু ব্যাপারটা ভালো হবেনা…. আর আমি জানি তোমার গলায় যথেষ্ট ব্যাথা আছে।

 নিহাল : তোমার হুমকি তে ভয় পাইনা… 

 মেরিন : শেষ বারের মতো বলছি  খাবে কি খাবেনা? 

নিহাল জানে এই মেয়ে কে দিয়ে বিশ্বাস নেই।  তাই খেয়ে নিলো।  

 বিকালে…

  নীরা : তুই এটা ঠিক করিসনি….  তুই আমার শিকার কেরে নিয়েছিস…..  

মেরিন : শিকার?  যদি নীড় তোর এই রূপটা দেখতে পারবে সেদিন আমাকে আর কষ্ট করে তোর সর্বনাশ করতে হবেনা….  নীড়ই করবে।  শুধু ১টা প্রমান …. এরপর তোর কপালে কি আছে তুই কল্পনাও করতে পারবিনা…. 

  নীরা : তুই খুজেও কোনো প্রমান পাবিনা । আর প্রমান পেলেও নীড় তোর কথা বিশ্বাস করবেনা।  আর রইলো আমার কথা….  আমাকে তো তুই ছুতেও পারবিনা…. আমার চতুর্দিকে কবির ফয়সাল খান নামের প্রটেকশন  দেয়াল আছে।  আমার মামা….   

মেরিন : তোর মামা নামের দেয়ালকে আমি তোয়াক্কা করি নাকি? দেয়ালটাকে ধুলো বানাতে আমার মুহুর্তও লাগবেনা।  

নীরা : এই জেলে আমাকে কতোদিন বন্ধ করে রাখবি?  

মেরিন :কসম আল্লাহর  আমি চাইনা তোকে এই জেলে বন্দী রাখতে। আমি তো চাই তোকে আমার বানানো জেলে রাখতে। যেখানে জেইলার আমি,   জজ আমি, ব্যারিস্টার আমি, জল্লাদ আমি, আইনও আমি….

 তবে আমি তোকে আমার জেলে নিলে তোর ক্যারয়ার তোর ফিউচার কিছুই ধংব্স করতে পারবোনা।  তোকে জানে মারতে পারবো।  কষ্ট দিতে পারবো।  কিন্তু সেটা আমি করবোনা….  তোকে যাস্ট জানে মারলে আমার কলিজা জুরাবে না….

কদিন জেলের হাওয়া খা।  জেলে   থেকে তাও ৩বেলা খাবার পাবি। বের হলে god knows….

 

জেলে থেকে বের হওয়ার সময় জেইলারকে বলে গেলো নীরার জীবন অতিষ্ট করে দিতে। 

মেরিন বাসায় ফিরে দেখে নিহাল-নীড় কি যেন বলাবলি করছে।  ওকে দেখে থেমে গেলো।  

মেরিন : planning plotting চলছিলো বুঝি?  

নীড় : তোমার জন্য কি কথা বলাও যাবেনা। ?  

 

রাতে….  

নীড় বারান্দায় বসে আছে।     তখন ওর সামনে ১টা খাবারের প্লেট এলো।  

নীড় : now what? মেরিন আমাকে খাইয়ে দিননা….  সকাল থেকে না কিছু খাইনি…. 

নীড় : তো আমি কি করবো? 

মেরিন: ভীষন ক্ষুধা পেয়েছে।

নীড়: তোমার হাত কি নষ্ট হয়ে গেছে নাকি?

মেরিন : উহু… আপনার হাতে খাবো।

নীড় : পারবোনা।

মেরিন :না খেলে মরে গেলে আপনাকে ভালোবাসবে কে? 

 নীড় : যত্তোসব…. তুমি মরে গেলে আমি শান্তি পাবো।

 মেরিন : আপনি কোনো কথাই ঠিক মতো শোনেন না….  খালি আমাকে রাগান….   আজকে এখন আমার সারাবাড়িতে আগুন লাগানোর ইচ্ছ নেই।  

নীড় আর কোনো কথা না বারিয়ে মেরিনকে চুপচাপ খাইয়ে দিলো।

 

    পরদিন…. 

 নীড়-মেরিন খান বাড়িতে গেলো।  কেবল দরজা দিয়ে ঢুকবে তখন কবির

 বলল : ওখানেই দারাও… এই খান বাড়িতে ঢোকার কোনো অধিকার নেই… বের হও এখান থেকে। 

 কথাটা শুনে মেরিন বাকা হাসি দিলো।  এরপর নীড়ের হাত ধরে ভেতরে ঢুকলো।

 দাদুভাই : দিদিভাই চ….

  মেরিন হাত দিয়ে থামিয়ে দিলো। এরপর কবিরের সামনে গেলো।  

মেরিন :১দিন বাড়িতে নেই এতো দেখি টিকটিকি ১লাফে সিংহ uffs ডাইনোসর  হয়ে গেছে।  তো কি বলছিলেন আপনি? আপনি আমাকে এ বাড়িতে ঢুকতে না করছিলেন….  আমার এ বাড়িতে ঢোকার অধিকার নেই?

কবির : না…. 

মেরিন : আপনার আছে? 

কবির : আমার কথা বলছো? আমি কবির ফয়সাল খান।

মেরিন : তো আমি কি অন্য কেউ? আর অন্যকেউ হলেও এই বাড়িতে না ঢুকতে পারার কারন ?  

  কবির :  কারন এই খান বাড়িটার আমি শুদ্ধিকরন করেছি। যেটা কনিকার পা পরে অপবিত্র হয়েছিলো। তুমি যাওয়ার পর পবিত্র করেছি। আর তুমি খান নও। তুমি কারো পাপের ফসল….

বলতে না বলতেই  দাদুভাই কবিরকে ঠাস করে ১টা  থাপ্পর মারলো।

 

দাদুভাই: দিদিভাইয়ের খবর জানিনা…. তবে তুই নিশ্চয়ই আমার সন্তান হতে পারিস না।  আর দিদিভাইয়ের এ বাসায় ঢোকার অধিকার আছে কিনা জানিনা তোমার অধিকার নিয়ে সন্দেহ আছে। এই খান সম্রাজ্ঞের একচ্ছত্র অধিকারীনি…. আর তুমি কেবল ওর servant…. got it? চলো দিদিভাই আর দাদুভাই….

কবির : বাবা…. আমাকে থাপ্পর মারলে সত্যিটা মিথ্যা হয়ে যাবেনা। ওই মেয়েটার জন্য আমার বাবুই পাখিটা আজকে….

দাদুভাই তাচ্ছিল্যের সুরে

বলল: তুমি আসলেই শ্রেষ্ঠ বাবা কবির…. চলো।

মেরিন : দারাও দাদুভাই…  এই কবির ফয়সাল খান তো আমার servant… তাইনা… তাহলে এর শরীরে এমন দামী পোশাক কি করে মানায়? আর রাজার হালেই বা চলে কিভাবে। সব তো আমার টাকার ফুটানি।   আমি আবার অপচয় পছন্দ করিনা। বসে বসে অনেক অন্নধংব্স করেছেন মিস্টার কবির…. কালকে থেকে একটু খেটে খাবেন। এখন কি কাজ করবেন সেটা আপনি decide করুন। রান্নার কাজ, মালির কাজ, driver এর কাজ, নাকি ঝাড়ুদারের কাজ।

কবির : তুমি ভাবলে কি করে যে আমি তোমার order follow করবো?

মেরিন : আপনি follow করবেন না আমি করাবো।  চলো দাদুভাই…. i am too much tired…. 

 

 রাতে…

নীড় বিরক্ত হচ্ছে। কারন মেরিন ওকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে রেখেছে। কিন্তু গত ২দিনের মতো আজকে কোনো কথা বলল না।   

নীড় : আচ্ছা এভাবে ঘুমানো যায়? নরতে পর্যন্ত কষ্ট হয়….

মেরিন কিছু না বলে চুপচাপ নীড়ের ওপর থেকে নেমে বেডে শুয়ে নীড়ের বুকে কেবল মাথাটা রাখলো। নীড় খানিকটা অবাক হলো।  কিন্তু কিছু বললনা।

 

.

 

সকালে….

খাবার টেবিলে….

মেরিন এসে বসলো । তখন  দেখলো।। সেতু খাবার বেরে দিচ্ছে।  আর মেরিনের প্লেটেও খাবার বারছে।

মেরিন : এতো দেখি অরন্যে রোদন… very impressive …. 

সেতু : impress হওয়ার কিছু নেই । আমি সব মানতে পারি কিন্তু আমার ভাইয়ার কষ্ট না।  

মেরিন : আহারে আমার চোখে পানি চলে এলো। আপনি কতোটা মহান….

সেতু মেরিনকে চা দিলো।

মেরিন কিছুনা বলে সেই গরম চায়ে সেতুর আঙ্গুল চুবিয়ে দিলো।

সেতু : আহ…

নীড় : তুমি কি পাগল?

মেরিন : not now… only for you…. 

বলেই সেতুর চুলের মুঠি ধরে টেবিলের সাথে চেপে ধরলো।

মেরিন : আমাকে কি তোর ভাইয়ের মতো অন্ধ মনে করিস? হ্যা? ঘাষে মুখ দিয়ে চলি আমি?  তুই আমার খাবারে drugs মিশিয়ে আমাকে নিথর পাথর বানানোর plan করবি আর আমি জানবোও না….  এখন এগুলো তুই গিলবি…. তাও কুকুরের মতো।

 

.

 

নীড় : মেরিন কি করছো কি ? ছারো আন্টিকে….

মেরিন কোন জবাব না দিয়ে খাবার গুলো  সেতুর মুখে ঢোকাতে লাগলো।  কোন রকমে নীড় আর কবির মেরিনকে থামালো।

সেতু ছারা পেয়ে washroom এ গিয়ে ইচ্ছা করে বমি করলো।  কারন ওগুলো ওর পেটে গেলে ওর brain কাজ করা বন্ধ করে দিবে।  যার ফলে ওর বডিও আর balanced রাখতে পারবেনা। প্যারালাইজড হয়ে যাবে। 

বিকালে নীড়-মেরিন আবার চৌধুরী বাড়িতে পৌছালো।

 

.

 

২দিনপর…

নীড় ready হয়ে গাড়ির কাছে গেলো।  দেখলো মেরিন আগে থেকেই গাড়িতে বসে আছে। সাদা রঙের ১টা টপস। চোখে চশমা, চুলগুলো খোলা।  মেরিনের প্রতিটা get upই perfect  office going ladyএর মতো। 

নীড় : আমার গাড়িতে বসার কারন?

মেরিন : আপনি নিজেই আমার তাই আপনার সব কিছুই আমার। so…

নীড় : 😠।

মেরিন : বসুন। লেট হয়ে যাচ্ছে। 

নীড় বিরক্তি  নিয়ে বসলো ।  ২জন  office  পৌছালো। 

 

.

 

কিছুদিন পর…

এই কদিনে মেরিনের পাগলামো ভালোবাসায় নীড় just অতিষ্ট হয়ে গেছে। ২জন office থেকে বাসায় ফিরছে । নীড় drive করছে। আর মেরিন তো নীড়কে দেখায় ব্যাস্ত। হঠাৎ  নীড় break মারলো। মেরিনের ধ্যান ভাঙলো।  

মেরিন : কি হলো? 

নীড় : ফুচকা.

মেরিন : ফুচকা?  আপনি এগুলো খাবেন? its tacky…. 

নীড় : shut up….

বলেই নীড়  দৌড়ে ফুচকার দোকানে গেলো।  মেরিনও  নীড়ের পিছে গেলো।  নীড় বাচ্চাদের মতো করে ফুচকা খেতে লাগলো।  আর মেরিন দেখতে লাগলো।   নীড়কে খেতে দেখে মেরিনেরও খেতে ইচ্ছা করলো।  নীড় আরেকটা ফুচকা মুখে দিতে নিলে মেরিন  ওর হাত নিয়ে নিজের মুখে ফুচকা টা ঢুকিয়ে নিলো।  

নীড় : এটা কি করলা?

মেরিন:  yummy….

নীড় : খুব তো বলেছিলে যে its taccy … yuck….

মেরিন: আমি কি জানতাম নাকি এমন হবে?

নীড় : এখন তো জানলে।

২জন  মন ভরে ফুচকা খেয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  তখন হঠাৎ ১টা ক্রিকেট বল এসে নীড়ের কপালে লাগলো।  

নীড় কপালে হাত দিয়ে

বলল : ouch…

নীড়ের কপাল লাল হয়ে গেলো। 

মেরিন : নীড়….  

মেরিন দৌড়ে গিয়ে  পানি এনে নীড়ের মাথায় পানি দিয়ে দিলো। 

 

.

 

নীড়ের মাথায় পানি দিতে দিতে ১টা ছেলে এসে

বলল : এই যে মিস বলটা দিন…

মেরিন চোখটা লাল করে ওর দিকে তাকালো।

ছেলেটা: ওহ বাবা… এর তো দেখি রুপে না চোখেও আগুন….

নীড় : ১টা থাপ্পর দিবো। মেয়েদের সম্মান দিয়ে কথা বলতে শিখোনি?

ছেলেটা: না গো uncle …. uncle হয়ে বেশি react করবেন না। না হলে পুরো মাথাই  ফাট…

আর বলতে পারলোনা। মেরিন বলটা এমন জোরে ছেলেটার মুখ বরাবর মারলো যে ছেলেটা ধপাস করে পরে গেলো। আর মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত পরতে লাগলো।  

মেরিন বলটা হাতে নিয়ে  মাঠে গেলো।

বলল :বলটা তখন কে হিট করেছিলো?

চলবে………………….

 

ঘৃণার মেরিন 

পর্ব ০৬ 

 সিজন ২ 

Mohona Chowdhuri 

 

মেরিন : বলটা কে হিট করেছে…? আমি কি়ছু জিজ্ঞেস করছি….  

১জন বলে 

উঠলো: কেন জানলে কি খেলবেন নাকি তার সাথে? ।  

 মেরিন ওই ছেলেটার মুখ বরাবরও বল মারলো। আর এমনভাবে মারলো যে ছেলেটার মুখে হিট করে বলটা আবার ওর হাতেই চলে এলো।  

 মেরিন :  যেটা জিজ্ঞেস করেছি সেটা বলো। 

 নীড় : মেরিন হয়ে গেছে চলো।  দেখি বলটা দাও….তারপর চলো….    মেরিন : আরে কেন যাবো কেন? আমি তো এদেরকে….  এদের জন্য আপনি কতোটা ব্যাথা পেয়েছেন…

  নীড় : কিচ্ছুনা…  চলো এখান থেকে। 

  নীড় জোর করে নিয়ে মেরিনকে গাড়িতে বসালো।  

 

 নীড় : তুমি বসো আমি ওদের বলটা দিয়ে আসছি….   একদম উঠবেনা। 

মেরিনকে বসিয়ে নীড় ওদের বলটা দিতে গেলো।  

নীড় : টেক ইউর বল…. দেখে খেলা করো…. 

 নীড় চলে যেতে নিলো। তখন পেছন থেকে 

১জন বলে 

উঠলো: ভাইয়া উনি আপনার কি হয়?  

নীড় : ….. কেন?

 অন্যজন: না মানে…. আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে   আপনার এই ছেলে পোশাকের আড়ালে ১টা মেয়ে লুকিয়ে আছে।  

বলেই ওরা হাসতে লাগলো।  

  নীড় : এমন মনে হওয়ার কারন? 

 ১জন: আপনার ভীতু গিরি দেখে আমরা শিহরিত। ১টা মেয়ে রাগ করতে পারে। আর আপনি পারেন না…. 

 অন্যজন: পারে পারে উনিও পারে….   সরিয়ে নিয়ে যেতে।  

নীড় ১টা বাকা হাসি দিয়ে  ওদের কাছে গেলো।

বলল: এরজন্যেই বলে কারো ভালো করতে নেই।

একে তো বল মেরে নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষনের মাথা ফাটিয়েছো।  ভীষন রাগ উঠেছিলো। কিন্তু সাথে ছিলো মেরিন বন্যা… 

 যদি তখন  ওকে না নিয়ে যেতাম তবে গুলি খেয়ে মরতে হতো। কিন্তু তোরা ভালো বুঝলি না….    

বলেই নীড় ধরে একেকটাকে পিটানো ধরলো।  হঠাৎ নীড় গুলির শব্দ পেলো।  পেয়ে পিছে ঘুরে দেখো ১দল রক্তাত্ব অবস্থায় পরে আছে। আর সামনে তাকিয়ে দেখে মেরিন। আসলে ওই ছেলেটা পেছন থেকে নীড় আঘাত করতে আসছিলো। তখন মেরিন এসে হাত বরাবর গুলি মারলো।     

 

রাতে…

  নীড় রকিং চেয়ারে বসে আছে।  তখন ও কপালে ঠান্ডা কিছু অনুভব করলো। তাকিয়ে দেখে মেরিন ওর কপালে আইস ব্যাগ  ধরে রেখেছে।  নীড় কোনো রিয়েক্ট  না করে  চোখ বন্ধ করে রইলো।  জানে রিয়েক্ট  করে লাভ নেই।  

মেরিন : উঠুন খেয়ে নিন….  

নীড়:…. 

 মেরিন: উঠুন না।  ভীষন ক্ষুধা পেয়েছে আমার।  উঠুন না।  

 নীড় : তুমি কি একটুও আমাকে শান্তি দিতে পারোনা।

মেরিন: কি এমন করলাম এখন? 

নীড়: তুমি কিছুই করোনা। তোমাকে দেখলেই আমার সব শান্তি চলে  যায়।  বিরক্তি কর।  

মেরিন: জানি। আসুন খেয়ে। 

 নীড়: খাবোনা।

মেরিন : আমার ভীষন ক্ষুধা পেয়েছে।  

নীড়  : যাও গিয়ে গেলো।

 মেরিন কিছু না বলে খাবার এনে  নীড়ের মুখে ঢুকিয়ে দিলো।  

মেরিন:  চুপচাপ খেয়ে নিন।    

প্রতিদিনের মতো আজও নীড় জিজ্ঞেস করলোনা মেরিনকে যে ও খেয়েছে কি না…. 

 

 পরদিন…  

অফিস এ….   

মেরিন দারিয়ে কোনো ১টা file ঘাটছে তখন কেউ ওর পিছে এসে দারালো।  আর তার উপস্থিতি বুঝতে পেরে ভয়ে মেরিন ঘামতে লাগলো।  মেরিন চুপচাপ নিজের গানটা হাতে নিতে লাগলো।  কিন্তু ততোক্ষনে লোকটা মেরিনের কোমরে হাত দিয়ে ফেলল।  মেরিন ঘুরে দুম করে গানটা দিয়ে লোকটার মাথায় আঘাত করতে নিলে লোকটা মেরিনের হাত মোচর দিয়ে ধরে ফেলল।   তার নাম নিলয়।  নিলয় শাহরিয়ার।

নিলয়: তোর এই ভিলেন রূপ সবার জন্য হতে পারে।  কিন্তু আমার জন্যনা।  কারন  তুই আমার কাছে ধরা। তোর কোনো জারিজুরি আমার ওপর চলবে না।   বুঝেছিস?   তোর ভিলেন রুপ বাকীদের জন্য আর তোর হট রূপ আমার জন্য।

মেরিন হাত ছোটানোর জন্য চেষ্টা করছে। 

 মেরিন : যদি তুই আমার হাত না ছারিস তবে তোকে…. 

নিলয়: কি করবি?  মেরে ফেলবি? আমাকে মেরে ফেলবি?  আমাকে মারলে তাকে পাবি কোথায়?  

মেরিন : নীড়…  নীড়…  

 নিলয়: তোর বরকে ডাকছিস? ওকে কি আমি ভয় পাই নাকি? আর তোর ডাকেই কি সে আসবে? তোর কি মনে হয় তার সাথে  তোর কি সম্পর্ক আমি জানিনা? সে তো তোকে ঘৃণা করে… ঘৃণা …. নীড় আমার বোন নীরাকে ভালোবাসে… সে তোকে ছুয়েও দেখেনি।…

 তখন নীড়  রুমে এলো। আর ওদেরকে  এভাবে দেখে খানিকটা অবাক হলো। 

 নীড়কে দেখেও নিলয় মেরিনকে ছারলো  না।  ।  নীড়ের কেন যেন খারাপও লাগলো।

 

 নিলয়:  আরে নীড় এসো।।  

নীড় : ভালো আছেন ভাইয়া… 

 নিলয় : হামম। ভালো আছি। এমন ১টা  চলন্ত  আইটেম গান চোখের সামনে থাকলে কি খারাপ থাকা যায়….  কি বলিস রে মেরিন….  

নীড় : ভাইয়া একটু কাজ আছে। আসছি।  

মেরিন যে কতোটা কষ্ট পেলো নীড়ের এমন ব্যাবহারে তা বলার মতো না….   তবুও নিলয়ের হাতে কামড় দিলো।  নিলয় আহ বলে মেরিনের হাত ছেরে দিলো । মেরিন দৌড় দিয়ে  নীড়ের কাছে গেলো।

নিলয় : কি রে আমার আদর-ভালোবাসায় কি মন ভরে গেছে?  দেখে রাখো নীড় ওকে…. আমাকে ছেরে কি করে তোমার কাছে গেলো। 

নীড় : ….

মেরিন : ….

তখন জন ঢুকলো।

জন: ম্যাম… একি তুই…  

নিলয় : ওরে বাবা…. জন বাবু যে….  কি খবর…

জন : তোকে তো…

মেরিন : জন… চলো চৌধুরী কম্পানি তে…. ১টা কাজ আছে।

নিলয় : বাবা… এখন আবার জনের সাথেও কাজ আছে….

মেরিন কোনো জবাব না দিয়ে বেরিয়ে গেলো। 

 

.

 

মেরিন সোজা বাসায় চলে এলো।  দৌড়ে ওয়াশরুমে এ গেলো।  সাওয়ার অন করে ভিজতে লাগলো।  আর সারা শরীরে বিশেষ করে কোমড়ে আর হাতে  ইচ্ছা মতো সাবান ঘষতে  লাগলো।

আর কল্পনা করতে লাগলো সেই সময়টার কথা।  মেরিন দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে বসে ভিজতে লাগলো আর মাথা দেয়ালে বারি দিতে লাগলো। 

 

.

 

৫ঘন্টাপর….

নীড় নাসায় এলো।  এসে ফ্রেস হতে গিয়ে দেখে মেরিনকে।   সাদা হয়ে গেছে ভিজতে ভিজতে।  

নীড় খেয়াল করে দেখলো মেরিন দেয়ালে মাথা বারি দিচ্ছে আর কি যেন বিরবির করে বলছে।   নীড় দৌড়ে মেরিনের কাছে গেলো।

নীড় : মেরিন…. মেরিন….

মেরিন : আমম…

নীড় : দেখি ওঠো…  ঠান্ডা লেগে যাবে…

মেরিন নীড়ের দিকে ঘুরলো।

নীড় : ঠান্ডা হয়ে গেছো….

মেরিন হাহা করে হাসতে লাগলো।  

মেরিন : নীড়… 

নীড় : কি?

মেরিন : ভালোবাসি….. অনেক বেশি ভালোবাসি…..

বলেই মেরিন নীড়ের ঠোট জোরা দখল করে নিলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই মেরিন অজ্ঞান হয়ে গেলো।  নীড় মেরিনকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে গেলো। 

 

কিছুক্ষনপর….

মেরিনের জ্ঞান ফিরলো।  বুঝতে পারলো কেউ ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। মেরিন চোখটা মেললনা।  কেবল  চোখ দিয়ে ২ফোটা পানি গরিয়ে পরলো।

নীলিমা : শোনামা….  উঠে কিছু খেয়েনে।

মেরিন : একটু এভাবে থাকি প্লিজ ….

নীলিমা : হামম। 

মেরিন : মামনি ১টা গল্প শোনাবে? রাজকুমার-রাজকন্যার…। পরী,,, রাজা-রানী, ঘুম পারানী গান শোনাবে ….

নীলিমা মেরিনের কপালে চুমু দিলো।  

বলল :  শোনাবো… তবে কিছু খেয়ে নে…

তখন নীড় রুমে ঢুকলো।

নীড়কে  ঢুকতে দেখে মেরিন তারাতারি চোখের পানি মুছে উঠে বসলো।

নীলিমা: কি রে তুই? 

নীড় : হ্যা ওই তো… ঘুম পাচ্ছিলো,,, তাহলে তুমি এখানে থাকো  আমি গেস্টরুমে যাচ্ছি। 

নীলিমা: নানা…  তুই বোস।  মামনি আমি তোমার খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি।

মেরিন : হামম।

নীলিমা চলে গেলো

.

 

মেরিন বেড থেকে নেমে বেডটা গুছিয়ে দিলো।

মেরিন : নিন শুয়ে পরুন…

নীড় মনে  মনে: কিভাবে জিজ্ঞেস করি? 

নীড় : শোনো….

মেরিন : হামম।

নীড় : তো…

তখনই সার্ভেন্ট এসে খাবার দিয়ে গেলো।   নীড়ের আর জিজ্ঞেস করা হলো না।

নীড় : যাও খেয়ে নাও।

মেরিন : হামম। আপনি খেয়েছেন?

নীড় : হামম।

তখন মেরিনের চোখ পরলো নীড়ের হাতের দিকে।  নীড়ের হাতটা লাল হয়ে আছে।   মেরিন ছুটে নীড়ের কাছে গেলো।

মেরিন : আপনার হাত লাল হয়ে আছে কেন? কি হয়েছে?

নীড় : না কিছুনা।

মেরিন : বললেই হবে? বসুন দেখি।

মেরিন তারাতারি নীড়ের হাতে ঔষধ দিয়ে দিলো।  নীড় মাঝে মাঝে সত্যি অনেক অবাক হয়। 

মেরিন : অনেক বেশি ব্যাথা করছে?  শুয়ে পরুন শুয়ে পরুন।

নীড় : আরে আ…

মেরিন : কোনো কথা না।

মেরিনের ঝারি খেয়ে নীড় বাধ্য হলো শুতে। মেরিন লাইট নিভিয়ে দিলো।

নীড় : লাইট নেভালে কেন?

মেরিন : লাইট জ্বললে তো আপনার ঘুম আসেনা।

নীড় : তুমি অন্ধকারে খাবে কি করে?

মেরিন : আমি পারবো। অাপনি ঘুমান।

 

নীড় কপাল হাত দিয়ে 

ভাবছে: মেয়েটা সত্যি আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে।  এমন পাগলামো ভালোবাসাই তো আমি চেয়েছিলাম।  নীরার মধ্যে কখনো আমি এমনটা দেখিনি….  আচ্ছা মেরিন এমন কেন? এতো রাগী এতো জেদী….. তবুও আমার সাথে কখনো রুড বিহেব  করেনা….   কিন্তু ওর এতো ভালোবাসাও যে আমি মেনে নিতে পারছিনা। আমি যে নীরাকে ভালোবাসি।

এসব ভাবতে ভাবতে নীড়ের বোধ হলো মেরিনের কথা।  উঠে বসে। দেখে মেরিন সোফায় শুয়ে আছে।   নীড়  অবাক হলো।  কারন আজকে মেরিন সোফায় ঘুমালো।

নীড় মনে মনে : ও কি আমার ওপর অভিমান করেছে?  করলে করুক। আমার কি? 

 

একটুপর…

নীড়ের খেয়াল হলো সেদিনের কথা। 

নীড় : ওহ নো… ওর জ্বর আসেনি তো….

নীড় তারাতারি সোফার ওখানে গেলো।  মেরিনের কপালে হাতে দিয়ে দেখলো ধুম জ্বর। 

নীড় : oh my goodness….

 নীড় মেরিনকে কোলে তুলে বেডে নিয়ে শুইয়ে দিলো। এরপর মাথায় পানি পট্টি দিতে লাগলো। আর মেরিনকে দেখতে লাগলো।

এই প্রথম নীড় মেরিনকে এভাবে পর্যবেক্ষন করছে।  জ্বরের জন্য মেরিনের মুখটা লাল হয়ে আছে। পাপড়ি গুলো ভেজা। নিশ্চয়ই কাদছিলো।   ঠোট ২টা কাপছে। কপালটা ভাজ পরে আছে। নীড় বুঝতে পারলো যে মেরিনের প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে। তাই মেরিনের মাথা টিপে দিলো।  মেরিনের শরীরের তাপ এতোটাই বেশি যে নীড় পাশে বসেই টিকতে পারছেনা।  তাও নীড় মাথায় পট্টি দিয়ে মেরিনকে বুকে জরিয়ে শুয়ে পরলো। ভোরের দিকে মেরিনের জ্বর ছারলো।

 

সকাল ৯টা….

মেরিনের ঘুম ভাঙলো।  দেখলো ও এলোমেলো হয়ে নীড়ের বুকে শুয়ে আছে।  

মেরিন : আমি তো সোফায় ছিলাম…. এখানে?

মেরিনের মুখে হাসি ফুটলো। মেরিন নীড়ের কপালে চুমু দিলো।

মেরিন: যতোটা কষ্ট কালকে পেয়েছিলাম তার হাজারগুন আনন্দ আজকে পেলাম।  আপনি আমার কথা ভেবেছেন সেটাই যে আমার পরম পাওয়া। কিন্তু আমার জন্য আপনার কতো কষ্ট হয়েছে…..  

মেরিন উঠে ফ্রেশ হয়ে অফিস এ গেলো।

 

বেলা ১১টা…

নীড়ের ঘুম ভাঙলো। উঠে মেরিনকে না পেয়ে অবাক হয়ে গেলো।

নীড় : গেলো কোথায় মেয়েটা। রুম, ওয়াশরুম খুজে দৌড়ে নিচে নামলো।

নীড় : মামনি … মামনি… মেরিন কোথায়?

নীলিমা: ও তো অফিস  চলে গিয়েছে।

নীড়:হুয়াট? এই শরীর নিয়ে অফিস  ?

রাগের চোটে নীড়ের গা জ্বলে যাচ্ছে।  দ্রুত রেডি হয়ে অফিস এ গেলো। আর গিয়ে দেখে মেরিন ১টা লোককে বেল্ট দিয়ে মারতে মারতে সিরি দিয়ে নামাচ্ছে। আর সবাই চুপচাপ দেখছে। লোকটার শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছে। 

নীড়: তুমি ওকে মারছো  কেন? ছারো ওকে…

মেরিনকে থামাতে গিয়ে নীড় হাতে ১টা বাড়ি খেলো। 

মেরিন: দেখি দেখি… অনেক জোরে লেগেছে? দেখি।

নীড় হাত ছারিয়ে নিলো।

মেরিন লোকটাকে বলল : তোরজন্য কেবল তোর জন্য আমার হাত দিয়ে নীড় বারি খেয়েছে। আজকে তোকে আমি মেরেই ফেলবো।

 মেরিন ১টা গ্লাস নিয়ে ধপ করে ওটা ভেঙে লোকটার পেটে ঢোকাতে নিবে তখন নীড় আবার এসে থামাতে নিলো।  নীড় কিছুতেই মেরিনকে থামাতে না পেরে ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।

নীড় : আমার ব্যাথার কারন ও না তুমি….

বলেই নীড় নিজের রুমে চলে গেল। কেবিনে গিয়ে বসলো।  একটুপর জানতে পারলো যে,  যে লোকটাকে মেরিন মারছিলো সে রাইবাল কম্পানি এর গুপ্তচর। সে  নীড়ের ড্রিম প্রোজেক্ট  এর ইনফর্মেশন  চুরি করতে এসেছিলো।  আর এ কারনেই মেরিন ওকে মারছিলো।  

 নীড় : উফফ বেশি রিয়েক্ট করে ফেলেছি…. আসলে সরি  বলতে হবে।   

কিন্তু অনেকক্ষন হয়ে গেলো তবুও মেরিন এলোনা।  নীড় ম্যানেজারকে ডেকে পাঠালো। 

ম্যানেজার : স্যার ডাকছিলেন? 

নীড় : হামম।  আপনাদের ম্যাম কোথায়?

 ম্যানেজার : স্যার, ম্যাম তো সেই  তখনই বেরিয়ে গিয়েছে। 

নীড় : হুয়াট? 

ম্যানেজার: জী স্যার।  

নীড়: ওকে আপনি আসুন। 

ম্যানেজার চলে গেলো।  

নীড় : কোথায় গে… ওহ নো… 

 নীড় কিছু ১টা ভেবেই ছুটে বেরিয়ে গেলো।

 

চলবে..

 

ঘৃণার মেরিন

পর্ব ০৭ 

 সিজন ২ 

Mohona Chowdhuri 

নীড় ছুটে বেরিয়ে গেলো।   নীড় যেতে যেতে জনকে ফোন করলো। 

জন : hello sir…  

নীড়: তোমার ম্যাম কোথায় জানো?

 জন: ম্যাম তো এই অমানুষটাকে আমার হাতে দিয়েই যেন কোথায় বেরিয়ে গেলো?   

নীড় : আচ্ছা রাখছি….   

জন: জী স্যার। 

 নীড় : আমার সন্দেহ যদি ঠিক হয় , এইকদিনে ওকে যতোটুকু বুঝেছি তখন মনে হচ্ছে আমার ধারনাই ঠিক…

 

দুপুর গরিয়ে রাত হলো। মেরিন এখনো এলোনা।  

নীড় : না জানি কি করেছে? কখন আসবে? 

তখন  মেরিনের গাড়ির আওয়াজ পেলো। মেরিন বাড়িতে ঢুকলো।  মেরিনকে দেখে স্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে গভীর কিছু আছে যা কেবল নীড় বুঝতে পারলো।

 নীলিমা : একি তোর হাত কাটলো কি করে?  

মেরিন : একটু কেটে গেছে।

 নীলিমা: ব্যান্ডেজ দেখে মনে হচ্ছেনা একটু কেটেছে।

 নিহাল: আবার কার সাথে ঝামেলা করেছে দেখো।  

মেরিন ওপরে গেলো।  নীড়ও পিছে পিছে গেলো। 

 নীড় : যখন office এ ছিলে তখনতো short হাতার dress পরেছিলে। তো এখন full হাতা কেন?

 মেরিন : আমার ইচ্ছা। 

নীড় আর কিছু না বলে first aid box নিয়ে মেরিনকে ১টানে বেডে বসালো।  এরপর মেরিনের জামার হাতা ১টা ছিরে ফেলল।  যা ভেবেছিলো তাই।  মেরিনের হাত ক্ষতবিক্ষত।   আঘাতের চিহ্ন।  নীড় আন্দাজ করেছিলো যে মেরিন নিজেকে আঘাত  করতেই গেছে। কারন তখন নীড় ওকে বলেছিলো যে তোমার জন্য আমি ব্যাথা পেয়েছি।  নীড় মেরিনের হাতে ঔষধ দিয়ে দিচ্ছে। আর মেরিন নীড়কে দিয়ে দেখছে।  হাতে ঔষধ দেয়ার পর 

নীড় : সারা শরীরেরও কি এই  একই অবস্থা? 

মেরিন:…. 

 নীড় মেরিনের স্যালোয়ার  হাটু পর্যন্ত পটপট করে ছিরে দিলো। এরপর সেখানেও ঔষধ দিয়ে দিলো।  then মেরিনকে ঘুরিয়ে ওর পিঠে হাত দিতে গেলে মেরিন হাত ধরে ফেলল। 

মেরিন : আমি লাগিয়ে নেবো।   

নীড় থেমে গেলো।

 রাতে নীড় নিজের হাতে মেরিনকে খাইয়ে দিলো।  

 

 ২দিনপর….

 আজকে শুক্রবার। তাই সবাই বাসায়। 

নিহাল: এই মেয়ে  এই তুমি আমার মায়ের শাড়ি পরেছে কেন?   

মেরিন :  কারন আমি তোমার মা লাগি। 

নিহাল : আমার মা? আমার মা হওয়ার তোমার কোনো যোগ্যতা নেই।  

মেরিন : আছে আছে। ১ডজন যোগ্যতা আছে।  

নিহাল: মোটেও না।  আমার মা অতো খারাপ ছিলোনা তোমার মতো। বুঝেছো?

 মেরিন: ইশ, যে না ১টা কালোকুলো মা….  

নিহাল: ওই তোমাকে না বলেছি আমার সাথে কথা বলবেনা… বেয়াদব মেয়ে….  

মেরিন : এখানে সবাই সাক্ষী যে তুমি আগে কথা বলেছো? 

নিহাল : huh….

  নীড় মনে মনে হাসছে।  সুন্দর ১টা সময় কাটছে। ঠিক তখনই নীড় ৫-৬টা বন্ধু এসে হাজির হলো। তাদের মধ্যে ২জন মেয়েও আছে। ১জন এসে নীড়কে জরিয়ে ধরে গালে কিস করলো। যার নাম লিমা।  

লিমা : missed you ইয়ার….  

নীড় এমনিতেই এগুলো পছন্দ করেনা।  তারওপর মেরিন।  নীড় তারাতারি নিজেকে ছারিয়ে মেরিনের দিকে তাকালো। দেখলো মেরিন শান্ত চোখে  তাকিয়ে আছে। যা দেখে নীড় বেশি ভয় লাগলো।

কারন এই কয় মাসে নীড় মেরিনকে দেখে যা বুঝেছে তা হলো এই যে মেরিন শান্ত থাকা মানেই ১০ নম্বর বিপদ সংকেত।  তাই  বন্ধুরা যাওয়ার আগে নীড় লিমাকে বলল সাবধানে থাকতে। আর এখান থেকে সরাসরি বাসায় যেতে।   আর মিনিমাম ১সপ্তাহের মধ্যে যেন বাড়ি থেকে বের না হয়।   লিমা এটাকে মজা মনে করলো। 

 

 রাতে….  

নীড় : মেরিন…. 

মেরিন : হামম। 

 নীড় : লিমা একটু free minded….  

মেরিন : হামম। 

 নীড় : তাই বলছিলাম কি….  

মেরিন : no worry ওকে জানে মারবো না।  বাচিয়ে রাখবো। 

 নীড় : দেখো ….  

মেরিন :  দেখছিই তো…. আপনাকে। 

 বলেই  মেরিন নীড়ের ঠোট জোরা দখল করে নিলো।   পরদিন মেরিন নিজে লিমা কে গাড়ি দিয়ে accident করালো।  এরপর নিজেই হসপিটালে নিয়ে গেলো। লিমার জ্ঞান ফেরার পর। 

মেরিন : আর যেন কোনোদিন এই চোখ তুলে নীড়ের দিকে না তাকাতে দেখি। আর যেন কোনো দিন এই হাত দিয়ে নীড়কে ছুতে না দেখি….   

 কিছুদিনপর…

নীড়-মেরিন office এ কাজ করছে। নীড় ফাইল ঘাটছে আর মেরিন ল্যাপটপে কাজ করছে। তখন কেবিনে  নিলয় এলো। নিলয়কে ১পলক দেখেই মেরিন চোখ নামিয়ে নিলো।  ভয়ে আজও মেরিনের হাত পা ঘামতে লাগলো।

নীড় ১বার মেরিনের দিকে তাকালো ১বার নিলয়ের  দিকে।

নীড় :  hello নিলয় ভাইয়া…

নিলয় : hello…

নীড় : বসুন….

নিলয় বসলো। 

নীড় : ভাইয়া বসুন আমি একটু আসছি।

বলেই নীড় বেরিয়ে গেলো।

নিলয় : বাহ তোর জামাই তো দেখি বেশ বুদ্ধিমান… আমাদের সময় দিয়ে গেলো….

বলেই নিলয় চেয়ার থেকে উঠতে নিলো।

মেরিন : যেখানে  আছিস ওখান থেকে আমার দিকে ১পাও বারালে…

নিলয় : তুই আমার কিছুই করতে পারবিনা।  কারন তোর উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়া পর্যন্ত  তুই আমার কিছুই করবিনা।   আর আমিও আমার উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়া পর্যন্ত তোকে তার খবর দিবোনা। তোকে নিজের করবো…. এরপর….  তোকে ১বার ছুতে পারলে তোর হাতে মরলেও আফসোস থাকবেনা।

মেরিন : সাবধানে থাকিসরে…. এমন না হয় যে তোর পাপের ঘরা ভরে যায়। আর তোকে আমি আগেই মেরে ফেলি।

নিলয় :পারবি না রে। চিনি তোকে।  

মেরিন : যদি তুই আগে ভাগেই বলে দিসে তবে তোকে একটু কম যন্ত্রনাদায়ক মৃত্যু দিবো। কথা দিলাম।  কিন্তু তুই যদি আরো নিচে নামিস তোর মৃত্যু যে কতোটা ভয়ংকর হবে তুই কল্পনাও করতে পারবিনা।

নিলয় মেরিনের কাছে গিয়ে ওর ঘাড়ে আঙ্গুল  বুলিয়ে

বলল : তাই বুঝি?

মেরিন আর দেরি না করে হাত থাকা কলম টা দিয়ে নিলয়ের হাতে পার দিলো।

নিলয় : আহ।

মেরিন : আমাকে ছোয়ার অধিকার কেবল আমার নীড়ের আছে।  আরেকবার যদি আমার দিকে হাত বারাস তাহলে  আমি সব ভুলে যাবো। আর তোর হাত আমি কেটে দিবো।

নিলয় : তোর নীড় তো তো ছুতেও ঘৃণা করে। তোকে তো আমিই কেবল ছোবো।

বলেই নিলয় চলে গেলো।

 

রাতে…

মেরিন ছাদের রেলিং এ বাইরের দিকে পা ঝুলিয়ে বসে drinks করছে।  নীড় মেরিনকে খুজতে খুজতে ছাদে গেলো। 

নীড় : একি ? তুমি এখানে?

মেরিন ১বার নীড়ের দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে নিলো।

নীড়: কিছু বলছি তো….

মেরিন : শুনছি… বলুন…

নীড় : এখানে কি করছো…

মেরিন: দেখছেন না বুঝি…. oh আপনি তো আবার আমাকে চোখেই দেখেন না।

নীড় : চোখে দেখার মতো কি তুমি কেউ?

মেরিন সেই চির রহস্যময়ী হাসি দিলো।

নীড় : মাতলামো বন্ধ করো।

মেরিন এবার হাহা করে হেসে উঠলো। এরপর উঠে এলো।

নীড়ের ২কাধে  হাত রেখে 

বলল: আমি মাতাল…. কিন্তু আপনি তো সেই জুয়ারিহ…. যে কখনো নিজের বউকেও বন্ধক রাখতে, বাজী ধরতে দ্বিধা বোধ করবেন না…

নীড় মেরিনের হাত সরিয়ে দিলো।

বলল  : কি যা তা বলছো?

মেরিন :  আচ্ছা আমাকে নিজের বউ নাই ভাবেন… কিন্তু আমি তো ১টা মেয়ে তাইনা…. তাহলে কককিভাবে ওই নিলয়ের সাথে একা রেখে বেরিয়ে এলেন…

নীড় : ….

মেরিন : কি হলো বলুন….

নীড় : নিলয় ভাইয়া তোমার কাজিন … আর তাছারাও…. 

মেরিন : তাছারাও ???

নীড় :ওর সাথে তোমার একসময় সম্পর্ক ছিলো। হয়তো এখনো আছে…

মেরিন : আপনার কি সত্যি ওই বাজে লোকটার কথা বিঃশ্বাস করেছেন?

নীড় : না করার কি কোনো কারন আছে? আর ওই নিলয় ভাইয়াকে বাজে বলার আগে নিজের কথা বিচার করে নাও। তোমারও তেমন কোনো ভালো  record  নেই।

মেরিন : আমার কি খারাপ

নীড় : সবটাই…

কাজ,, স্বভাব background … origin …..

মেরিন: আমার origin , background খারাপ? আর নীরার বুঝি ভালো? 

নীড় : ও তোমার মতো না।  তুমি তো জেদের বসে আমার সাথে এমন করেছো। কিন্তু ও তো আমাকে ভালোবাসে।

মেরিন : হ্যা ভীষন ভালোবাসে আপনাকে তাই অন্যের বাচ্চার মা হয়…

কথাটা বলতে না বলতেই নীড় মেরিনকে থাপ্পর মারলো।

নীড় : একদম আমার নীরার নামে বাজে কথা বলবেনা তোমার ওই মুখ দিয়ে?

মেরিন : আমি নোংরা?

নীড় : হ্যা অবশ্যই। বাজে মেয়ে। তাইতো নিলয় ভাইয়ার সাথে এতোদিনের relation থাকা সত্তেও কেবল নীরাকে কষ্ট দেয়ার  জন্য আমাকে বিয়ে করেছো।

মেরিন : হা হা হা।

নীড় : আসলে যার origin এমন, গোরাই এমন তখন তাকে তো অমন হতেই হবে?

মেরিন: মানে?

নীড় : মানে ভীষন সহজ।  মা যেমন তার মেয়েও অমন।

মেরিন : নীড়….

নীড় : আমাকে ঝারি মারলেই কি সত্যটা পাল্টো যাবে  না। সারা শহর জানে তোমার চরিত্রহীনা মায়ের কথা….

মেরিন : নীড়…

বলেই মেরিন নীড়কে থাপ্পর মারার জন্য হাত ওঠায়। কিন্তু নীড়ের গালের সামনে নিয়ে বহুকষ্টে হাতটা থামিয়ে নিলো।

 

মেরিন : i hope  যদি আপনাকে ভালোনাবাসতাম…. আমি খারাপ আমার origin খারাপ,,,  কিন্তু আপনি তো ভালো।  বউ হিসেবে নাই বা respect করুন। মেয়ে হিসেবে তো করুন।  লজ্জা করেনা এই কথা বলতে।  কি এমন দেখেছেন যে এতো বড় কথাটা বললেন? হ্যা বলুন? ওই পশুটার কথা শুনে আমাকে এগুলো বললেন তো? আরে আপনার বাবা যে আমাকে dislike করে তাকে গিয়ে বলুন আজকে যে কাজটা সকালে করেছেন , আর যে কাজটা এখন করলেন সেটা ঠিক করেছেন কিনা? এর থেকে যদি আমাকে কোনো পতিতালয়ে বিক্রি করে দিতেন কসম আল্লাহর কম কষ্ট লাগতো।  এতো ঘৃণা আমার জন্য? 

বলেই মেরিন নিচে চলে গেলো। গিয়ে blanket মুরি দিয়ে শুয়ে পরলো। কিছুক্ষন পর নীড়ও রুমে গেলো।   blanket টা নরতে দেখে বুঝতে পারলো যে মেরিন কান্না করছে। 

নীড় মনে মনে : আসলেই আজকে বেশি করে ফেলেছি… ঠিক হয়নি।

পরদিন…

নীড় : দেখুন নিলয় ভাইয়া অতীতে মেরিনের সাথে যা যা হয়েছে তা হয়েছে। এখন আর অতীত ঘাটার কোনো ইচ্ছাই আমার নেই। আপনি এখন মেরিনের অতীত। তাই আপনি আপনার মতো থাকুন আর মেরিনকে মেরিনের মতো থাকতে দিন।  

নিলয়: হঠাৎ মেরিনের জন্য এতো কথা? তুমি না নীরাকে ভালোবাসো?

নীড় : হ্যা বাসি। কিন্তু মেরিন এখন চৌধুরী বাড়ির সম্মান। যাই হোক যেভাবেই হোক ও আমার বিয়ে করা বউ….

নিলয় : আর আমার বিয়ে না করা বউ।

নীড় : মানে?

নিলয়: তুমি অতোটাও অবুঝ নও যে তুমি বুঝবে না।   ও কতোটা খারাপ তুমি ভাবতেও পারবেনা।  তুমি তো ওর স্বামী তুমি নিশ্চয়ই জানো ওর শরীরের ঠিক কোথায় কোথায় তীল আছে? আমিও জানি। পিঠের বাম দিকে, কাধে, ব…

নীড় : stop ভাইয়া।

নিলয় : ok… stop….  but আমি চুপ করলেই তো আর সত্য পাল্টে  যাবেনা। তাইনা।

নীড় আর কিছু না বলে চলে গেলো। 

নিলয় : যাও নীড় বাবু যাও… আজকে গিয়ে মেরিনকে ক্ষেপিয়ে দিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনো।

 

 নীড়ের মাথায় আগুন লেগে গেলো। জানেনা কেন এতো রাগ লাগছে। মেরিনকে নিয়ে এমন feeling হওয়ার কোনো কারনই নীড় খুজে পাচ্ছেনা। কিন্তু রাগের চোটে নীড়ের মাথা ফেটে যাচ্ছে। রাত ১১টায় নীড় বাসায় ফিরলো।  এখনও রাগ কমেনি। বরং বেরেছে।  তারমধ্যে এসে দেখে মেরিন শাড়ি পরে আছে। সুন্দর লাগছে। নিজের চোখ ঘুরিয়ে নিয়ে গলার টাই খুলতে লাগলো।

মেরিন নীড়কে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো।

মেরিন: i am sorry…. জান…..  কালকে অমন করার জন্য…

নীড় মেরিনকে সরানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু মেরিন আরো জোর করে ধরে রেখেছে।

মেরিন : বললাম  তো sorry ….

নীড় নিজেকে ছারিয়ে ঠাস করে মেরিনকে থাপ্পর মারলো।

নীড় : ফালতু মেয়ে কোথাকার….

মেরিন : মানে?

নীড় : মানে….

বলেই নীড় ১টানে মেরিনের শাড়িটা খুলে  ফেলল। মেরিন উল্টা দিকে ঘুরে গেলো। নীড় মেরিনের পিঠের তীলটা দেখলো। যা দেখে নীড়ের মাথা আরো গরম হয়ে গেলো। ও মেরিনকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো। 

নীড় : এই কারনে তোমাকে ফালতু বলেছি এই তীল গুলোর জন্য। লজ্জা করেনা ১জনের মন ভেঙে আমার কাছে আসতে….

মেরিন : নিলয় বলেছে….

নীড় : সত্যিই বলেছে….  

মেরিন : আপনার কাছে সবাই সত্যবাদী আমি ছারা। ওই নিলয়ের কথা আপনি চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে পারেন আর আমার না…

নীড় : তোমার মধ্যে সত্যের কি আছে? তুমি পুরোটাই মিথ্যা।  কারন যদি নিলয় মিথ্যা হতো তবে এই তীল গুলো গুলো সত্যি হতোনা… আর তোমাকে যতোদূর চিনি,,,  নিলয় তোমার সাথে এমব behave করে তবুও তুমি ওকে জীবীত রেখেছো…. কারন নিলয় সত্যি বলছে। 

মেরিন : আমি যদি বলি  নিলয় মিথ্যা বলছে…

নীড় : বিশ্বাস করবো না। তাহলে নিলয় ওগুলো জানলো কি করে? আর নিলয়কে কিছু বলোনি কেন?

মেরিন নীড়ের সামনে গিয়ে দারালো।

মেরিন : আমার তীল নিলয় কিভাবে দেখলো? নিলয় কেন বেচে আছে জানতে চান?

নীড় : ….

মেরিন : জানাবো না। যেদিন ভালোবেসে জানতে চাইবেন সেদিন জানাবো….

 ভালো তো আপনি আমাকে বাসবেনই। কিন্তু হয়তো সেই ভালোবাসা আমি দেখতে পারবোনা।

বলেই মেরিন ১টা জামা নিয়ে washroom এ গেলো। এরপর বেরিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।

 

পরদিন…

নিলয়:  করছো কি নীড়? ছারো আমাকে…

কে শোনে কার কথা…. নীড় দে দানা দান পিটাতেই লাগলো নিলয়কে। ইচ্ছা মতো মারলো নীড় নিলয়কে।

নীড় : আর কখনো যেন তোর ওই নোংরা মুখে আমার বউর নাম শুনি…. আর কখনো যেন ওই নোংরা চোখ দিয়ে আমার বউর দিকে তাকাতে না দেখি…. জানে মেরে দিবো। 

বলেই নীড় চলে গেলো। 

 

রাতে….

নীড় বাসায় গেলো। রুমে ঢুকে দেখে মেরিন বারান্দায়। একটু এগিয়ে যেতেই নীড় শুনতে পেলো…

 

🎶🎵🎶

 

মা….

আমার সাধ না মিটিলো

আশা না পুরিলো

সকলে ফুরায়ে যায় মা…  2 

জনমের শোধ ডাকি গো মা তোরে

কোলে তুলে নিতে আয় মা…

 

আমার সাধ না মিটিলো 

আশা না পুরিলো

সকলি ফুরায়ে যায় মা….

 

🎶🎵🎶..

 

নীড় উপস্থিতি টের পেয়ে মেরিন থেমে গেলো। চোখের পানি গুলো মুছে নিলো। নীড় চুপচাপ মেরিনের পিছে গিয়ে দারালো।

নীড় : sorry….

বলে নীড় washroom এ চলে গেলো।  বেরিয়ে দেখে ছোট টেবিলটাতে খাবার সাজানো। আর সোফায় মেরিন শুয়ে আছে।

নীড় কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস 

করলো: খেয়েছো….

অন্য ১টা সময় হলে মেরিন অনেক খুশি হতো…. কিন্তু এখন চাইলেও খুশি হতে পারবেনা মেরিন। তাই চুপ রইলো। নীড়ও কিছু  না খেয়ে আধশোয়া হয়ে হেলান দিয়ে বসে রইলো। লাইট নিভিয়ে দিলো। 

 

 নীড় কপালে হাত দিয়ে বসে আছে। তখন বুঝতে পারলো কেউ ওর কেটে যাওয়া বাম হাতটার  ব্যান্ডেজটা খুলে নতুন করে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে। আসলে  নিলয়ের সাথে মারামারি করতে গিয়ে হাত কেটে গিয়েছিলো। মেরিন নীড়ের হাতে ব্যান্ডেজ করে প্লেটে খাবার এনে চুপচাপ নীড়ের মুখে ঢোকাতে লাগলো।  নীড়ের চোখের দিকে তাকাচ্ছেনা। 

নীড় : তুমি খেয়েছো?

মেরিন : ….

নীড়কে খাইয়ে মেরিন চুপচাপ অল্প একটু খেয়ে নিয়ে বাকি  গুলো নিচে রেখে আসলো।   এরপর এসে নীড়কে জরিয়ে ধরে  ওর বুকে মাথা  রেখে শুয়ে পরলো।  কেন যেন নীড়ের ঠোটের কোনে হাসি ফুটলো।

 

পরদিন…

নীড় রেডি হয়ে নিচে গেলো। গাড়ির ওখানে যেতেই দেখলো মেরিন driving sitএ বসে আছে। যার মানে নীড়কে কাটা হাত নিয়ে drive করতে দিবেনা। নীড় গিয়ে গাড়িতে বসলো।  মেরিন গাড়ির start দিলো। একটুপর মেরিনের ফোন এলো।  মেরিনের কানে bluetooth লাগানো।

মেরিন : hello..

জন: ম্যাম… নীড় স্যারের গাড়িতে টাইম বোম্ব লাগানো আর সেই সাথে ব্রেক ফেইল।

কথাটা শুনে মেরিনের মাথায় আগুন জ্বলে গেলো।

মেরিন: find out…

বলেই মেরিন কেটে দিলো।

মেরিন দরজা খুলে দিলো।

মেরিনঃসিট বেল্ট খুলুন।

নীড় : কেন?

মেরিন: বলেছি খুলতে খুলুন….

বাধ্য হয়ে নীড় খুলল।

মেরিন: কোনো কথা না বলে গাড়ি থেকে লাফান…..

নীড় : হুয়াট? হুয়াই?

মেরিন : অতো কথার সময় নেই যা বলছি করুন…

নীড় : চলন্ত গাড়ি থেকে ?

মেরিন নীড়কে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ওকে ধাক্কা মারলো। নীড় ছিটকে বাইরে পরলো। খানিকটা ব্যাথাও পেলো….  নিজের ব্যালেন্স ঠিক করতে করতেই কিছু ব্লাস্ট হওয়ার শব্দ পেলো। সামনে তাকিয়ে দেখে গাড়ি ব্লাস্ট…

নীড়: মেরিন…

নীড় দৌড়ে গেলো।  দেখলো গাড়ি থেকে খানিকটা দূরে মেরিন পরে আছে।  মেরিন গাড়ি থেকে ঝাপ দিয়েছিলো।  নীড় দৌড়ে গিয়ে মেরিনের কাছে গেলো।

নীড় : তুমি ঠিক আছো?

বিনিময়ে মেরিন রহস্যঘেরা হাসি দিলো। নীড় মেরিনকে হসপিটালে নিয়ে গেলো।

 

২দিনপর…

নীড় ফোনে কথা বলতে গেলো। কথা বলে এসে দেখে মেরিন নেই। পাগলের মতো খুজতে লাগলো।

 

ওদিকে.

 

নিলয়কে বেধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ওর সামনে দারিয়ে আছে ওর কাল। মেরিনের হিংস্র রূপটা দেখে  নিলয় আতকে উঠলো।

নিলয়: তুই এবারও আমার কিছু করবি নারে..আমি জানি..কা….

আর বলতে পারলোনা..

মেরিন ওর জিহ্বা বরাবর ছুরি মারলো।

এরপর হাতে আরেকটু বড় ধরনের ছুরি নিয়ে নিলয়ের সামনে গেলো।

মেরিন : আজকে তোকে বাচাতে পারে এমন কোনো শক্তি নেই আল্লাহ ছারা…বিশ্বাস কর… আল্লাহ মনে হয় না তোকে বাচাবেন।  হয়তো তোর মৃত্যুর উছিলা আমি…. 

বলেই নিলয়ের  বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলো। 

মেরিন :  যখন ১৩ বছরের বাচ্চা ছিলাম তখন তুই তোর এই হাত দিয়ে আমার ইজ্জত লুটতে গিয়েছিলি…. 

বলেই নিলয়ের ১হাত কেটে ফেলল।

নিলয় ব্যাথায় আহ করে উঠলো  । কথা তো আর বলতে পারবেনা। 

ছটফট করতে লাগলো।

মেরিন : চেচা নিলয় চেচা… রোজ চেচাবি…. কারন  আজকে তো তোকে মারবো না….

বলেই মেরিন বেরিয়ে গেলো….

চলবে…

 

ঘৃণার মেরিন

পর্ব ০৮  

সিজন ২ 

Mohona Chowdhuri 

মেরিন আর হসপিটালে না গিয়ে বাসায় চলে এলো।  মেরিন বাসায় ফিরেছে শুনে নীড়ও দৌড়ে বাসায় ফিরলো।  হাপাতে হাপাতে রুমে ঢুকলো।  দেখলো মেরিন বারান্দায় রকিং চেয়ারে বসে আছে।  কপালে হাত দিয়ে।  নীড় ১টা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো। 

 নীড় : তুমি এখানে? 

মেরিন : কেন? 

নীড় : হসপিটাল থেকে বেরিয়ে কোথায় গিয়েছিলে… 

মেরিন : আপনাকে বলতে বাধ্য নই । মেরিন বন্যা কাউকে কোনো কৈফিয়ত দেয়না।  

নীড়: আমাকেও বলতে বাধ্য নও? 

মেরিন: না। তবে যেদিন আমার স্বামী হয়ে,,, অধিকারের সাথে কোনো কিছু জানতে চাইবেন সেদিন  বলবো।  

 

পরদিন…

মেরিন রেডি হয়ে office যাচ্ছে।

নীলিমা : এই শরীর নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস?

মেরিন : কেন আমার কি হয়েছে?

নীলিমা : কিচ্ছু হয়নি….  but চুপচাপ  রুমে যা। rest কর।

মেরিন : rest? ২দিন rest করে পিঠ ব্যাথা করছে। আর office এ কতো কাজ পরে আছে যানো?

নিহাল : কাজের tension না নিয়ে কেউ নিজের খেয়াল রাখলেই বেশি ভালো হবে।

মেরিন : কাজ না করলে মেরিন বন্যাকে খাওয়াবে কে? 

নিহাল : নীলা কাউকে বলে দাও যে  চৌধুরী empire খান empire এর মতো বড় না হলেও কাউকে ২বেলা ২মুঠো খাওয়ানোর তৌফিক ঠিকই আছো।

মেরিন : আমি কি বলেছি যে তা নেই? আমি তো বলেছি কার ঠ্যাকা পরেছে আমাকে খাওয়ানোর ? আজকে কারোটা খাবো ২দিনপর কথা শুনবো… বসে বসে অন্ন ধমব্স করতে মেরিন শেখেনি।

আর হ্যা মামনি “কেউ” এর শশুড়কে “কেউ” এর তরফ থেকে thank you দিয়ে দিয়ো।

বলেই মেরিন চলে গেলো।

 

২দিনপর….  

মেরিন: hello my ফুপাতো ভাই…. জ্বালা পোরাটা কমেছে?  একটু মনে হয় কমেছে।  তাই তো আবার জ্বালাতে এসেছি । জন,,, একে পেট ভরে খাইয়েছো তো?

 জন: জ্বী ম্যাম।  

মেরিন : good… আমার ছুরিটা দাও।

 জন দিলো। 

মেরিন : আচ্ছা জন সেদিন এই হাতটা যেন কেন কেটেছিলাম?

 জন: ম্যাম ইয়ে মানে…. 

মেরিন : আমতা আমতা আমা